Description
মুঠো জীবনের কেরায়া
আমরা দুজন বসেছিলাম নায়ের পাটাতনে
নৌকার বাহু খামচে ধরা ঢেউ
স্নিগ্ধ জলের ছাঁট
আরও কাছাকাছি
আরও আরও পাশাপাশি
মুগ্ধতায় পৌঁছে দিলো
কখানা বাদামের শরীর ফাটিয়ে
আমার মুখের ওপর ঢেলে দিয়ে
একটুখানি হাসলে এবং বললে—‘এই প্রথম
এতটা আনন্দ পেলাম জীবনে’
আমি স্তম্ভিত! কী দারুণ স্বীকারোক্তি!
আহা! কতটা কোমল, কতটা নিরীহ!
তোমার সামনের পাটির দাঁত দুটো
বাড়াবাড়ি রকমের বাঁকা।
দাঁতের এ বাড়াবাড়ি সবসময়ই
আমার ভালো লাগে। অথচ তুমি—
ইতস্তত সংকুচিত হও অযথা
হঠাৎ ঢেউয়ে আঘাতে দুলে ওঠে জারুলের নাও
আমাদের দূরত্ব আরও ঘুচে গেলো
তোমার হাত আমার হাতে গেঁথে রইলো
তোমার মাথা ঢলে পড়লো আমার উদ্দাম বুকে
হাসলাম, আঙুলে চিরুণী কাটলাম চুলে
বললাম—‘আরও হবে সোনা।
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম মুহূর্ত তো তোমাকেই দেবো উপহার।’
তোমার শরীরের গন্ধে হঠাৎ লাফিয়ে উঠলো ঝড়
বেড়ালের মতো শান্ত নদী
একলহমায় হিংস্র জিহ্বা বাড়িয়ে ফুলে উঠলো
আমাকে আরও বেশি চেপে ধরলে তুমি
সামিয়ানার কাপড় ছড়িয়ে দিলাম শরীরে
তারপর মাঝ নদীতে শুনতে পেলাম ঝড়ের আর্তনাদ
নৌকা চলেছে, ইঞ্জিনের নাও—
কত শত শহর, কত কত গ্রাম পাড়ি দিলো এ নৌকা
আমাদের পথ ফুরালো না, কিন্তু…
চলতে চলতে একদিন—
দুজনেই হারিয়ে গেলাম পৃথিবীর দুই প্রান্তে
তুমি এখন উদ্দাম ঝড়, সর্পিল নারী—
আমি এক শান্ত নদী, মৃত ফাল্গুনের পয়ার!





















দিনের বৃষ্টির চেয়ে রাতের বৃষ্টি অনেক বেশি আবেদন নিয়ে মানুষের কাছে ধরা দেয়। ঝড়ের রাতে মেঘের ডাক মানুষের মনে অজানা এক রহস্যের আভাস দেয়। শিক্ষা সফরে রাঙামাটি গিয়ে এমনই এক ঝড়ের রাতে অতিপ্রাকৃত সব গল্পের আসর জমে ওঠে। গল্পের মধ্যমণি বিশ্ববিদ্যালয়ের ষাটোর্ধ্ব বয়সের একজন অধ্যাপক। মেঝেতে থাকা অর্ধগলিত মোমের আলোর সাথে বৃদ্ধ এই শিক্ষকের তীক্ষ্ণ চোখ আর ভারী গলা পরিবেশকে আরো গম্ভীর করে তোলে। গ্রাম বাংলার প্রচলিত নানান ভৌতিক গল্পের বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যাখ্যা তিনি ছাত্রদের মাঝে উপস্থাপন করেন। এক সময় যখন মনে হতে থাকে অতিপ্রাকৃত বলে কিছু হয় না, সকল কিছুই বিজ্ঞান। ঠিক তখন এই অধ্যাপকের কণ্ঠ হতে ভেসে আসে ভিন্ন সুর। এবার তিনি বলতে আরম্ভ করেন তাঁর জীবনে ঘটে যাওয়া বিচিত্র আর অদ্ভূত সব গল্প । অবারিত এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের সকল ঘটনা ব্যাখার মাঝে সীমাবদ্ধ নয়। শেষ বেলায় এসেও কোথায় যেন একটা ‘কিন্তু’ থেকেই যায়…



মানুষ বাঁচে স্বপ্ন নিয়ে। সবার স্বপ্ন থাকে তার পরিবারকে ভালোকিছু উপহার দেওয়া। পরিবারকে ভালো কিছু উপহার দিতে অর্থের দরকার হয়। অর্থ ব্যতীত সবকিছু মূল্যহীন। অর্থের জন্য মানুষ কি না করে। নিজের জীবনকে বাজি রেখে ভূমধ্য সাগরের মতো সাগর রাবারের নৌকা দিয়ে পাড়ি দেয়। এর মধ্যে শতকরা আশি জনই জানে যে তারা মারা যাবে। তবুও তারা পাড়ি দেয়। পরিবারের মুখে হাসি ফুটাতে। আপনজনকে উজাড় করে দিতে। মানুষের কত-শত রকমের স্বপ্ন তা শরণার্থী উপন্যাসটি পড়লে বুঝতে পারবেন। বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপট, আমেরিকা-ইউরোপের চালবাজি এবং দরিদ্র দেশ থেকে পাড়ি দিয়ে ফার্স্ট ওয়াল্ডের নাগরিক হওয়া যে কতটা কষ্টকর এবং ঝুকিপূর্ণ তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। বাস্তব ঘটনাগুলো নিয়ে শরণার্থী উপন্যাসটি লিখিত। যারা ইউরোপ আমেরিকা গিয়েছেন তারা যেমন স্মৃতিচারণ করতে পারবেন। যারা এখনও যাননি তারাও অনেক অজানা বিষয় জানতে পারবেন।







There are no reviews yet.