Additional information
| Weight | 0.170 kg |
|---|---|
| Published Year |
$ 1.13 $ 1.88
ইয়াকুব খান শিশির যতটা না অণুগল্পকার তারচেয়েও বেশি একজন অণুগল্পসমঝদার; বিজ্ঞ আলোচক। অণুগল্পকে অণুগল্প হিসেবে বুঝতে পারার মধ্যেও এক ধরণের মেধার প্রয়োজন হয়। প্রয়োজন হয় অণুগল্পসংশ্লিষ্ট জ্ঞান বা বোধ। এই জ্ঞান বা অণুগল্পবোধটির অভাব থাকলে অণুগল্পের মূল মূরতি দেখা পাওয়া সম্ভব হয় না। ইয়াকুব খান শিশির এমনি একজন পাঠক যার ভেতরে অণুগল্পবোধটি সবসময় জাগ্রত থেকেছে। অণুগল্পের ভেতর-বাহিরের জ্ঞান অর্জন করেছেন। সেই জ্ঞান দিয়ে তিনি ইতোমধ্যে অণুগল্পের প্রচার প্রসার এবং বাংলা সাহিত্যের একটি নবতর শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট অবদান রেখেছেন।
রাজহাঁস ও অন্যান্য অণুগল্পের সফলতা কামনা করছি।
-বিলাল হোসেন
| Weight | 0.170 kg |
|---|---|
| Published Year |
শামীম সাঈদ, কবি ও গল্পকার। জন্মÑ ১০ জানুয়ারি ১৯৭৯। কলসনগর, লালপুর নাটোর। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থÑ এই কথা বৃষ্টিবাচক, এভাবে খুলবে না আঁচলের খুঁট, সদা ভাগতেছে ভববান।
কুঁড়িকাল ও যুগযাপনের গল্প
আবু সাঈদ আহমেদের জন্ম ১০ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৫। অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যায়নের সময়েই জনপ্রিয় সাপ্তাহিক সন্দ্বীপে প্রতিবেদন লেখার মাধ্যমে লেখক জীবনে প্রবেশ। কলেজ জীবন হতে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে কবিতা ও প্রবন্ধ লিখেছেন। কিন্তু লেখাকে কখনোই গুরুত্বের সাথে নেন নাই। তিনিই বাংলা ব্লগের অন্যতম জনপ্রিয় ব্লগার ‘হরবোলা’। অনলাইনে নির্মোহ রাজনৈতিক প্রবন্ধ, তীক্ষ্ম স্যাটায়ার, কবিতা আর অণুগল্প তাকে এনে দিয়েছে ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা। আমমানুষের পক্ষের একজন লেখক ও এক্টিভিস্ট হিসেবে একাধিকবার শারীরিক হামলার স্বীকার হয়েছেন, কিন্তু নীরব হন নাই।
লংকা কিন্তু জ্বলছে না
সুলতানা শাহরিয়া পিউ, জন্ম ২ অক্টোবর। লেখালেখি, আবৃত্তি ও সংগীত চর্চা করেন। অনুপ্রাণন সম্পাদনা পরিষদের সাথে যুক্ত। শিক্ষকতা করেন। তার প্রকাশিত অন্যান্য গ্রন্থ- মেঘের সাথে কথা (কাব্যগ্রন্থ), ইংরেজী কাব্যগ্রন্থ ‘ট্রান্সকুইল সেরেনেইড এর অনুবাদ ‘নিমগ্র জলধারা’। বাংলা গীতিকবিতার অনুবাদ ‘অচিন’ দঁহশহড়হি’.
এ্যালবাম- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেলপ্রাপ্ত ংড়হম ড়ভভবৎরহমং থেকে আবৃত্তি ‘ভয়েজ টু দ্যা ইটারনাল হোম’ পঞ্চকবির গানের সমবেত কণ্ঠে ‘পঞ্চপ্রভা’।
মেঘের দেশে ফিরে যাবার গল্প
মির্জা মুজাহিদ। পেশাগতভাবে বিজ্ঞাপন শিল্পের সাথে জড়িত। জন্মেছেন নড়াইল শহরে। এখন ঢাকায় থাকেন। চেষ্টা করে যাচ্ছেন নিয়মিত ‘কথা’র শিল্পী হতে।
বিপ্রতীপ
ফজিলা ইসলাম ফৌজি নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরে ১৯৭২ সালের ৮ই মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতৃনিবাস মেহেরপুর জেলার কোলা গ্রামের বাবু পাড়ায়। পিতার নাম মোঃ হাফিজ উদ্দিন মাতার নাম মোছাঃ রাকিবা বেগম।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হিসাববিজ্ঞান বিভাগ (অনার্স মাষ্টার্স) শেষ করে ১৯৯৯ সালে রাজশাহীর ইসলামিয়া কলেজে শিক্ষক হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে কলেজ পরিবর্তন করে বর্তমানে তিনি মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার গাংনী মহিলা ডিগ্রী কলেজে হিসাববিজ্ঞানের প্রভাষক হিসাবে নিয়োজিত আছেন।
মানচিত্রে রক্তক্ষরণ
কামরুজ্জামান কাজল বয়সে অনেক নবীন হওয়া সত্ত্বেও [জন্ম ২৫ মার্চ ১৯৯১] এবং অণুগল্প চর্চায় খুব বেশিদিন অতিবাহিত না করলেও ‘দলছুট শালিকগণ’ নামে যে বইটি প্রকাশিত হল;-এর বৈচিত্র্যপুর্ণ বিষয়বস্তু এবং অণুগল্প সম্পর্কিত ধারণার সাথে লেখকের যে নিবিড় ঐক্য স্থাপিত হয়েছে- বইটির পাঠশেষে এই কথাটাই মনে করবেন বিজ্ঞপাঠকগণ।
পাবনার ঈশ্বরদী থেকে আসা এই যুবকের ইতিপুর্বে ‘ শ্যাম পাহাড়ের আড়ালে’ নামে একটি কাব্যগ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৬’র একুশে বইমেলায়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এগ্রিকালচারে স্নাতক শেষ করে লেখক বর্তমানে শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্তিকা বিজ্ঞানে মাস্টার্স করছেন।
‘দলছুট শালিকগণ’ কামরুজ্জামান কাজলের প্রথম অণুগল্পগ্রন্থ। অণুগল্পের ভিত্তি, বিকাশ এবং প্রচারে এই বইটি একটি মাইলফলক হিসেবে ভবিষ্যতে উচ্চারিত হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।
দলছুট শালিকগন
হাসান মাহবুব। জন্ম ১৯৮১ সালের ৭ নভেম্বর, ঢাকায়। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার সময় তিনি বুঝেছিলেন এ জায়গা তার জন্য নয়। চলে আসেন
আনন্দভ্রম
জন্ম ১৯৪৭ সালের ১৪ই এপ্রিল। টাঙ্গাইলের মীরের বেতুকা গ্রামে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাশ করেন। করটিয়ার সা’দত কলেজ ও স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেছেন। সহকারী সম্পাদক ছিলেন সাপ্তাহিক বিচিত্রা ও দৈনিক সংবাদ Ñএ। ১৯৭৮-৮০ সালে ছিলেন গণচীনের রেডিও পেইচিং এর ভাষা বিশেষজ্ঞ। ১৯৯৪-২০০৪ সালে ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের পরিচালক। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, গবেষণা, শিশুতোষসহ গ্রন্থের সংখ্যা ৭০ এর বেশি।
গল্প সংগ্রহ
হাসান অরিন্দম। বাংলাদেশের একজন প্রাবন্ধিক ও গল্পকাররূপে পরিচিত। কথাসাহিত্যই তার সৃষ্টি ও আগ্রহের প্রধান ক্ষেত্র। জন্ম ২৭ এপ্রিল ১৯৭২। শিক্ষাজীবনÑ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। বাংলার লোকজীবন ও আবু ইসহাকের কথাসাহিত্য বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
পেশায় অধ্যাপক। ‘একজন মানুষের সম্ভাবনা’, ‘বিদ্যাছায়াবিদ্যা ও অন্যান্য গল্প’, ‘দুরবিনে দেখা কতিপয় দৃশ্য’সহ আরো অনেক বই প্রকাশিত হয়েছে।
আমাদের দৃষ্টিসীমায় কোন বাতিঘর ছিলো না
সোলায়মান সুমনÑ জন্ম ১মে ১৯৭৯, চাঁপাই নবাবগঞ্জ। তরুণ বয়সে লেখালেখি শুরু। বর্তমানে ঢাকায় বসবাস। পেশায় শিক্ষক। ত্রৈমাসিক অনুপ্রাণন প্রকাশনের সাথে যুক্ত। অন্যান্য প্রকাশিত গ্রন্থ: মুই তোরে কোচ পাং (২০০৯), সম্পাদনাÑ পঞ্চায়ুথ। সম্পাদিত পত্রিকাÑ রুদ্র, গল্প।
বাংলা সাহিত্যের সেরা গল্প
সরদার ফারুক। জন্ম ১৯৬২ সালের ৯ নভম্বের, কপোতাক্ষ নদের তীরে খালিশপুরে। পৈত্রিক নিবাস বরিশালের কাশীপুর। পেশায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। ছাত্রজীবন থেকেই প্রগতিশীল ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন। বরিশালে ঘাট শ্রমিকদের ?আন্দোলন, ডেমরায় শ্রমিক কর্মচারি ঐক্য পরিষদের সংগ্রাম ও বাজিতপুরের জেলেদের লড়াইয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
নব্বইয়ের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য তিনি সরকারী চাকরি ছেড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৮৯ সালে ডাকসু নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনও করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত লিখছেন। ১৯৮০ সালে বরিশালের অধুনালুপ্ত ‘সাপ্তাহিক লোকবাণী’ পত্রিকায় প্রথম লেখা প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে শামসুর রাহমান সম্পাদিত সাপ্তাহিক বিচিত্রা, দৈনিক দেশ, সংবাদসহ দেশ-বিদেশের নানা পত্র-পত্রিকা, সাহিত্য সাময়িকীতে তার লেখা কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
নোনা শহর
জন্ম ১৯৮৭, পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে। পড়াশোনার পাশাপাশি ফটোগ্রাফির সাথে যুক্ত। প্রকৃতি আর মানুষ এই দুই নিয়েই তার পথচলা। নিজের উপর আত্মবিশ্বাস রয়েছে
প্রেম হলো প্রেমের মতো
কিছু কিছু সম্পর্ক থাকে, যার কোনো নাম হয় না; নামকরণও করা যায় না। এই নামহীন সম্পর্কগুলো আয়নায় লাগা জলের দাগের মতো লেগে থাকে। জল দিয়ে সেই দাগ মুছতে গেলে লেগে যায় আরো জলের দাগ। প্রতিবিম্বের গায়ে সেইসব জন্মদাগের মতো চিহ্ন রেখে যায়—সম্পর্ক এমনও হয়।
গ্রন্থভুক্ত কবিতাগুলো কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক নয়। কারো সঙ্গেই কোনো ঐক্য নেই। তবে এ অনৈক্যের মাঝেও এক আন্ত আছে বৈকি! ওরা সকলেই শিরোনামহীন-সম্পর্কে আবদ্ধ।
নামহীন মৃত্যুর শিরোনাম
পারদবিহীন আয়নায় কখনো মুখ দেখা যায় না। সে বেলজিয়াম গ্লাসই হোক কিংবা বাংলাদেশের শুকতারা ফেক্টরির আয়না, পারদবিহীন আয়না মূল্যহীন। তবে কেউ যদি কাঁচ দিয়ে ঘর বানিয়ে থাকতে চাইলে ভিন্নকথা। তবে কাঁচের ঘরে বাস করার অন্যরকম সুখ আছে। চারপাশের খোলা পৃথিবীটাকে স্বচ্ছ কাঁচের ঘরে বসে দেখা যায়। উপভোগ করা যায় প্রকৃতিকে, শুধু কি নিজে দেখা-নিজেকেও দেখানো যায় দর্শন-প্রদর্শনের খেলা। আবার ভয়ও আছে ঝড়ে কিংবা শুধু একটি ঢিল ছুড়ে যেকোন মুহূর্তে ভেঙে-গুড়িয়ে দিতে পারে কাচের প্রাসাদ।
মানুষ কি তা ভাবে কখনও- তাদের ভেতরটা কদর্য-নোংরা, পুতি-দুর্গন্ধময়। শুধুমাত্র পারদের মতো ভদ্রতার মুখোশ ঢাকা নোংরা ইতিহাস আর হিংস্রতার থাবা। সেই মানুষরূপী হায়েনাদের কথা উঠে আসবে আয়না মানবীর জবানীতে।
Ayna Manobi - Syeda Nazmun Nahar
আবু সাঈদ আহমেদের জন্ম ১০ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৫। অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যায়নের সময়েই জনপ্রিয় সাপ্তাহিক সন্দ্বীপে প্রতিবেদন লেখার মাধ্যমে লেখক জীবনে প্রবেশ। কলেজ জীবন হতে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে কবিতা ও প্রবন্ধ লিখেছেন। কিন্তু লেখাকে কখনোই গুরুত্বের সাথে নেন নাই। তিনিই বাংলা ব্লগের অন্যতম জনপ্রিয় ব্লগার ‘হরবোলা’। অনলাইনে নির্মোহ রাজনৈতিক প্রবন্ধ, তীক্ষ্ম স্যাটায়ার, কবিতা আর অণুগল্প তাকে এনে দিয়েছে ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা। আমমানুষের পক্ষের একজন লেখক ও এক্টিভিস্ট হিসেবে একাধিকবার শারীরিক হামলার স্বীকার হয়েছেন, কিন্তু নীরব হন নাই।
লংকা কিন্তু জ্বলছে না
‘জল পড়ে, পাতা নড়ে’। ‘পাতা নড়ে’ এর স্পন্দনটা যদি এখানেই শেষ হয়ে যেত তাহলে কোনো কথাই ছিল না। আসলে তো ঝরেপড়া জলবিন্দু পাতার সাথে আমাদের অন্তরাত্মাকে নাড়াতে নাড়াতে নিয়ে যায় সমুদ্র থেকে মহাসমুদ্রে। অণুগল্প সে-রকমই কিছু।
রুখসানা কাজলের অণুগল্প
মাতৃভাষা, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়
বিভিন্ন দেশ, জাতি ও সমাজের অস্তিত্ব ও আত্মপরিচয় মুছে দিয়ে চিরকালের জন্য নিজ শাসন ও শোষণের আওতায় নিয়ে আসার জন্য এক একটি জাতি ও উপজাতির নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতিকে আক্রমণ করে দুর্বল করে দিয়ে সুকৌশলে একক একটি ভাষা ও সংস্কৃতি জাতিতে জাতিতে চাপিয়ে দেয়া- সাম্রাজ্যবাদী শোষণ বিস্তারের প্রাথমিক পরিকল্পনারই একটি অপকৌশল। আধুনিক বিশ্বে বাঙ্গালীর জাতীয়তাবাদী চেতনা জাগ্রত করা ও বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য ’৫২ এর ভাষা আন্দোলন আমাদের জাতীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যে অধ্যায়ের মধ্যে আমাদের ভাষা, সাহিত্য শুধু নয়, আমাদের সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব এবং আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠা ও প্রসারের মহান সংগ্রামেরই ঐতিহাসিক সূত্রপাত। ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের স্মরণে প্রতিবছর ফেব্রুয়ারিতে অমর একুশে বইমেলা- বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে তথা বাঙালী চেতনাকে সম্প্রসারিত ও সুদৃঢ় করে তোলার কাজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আমাদের জাতীয় জীবনে অমর একুশে বইমেলার অপরিসীম ভূমিকাকে গুরুত্বের সাথে আমাদের অনুধাবন করতে হবে এবং এই বইমেলার গুণগত মান এমনভাবে পরিকল্পিত ও সুসংগঠিত করতে হবে যেন এর সুফল সারা বছর জুড়ে আমাদের জাতীয় জীবনে সফলভাবে কার্যকরী থাকে।
ভাষা, শিল্প, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তির উৎকর্ষ সাধনের যে কোন প্রচেষ্টায় দেশের গণমানসের অন্তর্নিহিত শক্তিকে মানসম্পন্ন কাজে রূপান্তরিত করাটাই জরুরী। তাছাড়া, প্রতিনিয়ত নতুন চিন্তার উন্মেষ ঘটানো এবং সেসব নতুন নতুন চিন্তার বাস্তবায়ন একটি জাতির সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে সুদৃঢ়ভাবে সচল রাখতে এবং সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন মোকাবেলা করতে সবল ও সক্ষম করে তুলতে পারে। একুশে বইমেলাকে ঘিরে সেসব কাঙ্ক্ষিত রূপান্তর ঘটাতে আমরা কতটুকু সক্ষম হচ্ছি- এটাই আমাদের সামনে মূল প্রশ্ন। গণমানসের অনুবাদই প্রতিভার একমাত্র ধর্ম নয়। গনমানসের সংগঠনে সাংস্কৃতিক উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে উপযোগী রূপান্তর ঘটানোর প্রচেষ্টাই একুশে বইমেলার মতো এই বিরাট কর্মকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। কিন্তু, আমরা এই বিরাট কর্মযজ্ঞের মাঝে গনমানসের সংগঠনে রূপান্তর ঘটার মত সৃজনশীল কর্মসূচি গ্রহণ করতে দেখি না। আত্মকেন্দ্রিক পুনরাবৃত্তির মধ্যে একুশে বইমেলাকে বন্দী রাখার মত অপচয় কীভাবে বন্ধ করার যায়- এ নিয়ে আমাদের গভীরভাবে ভেবে দেখা দরকার। সত্যের এই পরিণতি মনে রাখাটা খুবই জরুরী- যে সাধনার অগতি বন্ধ্যত্ব আনে, সেই বন্ধ্যত্বের মাঝেই স্বকীয়তা, স্বাতন্ত্র্য, আত্মমর্যাদা ও আত্মপরিচয়ের বিনাশ ঘটে। আমাদের সচেতন থাকতে হবে যে, একটি জাতির নিজস্ব প্রতিভা ও সৃজনশীলতার চর্চাকে বিপথে পরিচালিত করার অপচেষ্টা নিয়ে সাম্রাজ্যবাদ সবসময় চটকদার কর্মসূচি আমাদের মাঝে হাজির করবে।
গত শতাব্দীর শেষভাগে, নিয়ন্ত্রিত শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চর্চা বনাম মুক্ত ও স্বাধীনভাবে শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চর্চার সুফলতা ও কুফলতা নিয়ে বিতর্কের এক রকম অবসান ঘটায় এখন দেশে দেশে মুক্ত ও স্বাধীন শিল্প ও সাহিত্যের চর্চার পক্ষেই জনমত গড়ে উঠেছে। কিন্তু, মুক্তচিন্তার প্রকাশের কারনে শাসক শ্রেণি বিব্রত হয় বলে শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চর্চার ক্ষেত্রে কোথাও কোথাও নিয়ন্ত্রণ একেবারে উঠে যায় নি। সেন্সরশিপ আরোপ এবং গত কয়েক দশকে মুক্তচিন্তা চর্চাকারীদের উপর কট্টরপন্থীদের সশস্ত্র আক্রমণ ছাড়াও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নানা বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ ও নিবর্তনমূলক আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ হতে দেখা যাচ্ছে। এসব প্রচেষ্টা শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিকাশের পথে বাধা। শত শত বছরের ইতিহাস এই সাক্ষ্য দেয় যে নতুন ও মুক্ত চিন্তার চর্চা ও সম্পৃক্ততা ছাড়া শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে গনমানুষের নান্দনিক অভিব্যক্তি বাধাহীন বিকাশ লাভ করে না। নিয়ন্ত্রিত বিকাশ যে বাস্তবে ঘটে না এবং অবশেষে বন্ধ্যত্ব ও স্থবিরতার কবলে পরে ধ্বংস হয়ে যায় এর ঐতিহাসিক প্রমাণ যেমন দুঃখজনক তেমনই বাস্তব।
কিন্তু, এটাও মনে রাখতে হবে যে মুক্ত, স্বাধীন ও প্রতিযোগিতামূলক শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চর্চার নামে নৈরাজ্য একেবারেই কাম্য নয়। বলতে গেলে, দেখা যাচ্ছে যে সাহিত্য চর্চা ও প্রকাশনার ক্ষেত্রে দুধরনের প্রবণতা এই ক্ষেত্রটিকে দারুণ ক্ষতির সামনে দাড় করিয়েছে। কর্পোরেট পৃষ্ঠপোষকতা যতই মান বিচারে নিরপেক্ষতার কথা বলুক না কেন, বাস্তব কিন্তু তা বলে না। ফলে এমন একটি সুবিধাভোগী শিল্পী ও সাহিত্যিক চক্র তৈরি হচ্ছে যাদের তৈরি শিল্প-সাহিত্যের মান সম্পর্কে ক্রমাগতভাবে ভুল বার্তা দিয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে একটি গড় মানের মধ্যে আটকিয়ে রাখা হচ্ছে। ফলে প্রতিভাবান শিল্পী ও সাহিত্যিকদের মাঝে এমন একটা হতাশা তৈরি হচ্ছে যে তাদের হাত দিয়ে বাংলা শিল্প ও সংস্কৃতিতে যে উচ্চ স্তরের বিকাশ ঘটানো সম্ভব ছিল সেই পথ দুঃখজনকভাবে রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে যে ঘটনাটি ঘটছে, সেটাও খুব দুঃখজনক। একুশে বইমেলাকে কেন্দ্র করে এর উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্মে একদল শিক্ষানবিস লেখক নিজ খরচে বই প্রকাশ করে এবং তাঁর পক্ষে দল পাকিয়ে নিজেকে কবি-শিল্পী-সাহিত্যিক হিসেবে আত্মপ্রচারনায় লিপ্ত হচ্ছেন। এসব সাহিত্যকর্ম একেবারেই মানসম্পন্ন নয় ফলে প্রজন্ম বাংলা সাহিত্যের মান সম্পর্কে ভুল ধারণা প্রাপ্ত হচ্ছেন। অনুপ্রাণন আশা করে যে, শিল্পী, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যে মননশীল, সৃজনশীল ও মানসম্পন্ন শিল্প ও সাহিত্যের চর্চা ও সাধনার পক্ষে গভীর সচেতনতা নিয়ে একটি মুক্ত ও স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠবে।
সপ্তম বর্ষ প্রথম সংখ্যা
গত তিনচার দশকে ছড়ার অনেক বাঁকবদল হয়েছে। ছড়া এখন বাঁধহীন বাহুল্য, অকারণ অলঙ্কার, অদরকারি আবেগ ছেড়ে ঝরঝরে, নির্মেদ হয়েছে। নির্মাণের সঙ্গে সঙ্গে বক্তব্যেও এসেছে পরিবর্তন। এখনকার স্মার্ট ছড়ালেখকের হাত দিয়ে নির্মিত হচ্ছে স্মার্ট সব ছড়া। হালকা চালে, রম্যের ভাষায় ছড়ায় বলা হচ্ছে সেইসব কথা যা সাহিত্যের অন্যকোনো শাখায় এত প্রাঞ্জলভাবে বলা হয় না। বলা যায় না।
সুমন শামসের ‘থলের বেড়াল’ এমনই একটি ছড়ার বই যেখানে এই সমাজের নানান অসঙ্গতি, অপূর্ণতা, অসততার কথা বলা হয়েছে হাস্যরসিকতার আবরণে, ছন্দের ভাষায়। ভ্রষ্ট্য রাজনীতিবিদ, নৈতিকতাবিবর্জিত মানুষ, সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী, অসৎ ব্যবসায়ীসহ সকল ভণ্ডের বিরুদ্ধে ছড়াকার শব্দের তোপ দেগেছেন।
‘থলের বেড়াল’ পাঠককে হাসাবে, রাগাবে, ভাবাবে।
-ব্রত রায়
Tholer Biral - Sumon Shams
পরিচিত
লতিফ জোয়ার্দার (কবি ও কথাসাহিত্যিক)
জন্ম: ১মার্চ ১৯৭০ খ্রিঃ
পিতা: মৃত ইয়াকুব আলী জোয়ার্দার
মাতা: মফেজান বেওয়া
জন্মস্থান: মুলাডুলি, ঈশ্বরদী,পাবনা।
লেখাপড়া: এডওয়ার্ড কলেজ, পাবনা।
প্রকাশিত গ্রন্থ:
কাব্যগ্রন্থ: এক সুন্দরের অপমৃত্যু,ছুঁয়ে দিবো জলের শরীর,আহত আঁধার, যে শহরে তুমি নেই সে শহর অন্ধ বধির, মন এক বেদনার কারখানা, এক রাজসিক কীর্তির কথা মনে পড়ে, নির্বাচিত ১০০ কবিতা, পোয়াতি ধানের ব্যাকরণ
ছোটগল্প: তীব্র আলোর শহর, কিছু কিছু সুখ অথবা অসুখ,ভাত ও ভাতারের গল্প, প্যারিস রোড,সুবর্ণ কঙ্কন পরা ফর্সা রমণীরা, ইঞ্জিন চালিত মানুষ
উপন্যাস: নো মিসকল, আজ বৃষ্টির মন ভালো নেই, যে কথা হয়নি বলা, কান পেতে রই, প্রথম প্রেম দ্বিতীয় বিরহ, ফতোয়ানামা, সোনাপাখি, নন্দিত অসুখ, যাও পাখি বলো তারে, বাউণ্ডুলে মন, সুগন্ধি রুমাল
শিশুতোষ: ভূত বড় অদ্ভুত, ড্রাগন এলো দেশে
সম্পাদনা: শূন্যের গল্প
সম্পাদিত ছোটকাগজ: সবুজস্বগর্, চৌকাঠ,গল্প২১
সুখগুলো সাদা শার্টের বুকপকেটে রাখি
‘কাব্রা বিটা শুয়োর চরায়,
হাইগে-মুইতে খায়,
কাব্রা মাগীর ভাতার ছাড়া
খোঁয়াড় ভইরে যায়।’
কাওড়া বা শুকর পালক সম্প্রদায়ের আধা গৃহী, আধা যাযাবর জীবনের আশ্চর্য গল্পচক্র ‘কাওড়ামঙ্গল’; ছোটো ছোটো অধ্যায়ে আদিম সেইসব মানুষদের বুনোগন্ধি সংলাপের মধ্যে দিয়ে জ্যান্ত হয়ে উঠেছে তাদের আনন্দ-বেদনা কলহ আর তীব্রভাবে ঘিরে থাকা এক বৈরাগ্য না কি পথের টান যেখানে-একেকটা জীবন মানুষে-শুয়োরে একাকার হয়ে বিলিন হয়ে যায় মৃত নক্ষত্রের ছাইভস্মে; এই উপন্যাস সেই অচ্ছুৎ মানুষদের মহৎ আর্দ্র গঞ্জনা।
Kawramangal by Romel Rahman
কবিতা ধারণ করে পৃথিবীর গুঢ়তম রহস্য। সে রহস্য এমনই যে আজ পর্যন্ত কোন কবি কবিতার কোন সার্বজনীন সংজ্ঞা নির্ধারণ করে উঠতে পারেননি। মাসুদ আলম বাবুল একাধারে একজন কবি ও কথাশিল্পী। কবিতার রহস্যময়তাকে তিনি ধারণ করেছেন আপাদমস্তক।
“অতৃপ্তির অন্ধকারে একা” মাসুদ আলম বাবুল এর নবম কাব্যগ্রন্থ। বইটি কবিতাকেই যেমন রহস্যময় করে তুলেছে, তেমনি রহস্যকে তুলে এনে স্থাপন করেছে কবিতার শরীরে।
“কেউ কেউ শূন্যতাকে আকাশ আর সামিয়ানা ভাবে/ অন্ধ গলির লাইটপোষ্টে দেখে নেয় আলেয়ার মুখ।” —বস্ত্রহীন সভ্যতায় উদগ্র ভালোবাসাগুলো অশ্লীল।
মাসুদ আলম বাবুল এর কবিতায় ভিন্নতর একটি ব্যঞ্জনা আছে, আছে গভীর উপলব্ধির সরল প্রকাশ। তার কবিতার মধ্যে ডুব দেয়া যায়, তুলে আনা যায় মুক্তো ভরা ঝিনুক সমগ্র। গভীর উপলব্ধিগুলো উঠে আসে নতুন কথার একেকটা বাক্য হয়ে।
“যা মনে হয় তা কখনোই মনে হয়নি/ কখনো যা মনে হয়নি তাই মনে হয় বারবার।” –অদৃশ্য জ্বলন।
কবির এই একাকী অন্ধকার তার একান্তই নিজস্ব অতৃপ্তির অন্ধকার। আর তাই বেরিয়ে আসার ব্যাকুলতাও অদ্ভুত আবেদনময়।
“রাত ফুরোলেই চকচকে রোদে ভরা লনে/ চলো, দু’হাতে আলো আর ভালোবাসা ধরি।” –তুমি জেগে ওঠো।
জেগে ওঠার তৃপ্তি পেতেই বোধ হয় মাসুদ আলম বাবুলের একাকী অতৃপ্তির অন্ধকারে তাঁর সঙ্গি হবার চেষ্টা করাই যায়।
লুতফুল বারি পান্না
কবি ও প্রাবন্ধিক।
অতৃপ্তির অন্ধকারে একা
সন্তোষ কুমার শীল ১৯৭৩ সালের ১৫ অক্টোবর (সার্টিফিকেট অনুসারে) পিরোজপুর জেলার বাটনাতলা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। ইংরেজী সাহিত্যে স্নাতকোত্তর পড়াশুনা শেষে শিক্ষকতা পেশায় প্রবেশ করেন এবং একই পেশায় বর্তমান আছেন। রবীন্দ্রনাথের একনিষ্ঠ ভক্ত এই গল্পকার মূলতঃ একজন সর্বগ্রাসী পাঠক। বই পড়া, গান শোনা এবং সাহিত্য সাধনায় সময় যাপন তার একান্ত প্রিয়। শিক্ষকতার পাশাপাশি ছোটগল্প, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ এবং রম্য রচনার চর্চা করেন। এ পর্যন্ত তার ছয়টি গল্পগ্রন্থ এবং দু’টি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে। “বিখ্যাত হবার টোট্কা” তার প্রথম রম্যগল্প সঙ্কলন।
বিখ্যাত হবার টোট্কা
নির্মোহ পৃথিবীর কথা, নামের মধ্যে একধরনের সত্যের অহংকার এবং সাহসের স্বচ্ছরূপ দেখতে পাওয়া যায়। নামকরণ কবির একটি গ্রন্থের তাৎপর্যপূর্ণ সংযুক্তি। হঠাৎ কখনো নামকরণের সঙ্গে বইয়ের বিষয়ের কোনো মিল থাকে না। তবে নামকরণ যে লেখকের সুচিন্তিত একটি অধ্যায়, তা লেখকমাত্র জানেন। আব্দুল্লাহ জামিল একজন স্থিরমগ্ন কবি। তিনি চিকিৎসা পেশার ব্যস্ততার কারণে, খুব বেশি লিখতে পারেন না। তবে, খুব যে কম লেখেন তাও নয়। বর্তমান ‘নির্মোহ পৃথিবীর কথা’ কাব্যগ্রন্থে তিনি কখনো নস্টালজিক, কখনো প্রকৃতিপ্রেমিক, কখনো প্রতিবাদী, কখনো কোমল। তবে তার প্রতিটি উচ্চারণই অকপট, সরল ও সাবলীল। এটি কবিতার একটি অনমনীয় গুণ। ছন্দসচেতনতা তার কবিতাকে আভিজাত্য এনে দিয়েছে। প্রাজ্ঞতা দিয়েছে। তিনি কথা বলার ঢঙে কবিতা লিখে চলেন, তবে তার লেখা বলার চেয়ে অলংকৃৃত। বইয়ের কবিতাগুলোতে কোথাও কোনো ঝুলে পড়া বা মেদস্বর্বস্ব অতিকথন নেই। টানটান সাবলীলতায় তিনি একবার প্রেম আর একবার বিষাদের সংগীত শোনান। তবে তার কবিতার সময় ও মৃত্যুচেতনার বিষয়টি গভীর তাৎপর্য বহন করে। প্রিয়জনের কাছ থেকে অবহেলা, প্রত্যাখানের মতো অনাকাক্সিক্ষত বিষাদও তার কবিতার অন্যতম সমাপ্তি। কবির নির্বাচিত শব্দ আর আর অলংকৃত বিন্যাস, তাকে পরিণতি দিয়েছে। শব্দ ও বাক্যের পরিমিতি বোধ ও আবেগের নিয়ন্ত্রণ তার কবিতার নিটোল চারিত্র।
-ওবায়েদ আকাশ
কবি ও সাংবাদিক
Nirmoho Prithibir Katha - Abdullah Jamil
সাঈদা মিমি। জন্ম ২৯ ফেব্রুয়ারী, ১৯৬৮। বরিশালে। পেশাগত দৈনিক সংবাদ প্রতিদিনের সাহিত্য সম্পাদক। প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা পাঁচটি। শ্রাবন প্রকাশনী থেকে ২০০৮ এ প্রকাশিত হয় প্রথম কবিতার বই ‘সব নিয়ে গ্যাছে এক সময়ের লুটেরা বাতাস।’ দীর্ঘ বিরতির পর আগুনমুখা থেকে ‘ফারাও কুমারী’ Ñ২০১৪ সালে। বাংলার ই-বুক থেকে ই-বই ‘কীর্তনখোলা।’ -২০১৫ সালে। ২০১৬ তে অনুপ্রাণন থেকে কাব্যগ্রন্থ ‘একজন মৃতের ডায়েরী’ এবং কালজয়ী প্রকাশ থেকে ‘শুশুনিয়া পাহাড়’।
ঔরঙ্গজেবের নীল ঘোড়া
সাইফুল কামালের এই বইটি সামাজিক রাজনৈতিক এবং ব্যক্তিগত সংকটের একটি তীব্র বিশ্লেষণ। শুধু নিয়মকানুন জানলেই কবি হওয়া যায় না- নিজস্ব বোধের ব্যাপার-স্যাপার থাকতে হয়। নিভৃতচারী ও প্রচারবিমুখ এই কবি, তার বোধের বিষয়গুলো অন্তরের গভীরে লালন করেন। কবির অন্তর্দৃষ্টি ভাষার শক্তি, কবিতার গঠন একদিকে সামাজিক অবস্থার প্রতি সমালোচনা অন্যদিকে ব্যক্তিগত কষ্টের প্রকাশ। যা অনেকটাই গভীর এবং সূক্ষ্ণভাবে চিন্তার উদ্রেক করে। সেই সাথে প্রেম তথা যৌবনের দুরন্তপনাও দেখার মতো যা আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। দ্রোহের এই কবিকে কীভাবে বললে বা লিখলে তার উপর্যুক্ত মর্যাদা বা কবিত্বের পূর্ণতা তুলে ধরা যেতে পারে সেটা আমার জানা নেই। শুধু জানি তার কবিতার প্রকাশভঙ্গি পাঠককে প্রবলভাবে আকর্ষণ করবে। আমার বিশ্বাস তার এই কাব্যগ্রন্থ মানুষের মনকে স্পর্শ করবে এবং সমাজের বিভিন্ন আলোচনার সূচনা ঘটাবে। তার কাব্যিক অন্বেষণ আমাদের সকলের মাঝে সোনালি আলোর প্রসন্নতা ছড়াক।
মোখলেস মুকুল
কথাসাহিত্যিক
Bishonno Diper Manush by Saiful Kamal
মৌসন্ধ্যা। বিস্তৃত পটভূমির এক উপন্যাস। এর কাহিনিতে নারী-পুরুষের চিরন্তন প্রেম যেমন এসেছে, তেমনি এসেছে কাছে আসার গল্প। প্রেম ছাড়া জীবন যেমন অসম্পূর্ণ, তেমনি প্রতিশ্রুতি ছাড়া প্রেম প্রতারণার নামান্তর। বিশ্বাস, ভালোবাসা, ত্যাগ ও মূল্যবোধের গল্প মৌসন্ধ্যা। প্রেম, কাম, যৌনতা, প্রতারণা, লালসা, সামাজিক অসংগতি আর রোমান্টিক থ্রিলারের গল্প মৌসন্ধ্যা। এই উপন্যাস সমকালকে ধারণ করে হয়ে উঠেছে চিরকালীন। নিতি, রাধা, রিমি, রাখি, মিলি, শোভা’র মতো মেয়েদের জীবনের গল্প, যৌবনের গল্প, মান ও অভিমানের গল্প চিত্রিত হয়েছে এখানে। মলাটবদ্ধ হয়েছে প্রেম ও অপ্রেমের সংঘাত!
প্রকৃতিতে যখন সন্ধ্যা নামে, তখন দিনের আলো নিভে গিয়ে গ্রাস করে রাতের আঁধার। সন্ধ্যা যেন সন্ধিক্ষণ। আলো-আঁধারের মিলন হয় সন্ধ্যায়। পরস্পর বিপরীত দুটি অস্তিত্বের সন্ধিক্ষণ সন্ধ্যা। জীবনের সন্ধিক্ষণে মৌ লোভী পতঙ্গের মতো পুরুষ এখানে আবদ্ধ হয়েছে কামের ফাঁদে, প্রেমের প্রতারণায়। আবার সেখান থেকেই পুরুষ দিয়েছে শাশ্বত প্রেম, নিটল নির্ভরতা। জ্ঞান ও অজ্ঞানের, সত্য ও মিথ্যার, বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের মিলন হয়েছে মৌসন্ধ্যার আলো-আঁধারে। মানুষের জীবনের পূর্ণাঙ্গ রূপ চিত্রিত হয়েছে এই উপন্যাসের সাগর সৈকতে।
Mousandha By Amit Kumar Kundu
Get access to your Orders, Wishlist and Recommendations.

























There are no reviews yet.