Description
২০১৫ সালের ‘বাবা দিবস’ উপলক্ষে কারা যেন গল্প লেখা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে একটি বিজ্ঞাপন দিয়েছিল টিভিতে। সেই বিজ্ঞাপন দেখে আমার একমাত্র পুত্র রাশেদ-উল হক আমাকে এসে বলল, ‘আব্বু, আমি তোমাকে নিয়ে একটি গল্প লিখে প্রতিযোগিতায় জমা দিবো।’ শুনে আমি বেশ চমৎকৃত হলাম। আমার পুত্র আমাকে নিয়ে গল্প লিখবে এতো মজার ব্যাপার। আমি হাসতে হাসতে তাকে বললাম, ‘বেশ তো লেখো।’ কিন্তু এই মজা পাওয়ার হাসি না ফুরোতেই সে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আমাকে আবার প্রশ্ন করলো,‘আব্বু, গল্প কীভাবে লেখে?’ শিশু পুত্রের মুখে এমন জটিল প্রশ্ন শুনে আমি প্রথমে হকচকিয়ে গেলাম এবং ‘থ’ হয়ে কতক্ষণ তার মুখের পানে তাকিয়ে রইলাম। কারণ, এই জটিল প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই। কিন্তু তারপরেও শিশুদের প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয় ভেবে তাৎক্ষণিক বিজ্ঞের ভাব নিয়ে আমি তাকে বললাম, ‘একান্ত নিজের সুখ-দুঃখের কথা মানুষ যেভাবে মুখে মুখে একে-অপরের কাছে বর্ণনা করে ঠিক সেভাবেই গল্প লেখা হয় এবং সেভাবেই লেখা উচিত।’
এই উত্তর আমার শিশুপুত্র কতটুকু বুঝেছে এবং তা কতটুকু সঠিক হয়েছে জানি না, কিন্তু আমি ঠিক সেভাবেই আমার গল্পগুলি বলার চেষ্ট করেছি। আর এর বাইরে কোন নিয়ম-কানুন থাকলেও আমার তা জানা নেই। ভুল-ত্রুটি থাকলে আশা করি নতুন লিখিয়ে হিসেবে বিজ্ঞ পাঠক ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।


















মানুষ বাঁচে স্বপ্ন নিয়ে। সবার স্বপ্ন থাকে তার পরিবারকে ভালোকিছু উপহার দেওয়া। পরিবারকে ভালো কিছু উপহার দিতে অর্থের দরকার হয়। অর্থ ব্যতীত সবকিছু মূল্যহীন। অর্থের জন্য মানুষ কি না করে। নিজের জীবনকে বাজি রেখে ভূমধ্য সাগরের মতো সাগর রাবারের নৌকা দিয়ে পাড়ি দেয়। এর মধ্যে শতকরা আশি জনই জানে যে তারা মারা যাবে। তবুও তারা পাড়ি দেয়। পরিবারের মুখে হাসি ফুটাতে। আপনজনকে উজাড় করে দিতে। মানুষের কত-শত রকমের স্বপ্ন তা শরণার্থী উপন্যাসটি পড়লে বুঝতে পারবেন। বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপট, আমেরিকা-ইউরোপের চালবাজি এবং দরিদ্র দেশ থেকে পাড়ি দিয়ে ফার্স্ট ওয়াল্ডের নাগরিক হওয়া যে কতটা কষ্টকর এবং ঝুকিপূর্ণ তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। বাস্তব ঘটনাগুলো নিয়ে শরণার্থী উপন্যাসটি লিখিত। যারা ইউরোপ আমেরিকা গিয়েছেন তারা যেমন স্মৃতিচারণ করতে পারবেন। যারা এখনও যাননি তারাও অনেক অজানা বিষয় জানতে পারবেন।
There are no reviews yet.