Description









$ 1.85 $ 2.47
মৃত্যু কি বিচ্ছিন্নতা তৈরি করতে পারে পিতা আর সন্তানের মাঝে?
| Weight | 0.208 kg |
|---|---|
| Published Year | |
| অনুপ্রাণন তরুণ পাণ্ডুলিপি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী | 2024 |
হাসানআল আব্দুল্লাহ। জন্ম: ১৪ই এপ্রিল, ১৯৬৭। গোপালগঞ্জ জেলার গোপিনাথপুর গ্রামে। তিনি প্রবর্তন করেছেন নুতনধারার সনেট। তার মৌলিক কাব্যগ্রন্থর সংখ্যা দশ। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষার কবিতার অনুবাদে প্রকাশ করেছেন বিশ্ব কবিতার কয়েকছত্র। অন্যান্য প্রকাশিত গ্রন্থ- সনেটগুচ্ছ ও অন্যান্য কবিতা, আঁধারের সমান বয়স, এক পশলা সময় প্রভৃতি। ২০০৭ ও ২০১৫ সালে নিউইয়র্কের কুইন্স শহরের পোয়েট লরিয়েট ফাইনালিস্টের সন্মান পেয়েছেন।
বৃত্তের কেন্দ্রেও কবিতার মুখ
কাজী রহমান। পরবাসী লেখক নিজের পছন্দ মতো বাঁচতে দু-যুগ আগে মার্কিন মুলুকে চলে আসেন স্ত্রী ও প্রথম শিশুকন্যা সাথে নিয়ে। বড় হয়েছেন পুরনো ঢাকার গেন্ডারিয়া’য়। জ্ঞান হবার পরপরই নিজেকে আবিষ্কার করেছেন ঘরের পাশের গ্রন্থাগারে, বিভিন্ন শিশু সংগঠন আর সমাজসেবামূলক সংগঠনের আলোছায়ায়। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার দুরন্ত কিশোর স্বাধীনতার যুদ্ধ দেখেছেন কাছ থেকে আর আতঙ্কের দিন গুনেছেন সারাক্ষণ মুক্তিযোদ্ধা দু’ভাইয়ের ঘরে ফেরার অপেক্ষায়। গ্রাজুয়েশন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। কর্মজীবন কেটেছে বিদেশী এয়ার লাইন্সের কর্মকর্তা হিসেবে।
তারাধুলো জল ও নস্টালজিয়া
অয়ন্ত ইমরুল। জন্ম: ১২ই এপ্রিল ১৯৮৭ইং, মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর থানার আজিমনগর গ্রামে। পদ্মা নদীর ভয়াল গ্রাসে শৈশবেই ঠিকানার পরিবর্তন ঘটে বর্তমানে সাভার আশুলিয়ায় বসবাসরত। এটি লেখকের প্রথম প্রকাশিত বই।
ছায়াসমুদ্র
রঞ্জনা বিশ্বাস। জন্ম: ১০ডিসেম্বর, ১৯৮১। গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া থানার রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের বাগবাড়ি গ্রামে খ্রিস্টিয়ান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ‘ভুলস্বপ্নে ডুবে থাক আদিবাসী মন’ ও ‘আমি তিনবেলা বৃষ্টিতে ভিজি’ কাব্যগ্রন্থ দু’টি কবির প্রকাশিত কাব্যফসল। এছাড়া কবি কবিতাচর্চার পাশাপাশি ফোকলোরচর্চাকেও ব্রত হিসাবে নিয়েছেন। নৃ-তাত্ত্বিক ও গবেষণাধর্মী কবির আরও বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে। কবি বাংলা একাডেমির ‘তরুণ লেখক প্রকল্প’ ও ‘লোকজ সংস্কৃতির বিকাশ’ প্রকল্পে কাজ করছেন। এছাড়া এখন ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বিভাগে কর্মরত আছেন।
বেদনার পাথর ও প্রান্তিক দীর্ঘশ্বাস
লেখক পরিচিতি :
হান্নান হামিদ, লেখক নাম কালের লিখন। জন্ম: আগস্ট, ১৯৮৪। জামালপুর। ‘বিশ্বাস শুধুই নিঃশ্বাস’ লেখকের প্রথম বই।
বিশ্বাস শুধুই নিঃশ্বাস
অরণ্যক তপু। জন্ম: ১৯৯৪ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর, ঢাকার ঝিগাতলা। পৈত্রিক নিবাস বরিশালের পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি উপজেলায়। বর্তমানে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত। এটি লেখকের প্রথম প্রকাশিত বই।
ব্যথিত ভায়োলিন
আলতাফ হোসেন-এর জন্ম ২৭ অক্টোবর ১৯৪৯। পৈতৃক নিবাস কিশোরগঞ্জ। বাবার চাকরিসূত্রে শৈশব কৈশোর কেটেছে পাটনা, কলকাতা, চাটগাঁ, করাচি ও ঢাকায়। ১৯৬৪ থেকে পুরোপুরিভাবে ঢাকায় বসবাস। অনার্স ও এমএ করেছেন বাংলায়। আলিয়ঁস ফ্রঁসেস, ঢাকা থেকে দু-বছর ফরাসি ভাষা শিখে সনদ পেয়েছেন।
কফি জেগে থাকে
সৈয়দ সাইফুর রহমান সাকিব। জন্ম: ১৯৭৮ সালে বরিশাল জেলা সদরে করিমকুটির নামক স্থানে। তার লেখার বিষয় মূলতঃ কবিতা। সময় নাট্যদলের সাথে একযুগ পার করেছেন। গানও লিখতেন কিন্তু বন্ধুবরের প্রয়ানে, অভিমানে আর সেপথ মারাননি। বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ে কর্মরত থাকলেও নিজেকে একজন কবিতার শতরঞ্জি মোড়ানো শ্রমিক বলেই মনে করেন। এটি কবির প্রথম বই।
রূপোর দ্যুতি
লেখক পরিচিতি :
নিখিল নওশাদ। জন্মসন: ১৯৮৯ইং। বড়িয়া, ধুনট, বগুড়া, বাংলাদেশ। ‘বিরোধ, ‘নিওর’ ও ‘নীড়’ পত্রিকার সম্পাদনা পরিষদের সাথে যুক্ত। এটি লেখকের প্রথম প্রকাশিত বই। এছাড়া ছোটগল্প বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত সথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছেন।
এটি একটি চিৎকার
আবু জাঈদ। জন্ম: ২২শে জুলাই ১৯৮৩, ঢাকা। পড়াশুনা অসমাপ্ত রেখে একসময় কবি বাউণ্ডুলে জীবনের এলোমেলো আলপথে নেমে যান বেঁচে থাকার প্রয়োজনে, তাই বলে কাব্যচর্চা থেমে থাকেনি। এক সন্তানের জনক। এটি লেখকের প্রথম প্রকাশিত বই।
মানচিত্রের ফাঁসি চাই
সঞ্চয় সুমন। ঢাকাবাসী এক কবি। যে শুধু কল্পনার রঙে আঁকে শব্দ খেলার মাঠ। এই গ্রন্থটি কবির প্রথম কাব্যফসল।
গুপ্ত সমরে মুক্তির ঠিকানা
আত্মমুগ্ধ শিকল
ডেভিড রেমনিক ১৯৫৮ সালের ২৯শে অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন আমেরিকান সাংবাদিক, লেখক এবং সম্পাদক। ১৯৯৪ সালে তিনি তার লেখা “Lenin’s Tomb: The Last Days of the Soviet Empire” নামের গ্রন্থটির জন্য পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছিলেন। তার রচিত “Translation Wars” প্রবন্ধটি পাঠ করলে অনুবাদ করার ব্যাপারে কিছু দিক-নির্দেশনা পাওয়া যাবে। এই প্রবন্ধটি “তর্জমায় তর্জন” নামে অনুবাদ করা হলো।
Tarjamay Tarjon by David Remnic. Translated by Salma Mostafa Nusrat
হাওরকেন্দ্রিক উপন্যাস বেশি নেই বাংলাদেশের সাহিত্যভুবনে। বিপুল পাঠকের কাছে এই জীবন অচেনা। শূন্যতাটুকু পূরণে এগিয়ে এসেছেন জল-মাটির কথক স্বাতী চৌধুরী। পাঠককে শামিল করলেন ‘স্বপ্নযাত্রা’য়। যাত্রাপথে উঠে এসেছে হাওরাঞ্চলের হাভাতে মানুষের মুখচিত্র। কালীপুর গ্রাম হয়ে খইলসার হাওরে কেন্দ্রীভূত হয় নানাবিধ ঘটনা ও দুর্ঘটনা। জলবেষ্টিত অঞ্চলের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ মূর্ত হয়ে উঠেছে জাদুকরী কলমে। সংস্কৃতিচর্চা- গান-বাজনায় মেতে-থাকাসহ নানা লোকজ উপাচার এতদাঞ্চলের দুঃখ-শোক ভুলে থাকার মূলমন্ত্র। এর মধ্যেও আসে প্রেম, হৃদয়-গহনের উঁকিঝুঁকি। সতত সমস্যাক্রান্তদের দুয়ারেও প্রেম আসে! মোহন সুর তোলে পাতার বাঁশিতে।
নিজস্ব জমি অপর্যাপ্ত যাদের, তারাই কামলা খাটে অন্যের জমিতে। পাওনা মেটাতে অনীহ জোতদার একসময় ঠিকই দেখিয়ে দেয় ক্রুর চেহারা। অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে জোতদারের শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় শ্রমিকরা। অসন্তোষের ভেতরেই সৃষ্টি হয় নেতা। যে নেতা স্বপ্ন দেখে এলাকাবাসীকে নিয়ে একত্রে স্বাচ্ছন্দ্যে বাঁচার। মেঘ-বৃষ্টি পেরিয়ে, আশা-হতাশাকে উজিয়ে হাওরবাসী মাথা তুলে জাগবে। পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মুক্তি পেতে ভাগ্যান্বেষণে নামে তারা। খোঁজে নতুন পথ। বিকল্প পথ সন্ধানের নামই ‘স্বপ্নযাত্রা’। সংসারযাত্রা চলতেই থাকে, প্রজন্ম পেরিয়ে আসে আরেক প্রজন্ম। দ্বিতীয় ধাপেও সময়ের প্রয়োজনে আবির্ভাব ঘটে স্বপ্নবাজ নেতার। যথারীতি টিকে থাকে জোতদার-শ্রেণি।
স্বাতীর কাহিনী-বিস্তার কি বাস্তবতা উৎসারিত? নাকি নিছক কল্পনারাজ্যে বসবাস। নিজ চিন্তা-চেতনা বপন করেন পঙ্ক্তিসাম্রাজ্যে! সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে লেখক সাম্যবাদী ঘোরে আচ্ছন্ন। সুদিনের স্বপ্ন-আশার পিদিমটুকু জ্বালিয়ে রাখেন। লেখকের মানসচেতনায় জাগরুক ক্ষুধামুক্ত পৃথিবী; ন্যায্য সমাজব্যবস্থা।
শেষপর্যন্ত কী হয়! স্রোতে-ভাসা ভগ্ন সময়কে কাব্যিক ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছেন কুশলী লেখক স্বাতী চৌধুরী। অতুল স্বপ্নযাত্রা নিয়ে এল আনকোরা রসদ; পাঠকের জন্য যেন নবান্নের আনন্দ উদযাপন!
শফিক হাসান
কথাসাহিত্যিক
Shopno Jatra - Swati Chowdhury
মৃত্যু কি বিচ্ছিন্নতা তৈরি করতে পারে পিতা আর সন্তানের মাঝে?Sonter Moto Eka by Fagun Mallick
কবিতা নিয়ে আসলেই কি ভাবা যায় ! কী ভাবা যায় ! ধরুন, আপনি একটি গাছের নীচে বসে আছেন। সামনেই একটি বড় পথ। সেই পথ দিয়ে মানুষজন যাতায়ত করছে। আপনি বসে বসে দেখছেন। এই যে মানুষেরা গেল আসলো, তারা একেকটা পরিচ্ছেদ। একেকটা গোপন কুটুরি! এই কুটুরি আপনি খুলতে পারছেন না। আপনি তাদের চেনেন না। জানেন না। তাদের গন্তব্য কোথায়- তাও অজানা আপনার!
কবিতা সেরকমই। আপনার সামনে দিয়েই বয়ে যায়। আপনি দেখেন। ছুঁতে পারেন না। এক রহস্যঘোর আপনাকে পরিভ্রমণ করে।
কবিতার কোনো ব্যাখ্যা দেয়া যায় না। ব্যাখ্যা চাওয়াও যায় না। একটা করাত আমাকে কাটছে। আমি দ্বিখণ্ডিত- বহুখণ্ডিত হচ্ছি। এই বহুখণ্ডের ভেতরে সে আলোর ফোয়ারা আমাকে কাছে ডাকে, এগিয়ে নেয়— সেটাই পংক্তিঘোর। কবিতায় ঘোর না থাকলে তা ফ্যাকাশে লাগে। অনেকটা ঘ্রাণহীন পাপড়ির মতো।
আমার ‘নির্বাচিত প্রেমের কবিতা’ প্রকাশ করছে বাংলাদেশের খ্যাতিমান প্রকাশনী সংস্থা ‘অনুপ্রাণন প্রকাশন’। এর সত্ত্বাধিকারী শ্রদ্ধেয় আবু এম ইউসুফ ও তাঁর টিমকে বিনীত ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
সুপ্রিয় পাঠক-পাঠিকা, সবাইকে প্রীতি।
ফকির ইলিয়াস
০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
নিউইয়র্ক
Nirbachito Premer Kabita by Faqir Eliyas
Rakkhuse Gach by Ansar Uddin Ahmed
হাসানআল আব্দুল্লাহ। জন্ম: ১৪ই এপ্রিল, ১৯৬৭। গোপালগঞ্জ জেলার গোপিনাথপুর গ্রামে। তিনি প্রবর্তন করেছেন নুতনধারার সনেট। তার মৌলিক কাব্যগ্রন্থর সংখ্যা দশ। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষার কবিতার অনুবাদে প্রকাশ করেছেন বিশ্ব কবিতার কয়েকছত্র। অন্যান্য প্রকাশিত গ্রন্থ- সনেটগুচ্ছ ও অন্যান্য কবিতা, আঁধারের সমান বয়স, এক পশলা সময় প্রভৃতি। ২০০৭ ও ২০১৫ সালে নিউইয়র্কের কুইন্স শহরের পোয়েট লরিয়েট ফাইনালিস্টের সন্মান পেয়েছেন।
বৃত্তের কেন্দ্রেও কবিতার মুখ
কথাসাহিত্য, কাব্যসাহিত্য, ছড়াসাহিত্য- কোনো ক্ষেত্রেই আমাদের বাংলা সাহিত্য দরিদ্র নয়। ঋদ্ধ ও পরিপুষ্ট। সাহিত্য-শিল্পে একটি দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় এবং প্রাকৃতিক চালচিত্রের প্রতিফলন ঘটে। সাহিত্যের অন্যান্য মাধ্যমের তুলনায় ছড়ায় এই প্রতিফলন অত্যন্ত স্বচ্ছ। আবহমান কালের ধারায় ছড়া একটি শক্তিশালী প্রাচীন সাহিত্যমাধ্যম।
এ গ্রন্থের লেখাগুলো শিশুদের উপযোগী ছড়া। তবে কেউ যদি গ্রন্থের কিছু ছড়াকে ছড়া-কবিতা অথবা কিশোর কবিতা বলতে চান বারণ করার মতো শক্ত যুক্তি দাঁড় করানো কঠিন। ছন্দ ও অলংকারসমৃদ্ধ এই কবিতাগুলোতে শিশুকিশোর মনের কোমল বৃত্তি-মাধুর্য়ের আশাআকাঙ্ক্ষারও প্রতিফলন ঘটেছে। এতে আছে দেশ, প্রকৃতি, ফুল, পাখি এবং বাস্তব জীবনের বিশুদ্ধ চিত্তের বৈচিত্র্যময় প্রকাশ।
আমার লেখাগুলো যত্ন সহকারে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করার জন্য অনুপ্রাণন প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী জনাব আবু মো. ইউসুফকে জানাই সকৃতজ্ঞ ধন্যবাদ।
শিশু-কিশোরসহ বিদগ্ধ পাঠক যদি এই লেখাগুলো পাঠ করে আনন্দ পান তবেই লেখাগুলো সার্থক হয়েছে বলে আমি মনে করব।
Swapnopurir Golpogatha - Benimadhab Sarker
একসাথে অনেক মানুষের আর্তনাদ ভেসে আসে। মনে হচ্ছে কোথাও আটকে আছে তারা। সে আগুনে খড়কুটো দিয়ে মনে মনে দোয়া পড়ে। ভয়ে দোয়া ভুল হয়। গাছের ডাল ভাঙার শব্দ হয়। এ সময় চিলটাকে দেখা যায়। জবুথুবু মেরে বসে আছে। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে। সে বইতে চিলের কথাও পড়েছে। চিলটাকে ভয় দেখায় কিন্তু এক পা-ও নড়ে না। ফুরফুরে বাতাস বইছে। বাতাসের সাথে খড়কুটো ধুলো উড়ে আসে।
তারও অনেক পরে সাদা কাপড় পরা উঁচুলম্বা এক মহিলা এসে দাঁড়ায়। মহিলা লাঠিতে ভর দিয়ে হাঁটেন। গলায়-মুখে অসংখ্য মাংসল ভাঁজ। মহিলা তার জড়িয়ে যাওয়া গলায় বললেন, একটু বসার ব্যবস্থা করো। বয়স হয়েছে তো দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না।
আপনিই তাহলে…। সে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল। তার শরীরের কাঁপুনি থামছে না। এদিক-ওদিক তাকিয়ে দেখে বসার কিছু আছে কি না। তেমন কিছু না পেয়ে কিছু ইট যোগাড় করে। একটার পর একটা ইট সাজিয়ে বসার ব্যবস্থা করে।
Rajbarir Vagnaboshes - Abu Neser Shaheen
মুঠোর মধ্যে আটকে রাখা যায় জল বা বালু?
মুঠোর ফাঁক গলে বের হয়ে যাবেই বালু বা জল। কেনো? নিজস্ব ব্যাকরণ বা ক্ষমতার প্রকাশ। ছোটগল্প এমনই শক্তির অপরূপ রহস্য। লুকিয়ে রাখা যায় না গল্পের রসবতী ফল, পেকে টসটসে বুকের আস্তিনে তীক্ষè ছুরির গতিতে বের হয়েই আসে কলমের ডগায়, রুদ্ধ মনের দুয়ার খুলে।
রোখসানা ইয়াসমিন মণি’র দ্বিতীয় গল্পের বই ‘অলৌকিক গৃহকোণ’। প্রথম গল্পের বই ‘ঘুঙুরবাড়ি’ বের হয়েছিল ২০২২ সালে। আঁকিয়ে শিল্পী হাতুড়ি বাটালী হাতে পাথরের বুকে খোদাই করেন বিম্বিত মনের অন্বয়, গল্পকার মণিও শব্দের কারুবাসনায়, কল্পমনের ইজেলে গল্পের ক্যানভাসে আঁকেন পীড়িত মনের আগুন সংরাগ, চলমান সময়ের বিদ্যুৎ কামনা ভৈরবী, সংসার যাতাকলের যন্ত্রনার শতকাহন, বৈরী সময়ের বিপরীতে সোনার বাটায় পান শুপারীর নি:স্ব সর্ম্পকের নির্যাস।
‘অলৌকিক গৃহকোণ’ গল্পগন্থের গল্পগুলো রক্তজবার তিল হয়ে জ্বলছে গল্পকারের অস্তিত্বের যাতাকলে যেমন, উল্টোপথে দগ্ধ পাঠকের মনের কার্নিসেও দিচ্ছে অনুগত শৌর্যবার্তা। বইয়ের নয়টি গল্প সহ¯্র দিগন্তের আলো ও অন্ধকারের এক প্রবাল দ্বীপ, যেখানে ওঠে ঝড়, ভাঙ্গে তীর, নাচে দানব, কাঁদে আয়াত দৃষ্টির অচলায়তন।
আসুন, রোখসানা ইয়াসমিন মণি’র গল্প পড়ি আর চেতনসমুদ্রের অলৌকিক জলে সাঁতার কাটতে থাকি…
Oloukik Grihokon - Rokshana Yesmin Mony
ভূমিকা
সেই দূর শৈশবেই বজ্রকণ্ঠ’র প্রেমে পড়ে যাই। ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান কিংবা ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’ তোমার আমার ঠিকানা’ ; ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধর ‘বাংলাদেশ স্বাধীন করো’, ‘তোমার নেতা, আমার নেতা- শেখ মুজিব, শেখ মুজিব’ এসব শুনতে শুনতেই যুদ্ধের ডাক এেেলা। সেই মহানায়কের নির্দেশেই ‘যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে’ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লো এদেশের সর্বস্তরের মানুষ। অনেক রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ নামক জাতিরাষ্ট্রের জন্ম হলো। আমরা সগৌরবে গেয়ে উঠলাম ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে রবীন্দ্রনাথ, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ নামে বইটি এই দুই শ্রেষ্ঠ বাঙালির প্রতি আমার ভালোবাসারই অভিজ্ঞান । হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর প্রস্তুতিপর্বে সারা পৃথিবীর মানুষ এক মহাবিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে যায়। কোভিড-১৯ অতি দ্রুত ছড়াতে থাকে এক দেশ থেকে আরেক দেশে। যখন ক্রমশ আক্রান্তের ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং গোটা পৃথিবী এই অণুজীবের কাছে অসহায় হয়ে পড়ে, ঠিক সেসময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জন্মশতবার্ষিকীর বছরব্যাপী কর্মসূচিকে উৎসবমূখর পরিবেশে না করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খুবই সীমিত পরিসরে পালনের নির্দেশ দেন, যাতে কর্মসূচির কারণে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বৃদ্ধি না পায়।
বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে আলাদা করে ভাবা যায় না। ’৪৭-এর পরপরই তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের কথা ভাবতে শুরু করেন। আরেকজন বাঙালি, যিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিশ^দরবারে পরিচিত করিয়েছেন, যার কবিতা গান গল্প উপন্যাস নাটক প্রবন্ধ-নিরন্ধ এমনকি চিঠিপত্র আমাদের চেতনাকে সবসময় উজ্জীবিত রাখে, ভরসা যোগায়, জীবনকে আলাদাভাবে চিনতে শেখায়, তিনি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, যার লেখা গান আমাদের জাতীয় সংগীত। উল্লেখ্য, স্বাধীনতার অনেক আগে থেকেই বঙ্গবন্ধু ভেবে রেখেছিলেন ১৯০৫ সালের ৭ আগস্ট বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় রচিত রবীন্দ্রনাথের ‘ আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানটিকে তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের মর্যাদা দেবেন। ১৯৭২ সালের ১৩ জানুযারি মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠকেই এই গানটির প্রথম ১০ লাইন জাতীয় সংগীত হিসেবে নির্বাচিত হয়।
পূর্ববঙ্গে এসে রবীন্দ্রনাথ যে পূর্ণাঙ্গ রবীন্দ্রনাথ হয়ে উঠেছিলেন, তা বলাই বাহুল্য। রবীন্দ্রনাথ পূর্ববঙ্গের নদী-মাঠ-ঘাট-মানুষ-মাটি এতটাই ভালোবেসে ফেলেছিলেন যে, ১৩২৯ সালের ২ বৈশাখ ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে লিখলেন ‘শিলাইদহ ঘুরে এলুম- পদ্মা তাকে পরিত্যাগ করেচে’ তাই মনে হলো বীণা আছে, তা’র তার নেই। তার না থাকুক, তবু অনেক কালের অনেক গানের স্মৃতি আছে । ভালো লাগল সেই সঙ্গে মনটা কেমন উদাস হলো।’ সাজাদপুর থেকে চলে যাবার পর বহুদিন বাদে কবি আর এক বার অনেকটা প্রাণের টানেই এখানে এসেছিলেন। ১৩০৪ সালের ৮ আশ্বিন সাজাদপুর ঘাটে বোটের ওপরে বসে লিখেছিলেন ‘যাচনা’ (কল্পনা) । ‘ ভালোবেসে সখী, নিভৃতে যতনে / আমার নামটি লিখিও তোমার / মনের মন্দিরে।’ পূর্ববঙ্গের প্রতি রবীন্দ্রনাথের অকুণ্ঠ ভালোবাসার বিষয়টি তাঁর নানামুখী কর্মকাণ্ডের মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যায়, এমনকি তার রবীন্দ্রবাউল হয়ে ওঠা এই পূর্ববঙ্গে এসেই। বঙ্গবন্ধু পূর্ব পাকিস্তানকে পূর্ববঙ্গ বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন।
রবীন্দ্রনাথ, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ
Get access to your Orders, Wishlist and Recommendations.

























There are no reviews yet.