Description
আমার ধারণা আমি কবি। কিন্তু আমার লেখা গল্পগুলি আমার কবিতার হাত ধরে পাশাপাশি হেঁটেছে লেখালেখির শুরুর দিন থেকেই। এখনো তারা পরস্পরের সঙ্গী।
কবিতায় যে ভাবনাগুলিকে আমি আটাতে পারিনি তাদের বিস্তৃতির জন্য, সেগুলিই গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে আমার গল্পে। অর্থাৎ ফর্মকে গুরুত্ব না দিয়ে ভাবনাটাকেই কোলেপিঠে মানুষ করেছি। অবশ্য তাতে ফর্মও যে আক্রান্ত হয়নি, এমনটা না।
আমার গল্পগুলি লেখার সঙ্গে যেহেতু আমি জড়িত, তাই ওদের বেশ ভালো করেই চিনি। প্রত্যেকটা গল্পকেই আমার আলাদা আলাদা প্রাণী বলে মনে হয়। ওরা যেন মাইক্রোস্কোপের নলের নিচে কিলবিল করছে পেট্রিডিসে রাখা একদল ব্যাকটেরিয়ার মতো। মাঝেমাঝে মনে হয় আমি ওদের লিখিনি বরং জন্মানোর সাধ নিয়ে ওরাই আমাকে ব্যবহার করেছে। ফলে আমি আমার গল্পগুলির আজ্ঞা পালনকারী ঈশ্বর মাত্র।
এই অনৈশ্বরিক খঞ্জতা আমাকে বিব্রত করে না। বরং যে নিজে নিজে হয়ে উঠতে চায়, তার পাশে থাকার গর্ব টের পাই মনের গভীরে।
-অমিতাভ পাল























দিনের বৃষ্টির চেয়ে রাতের বৃষ্টি অনেক বেশি আবেদন নিয়ে মানুষের কাছে ধরা দেয়। ঝড়ের রাতে মেঘের ডাক মানুষের মনে অজানা এক রহস্যের আভাস দেয়। শিক্ষা সফরে রাঙামাটি গিয়ে এমনই এক ঝড়ের রাতে অতিপ্রাকৃত সব গল্পের আসর জমে ওঠে। গল্পের মধ্যমণি বিশ্ববিদ্যালয়ের ষাটোর্ধ্ব বয়সের একজন অধ্যাপক। মেঝেতে থাকা অর্ধগলিত মোমের আলোর সাথে বৃদ্ধ এই শিক্ষকের তীক্ষ্ণ চোখ আর ভারী গলা পরিবেশকে আরো গম্ভীর করে তোলে। গ্রাম বাংলার প্রচলিত নানান ভৌতিক গল্পের বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যাখ্যা তিনি ছাত্রদের মাঝে উপস্থাপন করেন। এক সময় যখন মনে হতে থাকে অতিপ্রাকৃত বলে কিছু হয় না, সকল কিছুই বিজ্ঞান। ঠিক তখন এই অধ্যাপকের কণ্ঠ হতে ভেসে আসে ভিন্ন সুর। এবার তিনি বলতে আরম্ভ করেন তাঁর জীবনে ঘটে যাওয়া বিচিত্র আর অদ্ভূত সব গল্প । অবারিত এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের সকল ঘটনা ব্যাখার মাঝে সীমাবদ্ধ নয়। শেষ বেলায় এসেও কোথায় যেন একটা ‘কিন্তু’ থেকেই যায়…
There are no reviews yet.