Additional information
| Weight | 0.270 kg |
|---|---|
| Published Year |
$ 1.62 $ 2.71
শঙ্করী দাস
জন্ম: ০৫ মে, ১৯৫৮ সন, জামালপুর।
প্রকাশিত গ্রন্থ গল্প:
প্রতিবিম্ব ও অন্যান্য গল্প
জলমাটির গল্প
পায়ের চিহ্ন
রাহুর চন্দ্রগ্রাস
প্রকাশিত গ্রন্থ কবিতা:
ঘাসবোনা গ্রাম তাঁতবোনা গ্রাম
বিহান বেলার ঈশ্বর
বল তোমার কুশল শুনি
গবেষণামূলক:
গণমানুষের স্মৃতিতে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ
সম্মাননা:
জলমাটির গল্পের জন্য পাক্ষিক ঐকতান (বর্ধমান) পত্রিকা পদক। শিশুকবি রকি সাহিত্য পুরস্কার ও নক্ষত্র সাহিত্য পুরস্কার।
| Weight | 0.270 kg |
|---|---|
| Published Year |
আবু সাঈদ আহমেদের জন্ম ১০ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৫। অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যায়নের সময়েই জনপ্রিয় সাপ্তাহিক সন্দ্বীপে প্রতিবেদন লেখার মাধ্যমে লেখক জীবনে প্রবেশ। কলেজ জীবন হতে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে কবিতা ও প্রবন্ধ লিখেছেন। কিন্তু লেখাকে কখনোই গুরুত্বের সাথে নেন নাই। তিনিই বাংলা ব্লগের অন্যতম জনপ্রিয় ব্লগার ‘হরবোলা’। অনলাইনে নির্মোহ রাজনৈতিক প্রবন্ধ, তীক্ষ্ম স্যাটায়ার, কবিতা আর অণুগল্প তাকে এনে দিয়েছে ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা। আমমানুষের পক্ষের একজন লেখক ও এক্টিভিস্ট হিসেবে একাধিকবার শারীরিক হামলার স্বীকার হয়েছেন, কিন্তু নীরব হন নাই।
লংকা কিন্তু জ্বলছে না
হাসান অরিন্দম। বাংলাদেশের একজন প্রাবন্ধিক ও গল্পকাররূপে পরিচিত। কথাসাহিত্যই তার সৃষ্টি ও আগ্রহের প্রধান ক্ষেত্র। জন্ম ২৭ এপ্রিল ১৯৭২। শিক্ষাজীবনÑ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। বাংলার লোকজীবন ও আবু ইসহাকের কথাসাহিত্য বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
পেশায় অধ্যাপক। ‘একজন মানুষের সম্ভাবনা’, ‘বিদ্যাছায়াবিদ্যা ও অন্যান্য গল্প’, ‘দুরবিনে দেখা কতিপয় দৃশ্য’সহ আরো অনেক বই প্রকাশিত হয়েছে।
আমাদের দৃষ্টিসীমায় কোন বাতিঘর ছিলো না
মুখর জীবনগদ্য
বিলাল হোসেন
জন্ম: ১ জানুয়ারি, ১৯৭৪।
জন্মস্থান- মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার রাজারচর কাজিকান্দি গ্রামে।
প্রকাশিত বই-
১. কাব্যগ্রন্থ- বিরুপা’র শূঁড়িবাড়ি(২০১৪)
২. অণুগল্প সংকলন- পঞ্চাশ(২০১৫)
৩. মহাপ্রভু ও অন্যান্য অণুগল্প(২০১৬)
৪. কাব্যগ্রন্থ- একজ্বলাপঙক্তি(২০১৬)
স¤পাদিত বইসমূহ-
সেরা ১০০ অণুগল্প(২০১৫) (প্রিন্ট ভার্সন)
ই-বুক স¤পাদনা-
অণুগল্প সংগ্রহ-১,২,৩,৪; গোয়েন্দা অণুগল্প সমগ্র, ভূত অণুগল্প সমগ্র, রূপকথা অণুগল্প সমগ্র, নীতি অণুগল্প সমগ্র, চিয়ার্স চিয়ার্স চিয়ার্স, দুনিয়ার মাতাল এক হও, মাতালে মাতালে চেনে, মধুগন্ধেভরা, যুগলবন্দী (সুবর্না রায়), অণুগল্পের বিষয় বৈচিত্র্যের সন্ধানে, তাহাদের গল্প, অণুগল্পের অস্তিত্ব আছে, অণুগল্পের শিরদাঁড়া, অণুগল্পের রোজনামচা।
বাংলা ভাষার সেরা অণুগল্প
১৯৬২ সালের ৫ ডিসেম্বর, ময়মনসিংহে কবি আশুতোষ পাল ও শিউলি পালের সংসারে জন্ম।
লেখাপড়া- বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষিবিজ্ঞানে স্নাতক এবং সুইডেন থেকে পরিবেশ বিজ্ঞানে ডিপ্লোমা।
পেশা- এনজিও কর্মী দিয়ে শুরু এবং বর্তমানে সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত।
প্রকাশিত অন্যান্য বই- রাতপঞ্জি (২০০৩),পুননির্বাচিত আমি- ২০১১।
Asochorachor
জন্ম ১৯৮৭, পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে। পড়াশোনার পাশাপাশি ফটোগ্রাফির সাথে যুক্ত। প্রকৃতি আর মানুষ এই দুই নিয়েই তার পথচলা। নিজের উপর আত্মবিশ্বাস রয়েছে
প্রেম হলো প্রেমের মতো
১০০ অণুগল্প
মঞ্জু সরকার, বাংলাদেশের অন্যতম কথা সাহিত্যিক। জন্ম ১ সেপ্টেম্বর ১৯৫৩, রংপুর। ছোটগল্প উপন্যাস ও শিশু-কিশোর গ্রন্থ মিলিয়ে প্রকাশিত গ্রন্থ অর্ধশতাধিক। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছেÑ মৃত্যুবাণ, উচ্ছেদ উচ্ছেদ খেলা, যৌথ একাকিত্ব, তমস, নগ্ন আগন্তুক, ছোট্ট এক বীরপুরুষ ইত্যাদি। বাংলা একাডেমি, ফিলিপস, ব্যাংক সাহিত্যসহ বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছেন।
রূপান্তরের গল্পগাথা
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে লেখকের নাম হাসান মাহবুব। তিনি নাড়–গোপাল দত্ত অথবা ইসমাইল আহমেদ নন। তিনি রবীন্দ্রনাথ বা আগাথা ক্রিস্টি নন। তিনি দূর আকাশের নীল নক্ষত্র, ধোঁয়া ওঠা কফির মগ, বাজারে মেয়েটির অপরিচ্ছন্ন অন্তর্বাস, ট্রাফিক পুলিশের সিগন্যাল বাঁশি অথবা লোম কাটার মওসুমের ভেড়ার দীর্ঘশ্বাসও নন। তিনি লেখেন। তবে ‘তিনি’ই লেখেন কি-না এই নিয়ে সন্দেহ আছে। কারণ লেখার মতো পরিশ্রমের কাজে বছরের পর বছর এত শ্রম দিয়েছেন, দুটো বইও বের করেছেন (প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত এবং আনন্দভ্রম) তার সাথে এসব ঠিক যায় না। এত সব প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তিনি হাসান মাহবুব হবার চেষ্টা করছেন এবং তারই ফলশ্রুতিতে আরো একটি বই প্রকাশ করে ফেললেন। তিনি সকলের দোয়া প্রার্থী!
নরকের রাজপুত্র
সুলতানা শাহরিয়া পিউ, জন্ম ২ অক্টোবর। লেখালেখি, আবৃত্তি ও সংগীত চর্চা করেন। অনুপ্রাণন সম্পাদনা পরিষদের সাথে যুক্ত। শিক্ষকতা করেন। তার প্রকাশিত অন্যান্য গ্রন্থ- মেঘের সাথে কথা (কাব্যগ্রন্থ), ইংরেজী কাব্যগ্রন্থ ‘ট্রান্সকুইল সেরেনেইড এর অনুবাদ ‘নিমগ্র জলধারা’। বাংলা গীতিকবিতার অনুবাদ ‘অচিন’ দঁহশহড়হি’.
এ্যালবাম- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেলপ্রাপ্ত ংড়হম ড়ভভবৎরহমং থেকে আবৃত্তি ‘ভয়েজ টু দ্যা ইটারনাল হোম’ পঞ্চকবির গানের সমবেত কণ্ঠে ‘পঞ্চপ্রভা’।
মেঘের দেশে ফিরে যাবার গল্প
আমি কী আর জন্মেছিলাম মানুষ হিশেবে?
জন্মেছিল আবু তাহের, এই লোকটা কে?
মুখ চিনি না তবু মুখের আদল ধরে হাঁটি
শরীর খুলে বাইরে এসে ছায়ায় পরিপাটি।
আমি হয়তো ছায়ার মানুষ, শরীর আরেকজন
তার শরীরেই আড়াল হয়ে বাঁচার আয়োজন।
কার সে জীবন আমার কাঁধে, আমি-ই যে হায় কার
একই সাথে খাচ্ছি-দাচ্ছি ঘুমোচ্ছি আবার।
আমার যে, সে কোথায় থাকে? কোথায় বাড়িঘর?
তার সাথে কী বদলেছে এই আমার টিনের ঘর?
গোধূলির জাদুকর
সরদার ফারুক। জন্ম ১৯৬২ সালের ৯ নভম্বের, কপোতাক্ষ নদের তীরে খালিশপুরে। পৈত্রিক নিবাস বরিশালের কাশীপুর। পেশায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। ছাত্রজীবন থেকেই প্রগতিশীল ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন। বরিশালে ঘাট শ্রমিকদের ?আন্দোলন, ডেমরায় শ্রমিক কর্মচারি ঐক্য পরিষদের সংগ্রাম ও বাজিতপুরের জেলেদের লড়াইয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
নব্বইয়ের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য তিনি সরকারী চাকরি ছেড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৮৯ সালে ডাকসু নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনও করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত লিখছেন। ১৯৮০ সালে বরিশালের অধুনালুপ্ত ‘সাপ্তাহিক লোকবাণী’ পত্রিকায় প্রথম লেখা প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে শামসুর রাহমান সম্পাদিত সাপ্তাহিক বিচিত্রা, দৈনিক দেশ, সংবাদসহ দেশ-বিদেশের নানা পত্র-পত্রিকা, সাহিত্য সাময়িকীতে তার লেখা কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
নোনা শহর
অনুভূতিগুলো ভীষণ ব্যক্তিগত। তবু পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রই এই অনুভূতিগুলোর আকার দেয়। আবার বারবার এই পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রই সেই অনুভূতিকে আঘাত করে। তাই গল্পগুলো ভীষণ ব্যক্তিগত হতে হতেও হয়ে ওঠে সমাজ, দেশ আর সময়ের প্রতিচ্ছবি। ভীষণ সহজ ভাবনাগুলোও আরও একবার ভাবিয়ে তোলে ভেতরে ভেতরে।
Diner Alor Govire - Sohel Mahroof
মনের পদাবলী : ভুমিকা
বোধকরি, সেই বোধ না হওয়ার বয়স থেকে অন্ত মিলে ছন্দ মিলিয়ে, কবিতার ঢঙে কথা বলা আমাদের বাড়ির সবার অবসরের আনন্দের নিত্য আখ্যান ছিলো। বাড়ির সবাই শুধু নয়, মাঝে মধ্যে বন্ধু-স্বজন , অতিথি -প্রতিবেশীও সেই দলভুক্ত ছিলেন। তখনকার আনন্দের উৎস ছিল সহজ আর নির্মল। সেই সহজিয়া সুরের অনুরণন বরাবরই আমার অন্তরের বেলাভূমিতে প্রোথিত ছিল। পরবর্তীতে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, কারণে -অকারণে অনিয়মিত ভাবে। কখনো তা লিপিবদ্ধ করতে পেরেছি, কখনো বা
মনের মধ্যেই তার অপমৃত্যু ঘটেছে।
আমাদের ভাবনার আকাশে আসলে ইচ্ছে ঘুড়ির মতন , টুকরো টুকরো মেঘের কথন সর্বদাই উড়া-উড়ি করে। কখনো তা প্রগাঢ়, কখনো কম্পিত, কখনো বা অস্পষ্ট – ম্রিয়মাণ। আধো আলো , আধো ছায়ায় সেই বিমূর্ত চিত্রকে মনের খাতায় পাখির পালক দিয়ে যতবারই লিখে রাখার চেষ্টা করেছি ,ব্যর্থ হয়েছি । রাতভর স্বপ্নের সাথে লুকোচুরি খেলা, সকালবেলায় বেমালুম কর্পূরের মতো মন থেকে সব উধাও। জোর পাঞ্জায় চেপে ধরেও কোনও শব্দ উদ্ধার করতে পারিনি। ‘মন শুধু বলে অসম্ভব’ – কিছুই মাথায় আসছে না।
আমার মা তাই বলতেন, বিছানায় বালিশের তলায় খাতা- কলম রেখে দিতে। অন্ধকারে কাকের ঠ্যাং বকের ঠ্যাং যা লিখবে, সকালে তা দেখেই মনে পড়বে রাতের হারিয়ে যাওয়া গুপ্তধনের হদিশ। নিয়ম করে লিখতে হবে আর মনকে সেই নিয়মের বশবর্তী করতে হবে, তাতেই কেল্লা ফতে !’
আমাদের মনতো শুধুই বিচিত্র নয়, অ্যামিবার মতন পরিবর্তনশীল। তাকে তাৎক্ষনিক ভাবে পরওয়ানা জারী করে, গ্রেফতার করতে না পারলে দাগী আসামী হয়েও পালিয়ে যাবে, ঐ দিগন্ত রেখা ধরে পৃথিবীর অন্য গোলার্ধে; হয়তো বুনো হাঁস , তিমি মাছ কিম্বা কাঠ পিঁপড়ের রূপ ধরে , কে বলতে পারে ।
আমার জীবনের নদীতে তরণী বাইতে গিয়ে , নানা ঘটনা – দুর্ঘটনায় ঢেউয়ের উথাল পাথাল আমাকে আহত করেছে বারবার। কঠিন কঠোর জলপ্রপাতের ধাক্কায় ছিটকে পড়লেও , দিক ভ্রষ্ট হইনি কখনো। আমার মা ডঃ হালিমা খাতুন, সুদক্ষ কম্পাসের মতন নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। সবসময় আমাকে আড়াল করে রেখেছেন তাঁর মাতৃস্নেহের আঁচলের অন্তরালে। আজকের এই ‘আমি’ তো তাঁর অকৃপণ হাতের তৌরী, এক পূর্ণ মানব -সন্তান। আমার সফলতা পুরোটাই তাঁর, আর ব্যর্থতা যা কিছু তা একান্ত আমার অপারগতার মাশুল ।
২০১০ সাল থেকে আমি কানাডা প্রবাসী হবার পর, আমার ভাবনার আকাশ প্রায়ই মেঘাচ্ছন্ন থাকতো , কিন্তু সেই মেঘমালার ছবি আঁকা সম্ভব হয়নি। কখনো কদাচিৎ , কিছু শব্দ বা বাক্য এদিক ওদিক থেকে চিৎ -পটাং হয়ে পড়েছিলো খাতার পাতায়। এখন সে সব খুঁজে পেতে জড়ো করার চেষ্টা করছি। হারিয়ে গেছে কিছু খাতার পাতা থেকে , কিছু মনের পাতা থেকে। মনের সিন্দুকে আজ নাড়া পড়েছে । মর্চে পড়া চাবি দিয়ে ক্লান্ত- ভারী দরজাটা খুলতে পারলাম, তাই রক্ষে। এখন হাতড়ে ফিরছি অপ্রকাশিত অনুভবের লিপিকা , যা নানা সময়ে উত্তাল আগ্নেয়গিরির মত হৃদয়ের তটরেখায় গভীর লাভার উদ্গীরন ঘটিয়েছে ; এখন তা অবস্য যাদুমন্ত্র বলে ঘুমন্তপুরীর নিদ্রিত রাজকন্যা।
২০১৮ সালের তেসরা জুলাই আমার মায়ের অন্তরলোকে অনন্তযাত্রার পর, যেন তাঁর অনুপস্থিতি কোন এক মায়ামন্ত্র বলে, তীব্রভাবে তাঁর উপস্থিতি পুনঃনিশ্চিত করতে লাগলো। সারা জীবন ধরে তাঁর সকল উপদেশ বানী যা কখনোই আমার মনঃপুত ছিলনা ,তা যেন এখন স্বর্গীয় অমিয় বাণীর মত আমায় আপ্লূত করলো। আমি বশীভুত হলাম। রচিত হোল আমার মনের পদাবলী।
“মিল নেই মানে নেই, নেই তাল -ছন্দ,
হিজিবিজি কথা যেন, মুড়ো ছাড়া স্কন্ধ !”
মনের এই সব অর্থহীন হিজিবিজি প্রকাশের মধ্যে, কোথাও তো স্বযতনে লুকিয়ে থাকে আমাদের একান্ত দুর্বলতম পক্ষপাতিত্যে ভরা আত্ম-প্রেম, যা হয়ত সবসময় বলা যায় না । বেসুরো সেই সুর- মূর্ছনা টের পেয়ে, অনুপ্রেরনা দাত্রী রূপে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, যে এই বই প্রকাসের জন্য আমায় আক্ষরিক অর্থে ছড়ি ঘুরিয়ে, প্রতি দিন প্রতি ক্ষন, সব কাজ করিয়ে নিয়ে কৃতিত্ত্যের অধিকারী, সে আমার মনের খুব কাছের, সুন্দর হৃদয় সম্পন্ন গুনবতী এক মানুষ, শাহরিয়া পিউ! কৃতজ্ঞতার সাথে উচ্চারণ করতে চাই, অনুপ্রাণন প্রকাশন এর কর্ণধার আবু এম ইউসুফ্ এর নাম, যার সম্মতি আর সহযোগিতা ছাড়া, আমার মনের পদাবলী অপ্রকাশিত থেকে যেতো।
এ সঙ্কলনের কথামালা সত্যিকার অর্থে কতখানি সাহিত্য রসে সিক্ত কিম্বা প্রথাগত নিয়মে, আদৌ এগুলো পদ্য বা পদাবলী কিনা, জানিনা। তবে মন্দলাগাটুকু আমার জন্য সঞ্চিত রেখে, যদি কোন পাঠকের মন ভালোলাগায় এতোটুকু আন্দলিতো হয়, আমি ধন্য হবো।
আপনাদের গঠনমূলক সমালোচনা আমার শিরোধার্য। সেইসাথে প্রার্থনা করি আপনাদের আশীর্বাদ ।
সবার মঙ্গল কামনায়, এক কল্যানময় আগামীর প্রত্যাশায় !
অফুরান ধন্যবাদ ,
প্রজ্ঞা লাবণী
মনের পদাবলী - Monar Podaboli
জন্ম ১৯৮৬, মেহেরপুর। ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য স্নাতকোওর। পেশায় সাংবাদিক। “অরনি ছোটগল্প” পুরুস্কার ২০১২ ও বৈশাখী টেলিভিশন “তোমার গল্পে সবার ঈদ পুরুস্কার” ২০১৩ পেয়েছেন। দ্বিধা, আদিম বুদবুদ অথবা কাঁচামাটি বিগ্রহ সহ আরও প্রকাশিত গ্রন্থ রয়েছে।
আলোচনা সমালোচনা : প্রসঙ্গ কথা সাহিত্য
ভূমিকা-
কবিতার ভিতর দিয়ে বহুবিধ বহুকালের অমীমাংসিত জটিল সমীকরণের সমাধান খুঁজে চলা কবির নাম সালাহউদ্দিন সালমান, কবি যেন কলমের ডানায় আর খাতার বাতিঘরে লুকিয়ে রাখে বেঁচে থাকার মৌলতম রসদ, তার কবিতায় পাঠক খুঁজে পায় অনন্য স্থির নির্ভেজাল ধনাত্মক-ঋণাত্মক ডান বাম, ভালো মন্দ সুখ দুঃখ, অনুভূতি চিন্তা ভাবনা বোধের শৈল্পিক নিরপেক্ষতা। মানুষের সাধ্যাতীতের বিপরীতে কবি তার কবিতায় ফুটিয়ে তুলে নরম জীবনের কারুকাজ, কবি তার কবিতায় দ্রোহের রক্ত নিয়ে আলো খুঁজে অসম্ভব অনিশ্চয়তার নিঃসীম অন্ধকারে, তার একেকটি কবিতা মূর্তিমান জীবনের একেকটি দীর্ঘশ্বাস, সমাজ সংস্করণে এই জীবনমুখী কবির কবিতা যেন প্রয়োজনীয় বিদ্রোহের প্রতীক। কবির প্রেমময় কবিতাগুলো যেনও প্রেমিক প্রেমিকার বুকপকেটে ভরে রাখা কখনো কালো মেঘের আহাজারী, কখনো শূন্যতার নিঠুর মহামারী, আবার কখনো কখনো চালচুলোহীন স্বপ্নাতুর লালিত সঞ্চয়ের সমুদ্রখচিত বিশাল আকাশ। কবির একটি কবিতা পড়েছিলাম পোড়ামাটি নামক- শুইয়ে থাকা নীরব জ্যোৎস্না কে ছুঁতেই /নিজের ছায়া ছুটে চলে অন্ধকারের দিকে/ মেঘঘন আকাশের ফিকে বিছানায়/অগণিত জোনাকিদের সদ্য ঘুম মুখে/আঙুল রাখতেই খলবলিয়ে উঠে নিস্তরঙ্গ নদী/ ভাঙি দ্রোহ আর আকাক্সক্ষার জড়ানো ইমারত/ অনিবার্য পিপাসা ফুরায় অন্তর্গত অভিবাসী জলে/ অবাধ্য হাতের অকুতোভয় আঙুলগুলো বোটা ছুঁতেই/ অঝোর আষাঢ় আসে থই থই লুণ্ঠিত হয় ঘরবাড়ি/ ঘাম শুকায় ঘামে কাঁচা দেহ হয় পোড়ামাটি/ -সশরীরে দেখে মনেই হবে না সালাহউদ্দিন সালমান এমন অসংখ্য কবিতার কবি, কবির নিজের একটি উক্তি আছে কবিতাকে নিয়ে কবি প্রায় বলেন-কবিতা সত্য সুন্দর স্বপ্নিল জীবনের সাথে চলে আমরা কবিতার সাথে চলি। বিশ্বব্যাপী কবিতার মিছিলে কবি সালাহউদ্দিন সালমান এর উজ্জ্বল পদচারণ তারই দৃপ্ত প্রমাণ।
পকেট সেলাই করি ছেঁড়া জামার
প্রেম শ্বাশত। একটি পবিত্র প্রেম একজন মানুষের জীবনে মহীরূহ স্বরূপ। যা তাকে সারাকাল সুখের আচ্ছাদনে সমৃদ্ধ করে। বুকের ভেতর লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন তার অধিকার। আমাদের চলমান সমাজ ব্যবস্থায়, তৃতীয় ব্যক্তি নামে একটি পক্ষ আছে। এই তৃতীয় পক্ষ যখন, একটি মধুর সম্পর্কের মধ্যে ঢুকতে চেষ্টা করে? তখন কতো যে ব্যত্যয় ঘটে, তা কম বেশী সকলের জানা। সুখী সমৃদ্ধশালী জীবনটা তখন, নিমিষেই তাসের ঘরের মতোন হয়ে যায়। নিকষ আঁধারে ঢেকে যায় প্রেমের সূর্যতোরণ।
এ উপন্যাসে মুন আর মনন দম্পতির মধুর সম্পর্কের মধ্যে, এই তৃতীয় পক্ষের সক্রিয় আগমন ঘটার চেষ্টা বিদ্যমান। ওদের স্বাভাবিক জীবন বোধ টালমাটাল অবস্থায় পড়ার উপক্রম। মুন ও মননের সংসারে যেনো অথই সাগরে সুখের অবগাহন। তৃতীয় পক্ষের গাত্র দাহ! তো এখানেই? তাদের সন্তান মম কে পেয়ে ওরা বুঝি সত্যিকারভাবে “সুখ পাখি” টা কে হাতে পায়? আর এতেই হয়তো বা ওরা, সেই ব্যক্তির দুষ্টু নয়নের শ্যেন দৃষ্টির শিকার হতে চলেছে? ওদের সুখের সংসারে অশুভ ইঙ্গিতের হাতছানি, দেখা দেয়ার চেষ্টা চলছে ক্রমাগত। শেষ পর্যন্ত সফল কে হবে? ওরা দু’জন? না কি তৃতীয় কোন পক্ষ? সকলকে ধন্যবাদ।
-লেখিকা
তোমায় চেয়েছি বলে
গল্পের কি শেষ আছে? যতদিন প্রাণ থাকবে, ততদিন গল্পেরও জন্ম হবে। এটা নিরন্তর ঘটে চলা চিরন্তন প্রক্রিয়া। বইয়ের প্রতিটি গল্পেই অবিরত চলেছে যাপিত জীবনের অলিগলির অনুসন্ধান। গভীর অন্ধকারের ভেতরেও যেমন আলোর স্ফুলিঙ্গ থাকে, তেমনই সেই আলোরও খোলস থাকে। গল্পের ভেতরে পাঠক আপাত দেখতে পাবেন খোলসের আবরণ। সেই আড়াল সরিয়ে নিলেই মিলবে আলো, বেঁচে থাকার স্বাদ। প্রকৃতপক্ষে মানুষের জীবনের টুকিটাকি অনুষঙ্গই এই বইয়ের বিষয়বস্তু। প্রিয় পাঠক, বইটির কয়েকটি পৃষ্ঠা উল্টিয়ে দেখুন তো, আপনার জীবনের কিংবা চেনাজানা যাপনের কারো সঙ্গে কিছু মিলে যায় কি না?
আলোর খোলস - Alor Kholosh
মফস্বলের একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে বীথিকা রায় তথা বীথির জন্ম। যে শৈশবেই একাধিক উন্নত রাষ্ট্র ভ্রমণ এবং ধ্র”পদী গ্রন্থাদি পাঠ করে বাঙালি হিসেবে নিজের অবস্থান বুঝতে পারে। একইসঙ্গে স্বনামধন্য বাঙালিদের গৌরবময় কর্মকাণ্ডের ইতিহাসও পাঠ করে—কিন্তু তাঁদের প্রতি বর্তমান বাঙালি জাতির বিস্মরণ আর চারিত্রিক অধঃপতন দেখে বিচলিতবোধ করে। উন্নত বিশ্বে বাঙালির বৈষম্যের শিকার হওয়াও তাকে আঘাত করে। ফলে তার ভেতরে দেশোদ্ধারের জাতীয়তাবাদী চেতনার স্ফুরণ ঘটতে থাকে।
বীথিকা জাতিগঠনের পেছনে যে সংস্কারমুক্ত আধুনিক শিক্ষাই প্রধান নিয়ামক সেটা ভালো করেই বুঝতে পারে। আরও অনুধাবন করে, বহির্বিশ্বের জ্ঞানে ঋদ্ধ, অভিজ্ঞ, দেশাত্ববোধসম্পন্ন মেধাবী শিক্ষকরাই কেবল জাতি গঠনে প্রধান ভূমিকা রাখে—রাজনীতিবিদ, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সেনাপ্রধান নয়।
ভবিষ্যতের সেই রকম একজন আদর্শ শিক্ষকের প্রতিকৃতি ও সম্ভাবনা বীথি দেখতে পেয়েছিল কিশোর শংকরের মধ্যে। কিন্তু সামাজিক, মানসিক ও শারীরিকভাবে ছেলেটি ছিল খুবই বিভ্রান্ত এবং দুর্বল তথাপি, একরোখা—ঋজু বীথি হাল না ছেড়ে শংকরকে তার স্বপ্নের আরাধ্য আদর্শ শিক্ষকে রূপান্তরিত করতে সক্ষম হয়। এর জন্য তাকে বিনিয়োগ করতে হয় যৌবনের মূল্যবান দীর্ঘ সতেরটি বসন্ত। কিন্তু হারানোর বেদনায় বীথি ব্যথিত নয়, বরং সে সফল, তৃপ্ত এই কারণে যে, দেশ ও জাতি একজন মহান শিক্ষককে পেয়েছে, যে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ ও স্বদেশপ্রত্যাগত। তারই ইতিবৃত্ত এই উপন্যাস।
প্রবীর বিকাশ সরকার
অপরাহ্ণে বৃষ্টি
আপনার বাসার এক কোনায় যেমন “একটা ফার্স্ট এইড বক্স “ রয়েছে যেটাকে ছোট-খাটো শারীরিক সমস্যায় ব্যবহার করে থাকেন। যেমন- সামান্য কেটে গেলে, পুরে গেলে, পেটে গ্যাস হলে, হালকা জ্বর কিংবা অন্য কোনো সাধারণ ছোট-খাটো শারীরিক সমস্যায়, যেটা দিয়ে আপনি নিজেই নিজের প্রাথমিক চিকিৎসা করে ফেলতে পারছেন এই ফার্স্ট এইড বক্সের সাহায্যে। তেমনি “সুস্থ থাকতে ফিজিওথেরাপি” বইটিও আপনার বাসার “ফার্স্ট এইড বক্স” এর মতোই সবার বাসায় রাখতে পারেন। কারণ বইটি পড়লে সহজেই জানতে পারবেন আপনার বিভিন্ন শারীরিক বাত-ব্যথার কারণ, করনীয় বা প্রতিরোধ সম্পর্কে এবং কখন আপনাকে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে সেই সম্পর্কে। পাশাপাশি কিছু নিয়ম মেনে এবং এক্সারসাইজের মাধ্যমে আপনি নিজেই নিজের শারীরিক বাত-ব্যাথার প্রাথমিক চিকিৎসা করে ফেলতে পারেন। কারণ, আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি অন্যতম ও গুরুত্বপূর্ণ শাখা হলো ফিজিওথেরাপি, যা বিভিন্ন ধরনের বাত-ব্যথা এবং প্যারালাইসিস এর সর্বোৎকৃষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি। অর্থাৎ মাসল, জয়েন্ট, টেন্ডন, লিগামেন্ট, বোনস এবং নার্ভজনিত বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যায় খুব ভালো কাজ করে থাকে রোগীকে সারিয়ে তুলতে। কিন্তু অনেকেরই পরিস্কার ধারনা নেই ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা সম্পর্কে। অর্থাৎ ফিজিওথেরাপি কি, ফিজিওথেরাপিস্টের যোগ্যতা কতটুকু, কোন কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি যতটা সম্ভব সহজ ভাষায় উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার আদ্যোপান্ত সম্পর্কে। এছাড়া, বইটির দ্বিতীয় সংস্করণের বিশেষত্ব হলো, স্ট্রোকের চিকিৎসায় বাসায় করনীয় এক্সারসাইজগুলো ছবিসহ দেয়া রয়েছে। যেটা বেশির ভাগ রোগীর অভিভাবকেরাই জানতে চান যে স্ট্রোকের রোগীর চিকিৎসায় দীর্ঘমেয়াদী কোন কোন এক্সারসাইজগুলো বাসায় চালিয়ে যেতে হবে সেই সম্পর্কে। যদিও স্ট্রোকের রোগীর চিকিৎসায় হাত-পায়ের শক্তি ফিরিয়ে আনতে অবশ্যই একজন ফিজিওথেরাপিস্টের তত্ত্বাবধানে থাকতে হয়। তবে বাসায় কি ধরনের এক্সারসাইজগুলো চালিয়ে যাবেন সেই সম্পর্কে ছবিসহ অনেকটাই সহজভাবে সচ্ছ ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করছি বইটি বিভিন্ন শারীরিক বাত-ব্যথা ও প্যারালাইসিসে বাসায় করনীয় এবং চিকিৎসা সম্পর্কে অনেকটা স্পষ্ট ধারণা দেবে।
Shushtha Thaktey Physiotherapy by Dr. Sumona Parvin
বুদ্ধদেব বলেছেন- জীবন দুঃখময়। কথাটা সর্বাংশে সত্য কিনা সংশয় রয়েছে মনে। তবে এটা সত্যি যে, বারে বারে দুঃখ আসে জীবনে। আসে বলতে মানুষ জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতে তার কামনা-বাসনার দ্বারা দুঃখকে ডেকে আনে। যদিও দুঃখকে কেউ চায় না। কিন্তু না চাইতেই মহাসমারোহে হানা দেয় জীবনে। কারণ, আলো-আঁধারের মত সুখ-দুঃখও হাত ধরাধরি করে চলে। তাই কোনমতেই দুঃখকে বাদ দিয়ে শুধু সুখ লাভ সম্ভব হয় না। কিন্তু মানুষ চায় সুখের বন্দরে নোঙ্গর গেড়ে জীবনটা কাটাতে। সেখানে পৌঁছতে গেলে দুঃখের পথ অতিক্রম করেই যেতে হয়। জীবনে দুঃখকে জয় করার মধ্যেই আছে পৌরুষ, আছে বীর্যবত্তা। তাই তাকে শক্তিধারণ করতে হয় দুঃখ জয় করার। “দুঃখ জয়ের গান” পাঠকের অন্তরে সেই প্রেরণা জোগাবে যাতে সে কর্ম-সাধনার মধ্য দিয়ে জীবনটাকে সঙ্গীতমুখর করে তুলতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস।
পরিশেষে, বইটির পান্ডুলিপি পাঠ করে মূল্যবান মতামত দিয়েছেন বাংলা সাহিত্যের প্রভাষক নির্জন মজুমদার, কবি দেবী চিত্রলেখা মন্ডল, সাহিত্যিক অমল হালদার, কবি ড. অশোক মিস্ত্রী। তাদের সকলকে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই। সুস্মিতা ও শ্রেষ্ঠা আমার দুই মেয়ে নিরন্তর স্বপ্ন দেখে চলে কবে বাবার লেখা নতুন বই প্রকাশিত হবে। ওদের প্রেরণা আমার সব সময়ের পাথেয়। প্রথম উপন্যাস প্রকাশ-লগ্নে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। মুদ্রণজনিত ভুল-ত্রুটি পরিহারের যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। তারপরও অজ্ঞাতসারে কিছু প্রমাদ থেকেই যেতে পারে। সেজন্যে পাঠকের কাছে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টি প্রত্যাশা করছি।
সন্তোষ কুমার শীল
শ্রীরামকাঠী, পিরোজপুর।
দুঃখ জয়ের গান
মধুপুরে ওরা গিদিমা রেমাদের মাগাস্তিনগর গ্রামে যাওয়ার পথে এক জায়গায় গাড়ি থামায়। ক্যামেরা, ল্যাপটপ, ব্যাগ সব নিয়ে রওনা হয়। ওখানে সিরিন নকরেক ওদের জন্য অপেক্ষা করছিল। বন বিভাগের সৌজন্যে বনের ভেতরে রাস্তা তৈরি হয়েছে। সিরিন বলে, এই সব বন, সারি সারি শাল-সেগুন গাছ সব এক সময় আমাদের ছিল। আমরা তো বনেরই সন্তান।কিন্তু এ বন আমাদের হাতছাড়া হয়ে গেছে।
রাকিব বলে, আগে যখন রাষ্ট্র ছিল না। একেক জাতি নানা গোত্রে গোষ্ঠিবদ্ধ হয়ে থাকতো তখন খাবার, পানি, ভূমির জন্য অন্য গোত্রের মানুষের সাথে দ্বন্দ্ব ফ্যাসাদে লিপ্ত থাকতো। এখন আধুনিক রাষ্ট্র হয়েছে কিন্তু সেই কামড়া-কামড়ি রয়ে গেছে। এটা হয়তো চিরন্তন, চলতেই থাকবে। তবে মান্দিরা নিজের দেশে, নিজের ভূমিতেও নিজেদের অধিকার নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে পারছে না। এই আধুনিক রাষ্ট্রযন্ত্র বনের উপর ওদের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু ওরা তো বনের সাথে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে বসবাস করে, কোনো ক্ষতি করে না। আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালিরা দেশটাকে শুধু নিজেদের সম্পত্তি ভাবতে শুরু করেছি। এখানে যে অন্য জাতি-ভাষার মানুষ আছে তা যেন গ্রাহ্যই করতে চাই না।
Paroshpor by Novera Hossain
সাহিত্য নিয়ে আমি ভাবি।এরমাঝে,কবিতা আমার আরাধ্য বিষয়।কবিতার বিশ্বমাঠে
আমি বিচরণ করতে ভালোবাসি। এই যে বিচরণ,তা থেকে অনেক পুষ্প,অনেক পাতা
আমি ঘরে তুলি। সেগুলো বার বার ফিরে দেখি।
এই যে চয়নপর্ব- তা থেকে আকর নিয়ে আমি লিখি আমার মতো করে।
বিভিন্ন ভাষার সাহিত্য,কবিতার মাঝে আমি বাঙালি কবিদের প্রাধান্য এজন্যে দিই-
কারণ আমিও এই ভাষারই একজন লেখক।এই গ্রন্থে তেমনই কিছু প্রিয় লেখক,তাঁদের
লেখা, শিল্প-সংস্কৃতি-কবিতার বিভিন্ন জ্যোতিরেখা নিয়ে আমি লিখেছি।
‘যতিকল্পের প্রতিপৃষ্ঠা’-নামটি এক আধ্যাত্মিক আদেশে পাওয়া। কারণ এই বইয়ের নাম আমি চার বার বদলিয়েছি মনে মনে। যা সাধারণত আমি করি না। আমার বইয়ের নাম এক ভাবনায়ই ঠিক হয়ে যায়। এই বইটির নাম,একটি ঝলকের মাধ্যমে একটি শক্তি আমাকে পৌঁছে দিয়েছে। সে এক মহান অভিজ্ঞতা। এর বেশি এখানে শেয়ার করা সঙ্গত হবে না।
বইয়ে ৩৩টি প্রবন্ধ আছে। পাঠকসমাজ, পড়ে নিজের মত মিলিয়ে দেখতে পারেন। এই বইটি খুব যত্নের সাথে প্রকাশ করেছে- অনুপ্রাণন প্রকাশন,ঢাকা।
এর স্বত্বাধিকারী শ্রদ্ধেয় আবু এম ইউসুফ ও তাঁর টিমের কাছে বিনীত কৃতজ্ঞতা।
সাহিত্য মানুষকে ভাবায়। আর সেই ভাবনার উদ্রেক করতে যারা কাজ করেন তারা সত্যিই মহান। আমাদের সকলের মহানুভবতা,সাহিত্যকে মানুষের আরও
কাছাকাছি নিয়ে আসুক।
সুপ্রিয় পাঠক-পাঠিকা, এই গ্রন্থ থেকে অন্তত কিছু লেখা আপনাদের ভালো লাগলেই
আমার সার্থকতা ।
অনেক প্রীতি সবাইকে।
ফকির ইলিয়াস
২৮ ডিসেম্বর ২০২১
নিউইয়র্ক
যতিকল্পের প্রতিপৃষ্ঠা
ভালোবেসে ছ্যাকা খেলাম। আমার প্রেমিকপ্রবর আমাকে অপবাদ দিলো, আমি না কি মোটেও রোমান্টিক ধরনের মেয়ে নই।
ছ্যাকা খেয়ে মন ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেলো, আমার বেস্টফ্রেন্ড জ্যানেটকে সব কথা খুলে বললাম।
জ্যানেটের বুদ্ধিতেই আমেরিকা থেকে উড়াল দিলাম স্বর্গভূমিখ্যাত বালি দ্বীপে।
স্বর্গভূমিতে এসেই নিজেকে সেক্সি লেডিতে পরিবর্তন করে নিলাম। পরিচয় হলো লেডি কিলারখ্যাত এক প্রেমদূতের সাথে। প্রেমে পড়লাম তার, মন থেকে কোথায় হারিয়ে গেলো আমাকে ধোঁকা দেওয়া সেই প্রথম প্রেম?
কিন্তু ভাগ্যে আমার সুখ লেখা নেই… জীবনটা কেবল উপভোগ করতে শুরু করেছি, সেই মুহূর্তে ছ্যাকা দেওয়া সেই প্রথম প্রেম নতুন করে আবার আমার জীবনে ফিরে আসতে চাইছে।
এদিকে স্বর্গভূমির দূত নীরব ও নিশ্চুপ, এখন আমি কী করব?
Swargovumir Dut by Shapla Sadi
রকিবুল ইসলাম শক্তিমান তরুণ লেখক। দুহাতে লেখার প্রচণ্ড ক্ষমতা তার মধ্যে লক্ষণীয়। ছড়া ও কিশোর কবিতার পাশাপাশি ছোটোদের উপযোগী গল্পও লেখেন তিনি। তার ছড়ার সংখ্যা কম, তবে গুণগত মানে সেগুলো উত্তীর্ণ। শিশু-কিশোর মনের স্বপ্নগুলোকে অতি চমৎকারভাবে ছড়া-কবিতায় ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করেন তিনি। আমাদের বেশিরভাগ শিশুসাহিত্যিক ছোটোদের জন্য লিখতে গিয়ে বুড়োদের লেখা লিখে ফেলেন। রকিবুল ইসলাম এক্ষেত্রে অনেকটা সচেতন। তার একটি ছড়া থেকে উদাহরণ দেওয়া যাক- ‘আমি ফুলের মতো ফুটি/আমার শুধুই ছোটাছুটি/আমি হাওয়ায় ভেসে মেঘের দেশে/মেঘ পাহাড়ে উঠি।/আমি জোছনা হয়ে হাসি/আমার স্বপ্ন রাশি রাশি/আমি রাত্রি শেষে ভোরের আলোয়/সূর্য হয়ে আসি।’
Bagher Baccata Vishon Valo by Rakibul Islam
Get access to your Orders, Wishlist and Recommendations.






















There are no reviews yet.