Additional information
| Weight | 0.255 kg |
|---|---|
| Published Year |
$ 1.76 $ 2.35
সত্যি কথা বলতে গেলে রূঢ় এবং অসঙ্গত শোনাবে। তারপরও সত্য কখনো মূল্য হারায়না, সেই বিশ্বাসেই বলছি- যে অনুর্বর সামাজিক বলয়ে জন্ম থেকে বেড়ে ওঠা, সাহিত্য সৃষ্টির মত মহান ব্রত সেখানে স্বপ্নেরও অগোচর। তবু সেই স্বপ্ন আমায় দুঃসাহসী করে তুলল। সাধারণের উপহাস তুচ্ছ জ্ঞান করে দুঃস্বপ্নের হাতছানি ভরা পথে চলতে গিয়ে কখন যেন এই দুর্গম পথের পথিক হয়ে উঠি। পথ ভালবেসে চলায় ছন্দ আসে। অন্তরের গভীরে নিভৃত এক সংকল্প জাগে- “সৃষ্টিশীলতায় নিমগ্ন হয়ে থাকাই আমার সাধনা। এর মধ্যে দিয়েই আমি জগৎ, জীবন এবং পরমেশ্বরের আনন্দ উপলব্ধি করার চেষ্টা করব।’’ একনিষ্ঠা ধরে রাখতে পারিনি- হয়তো দৃঢ় মনোবলের অভাবে কিন্তু পথভ্রষ্ট হবার ভয়কে জয় করেছি। জীবনে এর চেয়ে উৎকৃষ্ট কোন কাজের সন্ধান জানা নেই। তাই সাহিত্য সাধনাই আমার একমাত্র সুন্দরের উপাসনা। তার ধারাবাহিকতায় “রবীন্দ্রনাথের বাবা স্বপ্ন দেখেছিলেন’’ ষষ্ঠ গল্প সঙ্কলন হিসেবে গ্রন্থিত হয়ে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। লেখক মাত্রই পাঠক প্রিয়তার প্রত্যাশা করেন। আত্মপ্রকাশের ক্ষেত্রে শঙ্কিত এ দূরাশা রইলই আগামীকালের জন্য।
পরিশেষে একথাটুকু না বললে বোধকরি সত্যের অপলাপ হবে- এই বন্ধুর পথ একেবারেই সঙ্গীবিহীন ছিল না। বন্ধু হয়ে, প্রেরণা হয়ে কেউ কেউ এসেছে মনের কাছে। ধন্যবাদ জানিয়ে তাদের ছোট করার স্পর্ধা আমার নেই। প্রতিনিয়ত পরামর্শ দিয়ে কৃতজ্ঞতা পাশে আবদ্ধ করেছেন শ্রদ্ধাষ্পদ ড. অশোক মিস্ত্রী। প্রকাশনার কাজে সহধর্মীনী শ্রীমতি জয়া বিশ্বাস-এর সহযোগিতা না থাকলে বই প্রকাশ দুরূহ হত। ভুল-ভ্রান্তি যথা সম্ভব পরিহারের চেষ্টা সত্ত্বেও অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টি কামনা করছি।
| Weight | 0.255 kg |
|---|---|
| Published Year |
হাসান অরিন্দম। বাংলাদেশের একজন প্রাবন্ধিক ও গল্পকাররূপে পরিচিত। কথাসাহিত্যই তার সৃষ্টি ও আগ্রহের প্রধান ক্ষেত্র। জন্ম ২৭ এপ্রিল ১৯৭২। শিক্ষাজীবনÑ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। বাংলার লোকজীবন ও আবু ইসহাকের কথাসাহিত্য বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
পেশায় অধ্যাপক। ‘একজন মানুষের সম্ভাবনা’, ‘বিদ্যাছায়াবিদ্যা ও অন্যান্য গল্প’, ‘দুরবিনে দেখা কতিপয় দৃশ্য’সহ আরো অনেক বই প্রকাশিত হয়েছে।
আমাদের দৃষ্টিসীমায় কোন বাতিঘর ছিলো না
হাসান মাহবুব। জন্ম ১৯৮১ সালের ৭ নভেম্বর, ঢাকায়। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার সময় তিনি বুঝেছিলেন এ জায়গা তার জন্য নয়। চলে আসেন
আনন্দভ্রম
সরদার ফারুক। জন্ম ১৯৬২ সালের ৯ নভম্বের, কপোতাক্ষ নদের তীরে খালিশপুরে। পৈত্রিক নিবাস বরিশালের কাশীপুর। পেশায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। ছাত্রজীবন থেকেই প্রগতিশীল ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন। বরিশালে ঘাট শ্রমিকদের ?আন্দোলন, ডেমরায় শ্রমিক কর্মচারি ঐক্য পরিষদের সংগ্রাম ও বাজিতপুরের জেলেদের লড়াইয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
নব্বইয়ের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য তিনি সরকারী চাকরি ছেড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৮৯ সালে ডাকসু নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনও করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত লিখছেন। ১৯৮০ সালে বরিশালের অধুনালুপ্ত ‘সাপ্তাহিক লোকবাণী’ পত্রিকায় প্রথম লেখা প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে শামসুর রাহমান সম্পাদিত সাপ্তাহিক বিচিত্রা, দৈনিক দেশ, সংবাদসহ দেশ-বিদেশের নানা পত্র-পত্রিকা, সাহিত্য সাময়িকীতে তার লেখা কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
নোনা শহর
রাজীব নূর খান। জন্ম ১৯৮৫ সালে ঢাকায়। বর্তমানে ফটোসাংবাদিক। আড্ডা দেয়া ভীষণ পছন্দ। কাজের ফাঁকে মাঝে মধ্যে লেখার চেষ্ঠা করেন। মানুষের গভীর গোপন অনুভূতিগুলো ছবি ও লেখালেখির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলোর চেষ্টা করেন। এলামেলো জীবনে অভ্যস্ত হলেও আগোছালো কাজ সহ্য করতে পারেনা একেবারেই।ওর ভীতর রয়েছে আশ্চর্য এক সুন্দর শৈল্পিক সত্ত্বা; যাপিত জীবনের খুব তুচ্ছ বিষয়কেও নিজের রুচিবোধ আর সৃজণী ক্ষমতা দিয়ে পরম উপভোগ্য আর সুখপাঠ্য করে তোলেন।
টুকরো টুকরো সাদা মিথ্যা
জন্ম ১৯৪৭ সালের ১৪ই এপ্রিল। টাঙ্গাইলের মীরের বেতুকা গ্রামে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাশ করেন। করটিয়ার সা’দত কলেজ ও স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেছেন। সহকারী সম্পাদক ছিলেন সাপ্তাহিক বিচিত্রা ও দৈনিক সংবাদ Ñএ। ১৯৭৮-৮০ সালে ছিলেন গণচীনের রেডিও পেইচিং এর ভাষা বিশেষজ্ঞ। ১৯৯৪-২০০৪ সালে ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের পরিচালক। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, গবেষণা, শিশুতোষসহ গ্রন্থের সংখ্যা ৭০ এর বেশি।
গল্প সংগ্রহ
জুলিয়ান সিদ্দিকী। জন্মÑ ১৯৬৮, পাকশী, পাবনা। বর্তমান আবাসস্থলÑ সৌদি আরব, পেশাÑ চাকুরী। গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ লেখেন। প্রকাশিত অন্যান্য গ্রন্থÑ উত্তাপ কিংবা উষ্ণতা, কম্পেন্ডার, ছায়াম্লান দিন, ভালবাসার যাতনা যত প্রভৃতি। বাংলা লাইভ ডট কম সেরা গল্প পুরস্কার পেয়েছেন।
বিশ্বাসের দহন ও অন্যান্য গল্প
সোলায়মান সুমনÑ জন্ম ১মে ১৯৭৯, চাঁপাই নবাবগঞ্জ। তরুণ বয়সে লেখালেখি শুরু। বর্তমানে ঢাকায় বসবাস। পেশায় শিক্ষক। ত্রৈমাসিক অনুপ্রাণন প্রকাশনের সাথে যুক্ত।
ছায়াগুলো জেগে থাকে
অনিন্দ্য আসিফ। জন্ম- ২৩ মে, ১৯৮১। কতিয়াচর, কিশোরগঞ্জ। পিতা- মোঃ আব্দুল হাই, মা- হাওয়া আক্তার।
শাদা অথবা শূন্য
ভাস্কর চৌধুরী মূলত গল্প ও উপন্যাস লেখক। কবি হিসেবেও তার সমান খ্যাতি। লেখার মূল বিষয়বস্তু বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটি ও মানুষ। জন্ম- চাঁপাইনবাবগঞ্জ। শিক্ষাজীবন কেটেছে রাজশাহী শহরে। কর্মজীবনে চলে আসেন ঢাকায়। আশির দশক থেকে তার লেখা প্রকাশিত হতে থাকে। মাঝে দশ বছর দীর্ঘবিরতির পর আবার লেখালেখিতে ফিসে আসেন। রক্তপাতের ব্যাকরণ তার প্রথম গল্পগ্রন্থ। এ পর্যন্ত বিশটিরও অধিক বই লিখেছেন। এর মধ্যে উপন্যাস ধনসা মাতি ও তার জীবনবৃক্ষ, গল্পÑ কৃষ্ণপুরাণ, গন্তব্যহীন যাত্রা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
গল্পের বনসাই
জন্ম ১৯৮৭, পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে। পড়াশোনার পাশাপাশি ফটোগ্রাফির সাথে যুক্ত। প্রকৃতি আর মানুষ এই দুই নিয়েই তার পথচলা। নিজের উপর আত্মবিশ্বাস রয়েছে
প্রেম হলো প্রেমের মতো
শামীম সাঈদ, কবি ও গল্পকার। জন্মÑ ১০ জানুয়ারি ১৯৭৯। কলসনগর, লালপুর নাটোর। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থÑ এই কথা বৃষ্টিবাচক, এভাবে খুলবে না আঁচলের খুঁট, সদা ভাগতেছে ভববান।
কুঁড়িকাল ও যুগযাপনের গল্প
বিলাল হোসেন। জন্ম ১লা জানুয়ারি ১৯৭৪। মাদারিপুর জেলার রাজারচর কাজীকান্দি গ্রামে। প্রথম প্রকাশিত বই বিরুপা’র শুঁড়িবাড়ি, সেরা ১০০ অণুগল্প। গল্প সংকলনÑ পঞ্চাশ। অণুগল্পের বিষয়-বৈচিত্র্যের অনুসন্ধান। ‘কালজয়ী পঙক্তিমালা’ নামক অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক।
মহাপ্রভু ও অন্যান্য অণুগল্প
মানুষের জীবন তো গল্পময়। গল্প ছাড়া জীবন হয় না। কেউ সে গল্প অপরকে শুনিয়ে তৃপ্তি পায়। কেউ নিজের মধ্যে গল্প পুষে রেখে জীবনকে ভোগ করে। কোনো একজনকে গল্প শুনাতে ইচ্ছে ছিল। সে গল্পের মধ্যে ডুব দেওয়া আর হয়নি। সে গল্পটা সামনাসামনি শুনাতেও পারিনি ।
তবে শুরুটা করেছিলাম গল্প শোনানোর জন্য, সেই শুরুটা নেশাতে পরিণত হয়ে গেছে। সেই কোনো একজন তো চোখের আড়ালে থাকে, মনের আড়াল হয়নি। তাই গল্প শুনাই আড়ালে-আবডালে- অন্তরালে।
গল্পের কথা বলার কারণ, আমি আসলে গল্পই লিখি। লিখতে লিখতে গল্পটি উপন্যাসে রূপ নেবে কিনা, সেটাও আমার জানা নেই। উপন্যাস তো বৃহৎ পরিসরের বিষয়। তাই এক্ষেত্রে আমি শিশুই। একটি কথা জোর দিয়েই বলতে পারি, অভিজ্ঞতার বাইরে আমি লিখতে পারি না। যেভাবেই হোক অভিজ্ঞতাটা তার জায়গা দখল করে নেয়। অর্থাৎ বলতে চাচ্ছি, বাস্তবতার বাইরে আমার লেখাতে কাল্পনিক বলে কিছু নেই। যদি আগেই বুঝতাম গল্প দিয়ে জীবন চলে তাহলে হয়তো লিখতাম ঘণ্টার পর ঘণ্টা, আষাঢ়ে বৃষ্টি পড়ার মত।
আমার গল্প প্রকাশ হবে, ছড়িয়ে যাবে, এমন ভাবনা মাথায় ছিল না। শিল্প-সাহিত্যের ত্রৈমাসিক ‘অনুপ্রাণন’ গল্প প্রকাশের মধ্য দিয়ে আমার চেতনাকে জাগ্রত করে দিয়েছে। গল্প লিখতে লিখতে তিনটি উপন্যাসও লিখে ফেলেছি।
“স্বপ্ন জলে জ্যোৎস্না” তৃতীয় উপন্যাস। পাণ্ডুলিপি পাঠিয়ে বিমুখ হইনি। বরং বুকভরা আনন্দ পেয়েছি। কৃতজ্ঞতা জানাই অনুপ্রাণন প্রকাশকের স্বত্বাধিকারী শ্রদ্ধেয় আবু এম ইউসুফ ভাইকে।
মফস্বলে থেকে লেখক হয়ে, বই প্রকাশ করা বড়ই কঠিন কাজ। অথচ সেই কঠিন কাজটা অনেক অনেক সহজ করে দিয়েছে অনুপ্রাণন প্রকাশন। আবারও অসংখ্য ধন্যবাদসহ ও কৃতজ্ঞতা জানাই অনুপ্রাণন প্রকাশনের সাথে জড়িতে সকলকে।
স্বপ্ন জলে জ্যোৎস্না
ঘরের খোঁজে নিখোঁজ বাড়ি
বারংবার মিনতি করার পরও
ওখানটাতে কেনো ছুঁও
খুব ব্যথা পাই তোমার ¯পর্শ লাগলে
কলিজা সমেত হৃদয়ের আগাগোড়া
টনটন করে, চিলকে চিলকে ওঠে
নাড়ি নক্ষত্র আকাশ বাতাস
পূর্ব প্রতীচী বসতির দেহাত;
আগলে রাখা আকুতির দ্বীপাঞ্চলে
শিউরে ওঠে সমুদ্রের নোনাজল
লেপটে যায় চোখের কাজল
ভাষার ব্যঞ্জনায় সব অর্থ ফুটিয়ে তোলা যায় না
অকাতর অশ্রুজলে যার মন ভিজে না
তার আবার কিসের নদী কিসের সাগর
বাষ্পাচ্ছাদিত শ্রাবণের ঝোড়ো বাতাসে
স্বর্ণাভ ঠোঁট রেখে উষ্ণতা কমানোর নামই কি শান্তি
হেঁটে যাওয়ায় যে আবেগ অনুভূতি কাজ করে
উড়ে যাওয়াতে কি তা করে?
দোহাই তুমি আর ছুঁইয়ো না ঐখানে
আমি এখন ঘরের খুঁজে ঘর বেচে
ঘর খুঁজি তার কাছে, যে দুই কূলেই ঘর রচে।
ঘরের খোঁজে নিখোঁজ বাড়ি
সচৈতন্যের শূন্যবাদ অস্তিত্বাশ্রয়ী যে ভাবনা রয়েছে গহনে প্রবিষ্ট তাকে উজ্জ্বল চেতনার রূপ দেবো ভাষার হাত ধরে— সর্বতোমান্য আবেগে কাব্যকে লক্ষ্যভেদী করার সে সাধনা আমার অর্জিত হয়নি। ভাবনাকে আবেগতাড়িত ও আবেগকে ভাবনাতাড়িত করার ধীমতি উপপাদ্য সুদূরের কুয়াশায় ধূসরিত হৃদয়ের মন্থনদণ্ড উজ্জ্বলতা হারায় মানসিক পরিশ্রমে। সুশিক্ষিত কাব্যকে ঘিরে জ্বালাতে চাই তবু বিদগ্ধ দীপাবলী। সকল ব্যথিত বাঁধনের যে মহাছন্দ অসীম শূন্যের অলঙ্ঘ্য নিয়মপথে তরঙ্গিত হয়, সে উন্মত্ত রাগিনী নিয়ত ছুটে চলছে যে অমোঘ আলোর পথে, সে পথে তপতীর ছায়ার মত থেকে যেতে চাই কবিতার বুকে নিভৃতনিলয় সুখে। আমার চিন্ময় প্রকৃতির গভীরে অনুরণিত হয় যে কম্পিত সুর, সে সুরের বন্ধনহীন বারতা সুহৃদের সাথে ভাগ করে নিতে চাই “যে সুর বাজে গহীনপুরে” কবিতাগ্রন্থের মধ্য দিয়ে।
অবিরাম এই যে ছুটে চলি মাঠে-পথে, হাওয়ায়-শূন্যে, জলে-ডাঙায়, উপরে-নিচে, আকাশে-দিগন্তে—এই পরিক্রমায় সারা পথজুড়ে আমাকে যারা জড়িয়ে আছে অনুভাবুক হয়ে—রতন কুমার ঢালী- আমার আপনার চেয়ে আপন যে জন, চন্দ্রাত্মজ ঢালী—যার গভীরে আমি ডুবে যেতে চাই, রিখিয়া ঢালী—যার ভালবাসা আমার জীবনকে অর্থবহ করেছে, সন্তোষ কুমার শীল—যে আমাকে কাব্য জগতে আহ্বান জানিয়েছে, এছাড়া ড. অশোক মিস্ত্রী, নির্জন মজুমদারসহ আমার সকল প্রিয়জন যারা আমাকে কাছে বা দূরে থেকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন—তাদের সকলের প্রতি রইল আমার গভীর কৃতজ্ঞতা।
যে সুর বাজে গহীনপুরে
খ্রিস্টের জন্মের প্রায় হাজার বছর আগে লোকালয় গড়ে ওঠে উযবেকিস্তানে। মধ্য এশিয়ায় উযবেকিস্তান প্রথম জনপদ যেখানে তুর্ক জনগোষ্ঠী বসবাস করতে শুরু করে এবং সেচের মাধ্যমে চাষাবাদ করা শুরু করে। এক সময় আলেক্সান্ডার দা গ্রেট এই জনপদ নিজের অধীনে করে নিয়েছিলেন।
খ্রিস্টের জন্মের কয়েকশো বছর আগে চীন থেকে বণিকরা আরব ও ইউরোপে সিল্ক, মসলা, দামি পাথর, চা ইত্যাদি বাণিজ্য করার উদ্দেশ্যে মধ্য এশিয়ার পথ ধরে যাত্রা শুরু করেন। সেই থেকে সিল্ক রোড বা রেশম পথ মানচিত্রে উল্লেখযোগ্য স্থান করে নেয়। দেড় হাজার বছরের বেশি সময় রেশম পথ ধরে বণিকরা নিয়মিত যাতায়াত করেছিলেন।
আল বুখারি, আল তিরমিজি, ইবনে সিনা, আল বিরুনি, সম্রাট বাবরের মতো বিখ্যাত ব্যক্তি উযবেকিস্তানে জন্মগ্রহণ করেছেন। ইবনে বতুতা, মার্কো পোলো, ওমর খৈয়ামের পায়ের ধুলা পড়ে এই ভূমি ধন্য হয়েছে।
মায়োলিকা শিল্প, ইকাত কাপড়, তামা ও কাঠ শিল্প বিমূর্ত থেকে মূর্ত হয়েছে শিল্পীদের হাতে।
চেঙ্গিস খান থেকে আমির তিমুর বা আরও পরের আমিরগণ শুধু যোদ্ধাই ছিলেন না, সুশাসক ও শিল্প-সাহিত্যের বোদ্ধাও ছিলেন।
উযবেকিস্তানে লেখকের ভ্রমণ সেই শিল্প-সাহিত্য ও রেশম পথের বাঁকে বাঁকে চলে গিয়েছে। এক জনপদ থেকে অন্য জনপদে শুধু রেশম পথের দিশাই নেই, সাথে আছে প্রাচীন স্থাপনা ও সাধারণ মানুষের গল্প।
Firoza Ronger Desh - Fatima Jahan
ভ্রমণ আমার কাছে কোন সাধারণ ব্যাপার নয়। মানুষ যেমন হীরে জহরত সংগ্রহ করে বা নতুন নতুন গাড়ি বাড়ির নেশা করে, ভ্রমণ আমার কাছে তেমনই এক নেশা। দিন পেরোয়, অভিজ্ঞতা বাড়ে কিন্তু এই নেশা থাকে আনকোরা।
ভাষা শেখার ব্যাপারে দুর্বলতা আমার আজন্ম কালের। দক্ষিণ ভারতে বহু বছর ধরে বসবাস করার সুবাদে বিভিন্ন ভাষার সাথে পরিচয় হতে হয়ই। এখানকার স্থানীয় ভাষা কাণ্ণাড়, আর মুসলমানদের ভাষা উর্দু। বিভিন্ন ভাষাভাষী বন্ধুবান্ধবের সুবাদে তাদের বৈঠকখানার মেজাজ জানা হয়েছে বেশ। হিন্দি, কাণ্ণাড়, তামিলের সাথে সাথে ঘুরে আসার সুযোগ হয়েছে উর্দু, ফারসির শের শায়েরী, মুশায়েরার জগত থেকে। এই কবিতা, গযলের এক সময়কার জমজমাট পীঠস্থান ছিল ভারতের লখনউ নগর। লখনউ আমি গিয়েছি চার বার। প্রথমবার গিয়ে মনে হয়েছিল সব কিছু দেখা হয়নি, তাই দ্বিতীয় বার যাওয়া। এরপর নেশা আর কাটেনা। নবাবদের হাত ধরে ইরান থেকে আসা পারস্য সংস্কৃতি, ইমারত, রসনার টানে এমনকি অতিমারির সময়ও চলে গিয়েছিলাম লখনউ। খুঁজে বের করেছিলাম লখনউ শাসন করে যাওয়া এগারো জন নবাবের রওযা এবং তাঁদের দ্বারা নির্মিত ইমারত, বাজার, লোকালয়। বেশিরভাগ ভবনের অস্তিত্ব এখন নেই বা কেউ আর সেসবে আগ্রহ দেখায়না।
ভারত উপমহাদেশে পারস্য সংস্কৃতির প্রচলন হয়েছে লখনউ এর নবাবদের হাত ধরে। আদব কায়দা, শায়েরী, গযলের সাথে সাথে নবাবগণ সাথে করে এনেছিলেন বিরিয়ানি, পরোটা, নানা পদের মিষ্টান্ন। ঘুরি ওড়ানো, পশুপাখির লড়াইয়ের মতো শৌখিন খেলাধুলার প্রচলন করেছিলেন লখনউ এর নবাবগণ। অখণ্ড ভারতে বিভিন্ন রাগরাগিণীকে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করেছিলেন এঁরাই সর্বপ্রথম।
এতবার লখনউ ভ্রমণের পরও কোথায় যেন কি বাকি থেকে যায়। মনে হয় গোমতী নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই নগরকে আজ আর কদর করছেনা কেউ আগের মতোন, নেই আগের সেই ঝংকার, প্রাণের আকুতি। তবুও আসফি মসজিদের সিড়িতে বসে থেকে আমি শান্তি পেয়েছি, ছত্তর মঞ্জিলের কোল ছুঁয়ে থাকা গোমতী নদীর স্থিরতা আমাকে ভাবিয়েছে, বড় ইমামবাড়ার ছাদে দাঁড়িয়ে থেকে সত্যি সত্যিই লবঙ্গ মোটিফের শরীর থেকে আমি সুগন্ধ পেয়েছি।
লখনউ এর কয়েকজন মানুষ কখনোই আমার মন থেকে মুছে যাবেনা। লখনউ নিয়ে টুকরো টুকরো লেখার ব্যাপারে ইতিহাসবিদ আশফাক খান এবং নবাবের বংশধর শেহযাদি মনযিলাত ফাতিমার অবদান অনস্বীকার্য। যে আদর আপ্যায়ন আমি লখনউবাসীর কাছ থেকে পেয়েছি তা ভুলতে গেলে নিজেকেই ভুলে যেতে হবে। এ শহর আমার নিঃশ্বাসে মিশে আছে।
লখনউ আমার কাছে এক ভালোবাসার নাম, বার বার দেখার পরও না ফুরানো ভালোবাসা।
-ফাতিমা জাহান
লখনউ, ভারত
২৪/০১/২০২১
লখনউনামা - Luchnownama
বাংলাদেশের জনজীবনে বিগত তিনটি ভোটারবিহীন কারচুপির নির্বাচনের মাধ্যমে জেঁকে বসা একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা হরণ করেছিল গণমানুষের বাক-স্বাধীনতাসহ আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকারসমূহ। তৈরি হয়েছিল গুম-খুনের সংস্কৃতি এবং ‘আয়নাঘর’নামক বিরুদ্ধ মত দমনের অজানা নির্যাতন প্রকোষ্ঠ। সবশেষে ২০২৪-এর জুলাইয়ে সংঘটিত কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে উত্থিত প্রতিবাদকেও নিঃশেষ করতে চালানো হয় নির্মম হত্যাযজ্ঞ। কিন্তু ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের রোষে ভেঙে পড়ে দম্ভ ও আত্মঅহমিকার এক নিগূঢ় শাসনতন্ত্র। সেইসব কালোদিনের ক্ষোভ, বঞ্চনা ও নিষ্ঠুরতার যাতনাকথা মামুন মুস্তাফার এই কবিতাগ্রন্থ ‘জুলাই দ্রোহ’।
এ কাব্যের কবিতাগুলো রচিত হয়েছে ২০২৩-এর ডিসেম্বরে একতরফা নির্বাচনের আয়োজনকাল থেকে ২০২৪-এর আগস্টের মধ্যে। যাপিত জীবনের জটিল বিন্যাস এবং বাকভঙ্গি প্রতীকী মেজাজে মামুন মুস্তাফা এই কবিতাগুলোর ভেতরে আবিষ্কার করেন ওই সময়খণ্ডের দুঃসহ মাতৃভূমিকে।
July Droho
ল-লি-তা; গত শতকের নিষিদ্ধ উপন্যাসগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি নাম। একইসাথে বিগত শতাব্দীর সেরা উপন্যাসগুলোর একটি। বিখ্যাত রুশ ঔপন্যাসিক ভøাদিমির নবোকভের (১৮৯৯-১৯৭৭) এক অনবদ্য সৃষ্টি ‘ললিতা’। উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৯৫৫ সালে প্যারিসে ইংরেজি ভাষায়, এরপর ১৯৫৮ সালে নিউ ইউর্ক সিটিতে এবং ১৯৫৯ সালে লন্ডনে। প্রকাশের কিছুকাল পরেই যৌন বিষয়বস্তুর অসুস্থ উপস্থাপনা বলে আখ্যায়িত করে উপন্যাসটিকে বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ করা হয়। এরপর ১৯৬৭ সালে ভ্লাদিমির নবোকভ নিজেই রাশিয়ান ভাষায় উপন্যাসটি অনুবাদ করেন।
বাংলা ভাষায় আমার অনুবাদের ক্ষেত্রে সাবলীল পাঠযোগ্যতার খাতিরে আক্ষরিক অনুবাদের স্থলে ভাবানুবাদই বেছে নিতে হয়েছে। মূল উপন্যাসে অনেক ফ্রেঞ্চ লাইন ছিল। পাঠকের সুবিধার্থে সেগুলোকে বাংলায় তর্জমা করা হয়েছে। রাশিয়ান ভাষায় অনূদিত ‘ললিতা’র সাহায্যও নিতে হয়েছে। আমেরিকার ভূগোল নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে হয়েছে। তাই সহায়িকা হিসেবে আমেরিকান বিভিন্ন ভূগোল বইয়ের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।
ললিতা উপন্যাসটি কেবল নিষিদ্ধ প্রেম, প্রণয় বিষয়ক নয়। বরং এটি আদর্শ মনস্তাত্বিক গবেষণাগ্রন্থ হিসেবেও স্বয়ংসম্পূর্ণ। শিল্পে কখনো অশ্লীলতা থাকে না, অশ্লীলতা থাকে আমাদের মগজে। অপরদিকে স্রেফ অশ্লীলতাকেও আমি শিল্প বলতে রাজি নই। সেই হিসেবে বইটি নোংরামিমুক্ত। এবং ভøাদিমির নবোকভের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে তাঁর অমর সৃষ্টি ললিতাকে পাঠকের হাতে তুলে দিতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।
ললিতা
নাফিস যেদিন তাকে প্রোপোজ করেছিলো সেদিন তার চোখে-মুখে দারুণ সুন্দর আশ্চর্য এক নরম-কোমল আলোর দীপ্তি ছিলো, যা এর আগে কখনও তুলি দেখেনি। কী আশ্চর্য সেই প্রেমময় মুখ, কী আবেগময় সে অবয়ব, কী বিপুল আকুতি সেই চোখে, তুলি সে মুখের আশ্চর্য কোমলতায়, সেই সুগভীর কালো চোখের চাহনি থেকে চোখ ফেরাতে পারছিলো না। নাফিসকে সে কখনও এই রূপে ভাবেনি। কখনও তাকে এভাবে দেখেনি। সে এক আশ্চর্য মোহময় প্রেমময় মুখ। যে রূপ এজীবনে তুলি কারো মুখে খুঁজে পায়নি। আচ্ছা প্রেমিক-পুরুষের মুখ বুঝি এমনই হয়? সব সময় রাগী মুখের শক্ত চেহারার মানুষের মুখের ওপরও রেখাগুলো কোমল আর নরম হয়ে সারা চোখে-মুখে কোমলতার প্রলেপ ছড়িয়ে দেয়! চোখের মায়ায় হৃদয় তরল করে দেয়। সেই মুখখানি মনে পড়লেই তুলির বুক কেমন যেন দুরুদুরু ভয়ে কাঁপতে থাকে। এক আশ্চর্য ভালোলাগায় তার দেহ-মন অবশ হয়ে আসে। মনে মনে তুলি ভাবেÑ নাফিস, তুমি আমায় এ কী বললে? একি নিষ্ঠুর খেলা তুমি আমায় নিয়ে শুরু করলে। আমি তো এ চাইনি। তবে কেন আমার পাথরের মতো শক্ত এ হৃদয়ে প্রেমের শীতল হিম করে দেওয়া বাতাসে কাঁপন ধরিয়ে দিলে?
তুলির সেদিনের কথা একে একে আবার ভাবতে বসলো। সেদিনের কথা ভাবতেও তার খুব ভালো লাগে। বারবার সে সেদিনের প্রতিটি ক্ষণের স্মৃতি মনে করে দারুণ এক প্রেমময় সুখের সাগরে ভাসতে লাগলো। আহা কী মধুর ছিলো সে সাক্ষাৎ! কী যেন ছিলো সেদিন নাফিসের চোখে-মুখে। তুলি বুঝতে পারে না। তবে সেটা যে একেবারে অন্যরকম একটা কিছু তা তুলি বোঝে। কী শান্ত, কোমল আর কমনীয় দেখাচ্ছিলো সেদিন নাফিসের মুখখানি! কী মায়াময়! তুলির গত পাঁচ-ছয় রাত শুধু সে মুখটাকেই মনে পড়েছে। মনে মনে সে মুখটাকে ভেবেই বহুক্ষণ নির্ঘুম কাটিয়েছে। তারপর এক সময় কখন ঘুমিয়ে গেছে সে জানে না। ঘুমের ঘোরেও সেই কোমল-সুন্দর প্রেমময় মুখখানি তার পিছু ছাড়ে না। আচ্ছা ছেলেদের প্রেমে পড়া চেহারা বুঝি এমনই হয়? এমনই মায়াময় আর প্রেমময়?
ShobdohIn by Kamrun Nahar
কী যে ভালো লাগছে
মরোমরো আর দূষণজর্জর
সমুদ্র আবার প্রাণ ফিরে পাচ্ছে
সাগরতলে জাগছে বিপুল সাড়া
মীনভুবনে ফিরলো ফের
স্থলবাসীর মুখ দেখবার তাড়া
ও সাগর
তুমি আমার বাঁচার ভাঁড়ার
সুরগর্জন মেঘমল্লার
নির্জনতম ধ্বনিবিশ্বে পরম ঊর্মিমালা
ও তরঙ্গ শোনিত-স্রোতধারা
ফিরে পাচ্ছি প্রেমঢেউ
ফিরে পাচ্ছি হৃদতরঙ্গ
ফিরছে ছন্দোমালা
ও সাগর
তুমিই আমার জন্মাবধি
জননী ও শ্বাসঘর
কী যে ভালো লাগছে
মৃত্যুপুরীতে সুন্দরতম
নতুন মানব জাগছে।
বুদ্ধ তীরবিদ্ধ - Buddho Tirbiddho
কবিতা যেন পর্যবেক্ষকের হারিয়ে যাওয়া সময়ের লুপ―স্থানকালের আপেক্ষিকতায় অনুভূতির যাদুবলে মোহিত একাকিত্বের তীব্র আনন্দ ভোগ অথবা সাদাকালো বেদনা বৃক্ষ। কবিতা আমার কাছে আমার জীবনবোধের মর্মরধ্বনি। জীবনকে বুঝতে চাওয়া, জীবনের উত্থান-পতন, সভ্যতা, ধার্মিক-অধার্মিক, নাস্তিক-আস্তিকের কাণ্ডখানা, পুঁজিবাদ, ধর্ম, সমাজতন্ত্র, দেশপ্রেম, নারী… সবকিছুই। কবিতায় কবির চিন্তার জগৎ উঠে আসে, ছক কষে কল্পনা ও গণিতে। জীবনের জ্ঞানকে সংক্ষিপ্তভাবে প্রকাশিত চিন্তায় স্থানান্তর করে যা পার্থিব-অপার্থিব জগৎ ভাবিয়ে তোলে। জলের শব্দে কবিতা রপ্ত হয় মিশে যায় রঙহীন, শব্দে শব্দে নীল হয়ে ওঠে আকাশ। কবিতা মানবধর্মের অথবা মানুষের রঙহীন রঙিন―ভায়োলিন শব্দ। মানব জাতির অধিকাংশ লিখতে পারে না এটা যেমন সত্য, অধিকাংশ আবার শিল্পকে ধারণ করতে পারে না। নিজের অনুভূতি বা মতের বিরুদ্ধে গেলেই উগ্র ও ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে ওঠে। মূর্খদেরকে জ্ঞানী করে তোলা অথবা জ্ঞান প্রচারে আমার কোনো ইচ্ছা নেই। আমার কবিতা শুধু সহনশীল মানুষ ও মানবতার জন্য―যা আপনার জ্ঞানকে ক্রিয়াশীল করতে পারে আবার নাও পারে। হ্যাপি রিডিং―চিয়ার্স।
Bibhranto Jadukor - Hiranya Harun
বলে রাখা ভালো, শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়টি নিতান্তই আপেক্ষিক এবং কোনো ব্যক্তি তার নিজস্ব বৃত্তপরিধির আলোয় যাকে শ্রেষ্ঠ বলছেন, অন্য ব্যক্তির কাছে তা হয়তো খুবই সাধারণ। এমনকি যিনি বাছাই করেছেন, তিনিও পরে তার বাছাইকৃত শ্রেষ্ঠ কবিতা নিয়ে সংশয়ে থাকেন। তাহলে কেন এই ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’র সংকলন? তিরিশের দশক থেকে ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’র সংকলন প্রকাশ করা একটি ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের বাংলা ভাষাভাষী কবিদের কাছে। বুদ্ধদেব বসু, বিষ্ণু দে, জীবনানন্দ দাশ এবং পরে আরো অনেকেই এবং আমার দশকের ( নব্বইয়ের ) অনেক কবিই এই ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন, ভবিষ্যতের কবিরাও তা করবেন বলে আমার বিশ্বাস।
অনেকের মতো আমিও মনে করি, Time is the best critic. কবিতার বাঁচা-মরা নিয়ে কোনো কবিরই উদ্বিগ্ন হবার কিছু নেই। কবিতা লেখা একটি পবিত্র সাধনা এবং একইসাথে রক্তাক্ত সংগ্রামও বটে। সেই সাধনা ও সংগ্রামের পথে, নিরন্তর এই যাত্রায়, ক্লান্ত রক্তাক্ত আমি সিসিফাসের মতোই লেগে আছি অসীম ধৈর্যে। কতটুকু কী করতে পেরেছি, আমি নিজেও জানি না। ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’র পাণ্ডুলিপি তৈরি করতে গিয়ে দেখলাম- এ বড়ো দুরূহ কাজ। কাকে বাদ দিয়ে কাকে রাখি, যাকে আমি কম গুরুত্বের কবিতা ভাবছি, পরক্ষণে সেই কবিতাটিই অন্যরকম গুরুত্ব নিয়ে সমুখে এসে দাঁড়াচ্ছে। তবুও কিছুটা নির্মম হয়েই বাদ দিতে হয়েছে অনেক কবিতা। এই নির্বাচন যেহেতু লেখকের নিজের, তাই কবুল করতে হচ্ছে যে, আমি এখানে অনেকটাই দ্বিধান্বিত থেকেছি এবং এ-ও সত্যি যে, যে-সব কবিতা বাদ পড়ে গেছে সে-গুলোর শিল্পমূল্য হয়তো অনেক নির্বাচিতের চেয়ে কম ছিল না। তবু এই সত্যকে মেনে নিতে হচ্ছে। এই নির্বাচনই মৌলিক।
কবিতা মূলত একাকিত্বের সংসার। এই সংসারে কবিই একমাত্র সদস্য যে তার আনন্দ-বেদনার উপান্তে দাঁড়িয়ে জীবন ও জগৎকে যে ভাবে দেখেন, পাঠক হয়তো সেভাবে দেখবেন না। পাঠক তাঁর নিজের মতো করে কবির এই সংসারের আলো-অন্ধকারে ঢুকে পড়েন, তাঁর নিজের মতো করে দ্যাখেন এর রূপ-লাবণ্য, ভাবেন এ জগতের বিস্ময় ও ব্যাপকতা। কবিতা নামের এইসব শব্দ-সংসারের অদূরে দাঁড়িয়ে আমার প্রায়শ মনে হয়- একি কোনো অর্থহীন নীরবতার সরব তৃষ্ণা, নাকি শব্দের বিবিধ লীলা!
Nature abhors superlative- এ কথা মনে রেখে, আমার এই হিমসন্ধ্যার গানগুলো দুহাত দিয়ে উড়িয়ে দিলাম প্রকৃতির গোপন অরণ্যে- এগুলো আর আমার রইল না। প্রকৃতির এই সামান্য উপহার প্রকৃতির কাছেই ফিরিয়ে দিলাম। প্রকৃতিই শ্রেষ্ঠ; জগতে শ্রেষ্ঠ বলে আর কোনোকিছু নেই। এখন আমি নির্ভার। এখন ঘুমিয়ে পড়ার আগে নিঃশঙ্ক চিত্তে গিয়ে দাঁড়াবো সেই পাকুড়গাছ তলে, যেখানে কৃষ্ণপক্ষের ক্ষয়িষ্ণু চাঁদের আলোয় একদা ঈশ্বর আমার অনাথ মস্তকে হাত রেখেছিলেন।
আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি নিয়ে, শুধু কবিতার প্রতি ভালোবাসা থেকে, অনুপ্রাণন প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু ম. ইউসুফ ভাই গ্রন্থটি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাকে কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করেছেন। তাঁকে জানাই অনেক অনেক ধন্যবাদ।
কামরুল ইসলাম
৪/১ ফ্রেন্ডস ক্যাসেল, পশ্চিম তেরখাদিয়া
রাজশাহী
Shreshtho Kabita by Kamrul Islam
ধোঁয়াটে ‘আত্মা’ থেকে নয়, বরং কবিতা তার অন্তর্বলয়ের মোক্ষম ভাষাটি খুঁজে পায় কেবলই বোধসামুদ্রিক শব্দের স্বচ্ছন্দ প্রবাহের স্বতঃস্ফূর্তি থেকে, কবির তিনটি চোখের সম্মিলিত পর্যবেক্ষণের সারাৎসার হয়ে যা একাধারে দৃশ্যমানতা ও অদৃশ্যমানতাকে ধারণ করে তার একান্ত নিজস্ব নিপুণ কৌশলে, দৃশ্যত কখনো যা আটপৌরে বসন পরা, কখনো আবার গা-ভর্তি অলংকারের চোখ ঝলসানো সাজগোজে।
কবি কাদের পলাশের ‘অন্য করিডোরের ফুল’ সংকলনটি এমনই একজোড়া ও অনুসন্ধানী চোখের নজরকাড়া ভিন্ন ভিন্ন ৪২টি কথালিপি, যেখানে বোধের পারম্পর্য বজায় রেখে শব্দের স্বতঃস্ফূর্ত সীবনে কবিতার আত্মভাষার রচন।
এই কাব্যগ্রন্থে সংকলিত অধিকাংশ কবিতার সহজ-কথার কথায় অনেক চিত্রকল্প, অনেক তির্যকে অনেক ইঙ্গিত। সেসবের সবকিছুই বিষাদ-কবিতা হয়ে ওঠার শর্তবহ। ছত্রে ছত্রে নরত্বারোপের কুশলী সীবন এই কবির কবিতায় এক ভিন্ন ধরনের আলাপচারিতার মাত্রা আরোপ করে বৈকি! কবি কাদের পলাশ তাই বর্তমানের মাটিতে দাঁড়িয়েও ইতিহাসকে নিয়ে আসতে পারেন অতি অনায়াসে তাঁর কবিতার কেন্দ্রীয় ভাবনার অনুসারী করে। তিনি একজন সু-সাংবাদিক দর্শকমাত্র নন, নিবিড় পর্যবেক্ষক আগাপাশতলা। তাঁর নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণের হাত ধরেই ভবিষ্যতের ইতিহাস লেখা কাগজের কলামে কলামে।
আমার দৃঢ় বিশ্বাস, কবি কাদের পলাশের অন্য করিডোরের ফুল কাব্যগ্রন্থখানি সংবেদনশীল পাঠকের কাছে গভীরতর জীবনবোধের অনবদ্য কিছু উপাদান জুগিয়ে অকৃত্রিম মান্যতা কুড়োবে অনায়াসে।
-সুভাষ সরকার
Anyo Corridorer Ful - Kader Palash
Get access to your Orders, Wishlist and Recommendations.






















There are no reviews yet.