Description
ক্ষমা মাহমুদ
জন্ম যশোর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজী সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। শিক্ষক মা ও মুক্তিযোদ্ধা-সাংবাদিক বাবার সন্তান হিসাবে ছোট থেকেই একটা সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে বেড়ে উঠেছেন।
দেশের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞাপনী সংস্থার মাধ্যমে পেশাগত জীবন শুরু করলেও কর্পোরেট জীবন একেবারেই টানেনি। বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়নমূলক সংস্থায় কাজ করেছেন দীর্ঘদিন, সেই সূত্রে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ গ্রামীণ অঞ্চল ও বস্তিবাসী সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সংস্পর্শে যাওয়ার ও তাদের জীবনকে নানাভাবে প্রত্যক্ষ করার সুযোগ হয়েছে। পাশাপাশি এক দশকের বেশী সময় ধরে বাংলাদেশ বেতারে সংবাদ পাঠক হিসাবেও কাজ করে যাচ্ছেন।
ছাত্রজীবনে নানাবিধ সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। বিভিন্ন পত্রিকায় লেখালেখির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকলেও পরবর্তীতে পেশাগত ও ব্যক্তিজীবনে ব্যস্ততার কারণে দীর্ঘ বিরতি দিয়ে বর্তমানে ছোটগল্পের মাধ্যমে আবারও লেখালেখির জগতে বিচরণ শুরু করেছেন। দুই বাংলার বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকায় নিয়মিত তার ছোটগল্প ও ভ্রমণকাহিনী প্রকাশিত হচ্ছে।
এটি তার প্রথম গল্পগ্রন্থ।


























পিয়াইনে রাত্রি নেমে এলে মারিয়া আসে, কিন্তু মেনজপ কেন মারিয়াকে ছুঁতে পারে না? শুধু যাত্রাশিল্পী হওয়ায় ফিরোজা সুন্দরীর সাথে সুখুর মিলন হয় না। তবু ফিরোজা রঙেই কেন সুখু আটকে থাকে? কেন হঠাৎ মেলা বন্ধ হয়ে যায়? অনেক চেষ্টার পর যখন পারুলী বহুদিন আগে লুকিয়ে রাখা আতপ চাল খুঁজে পায়। আলুর দম মাংসের মতো খেতে যেন হয় ভেবে দারুচিনি চেয়ে আনে। পুতুল চেটেপুটে খেতে খেতে আরও ঝোল চায়, তখন পারুলীর সব উল্টে কেন আসতে চায়! একটা টোনা মাছের ভাজি কেন ঝিল্লিকে বস্তি থেকে বঙ্গোপসাগরের বালুকায় টেনে নিয়ে যায়! হরহরের বউয়ের বাচ্চা কেন ধূপের গন্ধে কাঁদে! এক টুকরা মাছ কেন বিধবার লুকিয়ে খেতে হবে! উঠান জুড়ে পুতুলের মতো ছোট্ট মেয়েটির পরনে হিরামনের মতোই বেনারশী। অথচ সেই শাড়িটি পরিমলের বোনা নয়! আষাঢ়ের পয়লা বৃষ্টিতে আনন্দীর অমন কান্না পায় কেন? পয়ত্রিশ বছর পর মহব্বত ফাতিমাকে কি বলতে চায়? শিউলিফোটা রাতে শ্রী দাস লেনে ভুবন চিনু কী নিয়ে এত কথা বলে? জীবনানন্দ চলে যাওয়ার আগেই কেন দুখী ছাই নিয়ে গলিতে আসে না! গাজায় রক্তমাখা শিশুরা ঈদে কী করল, কী করল না- তা নিয়ে রাইসু কেন কাঁদে? চারদিকে এত খিদে, এত কান্না- তার মধ্যেও ঈশ্বরের ভাতঘুম কেন ভাঙে না! এমন সব অমীমাংসিত জিজ্ঞাসা নিয়ে গল্পকার জয়শ্রী সরকার লিখেছেন ‘ঈশ^রকে বল দুখী ডাকছে’।
There are no reviews yet.