Description
গল্পের ভাব ও ভাষা যত সরল হয় পাঠক তত বেশি আগ্রহী ও মুগ্ধ হয়। এ বইয়ের গল্পের প্রধান গুণ সারল্য। জীবন জটিল হলেও প্রকৃতির সরলতা তাকে আপন করে নেয়। তাই শত দুঃখ কষ্ট, বাধা থাকলেও আনন্দ আর আশা নিয়ে বেঁচে থাকে মানুষ। তারই পরশে লেখা প্রতিটি গল্প।
উদাহরণস্বরূপ-
প্রেম হলো প্রেমের মতো
রিনি আর আমি
– আচ্ছা তোমরা বাক্সের ভেতর মানুষ ভরে ফেলো কী করে, দম আটকায় না, ইশপিশ করে না?
– নাহ্ তো!
– আচ্ছা অন্ধকার ওই রুমটা ওই যে, যেখানে তোমরা মানুষের মানুষমার্কা একটা আদল গড় কতোক্ষণ ধরে; তোমাদের দম বন্ধ হয়ে যায় না?
– নাহ্।
– আচ্ছা তোমাদের ফটোরা কথা বলে না কেন ?
– একদিন বলবে।
– আমার একটা ছবি তুলে দেবে ‘সবুজ মাঠের সবুজ পরী?’
– হ্যাঁ দেব একদিন।
– দূর্বাঘাসে না কিন্তু!
– তাহলে?
– ধানক্ষেতের মাঝখানে দাঁড়িয়ে।
– লোকে বকবে তো; যার ক্ষেত সে তেড়ে আসবে।
– আসুক। চুপি চুপি হবে।
– আচ্ছা।
– জানিস রিনি কতো লোক এলো গেলো; ফটো খিঁচিয়ে চাকরি পেল, মডেল-তারকা হলো; আমি শালা সেই দুই পয়সার ফটোগ্রাফারই রয়ে গেলাম। না ধরতে পারলাম চাঁদ, না পেলাম চাঁদনি, আঁধারেই রয়ে গেলাম। আঁধারটাই আপন করে রাখলো আমায়। এই হাতের যশে কতো মানুষ তার মনের মানুষ কে পেয়েছে! পণ্য সাজিয়ে বসে থাকা হকারের বিক্রি বেড়েছে কতো না বিয়ের আয়োজনে, তাও এই হাতের কারিশমায়। কালো কে ধলো, সামান্য কে অসামান্য করে গড়ে তোলা নেগেটিভ থেকে পজেটিভে। কিন্তু আমার কিছু বদলেনি, আমি কারো মনের আঁচলটুকুও ধরতে পারিনি।
রিনি বসে থেকে কিছুটা স্তব্ধতা অবলম্বন করছিলো আর আমার কথা শুনছিল। এইবার একটু হাই তুলে বললো তারপর, আমি বললাম বিরক্তি বোধ করছিস? অষ্টবক্র মুনির কথা তোর মনে আছে? শাপে পরে তার ওই অবস্থা হয়েছিলো সোজা হয়ে হাঁটতে পারতো না। আমার হয়েছে সেই দশা।
রিনি হেসে বলে কে দিয়েছে তোমায় অমন অভিশাপ?
-জানি না তো! তবে কপালকুÐলার মতো যদি মরুভূমি ফুঁড়ে কেউ একদিন এসে দাঁড়াতো তাহলে হয়তো তাকেই ভালোবাসতাম।
– সত্যি
– হ্যা
– নির্ঝরদা, তুমি বিনিসুতোর মালা দেখেছো?
– হ্যা ফুলের গায়ে ফুল!
– তোমার গায়ে অমনি কেউ পড়লে বাঁধতে পারবে তো?
– কেউ আসলে বেঁধে নেবো।



















নিলীয়মান পৃথিবীর শরীর থেকে রাতের আঁচল খসে গেলে তার জন্ম মুহূর্তের শুরু। সেই সাথে শুরু অনন্তদিনের গোলকধাঁধাময় যাত্রা। যাত্রাপথের অলিগলি ঘুরে শেষ অবধি ঘরের চৌকাঠে পৌঁছাতে পারা তাই সহজ কিছু নয়। ফেরার পথে কতো অগুনতি গল্পের হাওয়া মনের শরীর ছুঁয়ে যায়! সেই হাওয়াগুলো কখনো হয় কেবল পকেট বন্দি, আবার কখনো তারা বেমালুম ফসকে যায়। তাদের ফিরিয়ে আনার মতো দু:সাধ্য কিছু নেই। যদিও বা ফেরে, তখন হয়ত বদলে যায় তাদের অবয়ব। কখনো স্বেচ্ছায় মুঠোবন্দি হলে তাদের নাম দেয়া যায় ‘প্রজা কাহিনি’।


There are no reviews yet.