Additional information
| Weight | 0.250 kg |
|---|---|
| Published Year |
$ 1.99 $ 2.65
‘জল পড়ে, পাতা নড়ে’। ‘পাতা নড়ে’ এর স্পন্দনটা যদি এখানেই শেষ হয়ে যেত তাহলে কোনো কথাই ছিল না। আসলে তো ঝরেপড়া জলবিন্দু পাতার সাথে আমাদের অন্তরাত্মাকে নাড়াতে নাড়াতে নিয়ে যায় সমুদ্র থেকে মহাসমুদ্রে। অণুগল্প সে-রকমই কিছু।
| Weight | 0.250 kg |
|---|---|
| Published Year |
মোঃ জিয়াউল হক; জন্ম : ১৯৮১ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি, গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার গোবিন্দী গ্রামে। পিতা- মোঃ নাছির উদ্দীন, মাতা- মোছাঃ জাহানারা বেগম। পড়াশোনা : এম.এ (রাষ্ট্রবিজ্ঞান)। পেশা : দীর্ঘ এক যুগ ‘গ্রাফিক ডিজাইনার’ ও ‘পেইন্টার’ হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করার পর, বর্তমান পেশা শিক্ষকতা।লেখালেখির হাতে খড়ি হয় ১৯৯৫ সালে। লেখালেখির শুরুটা মফস্বল এলাকার নাট্যপ্রেমী ছেলেদের জন্য মঞ্চ নাটকের কাহিনি রচনার মধ্য দিয়ে স্থানীয় কয়েকটি পত্রিকায় কবিতা ও ছড়া লেখার চেষ্টা, বহুদিন। সেই চেষ্টা থেকেই ২০০০ সালে প্রকাশিত ‘দৈনিক ঘাঘট’ পত্রিকায় ‘আঁড় চোখে দেখা’ শিরোনামে বিদ্রুপাত্মক ছড়া নিয়মিত লেখালেখি। এই সময় সাহিত্যপ্রেমী বন্ধুদের সাথে নিয়ে ‘অগ্নিরথ’ নামক একটি অনিয়মিত মাসিক সাহিত্য ম্যাগাজিন সম্পাদনা ও প্রকাশনা কাজেও যুক্ত। কিন্তু ইতিমধ্যে রুটিরুজির জীবনযুদ্ধ শুরু হলে কবিতা-ছড়া বিলিন হয়ে যায় জীবন থেকে।
অন্তর্দাহ
সোলায়মান সুমনÑ জন্ম ১মে ১৯৭৯, চাঁপাই নবাবগঞ্জ। তরুণ বয়সে লেখালেখি শুরু। বর্তমানে ঢাকায় বসবাস। পেশায় শিক্ষক। ত্রৈমাসিক অনুপ্রাণন প্রকাশনের সাথে যুক্ত। অন্যান্য প্রকাশিত গ্রন্থ: মুই তোরে কোচ পাং (২০০৯), সম্পাদনাÑ পঞ্চায়ুথ। সম্পাদিত পত্রিকাÑ রুদ্র, গল্প।
বাংলা সাহিত্যের সেরা গল্প
অনিন্দ্য আসিফ। জন্ম- ২৩ মে, ১৯৮১। কতিয়াচর, কিশোরগঞ্জ। পিতা- মোঃ আব্দুল হাই, মা- হাওয়া আক্তার।
শাদা অথবা শূন্য
সরদার ফারুক। জন্ম ১৯৬২ সালের ৯ নভম্বের, কপোতাক্ষ নদের তীরে খালিশপুরে। পৈত্রিক নিবাস বরিশালের কাশীপুর। পেশায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। ছাত্রজীবন থেকেই প্রগতিশীল ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন। বরিশালে ঘাট শ্রমিকদের ?আন্দোলন, ডেমরায় শ্রমিক কর্মচারি ঐক্য পরিষদের সংগ্রাম ও বাজিতপুরের জেলেদের লড়াইয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
নব্বইয়ের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য তিনি সরকারী চাকরি ছেড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৮৯ সালে ডাকসু নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনও করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত লিখছেন। ১৯৮০ সালে বরিশালের অধুনালুপ্ত ‘সাপ্তাহিক লোকবাণী’ পত্রিকায় প্রথম লেখা প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে শামসুর রাহমান সম্পাদিত সাপ্তাহিক বিচিত্রা, দৈনিক দেশ, সংবাদসহ দেশ-বিদেশের নানা পত্র-পত্রিকা, সাহিত্য সাময়িকীতে তার লেখা কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
নোনা শহর
বিলাল হোসেন
জন্ম: ১ জানুয়ারি, ১৯৭৪।
জন্মস্থান- মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার রাজারচর কাজিকান্দি গ্রামে।
প্রকাশিত বই-
১. কাব্যগ্রন্থ- বিরুপা’র শূঁড়িবাড়ি(২০১৪)
২. অণুগল্প সংকলন- পঞ্চাশ(২০১৫)
৩. মহাপ্রভু ও অন্যান্য অণুগল্প(২০১৬)
৪. কাব্যগ্রন্থ- একজ্বলাপঙক্তি(২০১৬)
স¤পাদিত বইসমূহ-
সেরা ১০০ অণুগল্প(২০১৫) (প্রিন্ট ভার্সন)
ই-বুক স¤পাদনা-
অণুগল্প সংগ্রহ-১,২,৩,৪; গোয়েন্দা অণুগল্প সমগ্র, ভূত অণুগল্প সমগ্র, রূপকথা অণুগল্প সমগ্র, নীতি অণুগল্প সমগ্র, চিয়ার্স চিয়ার্স চিয়ার্স, দুনিয়ার মাতাল এক হও, মাতালে মাতালে চেনে, মধুগন্ধেভরা, যুগলবন্দী (সুবর্না রায়), অণুগল্পের বিষয় বৈচিত্র্যের সন্ধানে, তাহাদের গল্প, অণুগল্পের অস্তিত্ব আছে, অণুগল্পের শিরদাঁড়া, অণুগল্পের রোজনামচা।
বাংলা ভাষার সেরা অণুগল্প
জন্ম ১৯৪৭ সালের ১৪ই এপ্রিল। টাঙ্গাইলের মীরের বেতুকা গ্রামে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাশ করেন। করটিয়ার সা’দত কলেজ ও স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেছেন। সহকারী সম্পাদক ছিলেন সাপ্তাহিক বিচিত্রা ও দৈনিক সংবাদ Ñএ। ১৯৭৮-৮০ সালে ছিলেন গণচীনের রেডিও পেইচিং এর ভাষা বিশেষজ্ঞ। ১৯৯৪-২০০৪ সালে ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের পরিচালক। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, গবেষণা, শিশুতোষসহ গ্রন্থের সংখ্যা ৭০ এর বেশি।
গল্প সংগ্রহ
রুমা মোদক, মাতা: দীপ্তি রানী মোদক, পিতা: প্রিয়তোষ মোদক, জন্ম: হবিগঞ্জ। জেলা শহর থেকে প্রকাশিত সংকলনগুলোতে লেখালেখির মাধ্যমেই হাতেখড়ি। শুরুটা আরো অনেকের মতোই কবিতা দিয়ে। ২০০০ সালে প্রকাশিত হয় কাব্যগ্রন্থ ‘নির্বিশঙ্ক অভিলাষ’। এরপর ধীরে ধীরে জড়িয়ে পড়েন মঞ্চনাটকে। রচনা করেন কমলাবতীর পালা, বিভাজন, জ্যোতি সংহিতা ইত্যাদি মঞ্চসফল নাটক। অভিনয়ও করেন। মঞ্চে নাটক রচনার পাশাপাশি নিরব অন্তঃসলিলা স্রোতের মতো বহমান থেকেছে গল্প লেখার ধারাটি। জীবন ও জগতকে দেখা ও দেখানোর বহুস্তরা এবং বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতার উৎসারণ ঘটেছে ২০১৫ সালের বইমেলায় প্রকাশিত ছোটগল্প সংকলন ‘ব্যবচ্ছেদের গল্পগুলি’তে। ‘প্রসঙ্গটি বিব্রতকর’ গ্রন্থভুক্ত গল্পগুলোতে সে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি হয়ে উঠেছে আরও নির্মোহ, একবগগা, খরখরে কিন্তু অতলস্পর্শী ও মমতাস্নিগ্ধ।
গল্প লেখার স্বীকৃতিস্বরূপ ইতোমধ্যে পেয়েছেন বৈশাখী টেলিভিশনের পক্ষ থেকে সেরা গল্পকারের পুরস্কার, ফেয়ার এন্ড লাভলী সেরা ভালোবাসার গল্প পুরস্কার। ২০১৪ সালে মঞ্চনাটকে অবদানের জন্য পেয়েছেন ‘তনুশ্রী পদক’।
বর্তমানে সক্রিয় রয়েছেন বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের পত্র-পত্রিকা, লিটলম্যাগ এবং বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে প্রকাশিত অন্তর্জাল সাহিত্য পোর্টালে লেখালেখিতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এম.এ সম্পন্ন করে শিক্ষকতা পেশায় জড়িত রয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে স্বামী অনিরুদ্ধ কুমার ধর ও যমজ সন্তান অদ্বিতীয়া অভীপ্সা পদ্য ও অদ্বৈত অভিপ্রায় কাব্যকে নিয়ে হবিগঞ্জে বসবাস করছেন।
সিদ্দিকী হারুন
সাহিত্য ও সংবাদকর্মী
প্রসঙ্গটি বিব্রতকর
মাহতাব হোসেনের জন্ম ১৯৮৮ সালের ৮ জানুয়ারি। দিনাজপুর জেলার রেলওয়ে শহর পার্বতীপুরে। বর্তমানে দৈনিক কালের কণ্ঠে সাব এডিটর হিসেবে কর্মরত। শৈশবে ছড়া লিখে সাহিত্যের পথে পা বাড়ান। তনিমার সুইসাইড নোট তার প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
তনিমার সুইসাইড নোট
জুলিয়ান সিদ্দিকী। জন্মÑ ১৯৬৮, পাকশী, পাবনা। বর্তমান আবাসস্থলÑ সৌদি আরব, পেশাÑ চাকুরী। গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ লেখেন। প্রকাশিত অন্যান্য গ্রন্থÑ উত্তাপ কিংবা উষ্ণতা, কম্পেন্ডার, ছায়াম্লান দিন, ভালবাসার যাতনা যত প্রভৃতি। বাংলা লাইভ ডট কম সেরা গল্প পুরস্কার পেয়েছেন।
বিশ্বাসের দহন ও অন্যান্য গল্প
১৯৬২ সালের ৫ ডিসেম্বর, ময়মনসিংহে কবি আশুতোষ পাল ও শিউলি পালের সংসারে জন্ম।
লেখাপড়া- বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষিবিজ্ঞানে স্নাতক এবং সুইডেন থেকে পরিবেশ বিজ্ঞানে ডিপ্লোমা।
পেশা- এনজিও কর্মী দিয়ে শুরু এবং বর্তমানে সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত।
প্রকাশিত অন্যান্য বই- রাতপঞ্জি (২০০৩),পুননির্বাচিত আমি- ২০১১।
Asochorachor
ভাস্কর চৌধুরী মূলত গল্প ও উপন্যাস লেখক। কবি হিসেবেও তার সমান খ্যাতি। লেখার মূল বিষয়বস্তু বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটি ও মানুষ। জন্ম- চাঁপাইনবাবগঞ্জ। শিক্ষাজীবন কেটেছে রাজশাহী শহরে। কর্মজীবনে চলে আসেন ঢাকায়। আশির দশক থেকে তার লেখা প্রকাশিত হতে থাকে। মাঝে দশ বছর দীর্ঘবিরতির পর আবার লেখালেখিতে ফিসে আসেন। রক্তপাতের ব্যাকরণ তার প্রথম গল্পগ্রন্থ। এ পর্যন্ত বিশটিরও অধিক বই লিখেছেন। এর মধ্যে উপন্যাস ধনসা মাতি ও তার জীবনবৃক্ষ, গল্পÑ কৃষ্ণপুরাণ, গন্তব্যহীন যাত্রা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
গল্পের বনসাই
১০০ অণুগল্প
মা মরা মেয়ে টুনি। জন্মের সময় মাকে হারিয়েছে সে।ওর সাত ভাই, সবাই স্ব-স্ব ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত। সবাই যে যার কাজে পৃথিবীর দুই-তিন মহাদেশ জুড়ে ছড়িয়ে আছে। টুনির বাবা এক সময় ছিলেন প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার। ছেলে মেয়েদের মানুষ করার ব্যাপারে তার কোন অবহেলা বা উদাসীনতা কখনো চোখে পড়ে নি।
বিশ বছরের চঞ্চল টুনি তার সামার ভেকেশনের সময় কাটাতে প্রতিদিনই বিভিন্ন নামের আইডি নিয়ে চ্যাট রুমে ঢুকে। একদিন অনেক ভেবে সে তার বাবার আদর করে দেয়া নামটাই সেট করে “টুনি-পাখি”!
সেদিনই পরিচয় জানে আলমের সাথে প্রথম পরিচয়। জানে আলম উপলব্ধি করে পরিবারের সবার আদরের চঞ্চল ছটফটে মেয়েটার বুকে একটা কষ্ট যেন সূক্ষ্ম কাঁটার মত বিঁধে আছে।
টুনি সামনের বছর বাবার সাথে কানাডায় যাবে বেড়াতে। জানে আলম অনেক খুশি হয়- যাক! টুনির সাথে দেখা হবে ওর! টুনি কানাডায় আসলে আর কিছুতেই ফিরে যেতে দিবে না। টুনি আলমের প্ল্যান শুনে ভীষণ লজ্জা পায়!
এবার তাই টুনি আলমকে তার অতীত জানাতে চায়। টুনির মনে হয়, নতুন সম্পর্ক শুরু করার আগে সব বলে দেয়াটা ভালো!টুনির মনে হয়, আলম মেনে নিবে ব্যাপারটা !
কিন্তু টুনি যখন আলমকে এসব বলে এর কোন প্রত্যুত্তর পায় না। টুনির চোখের পানি গড়িয়ে পড়ে। হতাশায় টুনি তার ইয়াহু ম্যাসেঞ্জারের চ্যাট ডিজআ্যবল করে দেয় তক্ষুনি!
এদিকে তিন বছর পরে টুনির জীবন অনেক পালটে গিয়েছে! টুনির জীবনে আপন বলতে এখন দেশে কেউ নেই। ভাইয়া ভাবীরা যে যার মতো বিদেশে সেটেল্ড। টুনি একটা মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিতে জয়েন করেছে।
পাঁচ বছর পর, টুনি ভাইয়ের ছেলের আকিকার জন্য বসুন্ধরায় টুকটাক কেনাকাটায় ব্যস্ত। এমন সময় টুনির সেল ফোনে হঠাৎ একটা অচেনা কল আসে। টুনি সাধারণত কখনোই অচেনা কল ধরে না। ৬-৭ বার একই নাম্বার থেকে রিং আসার পরে অফিস থেকে কোন জরুরি কল কিনা সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে ফোনটা ধরে। অন্য প্রান্তের শুধুমাত্র “হ্যালো!” শুনেই টুনির মনে তোলপাড় শুরু হয়। বিধ্বংসী তোলপাড়!
তারপর কি হলো? এটা জানার জন্য পড়তে হবে রোমান্টিক উপন্যাস টুনি বউ।
Tuni Bou by Tamanna Chowdhury
‘জল পড়ে, পাতা নড়ে’। ‘পাতা নড়ে’ এর স্পন্দনটা যদি এখানেই শেষ হয়ে যেত তাহলে কোনো কথাই ছিল না। আসলে তো ঝরেপড়া জলবিন্দু পাতার সাথে আমাদের অন্তরাত্মাকে নাড়াতে নাড়াতে নিয়ে যায় সমুদ্র থেকে মহাসমুদ্রে। অণুগল্প সে-রকমই কিছু।
রুখসানা কাজলের অণুগল্প
রাত বাড়ার পর লোকজন ঘুমিয়ে পড়লে এক ফাঁকে চটের বস্তা দুটোকে নিয়ে পুকুর পাড়ে যায় রোজিনা । শীতের রাত কুয়াশায় কিছু দেখা যায় না, পুকুরের চারপাশে কলাগাছের সারি, একটা সারির ফাঁক দিয়ে চটের বস্তা দুটোকে পুকুরের কালো জলে ছুড়ে ফেলে। জোরে একটা শব্দ হয়, পানি চারদিকে ছড়িয়ে তরঙ্গের মতো সৃষ্টি হয়। রোজিনা একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে সেদিকে, মনে হয় আজ স্বামীর সাথে সাথে তার সমস্ত পাপকেও যেন কবর দেয়া হলো। হাশরের ময়দানে তার কোনো দায় থাকবে না, সৃষ্টিকর্তা তাকে বলতে পারবে না তুই তোর স্বামীর ইজ্জত বাঁচাইতে পারলি না। লতিফ মিয়ার লোভের চোখ যেন রোজিনাকে গিলে খায়। কাদামাখা পায়ে রোজিনা পুকুরে নেমে পৌষের ঠাণ্ডা জলে ডুব দেয়, সারা শরীর কাঁপতে থাকে, পুকুর থেকে ঘরে আসার পথটুকু তার কাছে দীর্ঘ মনে হয় । ঘরে এসে কাপড় ছেড়ে রান্নাঘরে বসে হাড়িতে পড়ে থাকা ভাত খায় আর ভাবতে থাকে লতিফ মিয়া এমনভাবে কয়লা হইয়া পুইড়া মরলো, তার মরণটা যেন আজরাইলরেও হার মানাইলো, চটের বস্তার অস্ত্রগুলো সারাজীবনের জন্য তার সাথী হয়ে পুকুরের মিশমিশে কালো পানিতে হারায়া গেলো। যেমনভাবে লতিফ মিয়াও হারায়া গেলো। লতিফ মিয়া দুনিয়াতেই যেন বিচার পাইয়া গেলো । তার আর অনন্তকাল অপেক্ষা করতে হবে না, পোড়া মরিচ ঠাণ্ডা ভাতে মেখে খেতে খেতে রোজিনা এইসব কথা ভাবতে থাকে। শীতের রাতে দলা পাকানো ভাত আর পোড়া মরিচ তার কাছে অমৃতের মতো লাগে ।
অদৃশ্য সেতু - Adrirshyo Setu
সমাজের উচ্চবিত্ত শ্রেণির বিত্তশালী নারী সাবরিনা যে কিনা নিজেও এক সময় পতিতাবৃত্তি করে বিপুল ধনসম্পদের মালিক হয়েছে এবং নিজের বিলাশবহুল ফ্ল্যাটে নানা কৌশলে-প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে দালালদের মাধ্যমে সুন্দরী তরণীদের নিজের ফ্ল্যাটে রেখে প্রভাবশালীদের মনোরঞ্জন করে। তারই ফাঁদে পড়ে হতদরিদ্র পরিবারের কিশোরী পুষ্প আপন ভগ্নিপতির প্রলোভনে ঢাকায় এসে সাবরিনার বাসাবন্দি হয়ে যৌনকর্মী হতে বাধ্য হয়। পুষ্প ও সাবরিনাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসে বর্ণচোরাদের চরিত্র উন্মোচিত করে উপন্যাসটি নির্মিত। এক সময় পুষ্প গ্যাং রেপড হলে প্রতিহিংসার আগুনে সে দগ্ধ হয়ে নওয়াব আলীর ওপর প্রতিশোধ নিতে চায়। পুষ্পর জীবন হয়ে ওঠে আরও দুর্বিষহ। এরপরও একটু ভরসা ও স্বপ্নের স্থান: পুষ্পর যৌনবৃত্তির কথা জেনেও সাবরিনার ফ্ল্যাটের দারোয়ান যে কিনা অত্যন্ত পড়ুয়া আবদুল কাদের তাকে ভালোবাসে। এতটুকুন মিষ্টি প্রেম কারারুদ্ধ জীবনে পুষ্পর জন্য যেন নিশ্বাস নেওয়ার সতেজ অম্লজান…
ফাঁদ
যে আশ্রয় দেয়
তার মুখটাই প্রভাতের সূর্যোদয়
তার তো থাকে না কোনও মুখোশ
যেমন কাঞ্চনজঙ্ঘায় রক্তিম প্রশ্রয়ে
সূর্য জানে
পাইনসারির আশ্রমে থাকা কুয়াশামেঘ
পর্যটকের চোখে অভিমান
এতে সূর্য আর পাহাড়ের ভালোবাসা হয় আরও গাঢ়
যে গড়ে সেও তো ওই পাহাড়চূড়ার মতো
ক্ষতবিক্ষত ও আহত
তবুও নত হয়ে উন্নত
Jhorer Barthota Prodepe - Jafar Sadeque
প্রকৃতির তাণ্ডবের কাছে নতি স্বীকার করা একদল মানুষ দেশান্তরী হয়। অসহায় লোকগুলোর মধ্যে ভাগ্যবঞ্চিত এক কিশোর মাসুদ রহমান। সে জীবনকে রাঙিয়ে তুলতে কিশোরী প্রেমিকা মালতিকে ফেলে চলে যায় ঢাকায়। দেখতে পায় তার চেয়েও হতদরিদ্ররা ঢাকার বস্তিতে বাস করে। যেগুলো আবার সব জঞ্জালের আখড়া। জীবনের চাপা গলি থেকে মুক্তশ^াস নিতে মাসুদের বন্ধু বজলু পাড়ি জমায় ভ‚মধ্যসাগর হয়ে ইউরোপে। সে মরতে মরতে বেঁচে গেলেও অধিকাংশ সহযাত্রীর সলিল সমাধি ঘটে। জীবনের তাগিদে মাসুদ অর্থ আত্মসাৎ করে পাড়িজমায় ব্রাজিলে। ব্রাজিলিয়ান উন্মূলকন্যা মারিয়ামার প্রেমে পড়ে। ব্রাজিল থেকে মারিয়ামা ও বজলুসহ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে একসঙ্গে ছয় বন্ধু। হাঁটা পথে মধ্য আমেরিকার দশটি দেশ অতিক্রম করতে গিয়ে পাঁচজনই খরচের খাতায় চলে যায়। একমাত্র মাসুদই লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে। দেখা হয় প্রাক্তন প্রেমিকা মালতির সাথে। আঙুল ফুলে কালাগাছ হওয়া মাসুদ প্রেমের নেশায় খুন করে মালতির স্বামীকে। তারপর…
কালের বিবর্তনে বিশ^ মোড়ল যুক্তরাষ্ট্র ভেঙে পড়ে তার নিজের ভারেই। দলে দলে লোক যুক্তরাষ্ট্র থেকে পালিয়ে যেতে থাকে। মাসুদ রহমানের দৌহিত্র মাসুদ জুনিয়র উন্মূল হয়ে ফিরে আসে বাংলাদেশে। দেখতে পায় জনবিস্ফোরণ, প্রকৃতির বিরূপ আচরণ আর উপক‚লবর্তী অঞ্চল ডুবে যাওয়ার ঘটনা। পরিচয় হয় মালতি নামের এক সুন্দরী গাইডের সাথে। আকস্মিক ভূমিকম্পে মৃত্যু হয় তাদের। তাদের অতৃপ্ত আত্মার প্রশ্ন জাগে, প্রতি এক শ বছর পরপর পৃথিবীতে যে ডিজাস্টার নেমে আসে এবং এভাবে চলতে থাকলে বাইশ শ বাইশ সালে পৃথিবীর কী হবে…?
কথাসাহিত্যিক মোখলেস মুকুল এক অনন্য উচ্চতায় আরহণ করে মানব জীবনের অইসব আখ্যান বাইশ শ বাইশ উপন্যাসে অত্যান্ত দক্ষতার সাথে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
BAISH SHA BAISH by Mokhles Mukul
“বেলা অবেলার গল্প” নামের এই বইটিতে যে গল্পগুলো আছে তা আসলে আমাদেরই গল্প। আমাদের সমাজ, সমাজের মানুষ, এই জনপদ, পরিবেশ, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর নিত্যদিনের গল্প। চরিত্রগুলোও বহুল পরিচিত আমাদের চারপাশের রক্তে, মাংসে গড়া মানুষের মাঝেই সীমাবদ্ধ। এতে মোট বারটি গল্প আছে। তবে প্রতিটি গল্পেই যেমন আছে বিষয় ভিন্নতা তেমনি বৈচিত্র্যময়। অর্থাৎ প্রতিটি গল্পের স্বাদ, গন্ধ আলাদা আলাদা। আমাদের জীবনে ঘটে যাওয়া নিত্যদিনের ঘটনা প্রবাহ, মান অভিমান, প্রেম ভালবাসা, হতাশা পূর্ণতা, বিরহ মিলন, এক কথায় আমাদের জীবনের গল্পগুলোই এখানে রসময় হয়ে স্থান করে নিয়েছে।
Bela Obelar Golpo - Baby Naz Karim
এই বইয়ে চৌদ্দটি গল্প আছে। চৌদ্দটি গল্পে চৌদ্দ রকমের কাহিনি আছে- একটির সঙ্গে অন্যটির কোনও মিল নেই। প্লট, চরিত্র ও বর্ণনায় আছে আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য। সব গল্পই উত্তম পুরুষে লেখা হয়েছে, একটি বাদে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে মনোলগ। এটিই বাসার তাসাউফের লেখালিখির স্বতন্ত্র ধাঁচ। জীবনের গভীরে তার অনুসন্ধিৎসু অভিগমন আছে। তাই গল্প সাজাতে গিয়ে কাল্পনিক পথে খুব বেশি হাঁটতে হয় না। তাঁর গল্পের কাহিনিতে অভিনবত্ব, সুচারু ভাষাশৈলী, কাব্যিক বর্ণনা- ক্লান্তিকর পাঠের অস্বস্তিতে পড়তে হয় না পাঠককে। ঘটনা বর্ণনায় মেদ কিংবা অসংযত আবেগের প্রকাশ নেই। একই সঙ্গে কালাকাল, উত্তরণ-সন্তরণ অতিক্রম করে বাস্তবের গাছতলায় আশ্রয় নেয়। এখানেই বাসার তাসাউফের গদ্যভাষা ব্যতিক্রমী।
গল্পের বইয়ে একসঙ্গে কয়েকটা গল্প পড়া যায়। এতে সুবিধা যেমন আছে অসুবিধাও আছে। সুবিধা হলো- একটি দীর্ঘ স্কেপের মধ্যে বা দৃশ্যের পর দৃশ্য চিহ্নিত করতে করতে পাঠ চালিয়ে যাওয়া যায়। আর অসুবিধা, মনোটনি। তবে এই বইয়ের গল্পগুলোর বিষয়-বৈচিত্রের কারণে সেটা অতিক্রম হয়ে গেছে। এছাড়াও প্রতিটি গল্পের ভাষা সহজ ও প্রাঞ্জল। ছোট-ছোট শব্দ, বাক্য গঠন, উপমা, কাঠামো, কাহিনিতে বৈচিত্র ও অনুপম কাব্যিক গদ্য পাঠককে বুঁদ করে রাখে মন্ত্রমুগ্ধের মতো। প্রথম গল্প ‘এলেন পোর বিড়াল হয়ে এসেছিল’ থেকে ‘ইউ টার্ন’, ‘কখনও মাস্টার হতে চাইনি’, ‘একই আকাশের নিচে’, ‘তৃতীয় প্রজন্ম’, ‘দিব্যনারী’, ‘চোখের মধ্য দিয়ে মনের ভেতরে’, কিংবা ‘বিষণ্ন স্মৃতির প্রসন্নতায়’ গল্পগুলোতে গদ্যের সরু সাঁকোতে স্বচ্ছন্দ হেঁটে বেরিয়েছেন লেখক, সঙ্গে পাঠকও হেঁটে যেতে পারে তরতর করে। এটাই বোধহয় সার্থক শিল্পের আয়না। যেখানে নিজের প্রতিবিম্ব দেখার পাশাপাশি পাঠককেও দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
আদিমকালের গুহাচিত্রের সাংকেতিক রেখা নয়, আধুনিককাল বা উত্তরাধুনিককালের রিয়েলিজম বিমূর্ত ক্যানভাসে শিল্পের মৌলিকতা ও অভিনবত্ব প্রকাশিত হয়েছে এই বইয়ের গল্পগুলোতে।
Ghughur Mukhe Jolpai Pata - Basar Tasauf
ম-তে মানুষ আর ক-তে কুকুর, দুয়ের মধ্যে পার্থক্য বিস্তর। তবু দ্বিপদী মানুষের সঙ্গে চতুষ্পদী কুকুরের তুলনা করে মানুষ কখনও কখনও আত্মতৃপ্ত হয়, কখনও-বা নিজের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করে। কারণ মানুষ বিশ্বাস করে, একমাত্র সে-ই সেরা। অথচ প্রতিদিনের বাস্তবতায় মানুষের এতটা বৈচিত্র্যময় রূপ দৃশ্যমান হয় যে, সেই অভিঘাত তাকে সৃষ্টির সেরা জীব ভাবার ক্ষেত্রে দ্বন্দ্বে ফেলে দেয়। এসব দ্বন্দ্ব সৃষ্টিতে রাষ্ট্রযন্ত্রও অনিবার্যভাবে ভূমিকা রাখে। সবকিছুর পরেও সব ধাঁধা অতিক্রম করে মানুষের ভেতর চলে গল্পের নিরন্তর অন্বেষণ। কাক্সিক্ষত গল্প নির্মাণপর্বে সৃষ্টির সেরা জীব একপ্রকার নাজুক অবস্থাতেই ধরা দেয়। তখন গল্পের পাশাপাশি অগল্পও তৈরি হয়, একই সঙ্গে নশ্বর পৃথিবীতে অবিনশ্বর হওয়ার উদ্গত এক লড়াইও শুরু হয়ে যায়। ‘ক-তে কুকুর’ গ্রন্থের গল্পগুলো মূলত সেসব মানুষের গল্প, যারা আত্মপরিচয় বিস্মৃত হয়ে এমন শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে বারবার পরস্পরের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যায়।
Ka-te Kukur - Sadia Sultana
মাতৃভাষা, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়
বিভিন্ন দেশ, জাতি ও সমাজের অস্তিত্ব ও আত্মপরিচয় মুছে দিয়ে চিরকালের জন্য নিজ শাসন ও শোষণের আওতায় নিয়ে আসার জন্য এক একটি জাতি ও উপজাতির নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতিকে আক্রমণ করে দুর্বল করে দিয়ে সুকৌশলে একক একটি ভাষা ও সংস্কৃতি জাতিতে জাতিতে চাপিয়ে দেয়া- সাম্রাজ্যবাদী শোষণ বিস্তারের প্রাথমিক পরিকল্পনারই একটি অপকৌশল। আধুনিক বিশ্বে বাঙ্গালীর জাতীয়তাবাদী চেতনা জাগ্রত করা ও বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য ’৫২ এর ভাষা আন্দোলন আমাদের জাতীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যে অধ্যায়ের মধ্যে আমাদের ভাষা, সাহিত্য শুধু নয়, আমাদের সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব এবং আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠা ও প্রসারের মহান সংগ্রামেরই ঐতিহাসিক সূত্রপাত। ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের স্মরণে প্রতিবছর ফেব্রুয়ারিতে অমর একুশে বইমেলা- বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে তথা বাঙালী চেতনাকে সম্প্রসারিত ও সুদৃঢ় করে তোলার কাজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আমাদের জাতীয় জীবনে অমর একুশে বইমেলার অপরিসীম ভূমিকাকে গুরুত্বের সাথে আমাদের অনুধাবন করতে হবে এবং এই বইমেলার গুণগত মান এমনভাবে পরিকল্পিত ও সুসংগঠিত করতে হবে যেন এর সুফল সারা বছর জুড়ে আমাদের জাতীয় জীবনে সফলভাবে কার্যকরী থাকে।
ভাষা, শিল্প, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তির উৎকর্ষ সাধনের যে কোন প্রচেষ্টায় দেশের গণমানসের অন্তর্নিহিত শক্তিকে মানসম্পন্ন কাজে রূপান্তরিত করাটাই জরুরী। তাছাড়া, প্রতিনিয়ত নতুন চিন্তার উন্মেষ ঘটানো এবং সেসব নতুন নতুন চিন্তার বাস্তবায়ন একটি জাতির সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে সুদৃঢ়ভাবে সচল রাখতে এবং সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন মোকাবেলা করতে সবল ও সক্ষম করে তুলতে পারে। একুশে বইমেলাকে ঘিরে সেসব কাঙ্ক্ষিত রূপান্তর ঘটাতে আমরা কতটুকু সক্ষম হচ্ছি- এটাই আমাদের সামনে মূল প্রশ্ন। গণমানসের অনুবাদই প্রতিভার একমাত্র ধর্ম নয়। গনমানসের সংগঠনে সাংস্কৃতিক উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে উপযোগী রূপান্তর ঘটানোর প্রচেষ্টাই একুশে বইমেলার মতো এই বিরাট কর্মকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। কিন্তু, আমরা এই বিরাট কর্মযজ্ঞের মাঝে গনমানসের সংগঠনে রূপান্তর ঘটার মত সৃজনশীল কর্মসূচি গ্রহণ করতে দেখি না। আত্মকেন্দ্রিক পুনরাবৃত্তির মধ্যে একুশে বইমেলাকে বন্দী রাখার মত অপচয় কীভাবে বন্ধ করার যায়- এ নিয়ে আমাদের গভীরভাবে ভেবে দেখা দরকার। সত্যের এই পরিণতি মনে রাখাটা খুবই জরুরী- যে সাধনার অগতি বন্ধ্যত্ব আনে, সেই বন্ধ্যত্বের মাঝেই স্বকীয়তা, স্বাতন্ত্র্য, আত্মমর্যাদা ও আত্মপরিচয়ের বিনাশ ঘটে। আমাদের সচেতন থাকতে হবে যে, একটি জাতির নিজস্ব প্রতিভা ও সৃজনশীলতার চর্চাকে বিপথে পরিচালিত করার অপচেষ্টা নিয়ে সাম্রাজ্যবাদ সবসময় চটকদার কর্মসূচি আমাদের মাঝে হাজির করবে।
গত শতাব্দীর শেষভাগে, নিয়ন্ত্রিত শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চর্চা বনাম মুক্ত ও স্বাধীনভাবে শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চর্চার সুফলতা ও কুফলতা নিয়ে বিতর্কের এক রকম অবসান ঘটায় এখন দেশে দেশে মুক্ত ও স্বাধীন শিল্প ও সাহিত্যের চর্চার পক্ষেই জনমত গড়ে উঠেছে। কিন্তু, মুক্তচিন্তার প্রকাশের কারনে শাসক শ্রেণি বিব্রত হয় বলে শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চর্চার ক্ষেত্রে কোথাও কোথাও নিয়ন্ত্রণ একেবারে উঠে যায় নি। সেন্সরশিপ আরোপ এবং গত কয়েক দশকে মুক্তচিন্তা চর্চাকারীদের উপর কট্টরপন্থীদের সশস্ত্র আক্রমণ ছাড়াও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নানা বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ ও নিবর্তনমূলক আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ হতে দেখা যাচ্ছে। এসব প্রচেষ্টা শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিকাশের পথে বাধা। শত শত বছরের ইতিহাস এই সাক্ষ্য দেয় যে নতুন ও মুক্ত চিন্তার চর্চা ও সম্পৃক্ততা ছাড়া শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে গনমানুষের নান্দনিক অভিব্যক্তি বাধাহীন বিকাশ লাভ করে না। নিয়ন্ত্রিত বিকাশ যে বাস্তবে ঘটে না এবং অবশেষে বন্ধ্যত্ব ও স্থবিরতার কবলে পরে ধ্বংস হয়ে যায় এর ঐতিহাসিক প্রমাণ যেমন দুঃখজনক তেমনই বাস্তব।
কিন্তু, এটাও মনে রাখতে হবে যে মুক্ত, স্বাধীন ও প্রতিযোগিতামূলক শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চর্চার নামে নৈরাজ্য একেবারেই কাম্য নয়। বলতে গেলে, দেখা যাচ্ছে যে সাহিত্য চর্চা ও প্রকাশনার ক্ষেত্রে দুধরনের প্রবণতা এই ক্ষেত্রটিকে দারুণ ক্ষতির সামনে দাড় করিয়েছে। কর্পোরেট পৃষ্ঠপোষকতা যতই মান বিচারে নিরপেক্ষতার কথা বলুক না কেন, বাস্তব কিন্তু তা বলে না। ফলে এমন একটি সুবিধাভোগী শিল্পী ও সাহিত্যিক চক্র তৈরি হচ্ছে যাদের তৈরি শিল্প-সাহিত্যের মান সম্পর্কে ক্রমাগতভাবে ভুল বার্তা দিয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে একটি গড় মানের মধ্যে আটকিয়ে রাখা হচ্ছে। ফলে প্রতিভাবান শিল্পী ও সাহিত্যিকদের মাঝে এমন একটা হতাশা তৈরি হচ্ছে যে তাদের হাত দিয়ে বাংলা শিল্প ও সংস্কৃতিতে যে উচ্চ স্তরের বিকাশ ঘটানো সম্ভব ছিল সেই পথ দুঃখজনকভাবে রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে যে ঘটনাটি ঘটছে, সেটাও খুব দুঃখজনক। একুশে বইমেলাকে কেন্দ্র করে এর উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্মে একদল শিক্ষানবিস লেখক নিজ খরচে বই প্রকাশ করে এবং তাঁর পক্ষে দল পাকিয়ে নিজেকে কবি-শিল্পী-সাহিত্যিক হিসেবে আত্মপ্রচারনায় লিপ্ত হচ্ছেন। এসব সাহিত্যকর্ম একেবারেই মানসম্পন্ন নয় ফলে প্রজন্ম বাংলা সাহিত্যের মান সম্পর্কে ভুল ধারণা প্রাপ্ত হচ্ছেন। অনুপ্রাণন আশা করে যে, শিল্পী, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যে মননশীল, সৃজনশীল ও মানসম্পন্ন শিল্প ও সাহিত্যের চর্চা ও সাধনার পক্ষে গভীর সচেতনতা নিয়ে একটি মুক্ত ও স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠবে।
সপ্তম বর্ষ প্রথম সংখ্যা
‘সহজ কথা যায় না বলা সহজে- রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন। সহজ কথা আসলে বুদ্ধিবৃত্তিক আর সংবেদনার ভাষা, দর্শনের একরকম উন্মোচনই তো!
লীনা ফেরদৌস কবি এবং তার এই কবিতাগুলোর ভেতর শৈশবস্মৃতি, একাকীত্ব, নৈঃসঙ্গ্য-স্বরূপ আর দেশ-ভাবনা ডুব-সাঁতারের মতোই পাঠকের কাছে ধরা দেয়।
‘নদী আসলে নরম নয়-অভিমানের স্রোতে সব ভাসায়।‘
কিংবা-
‘নারীরাই হয়তো নীল আকাশ, প্রতিটি মেঘে লুকিয়ে আছে একটি অপেক্ষমান জন্ম।’
দুটি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে লীনার এর আগে, এটি তৃতীয় বই-সম্ভাবনার একরাশ পাপড়ি ছড়ানো লীনার কবিতা। বইটির পাঠক-মনোযোগ আকৃষ্ট হোক প্রভূত পরিমাণে-এই প্রত্যাশা করাই যায় অনায়াসে।
Ataler Padmapuran - Lina Ferdows
গ্রামের পাশে যে বিশাল বাদাম ক্ষেত আর ক্ষেতের পাশে যে ছোট নদী, সে নদীতে মাঝারি সব ঢেউ ওপার থেকে এপাড়ে আসে খড়কুটো মুখে নিয়ে। আর কত কিছু ভেসে আসে আর চলেও যায়—সারা দিনভর ছোটনেরা সেইসব দেখে পাড়ে বসে বসে।
ছোটনেরা মানে হলো—হাবিবুল, রতন, মোবারক, শেফালি বকুল এরা। কালিয়াখোল গ্রামের ছোটরা। তারা প্রতিদিন নদীতে আসে আর কাঁচা বাদাম খেতে খেতে লক্ষ করে নদীটাকে। নদীর ভেতরে কত কিছু। কাদাখোঁচা একটি দুটি। বালিয়া হাঁসের সাদা পাখনা উড়তে থাকে। আর ওপারের মেঘ যখন উড়তে উড়তে এপারে আসে তখন জলিল কাকার সময় হয় জোয়ালের গাই দুটাকে গোসল দেয়ার। গাই দুটার গোসল দেখতে দেখতে আর বাদাম খেতে খেতে দলের মধ্যে মোবারক নামে যে আছে, সে একটা প্রস্তাব দিল। প্রস্তাব দেয়ার আগে বিজ্ঞ বিজ্ঞ ভাব নিয়ে কয়েকটা জানাশোনা তথ্যও দিল। যেমন—এই নদীতে কিছুই ডোবে না।

বাকিরা মাথা নাড়ে—হুম।
গরু ডোবে না, খড় ডোবে না। নাও-লঞ্চ কিছুই ডোবে না। ভেলা ডোবে না।
সবাই মাথা নাড়ে। কাঁচা বাদাম খায়।
—চল আজকে একটা খেলা খেলি। মিনুরে ডুবাই দেই। দেখি ডোবে কি না?
ছোটনরা একজন আরেকজনের দিকে তাকায়। প্রস্তাবে জোর সমর্থন দেয় নুরু। প্রস্তাব সমর্থন নিয়ে নুরু কারো দিকে তাকায় না। নদীর পেটে জলের প্রবাহ দেখতে দেখতে তারা স্কুলঘর দেখে। দূরের আকাশছোঁয়া মিনার মসজিদ দেখে।
—মিনুও ডুবত না। এই নদীতে কিছুই ডোবে না–বলে সাহস দেয় নুরু। ততক্ষণে মিনুকে নিয়ে এসেছে মোবারক।
মিনু জল দেখে ভয় পায়। বলে—মিঁউ!
বিশাল নদী। বিশাল চর। মিনু ভয় পায়। ডাকাডাকি শুরু করে দেয়—মিঁউ মিঁউ।
মিনুকে কোলে নেয় হাবিবুল। হাবিবুল থেকে নেয় রতন। রতন থেকে নেয় শেফালি। শেফালি থেকে নেয় রাজন। রাজন থেকে নেয়া নুরু। নুরু থেকে কেউ নেয় না। কারণ নুরু কাউকে দেয় না। সে মিনুকে ছুড়ে দেয় নদীতে।
সবাই হাসে। মিনু সাঁতার কাটে। ঠিকমতো পারে না। নদীতে ঢেউ। তলিয়ে যায়। ছোট্ট মাথা। ডোবে ভাসে। সবাই হাসে–খুশিতে হাততালি দেয়।
দুই ঢেউয়ের চাপে পড়ে মিনু ডাকে—মিঁউ মিঁউ।
প্রাণপণ চেষ্টা করে মিনু কচি পা দিয়ে পাড়ে আসতে পারে না। দূরে সরে যায়। আবার আসে। পাড়ের কাছে আসেও। কিন্তু নুরুরা ঢিল ছোড়ে। হি হি করে হাসে। হাত তালি দেয়।
মিঁউ মিঁউ করতে করতে নদীর ভেতরে চলে যায় মিনু। ঢেউয়ের ভাঁজের ভেতরে চলে যায়। ডুবে যায়। পাড়ে বসে রাজন শিস দেয়।
…………
রাতের বেলায় বিছানায় শুয়ে শুয়ে পুরো ব্যাপারটা আবার দেখে ছোটন। মিনু ডুবে যাচ্ছে। ভেসে উঠছে। চিৎকার করে ওঠে ছোটন। ঘামে নেয়ে ওঠে সে। কিন্তু তার ঘুম ভাঙে না। ঘুমের মধ্যেই ছোটন বোঝে ঘুম না ভাঙলে সে নদী থেকে আর মিনুকে উঠাতে পারবে না।
সকালবেলা তাড়াতাড়ি মিনু যে কাজটি করে তা হলো ছোটনের বাবা-মাকে নিয়ে নদীর পাড় চলে এলো। তারা দেখল—নদীর ভেতরে একটা লাল জামা ভাসছে ছোটনের।
২৪১৯
কালিয়াখোল গ্রামের ছোটরা
তন্ময় ও সুস্ময় নামের দুই জমজ ভাইয়ের কার্যকলাপ নিয়েই “আলোকিত মানুষ ” গল্পটি সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। এই দুভাই পড়ালেখায় বেশ মনোযোগী কিন্তু তাদের শিক্ষক পড়ালেখার পাশাপাশি তাদেরকে সামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেন। এক ঈদে তিনি তার শিক্ষার্থী দের প্রত্যেককে এমন এক একটা ভালো কাজ করতে বলেন, যে কাজের উজ্জ্বলতার রেশে তাদের চারপাশ আলোকিত হবে এবং তারা আলোকিত মানুষ হিসাবে পরিগণিত হবে।
সেই স্যারের আদেশমতো তারা আলোকিত মানুষ হওয়ার প্রচেষ্টা হিসাবে সমাজের অবহেলিত সমবয়সি রোজকার ময়লা নিতে আসা ছেলে রাজা আর টোকাই বাদশাকে ঈদের দিন তাদের বাসায় দাওয়াত দেয়। দুই ভাই তাদের প্রিয় লোভনীয় স্পেশাল খাবারের একটা মেন্যু তৈরি করে যেগুলো এই সুবিধাবঞ্চিত শিশুগুলো কখনো টাটকা খায়নি। দোকানের শোকেসের কাচের বাইরে থেকে শুধুই চেয়ে চেয়ে দেখেছে। এই দুই জমজ ভাই তাদেরকে সেই খাবার চেখে দেখাবার প্রয়াস নেয়। এই মেন্যু ও খাবার স্বাস্থ্যসম্মতভাবে ঘরে তৈরী করতে খুশিমনে এগিয়ে আসেন তাদের মা। সুস্ময় আগত সমবয়সি প্রত্যেক শিশুকে নতুন জামা, বই, খাতা, স্কুলব্যাগ আর তন্ময় তাদের অতি প্রয়োজনীয় জুতা ও স্যান্ডেল উপহার দেওয়ার পরিকল্পনা করে।
তাদের এসব পরিকল্পনা শুনে ও দেখে তাদের প্রিয় দাদু নাতিদের কাছে এই শুভকাজে নিজে অংশ গ্রহণ করার সুযোগ চান। তিনি রাজার মাকে তন্ময় ও সুস্ময়ের মায়ের সেলাই শেখার স্কুলে কাজ শেখানোর সুযোগ দেওয়র প্রস্তাব রাখেন। তিনি মনে করেন, রাজার মা ভালোভাবে কাজ শেখার পরে তাকে নতুন সেলাই মেশিন কিনে দিলে সে স্বনির্ভরতার পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। আর তরকারির ফেরিওয়ালা বাদশার বাবাকে তরকারির ফেরি করার সুবিধার্থে ভ্যানগাড়ি কিনে দিতে চান। এতে কষ্ট করে তাকে ঝুড়ি মাথায় নিয়ে ঘুরে বেড়াতে হবে না।
তন্ময় ও সুস্ময়ের পরিবারের মতো বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবার যদি এগিয়ে আসে বাংলাদেশের ঘরে ঘরে সুবিধাবঞ্চিতদের মুখে হাসি ফুটবে। পরিশেষে লেখিকার এই গল্পে বর্ণিত মানুষ গড়ার কারিগর সেই শিক্ষাককে স্যেলুট যিনি তার শিক্ষার্থীদের মাঝে আলোকিত মানুষ হবার অনুপ্রেরণা বেশ সফলভাবে জাগিয়ে তুলেছেন এবং সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের উদ্বুদ্ধ করতে সফল হয়েছেন। আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত। সেই শিশুদেরকে আলোকিত মানুষ হওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়ে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন পরিবারের পাশাপাশি তাদের শিক্ষকরা। এই গল্পে সেটাই লেখিকা অত্যন্ত সুন্দর ও প্রাঞ্জলভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
আলোকিত মানুষ - Alokito Manush
Get access to your Orders, Wishlist and Recommendations.























There are no reviews yet.