Description









$ 1.85 $ 2.47
মৃত্যু কি বিচ্ছিন্নতা তৈরি করতে পারে পিতা আর সন্তানের মাঝে?
| Weight | 0.208 kg |
|---|---|
| Published Year | |
| অনুপ্রাণন তরুণ পাণ্ডুলিপি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী | 2024 |
লেখক পরিচিতি :
শারমিন রাহমান। জন্ম: ১৬ই ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৩। দ্ইু সন্তানের জননী। বাংলাদেশের স্বনামধন্য স্কুলগুলোতে দীর্ঘ ১৫ বছর শিক্ষকতা শেষ করে বর্তমানে চট্টগ্রাম আর্ট সেন্টার ‘ধ্যান’ এর পরিচালক। বিশেষ আগ্রহ আছে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে। এটি কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
অপ্রাকৃত কবচ
লেখক পরিচিতি :
প্রজ্ঞা মৌসুমী। জন্ম: এক শরতে দাদুবাড়ি কুমিল্লায়, বেড়ে ওঠা সুনামগঞ্জে। ঊনিশ বছর থেকে পড়াশুনার জন্যে প্রবাস জীবন। এক এসাইনমেন্টের জন্যে প্রথম ইংরেজি কবিতা লিখার শুরু। প্রথম জীবনের কবিতাগুলো ইংরেজিতেই লেখা, কিন্তু মন আঁকুপাঁকু করে বাংলায় লিখতে; তারই ফলশ্রুতিতে আজকের প্রথম কবিতা ফসল ‘পৌরাণিক রোদ এবং অতিক্রান্ত কাঠগোলাপ’। লেখক কবিতা ও গল্প লিখে পেয়েছেন অনেক পুরস্কার তাই বাংলা সাহিত্যের অত্যুজ্জল আলোয় নিজেকে উদ্ভাসিত করার স্বপ্ন দেখেন অহর্নিশ।
পৌরাণিক রোদ এবং অতিক্রান্ত কাঠগোলাপ
আলতাফ হোসেন-এর জন্ম ২৭ অক্টোবর ১৯৪৯। পৈতৃক নিবাস কিশোরগঞ্জ। বাবার চাকরিসূত্রে শৈশব কৈশোর কেটেছে পাটনা, কলকাতা, চাটগাঁ, করাচি ও ঢাকায়। ১৯৬৪ থেকে পুরোপুরিভাবে ঢাকায় বসবাস। অনার্স ও এমএ করেছেন বাংলায়। আলিয়ঁস ফ্রঁসেস, ঢাকা থেকে দু-বছর ফরাসি ভাষা শিখে সনদ পেয়েছেন।
কফি জেগে থাকে
হাসানআল আব্দুল্লাহ। জন্ম: ১৪ই এপ্রিল, ১৯৬৭। গোপালগঞ্জ জেলার গোপিনাথপুর গ্রামে। তিনি প্রবর্তন করেছেন নুতনধারার সনেট। তার মৌলিক কাব্যগ্রন্থর সংখ্যা দশ। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষার কবিতার অনুবাদে প্রকাশ করেছেন বিশ্ব কবিতার কয়েকছত্র। অন্যান্য প্রকাশিত গ্রন্থ- সনেটগুচ্ছ ও অন্যান্য কবিতা, আঁধারের সমান বয়স, এক পশলা সময় প্রভৃতি। ২০০৭ ও ২০১৫ সালে নিউইয়র্কের কুইন্স শহরের পোয়েট লরিয়েট ফাইনালিস্টের সন্মান পেয়েছেন।
বৃত্তের কেন্দ্রেও কবিতার মুখ
কাজী রহমান। পরবাসী লেখক নিজের পছন্দ মতো বাঁচতে দু-যুগ আগে মার্কিন মুলুকে চলে আসেন স্ত্রী ও প্রথম শিশুকন্যা সাথে নিয়ে। বড় হয়েছেন পুরনো ঢাকার গেন্ডারিয়া’য়। জ্ঞান হবার পরপরই নিজেকে আবিষ্কার করেছেন ঘরের পাশের গ্রন্থাগারে, বিভিন্ন শিশু সংগঠন আর সমাজসেবামূলক সংগঠনের আলোছায়ায়। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার দুরন্ত কিশোর স্বাধীনতার যুদ্ধ দেখেছেন কাছ থেকে আর আতঙ্কের দিন গুনেছেন সারাক্ষণ মুক্তিযোদ্ধা দু’ভাইয়ের ঘরে ফেরার অপেক্ষায়। গ্রাজুয়েশন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। কর্মজীবন কেটেছে বিদেশী এয়ার লাইন্সের কর্মকর্তা হিসেবে।
তারাধুলো জল ও নস্টালজিয়া
কিছু একটা বলাটাই যখন বাধ্যবাধকতাÑবাহুল্য এবং আপেক্ষিক বাতুলতা বাদ রাইখা মাহবুব লীলেন থাইকা ধার কইরা বলতে হয়Ñ ‘আনফিট মিসফিট হইয়া হামাগুড়ি দিয়া হাঁটি, আর রাত্তিরে ক্যালেন্ডারের পাতায় দাগ টাইনা চিক্কুর দিয়া কইÑ যাহ শালা বাঁইচা গেলাম আরও একটা দিন।’
এইটা বড়োবেশি জৈবিক বাঁচা
মানবিক বাঁচনের স্বপ্নও দেখি না বহুদিন
বড়ো তরাসে আছি
বড়ো বেশি চাইপা আছি, নিজের গলা নিজে।
দ্বান্দ্বিক দ্বন্দ্ব বিষয়ক আজাইরা প্রলাপ
ডালিয়া চৌধুরী। তোলারাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্স মাস্টার্স শেষ করেছেন। কবিতার প্রতি ভালোবাসা থেকে কবিতা লেখার সূত্রপাত। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ, ‘অনুভবে সুখ’ ‘মেঘময় নিকুঞ্জে রধুন‘ ও ‘জলজ কামনা’।
নীল গোধূলি
লেখক পরিচিতি :
শঙ্করী দাস। জন্ম: ৮ই মে, ১৯৫৮ সনে নিজ জেলা জামালপুরে। কবি প্রকাশিত অন্যান্য গ্রন্থগুলোÑ গল্প: ‘প্রতিবিম্ব ও অন্যান্য গল্প’ ‘জলমাটির গল্প’ ও ‘রাহুর চন্দ্রগ্রাস’। কবিতাÑ ‘ঘাসবোনা গ্রাম তাঁতবোনা গ্রাম’। স্মৃতিচারণমূলকÑ ‘গণমানুষের স্মৃতিতে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ’। গল্পের জন্যে পেয়েছেন পাক্ষিক ঐকতান (বর্ধমান) পত্রিকা পদক। শিশু কবি রকি সাহিত্য পুরস্কার ও নক্ষত্র সাহিত্য পুরস্কার।
বিহান বেলার ঈশ্বর
লেখক পরিচিতি :
মোহাম্মদ হোসাইন। জন্ম: ৩১শে অক্টোবর। বিএসসি ও এমএসসি’র শিক্ষা সমাপন শেষে এখন শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত আছেন। লেখকের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ মোট ১১টি। ‘ভালোবাসা নির্বাসনে গেছে’ ‘মেঘগুলো পাখিগুলো’ ‘অরণ্যে যাবে অস্তিত্বে পাপ’ উল্লেখযোগ্য বইয়ের শিরোনাম।
অনুদিত রোদের রেহেল
সিদ্দিক প্রামানিক। জন্ম: ২১শে আগস্ট ১৯৭৯, কুস্টিয়ার কুমারখালী থানার চরভবানীপুরগ্রামে। বাংলা সাহিত্যে মাস্টার্স শেষ করে বর্তমানে একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন এবং বাম প্রগতিশীল সংগঠনের সক্রিয় সংগঠক ও সংস্কৃতকর্মী। প্রথম বই ‘হাঙরের সমুদ্রে মননশীল মাছ’।
উন্মাদের কনসার্ট
নাহিয়ান ফাহিম। জন্ম: ২৩শে মার্চ, ১৯৮৪। ময়মনসিংহ জেলা। ঢাকাতে বেড়ে ওঠা। মূলতঃ পাঠক, ফলতঃ লেখক। সাহিত্য পত্রিকা ‘জলমাঝি’র সম্পাদক। মার্কেংটিং বিভাগে স্নাতকোত্তর। পেশাগত জীবনে একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত। প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ভিনদুপুরের নোটবই’।
মধ্যবিত্ত কবিতা
সঞ্চয় সুমন। ঢাকাবাসী এক কবি। যে শুধু কল্পনার রঙে আঁকে শব্দ খেলার মাঠ। এই গ্রন্থটি কবির প্রথম কাব্যফসল।
গুপ্ত সমরে মুক্তির ঠিকানা
একটি নিষ্পাপ মেয়ে অপরাজিতা । যাকে কখনো পরাজিত করা যায় না। ভালবাসে পাপ্লু নামের একটি ছেলেকে। দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের হয় দু’জনের। বিয়ের বছর তিনেক পেরিয়ে গেলে অপরাজিতার শ্বশুর শাশুড়ি নাতি নাতনির মুখ দেখতে চান। ওরা দুজনও এতে আগ্রহ প্রকাশ করে।কিছুদিন বাদে একজন বিশেষজ্ঞ ডাঃ এর শরণাপন্ন হয়। তার চিকিৎসা চলছে, এখনও মা হতে পারেনি অপরাজিতা। একপ্রকার দ্বিধা দ্বন্দের দোলাচলে চলছে ওর জীবন গাঁথা? ওর এই জিবনের জন্য দায়ী কে? প্রকৃতি না কি সমাজের কোনো অন্তরায়?
Kalonngkini Priya by Fozila Islam Fouzi
‘সেদিন বর্ষাকাল’ বইয়ের গল্পগুলো দেশের, মাটির কথা বলে। জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য সময়ের অভিজ্ঞতার বয়ান জানান দেয়। বায়ান্ন, একাত্তর হয়ে এই বর্তমান সময়ের অনুভূতির উচ্চারণ করে। প্রাপ্তি বা অর্জনের পাশাপাশি হতাশা, আক্ষেপ, সংশয়ের উপলব্ধিতে নাড়া দেয়।
গল্পগুলো যতটা না ঘটনার বর্ণনা করে, তার চেয়ে বেশি চরিত্রের অনুভূতি, মানসিক দ্বন্দ্ব, পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া নিয়ে এগিয়ে চলে। ব্যক্তি বা জাতীয় জীবনের বিমূর্ত আবহের অবতারণা করে। তাই দৃশ্যগুলো মনে হয় ম্রিয়মাণ, অব্যক্ত, মিহি, কিন্তু এর রেশ থেকে যায় মনের কোনো এক গহিনে।
আমাদের জাতীয় জীবনের যাপিত এই ঘটনাগুলোর আবেদন অমূল্য, চিরস্থায়ী। নিজেদের খুঁজতে আমরা বারবার ফিরে যাই এই স্মরণীয় অতীতের কাছে। এই গল্পগুলো তাই কখনো পুরনো, সেকেলে মনে হওয়ার নয়। বরং নিজেকে এর সাথে যুক্ত মনে হবে প্রতিটি শব্দে।
Shedin Borshakal by Ahad Adnan
অনুপ্রাণন ১১তম বর্ষ ১ম সংখ্যা- সম্পাদকীয়
শিল্প-সাহিত্যের ত্রৈমাসিক, অনুপ্রাণনের সূচনা সংখ্যা প্রকাশিত হয় নভেম্বর, ২০১২। এ-পর্যন্ত ৩২টি সংখ্যা প্রকাশ করে ত্রৈমাসিক অনুপ্রাণন ১০ টি বছর অতিক্রম করেছে। এ দশটি বছর অনুপ্রাণন’কে নানা চড়াই-উৎরাই পার হয়েই এগিয়ে যেতে হয়েছে। আজ একাদশ বর্ষের প্রথম সংখ্যাটি প্রকাশ করার মুহূর্তে পেছনের দশটি বছরের দিকে ফিরে স্মৃতিতে অনেক কিছুই ভেসে আসে। লেখক, পাঠক এবং সম্পাদনা পরিষদের সাথে ভাগ করে নেয়ার মতো অনেক কথাই হয়তো বলার থাকে, বলার ছিল। কেননা ১০ বছর তো কম সময় নয়। তবে, শিল্প-সাহিত্যের পত্রিকা অথবা লিটল ম্যাগ প্রকাশের ইতিহাসে প্রায় একই ধরনের ঘটনা হয়তো হর-হামেশাই ঘটে থাকে।
টেকসই সংগঠন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তি এবং সংগঠনের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে সম্পর্ক নির্মাণে পেশাদারিত্বের অভাব আমাদের সমাজের সব ক্ষেত্রেই বিদ্যমান। এখনো সেখানে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অহমবোধ প্রতিটি সংগঠনের ভিত কুরে কুরে খাচ্ছে। বাইরের থেকে যেটা দেখা যায় সেটা ঠিক ভেতরের চিত্র না। আর তাছাড়া অর্থনীতির বিষয়টা তো আছেই। আর সেটার গুরুত্ব অনুধাবন করার ঘাটতি আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বত্রই বিদ্যমান। আমাদের দেশের শিল্প-সাহিত্য এবং সংস্কৃতির জগতে সাধারণভাবেই অর্থের সংকট রয়েছে। সাধারণভাবেই বলা যায় যে, শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির সমৃদ্ধির গুরুত্ব আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্র এখনো যথার্থভাবে বুঝতে ব্যর্থ। ভাবা হচ্ছে ভৌত কাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়নের মধ্য দিয়ে উন্নতির চাকা ঘুরলে দেশের উন্নয়ন হবে। কিন্তু আমরা জানি উন্নত সভ্যতা মানেই হচ্ছে উন্নত শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতি।
তাই, অনুপ্রাণন যেসব সাংগঠনিক সমস্যা মোকাবেলা করে টিকে আছে সেসবের সাথে অন্যান্য শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য বা ব্যতিক্রম হয়তো নির্মাণ করা যায়নি। কেননা আমরা শেষ পর্যন্ত, এদেশের প্রকৃতি ও মনুষ্যসমাজেরই অঙ্গ। দেশের সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতি- এসবের সংকট ও সম্ভাবনা থেকে অনুপ্রাণন বিচ্ছিন্ন কোনো দ্বীপ তো নয়।
এটা ঠিক অনুপ্রাণন পত্রিকাটিকে ঘিরে এই দশ বছরে লেখক-পাঠক ও সুভানুধ্যায়ীদের একটি বৃত্ত তৈরি হয়েছে। এই বৃত্ত কোনো বিশেষ সীমানা রেখা দিয়ে ঘেরা কোনো বৃত্ত না। এই বৃত্ত শিল্প-সাহিত্যের মুক্ত চর্চার মতোই উন্মুক্ত। অনুপ্রাণন মুক্ত চিন্তার চর্চাকেই সবসময় সমর্থন করেছে, অনুপ্রাণিত করার চেষ্টা করেছে। আর অনুপ্রাণন চেষ্টা করেছে এদেশের তরুণরা যেন বেশী বেশী করে বই পড়া আর শিল্প-সাহিত্যের চর্চায় আগ্রহী হয়ে উঠে। সারাদেশ জুড়ে অনুপ্রাণনকে ঘিরে আছে একদল তরুণ-তরুণী, যারা নিয়মিত শিল্প-সাহিত্য চর্চার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। তারাই অনুপ্রাণনের প্রাণশক্তি। যাদের সাথে অনুপ্রাণনের সম্পর্ক হয়ে উঠেছে স্বাভাবিক সৌহার্দের। একে আরেকের পরিপূরক।
দশ বছর নিয়মিত বিভাগ নিয়ে ছাপার সংস্করণ আকারে অনুপ্রাণন পত্রিকাটি প্রকাশ করার পথে লেখক ও পাঠকদের কাছ থেকে ক্রমেই দুটি দাবী জোরালো হয়ে উঠেছে। প্রথমটি হচ্ছে, অনুপ্রাণনের একটি অন্তর্জাল সংস্করণ প্রকাশ করা। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে ত্রৈমাসিক অনুপ্রাণনের মুদ্রিত সংস্করণে সাহিত্য ও শিল্পের বিশেষ ধারা, ধরন অথবা বিষয়ভিত্তিক বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করা।
ইতোমধ্যেই গত ৯ ফেব্রুয়ারি অনুপ্রাণনের পক্ষ থেকে, শিল্প-সাহিত্যের অন্তর্জাল, অনুপ্রাণনের সূচনা সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। অন্তর্জালভিত্তিক এই সংখ্যাটিতে থাকছে ২০ টি বিভাগ। যথাক্রমে- শ্রদ্ধাস্মরণ, স্মৃতিচারণ, প্রবন্ধ, অনুবাদ প্রবন্ধ, গুচ্ছ কবিতা, যুগল কবিতা, একক কবিতা, অনুবাদ কবিতা, বড়ো গল্প, ছোট গল্প, অণুগল্প, অনুবাদ গল্প, মুক্তগদ্য, ভ্রমণকাহিনী, বই আলোচনা, ম্যাগ আলোচনা, পাঠ প্রতিক্রিয়া, চলচ্চিত্রকথা, ধারাবাহিক উপন্যাস, নাট্যকথা এবং শিল্প-সাহিত্য সংবাদ।
শিল্প-সাহিত্যের ত্রৈমাসিক, অনুপ্রাণন ইতিমধ্যে অনিয়মিতভাবে ৬ টি বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেছে। সেগুলো হচ্ছে, (১) তৃতীয় বর্ষ চতুর্থ সংখ্যা- প্রিয় উপন্যাস সংখ্যা; (২) অষ্টম বর্ষ প্রথম সংখ্যা- গল্প সংখ্যা; (৩) অষ্টম বর্ষ তৃতীয় সংখা- অণুগল্প সংখ্যা; (৪) অষ্টম বর্ষ চতুর্থ সংখ্যা- কুহক মাহমুদ স্মৃতি সংখ্যা; (৫) নবম বর্ষ দ্বিতীয় সংখ্যা- কবি ও কবিতা সংখ্যা; এবং (৬) দশম বর্ষ তৃতীয় সংখ্যা- বাংলাদেশের ১৫টি সেরা গল্প- পাঠ ও আলোচনা সংখ্যা।
একাদশ বর্ষ প্রথম সংখ্যার মধ্য দিয়ে শিল্প-সাহিত্যের ত্রৈমাসিক, সকল মুদ্রিত সংস্করণে নিয়মিতভাবেই শুধুমাত্র দেশের শিল্প, সাহিত্য, ভাষা, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যকে আরো নিবিড়ভাবে তুলে ধরার জন্য বিশেষ ধরন, বিশেষ বিভাগ, বিশেষ ধারা অথবা বিশেষ বিষয় নিয়ে লেখা প্রকাশ করার সূচনা করতে চায়।
লেখক, পাঠক এবং অনুপ্রাণনের সম্পাদনা পরিষদের সেই চাওয়া থেকেই ত্রৈমাসিক অনুপ্রাণনের একাদশ বর্ষের প্রথম সংখ্যাটি নির্বাচিত কবি ও কবিতা সংখ্যা- প্রথম পর্ব হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। এই সংখ্যাটিতে বাংলাদেশের ২৭ জন নির্বাচিত কবির জীবনী, প্রকাশনা, পুরস্কার ও সম্মাননা, উল্লেখযোগ্য কবিতা এবং আলোচনা প্রকাশিত হয়ছে। বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রবীণ ও তরুণ কবিদের নিয়ে এই ধরনের লেখা ও আলোচনা নিয়ে আরো কয়েকটি পর্ব প্রকাশিত হবে বলে আমরা আশা করি।
বাংলাদেশের বিশিষ্ট কবিদের জীবনী ও সাহিত্য কর্ম নিয়ে শিল্প-সাহিত্যের ত্রৈমাসিকের কয়েকটি পর্বের এই আয়োজনগুলোর মধ্য দিয়ে আশা করি আমাদের দেশের তরুণ সমাজ বাংলাদেশের কবিদের কবিতার সাথে সুপরিচিত হবেন এবং আমাদের দেশের সম্মানিত এই কবিদের কবিতা নিয়ে আলাপ, আলোচনা এবং আড্ডার অনুষ্ঠানের আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশের শিল্প ও সাহিত্য চর্চার বৃত্তটিকে প্রসারিত করতে পারবেন।
অনুপ্রাণন ১১ম বর্ষ ১ম সংখ্যা
জীবন গল্পের মতো? নাকি গল্পটাই জীবন?- কারো কারো ক্ষেত্রে হয়ত দুটোই ঠিক। গল্পেই জীবন খুঁজে ফেরেন কিনা অহনা নাসরিন, তা নিশ্চিত নয়। নিশ্চিত হওয়ার দরকারও নেই। কারণ নানা নাটকীয়তায় ভরা জীবন তো গল্পের মতোই। জীবনের কোন বাঁকে কী দাঁড়িয়ে আছে কে জানে!
অহনা নাসরিন, কবি ও কথাসাহিত্যিক। টিভি নাটকও লেখেন। তবে সবকটি মাধ্যমেই তিনি চরিত্রকে বাস্তবের মাঝে খুঁজে ফেরেন বক্তব্যকে তুলে ধরবার প্রত্যয়ে। বিশেষত খুঁজে ফেরেন নারীর ভেতরের আসল মানুষটাকে। যে কিনা সমাজ কর্তৃক তৈরি করা শৃঙ্খলে আবদ্ধ নয়। চিরচেনা বাস্তবতা তার লেখায় মাত্রিকতা পায়। তার লেখায় প্রতিবাদ আসে, কখনও জোরেশোরে, কখনও রয়ে সয়ে। এই যেমন চাবুকের ইতিহাস বলতে গিয়ে নিজেই যেন চাবুক তুলে নেন সমাজের স্টেরিওটাইপ ভাবনার বিপরীতে। বেগম রোকেয়ার সুলতানার স্বপ্নের সুলতানা যেন অহনা নাসরিনের গল্পেও উপস্থিত হয় সমাজের অসঙ্গতিকে তুলে ধরে নারীর মনোজগতের মানুষটাকে জাগিয়ে তুলতে।
একজন আগন্তুক ও একটি সানগ্লাস- অহনা নাসরীনের দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ, কিন্তু ভাব এবং ভাবনার বিস্ফোরণে তিনি বেশ পরিণত। এক ডজন গল্পের এ বইয়ের সংকলনের গল্পগুলোর ভাষাশৈলীতে যতটা না চাতুরতা বক্তব্যকে প্রকাশের আকাঙ্খা যেন তারচে বেশি। এ বইয়ের গল্পগুলো হলো- রোবট, চাবুকের ইতিহাস, একজন আগন্তুক ও একটি সানগ্লাস, আদালতের একটি রায়, অতঃপর.., ফুগোর সুইসাইড, ঢেউয়ের পর ঢেউ, ঘ্রাণ, জবানবন্দি,বেলাশেষে ফিরে এলে, ভেজা শ্রাবণে জোসনা হাসে, এক রাতের গল্প এবং একটি ভ্রুণ হত্যার নেপথ্যে। গল্পের নামগুলোও বেশ চমকপ্রদ।
শত-শত এক ঘেয়েমি বইয়ের ভিড়ে যেসব পাঠক ভিন্ন স্বাদের এবং প্রথাগত ধারা ভঙ্গকারী বই পড়তে আগ্রহী তারা নির্দ্বিধায় এ বই পড়ে আনন্দ পাবে।
একজন আগন্তুক ও একটি সানগ্লাস
স্বপঞ্জয় চৌধুরী মূলত কবি হলেও কথাসাহিত্যে তার হাত বেশ পরিপক্ক। শুধু পরিপক্ক বললে ভুল হবে, আধুনিক ছোটগল্পের সকল বৈশিষ্ট্যই তার লেখায় বিদ্যমান। চিন্তাকে ভেঙেচুড়ে সে নতুন ফরম্যাট দাঁড় করতে সিদ্ধহস্ত। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত গল্পগুলোর সাথে আমি বেশ পরিচিত। তার লেখায় রয়েছে মা, মাটি, প্রকৃতি, জাতীয় চেতনা ও নিম্নবর্গীয় মানুষের আর্তি। তিনি গল্প লেখেন জীবন ও বাস্তবতার অভিধায়। কল্পনার উচ্চস্তরে তিনি খুঁজে বেড়ান মানুষের না বলা নিগূঢ় কথার ধ্বনি। ‘মৃৎচক্রের দিনগুলি’ নাম ভূমিকার গল্পটি মূলত মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা। আমাদের জাতীয় চেতনা ও ঐতিহ্যকে তিনি এইগল্পে ফুটিয়ে তুলেছেন। এই গ্রন্থে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের ষোলটি গল্প রয়েছে যা আমার মতো আপনাদেরও তৃষ্ণা মেটাতে সক্ষম হবে বলে আমার বিশ^াস।
গৌতম তালুকদার
কবি ও গল্পকার
কোলকাতা, ভারত।
মৃতচক্রের দিনগুলো - Mritachakrer Dinguli
দুর্জয় আহমেদ আরিয়ান বাংলাদেশ আর্মির একজন ইন্টেলিজেন্স অফিসার। পেন্টাগন তাকে ভাড়া করেছে, বাংলাদেশের আর এক কৃতি সন্তান আব্বাস আলী কে খুঁজে বের করার জন্য।
বলা হচ্ছে আব্বাস আলী আমেরিকার একটা ভয়ংকর টেরোরিস্ট গ্রুপের সদস্য ছিলো। সত্যি কি তাই?
বাংলাদেশের কোনো কৃতি সন্তান টেরোরিস্ট যে হতে পারে এইটা আরিয়ান এর কাছে বিশ্বাস যোগ্য নয়।
পেন্টাগনের আদেশেই আরিয়ান শুরু করেছিল নিখোঁজ আব্বাস আলীর খোঁজ ।
পাপের নগরী লাস ভেগাস থেকে শুরু করে সুদূর মেক্সিকো পর্যন্ত যেতে হলো আরিয়ান কে, হাওয়া হয়ে উবে যাওয়া আব্বাস আলীর সন্ধান করতে।
এর মধ্যে মেক্সিকোর কুখ্যাত এক স্মাগলারের একমাত্র কন্যার প্রেমে পড়লো সে ।
অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে, অনেক ট্রাজেডি তৈরি হবার পরে আরিয়ান এর সন্দেহ হতে লাগলো আসলেই কি আব্বাস আলী বলে কেউ আছে,,,,,,না সে আব্বাস আলী নামের মরীচিকার পিছনে দৌড়াচ্ছে?
পেন্টাগন কি তাকে সব সত্য বলেছে? সত্যি কি আব্বাস আলীর কোনো চিহ্ন আছে এই পৃথিবীর বুকে?
অন্যদিকে আরিয়ানের বুকের মধ্যে বাসা বেঁধেছে আদ্রিয়ানার প্রেম । আরেকদিকে শুরু হয়েছে পেন্টাগনের নতুন ষড়যন্ত্র।
আরিয়ান এখন কোনটাকে সামাল দিবে?
The Mastermind Criminal by Shapla Sadi
“বৃত্তের মাঝে ” গল্পগ্রন্থে নাম গল্প ” বৃত্তের মাঝে ” সহ মোট সাতটি ভিন্ন স্বাদের গল্প আছে। সব কটি গল্পই গড়ে উঠেছে আমাদের চারপাশের রক্তে মাংসের গড়া মানুষ , তাদের প্রাত্যহিক জীবন,তাদের হাসি- কান্না ,সুখ- দুঃখ,চাওয়া- পাওয়া, ভাল লাগা – মন্দ লাগা ইত্যাদিকে ঘিরে। প্রত্যেকটি গল্পে আছে নানা রকমের সম্পর্কের জটিলতা , মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ। তবে প্রতিটি মানুষের জীবনই একটা নির্দিষ্ট গণ্ডি বা বৃত্তের মাঝেই আবর্তিত হয়। বৃত্তের বাইরে যাওয়ার স্বপ্ন হয়তো মানুষ দেখে কিন্তু কতটুকু সফল হতে পারে বা তার বাস্তব রূপায়ণ কতটুকু ঘটাতে পারে এই গল্পগ্রন্থে তারি ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
Britter Majhe - Baby Naz Karim
মানুষ আনন্দ চায়। মানুষ হাসতে চায়। সব সময় গভীর চিন্তায় ডুবে থাকা, কাজে ডুবে থাকা মানুষের জন্য অসম্ভব, তেমনি অসম্ভব সব সময় গুরু-গম্ভিব কিছু পাঠ করা। আনন্দের জন্য মানুষ নাটক, সিনেমা উপভোগ করে, গান শোনে। পাঠের ভেতর আনন্দ পাবার জন্য পাঠকরা রম্যসাহিত্য পড়তে চায়।
বাংলা সাহিত্যে খ্যাতিমান রম্যলেখদের স্মরণ করতে গেলেই প্রথমে মনে আসে সৈয়দ মুজতবা আলীর নাম। শৈশব থেকেই আমরা তাঁকে পড়ছি। তাঁর লেখা পড়তে গেলে মনে হয় পৃথিবীতে দুঃখ, হতাশা বলে কিছু নেই। সর্বত্রই ছড়িয়ে আছে শুধু আনন্দ, হাসি। দুঃখে-বিষাদের মধ্য থেকেও তিনি রস টেনে বের করেছেন। আমরা মনে করতে পারি ‘পন্ডিত মশাই’ গল্পটার কথা। গল্পটায় কিন্তু তৎকালীন সমাজের খুবই মর্মান্তিক, অমানবিক দিক ফুটিয়ে তুলেছেন। কিন্তু রসে টইটম্বর। আনন্দের কোনো কমতি নেই। তাঁর চাচা কাহিনী, টুনিমেম,ময়ূরকন্ঠী এবং ভ্রমণ কাহিনীগুলোতে আমরা অপার রস আস্বাদন করেছি।
এ ছাড়াও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়, সাগরময় ঘোষ, আবুল মনসুর আহমেদ, নুরুল মোমেন, কাজী দীন মোহাম্মদ, মোহাম্মদ আব্দুল হাই, কালীপ্রসন্ন সিংহ, আতাউর রহমান এঁরা বাংলা ভাষার রম্য সাহিত্যের ভান্ডারকে অনেক সমৃদ্ধ করেছেন। বর্তমানেও বাংলাসাহিত্যে বিশেষ করে বাংলাদেশে অনেকেই ভাল রম্যগল্প লিখছেন। বিশ্বসাহিত্যে জেরোম কে জোরোম এবং সমারসেট মম আমাদেরকে অনেক আনন্দ দিয়েছেন।
যাহোক, তারপরও বলবো বাংলা সাহিত্যে বতর্মানে রম্যসাহিত্য যতটা হবার ততটা হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে রম্যসাহিত্য কিছুটা অবহেলা পাচ্ছে প্রকাশকদের কাছ থেকে। রম্য লেখকগণ যথাযথ মূল্যায়ন পাচ্ছেন না। এরূপ প্রতিকূলতার মাঝেও আমরা কেউ কেউ রম্যসাহিত্য করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। লেখার মাধ্যমে মানুষকে হাসানো, মানুষকে আনন্দ দেয়া যে কতটা কঠিন কাজ যা যিনি করেন তিনিই শুধু বোঝেন। তবে রম্যসাহিত্য বলতে আমরা যদি শুধু হাসি-আনন্দ-কৌতুক বুঝে থাকি তাহলে আমাদের বোঝার মধ্যে বড় ভুল থেকে যাবে। কৌতুকের ভেতর দিয়ে, সমাজের, রাষ্ট্রের নানাবিধ অসঙ্গতি, মানুষের চরিত্রের, আচরণের নানা ভুলক্রুটি তুলে ধরা হয়। হাস্যরসের ভেতর দিয়ে ধর্মান্ধ, প্রতিক্রিয়াশীল, নেতা, রাষ্ট্রপরিচালক অনেকের বুকের ভেতরই হুল ফুটিয়ে দেয়া হয়।
বিভিন্ন পত্রপত্রিকার রম্যবিভাগ গুলোতে আমি দীর্ঘদিন ধরে রম্যগল্প লিখছি। ২০২৩ সাথে আমার প্রথম রম্যগল্পের বই ‘ঘুমই সফলতার চাবিকাঠি’ প্রকাশ হয় প্রিয় বাংলা প্রকাশনা থেকে। বইটি উৎসর্গ করেছিলাম বর্তমান সময়ের খুবই পরিচিত রম্য লেখক শফিক হাসানকে। মূলত তাঁরই অনুপ্রেরণায় আমার রম্যগল্প লেখা শুরু। আমার প্রথম রম্যগল্পের বইটি যথেষ্ট পাঠক প্রিয়তা পেয়েছে। পাঠকদের কাছ থেকে ভাল সাড়া পেয়েছি। সেই সূত্র ধরেই আমি আরেকটি রম্যগল্পের পাণ্ডুলিপি প্রস্তত করতে সাহস করি। আমার বর্তমান পাণ্ডুলিপিতে ১৮টি রম্যগল্প আছে। গল্পগুলোর সবই দেশের প্রথম শ্রেণির পত্রিকার রম্য বিভাগে প্রকাশ হয়েছে। আমি আশা রাখি, আমার বর্তমান বইটিও পাঠকদের হাসাতে পারবে, আনন্দ দিতে পারবে, সেই সাথে যথাস্থানে হুল ফোটাতে পারবে। এই দুঃখভরা কর্মময় পৃথিবীতে কেউ যদি আমার লেখার কোনো একটা লাইন পড়ে ফিক করে হেসে ফেলে এর চেয়ে সার্থকতা আর কিছু নেই একজন লেখকের জন্য।
Piyar Alir Ghum Asena by Abul Kalam Azad
প্রতিদিন নিজের নামে একটা করে গাছ লাগাই। সেচ করি, নিড়ানি দেই, হাওয়া লাগাই। ঋতুর বিরুদ্ধে গিয়ে নিজের মতো করে ফুল ফোটাই। ফলের কাছে নত হয়ে থাকি। আর এভাবেই হেমন্ত পেরুতে গিয়ে শীতের কবলে পড়ে যাই। শীত পেরুতে গিয়ে গাছটি হারিয়ে ফেলে তার আয়ুর পালক।
ভাবি, ফের যদি গাছটিকে আয়ু দিতে পারতাম!
Bratyavitar Naksha by Hasnain Hira
স্বপ্নগুলো জলের, ঝড়ের, সীমাহীন প্রবঞ্চনা ও অস্বাভাবিকতার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে। মানুষের ভেতর অন্য মানুষের উপস্থিতি দেখতে দেখতে তারা মানুষের অংশ হয়ে যায়। মানুষগুলোকে করে তোলে স্বপ্নভূক। এই স্বপ্নভূকেরা চারপাশেই আছে।
যেদিন বোকা হাবা ঘেঁটু জীবনে প্রথম একশো টাকা পায় সেদিন তার জীবনে একটা উল্লম্ফণ ঘটে। নিজ এলাকা থেকে কখনো বেশি দূরে যায় নি যে দরিদ্র যুবা, সংসারের জন্য কিছু জিনিস কিনতে সে পা দেয় পথে। সে হয়তো পথ থেকে নিজের কুটিরেই ফিরে যেতো যদি না আরেক স্বপ্নভূকের সাথে তার দেখা হতো। যদি না তাকে তার মানবিকতা দেখাতে হতো। যদি না প্রবঞ্চকের হাতে পড়ে ফাঁকা পকেটে হেঁটেই রাজধানীতে যাওয়ার ইচ্ছা তার প্রবল হয়ে উঠতো। যদি না রাজধানীতে গিয়ে দৈনিক কতো টাকা আয় করে সে বউকে খুশী করে দিতে পারে তার এ হিসেব অবিরাম তালগোল পাকিয়ে না যেতো।
এগারোটি গল্পের স্বপ্নভূক মানুষদের চালচিত্র এই ঝড়-জলের জীবন ও অন্যান্য গল্প।
ঝড়-জলের জীবন ও অন্যান্য গল্প
মানুষ প্রত্যাশা করে একটা ঘুর্ণায়মান সুখের স্রোত তাদের সারাক্ষণ ঘিরে থাকবে কিন্তু এমনটা কখনো হয় না। সৃষ্টীকর্তার নিয়ম বা রহস্য অনুযায়ী মানুষ খানিকটা সুখের জন্য অনেকটা দুঃখ যাপন করে। আমাদের ঘিরে থাকা সম্পর্কগুলো থেকে সবসময় ঠান্ডা জলের স্রোত বইতে থাকে, মাঝে মধ্যে অল্পকিছুক্ষণের জন্য উষ্ণ স্রোত। দীপার জীবনে ফয়সাল বা ফাহাদের জীবনে বাবা –মা , এমেরিকান কৃষ্ণাঙ্গ প্রেমিকা নায়ারা তেমনি এক স্রোত। এই নিরন্তন স্রোতের মধ্য দিয়েই মানুষ যেমন অল্প সময়ের সুখ খুঁজে পায়, যেমনটা ফাহাদ খুঁজে পায় জীবনযুদ্ধে প্রতারিত একাকি রিপা আর তার ছোট্ট মেয়ে রুপার মধ্যে। ফাহাদের, দীপার, রুপার কাছে মনে হয় তাদের সুখের রঙ চোখের জলের মতন!
SHUKHER RONG CHOKHER JOLER MATON - সুখের রঙ চোখের জলের মতন
ভূমিকা
সেই দূর শৈশবেই বজ্রকণ্ঠ’র প্রেমে পড়ে যাই। ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান কিংবা ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’ তোমার আমার ঠিকানা’ ; ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধর ‘বাংলাদেশ স্বাধীন করো’, ‘তোমার নেতা, আমার নেতা- শেখ মুজিব, শেখ মুজিব’ এসব শুনতে শুনতেই যুদ্ধের ডাক এেেলা। সেই মহানায়কের নির্দেশেই ‘যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে’ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লো এদেশের সর্বস্তরের মানুষ। অনেক রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ নামক জাতিরাষ্ট্রের জন্ম হলো। আমরা সগৌরবে গেয়ে উঠলাম ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে রবীন্দ্রনাথ, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ নামে বইটি এই দুই শ্রেষ্ঠ বাঙালির প্রতি আমার ভালোবাসারই অভিজ্ঞান । হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর প্রস্তুতিপর্বে সারা পৃথিবীর মানুষ এক মহাবিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে যায়। কোভিড-১৯ অতি দ্রুত ছড়াতে থাকে এক দেশ থেকে আরেক দেশে। যখন ক্রমশ আক্রান্তের ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং গোটা পৃথিবী এই অণুজীবের কাছে অসহায় হয়ে পড়ে, ঠিক সেসময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জন্মশতবার্ষিকীর বছরব্যাপী কর্মসূচিকে উৎসবমূখর পরিবেশে না করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খুবই সীমিত পরিসরে পালনের নির্দেশ দেন, যাতে কর্মসূচির কারণে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বৃদ্ধি না পায়।
বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে আলাদা করে ভাবা যায় না। ’৪৭-এর পরপরই তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের কথা ভাবতে শুরু করেন। আরেকজন বাঙালি, যিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিশ^দরবারে পরিচিত করিয়েছেন, যার কবিতা গান গল্প উপন্যাস নাটক প্রবন্ধ-নিরন্ধ এমনকি চিঠিপত্র আমাদের চেতনাকে সবসময় উজ্জীবিত রাখে, ভরসা যোগায়, জীবনকে আলাদাভাবে চিনতে শেখায়, তিনি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, যার লেখা গান আমাদের জাতীয় সংগীত। উল্লেখ্য, স্বাধীনতার অনেক আগে থেকেই বঙ্গবন্ধু ভেবে রেখেছিলেন ১৯০৫ সালের ৭ আগস্ট বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় রচিত রবীন্দ্রনাথের ‘ আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানটিকে তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের মর্যাদা দেবেন। ১৯৭২ সালের ১৩ জানুযারি মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠকেই এই গানটির প্রথম ১০ লাইন জাতীয় সংগীত হিসেবে নির্বাচিত হয়।
পূর্ববঙ্গে এসে রবীন্দ্রনাথ যে পূর্ণাঙ্গ রবীন্দ্রনাথ হয়ে উঠেছিলেন, তা বলাই বাহুল্য। রবীন্দ্রনাথ পূর্ববঙ্গের নদী-মাঠ-ঘাট-মানুষ-মাটি এতটাই ভালোবেসে ফেলেছিলেন যে, ১৩২৯ সালের ২ বৈশাখ ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে লিখলেন ‘শিলাইদহ ঘুরে এলুম- পদ্মা তাকে পরিত্যাগ করেচে’ তাই মনে হলো বীণা আছে, তা’র তার নেই। তার না থাকুক, তবু অনেক কালের অনেক গানের স্মৃতি আছে । ভালো লাগল সেই সঙ্গে মনটা কেমন উদাস হলো।’ সাজাদপুর থেকে চলে যাবার পর বহুদিন বাদে কবি আর এক বার অনেকটা প্রাণের টানেই এখানে এসেছিলেন। ১৩০৪ সালের ৮ আশ্বিন সাজাদপুর ঘাটে বোটের ওপরে বসে লিখেছিলেন ‘যাচনা’ (কল্পনা) । ‘ ভালোবেসে সখী, নিভৃতে যতনে / আমার নামটি লিখিও তোমার / মনের মন্দিরে।’ পূর্ববঙ্গের প্রতি রবীন্দ্রনাথের অকুণ্ঠ ভালোবাসার বিষয়টি তাঁর নানামুখী কর্মকাণ্ডের মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যায়, এমনকি তার রবীন্দ্রবাউল হয়ে ওঠা এই পূর্ববঙ্গে এসেই। বঙ্গবন্ধু পূর্ব পাকিস্তানকে পূর্ববঙ্গ বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন।
রবীন্দ্রনাথ, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ
মুঠোর মধ্যে আটকে রাখা যায় জল বা বালু?
মুঠোর ফাঁক গলে বের হয়ে যাবেই বালু বা জল। কেনো? নিজস্ব ব্যাকরণ বা ক্ষমতার প্রকাশ। ছোটগল্প এমনই শক্তির অপরূপ রহস্য। লুকিয়ে রাখা যায় না গল্পের রসবতী ফল, পেকে টসটসে বুকের আস্তিনে তীক্ষè ছুরির গতিতে বের হয়েই আসে কলমের ডগায়, রুদ্ধ মনের দুয়ার খুলে।
রোখসানা ইয়াসমিন মণি’র দ্বিতীয় গল্পের বই ‘অলৌকিক গৃহকোণ’। প্রথম গল্পের বই ‘ঘুঙুরবাড়ি’ বের হয়েছিল ২০২২ সালে। আঁকিয়ে শিল্পী হাতুড়ি বাটালী হাতে পাথরের বুকে খোদাই করেন বিম্বিত মনের অন্বয়, গল্পকার মণিও শব্দের কারুবাসনায়, কল্পমনের ইজেলে গল্পের ক্যানভাসে আঁকেন পীড়িত মনের আগুন সংরাগ, চলমান সময়ের বিদ্যুৎ কামনা ভৈরবী, সংসার যাতাকলের যন্ত্রনার শতকাহন, বৈরী সময়ের বিপরীতে সোনার বাটায় পান শুপারীর নি:স্ব সর্ম্পকের নির্যাস।
‘অলৌকিক গৃহকোণ’ গল্পগন্থের গল্পগুলো রক্তজবার তিল হয়ে জ্বলছে গল্পকারের অস্তিত্বের যাতাকলে যেমন, উল্টোপথে দগ্ধ পাঠকের মনের কার্নিসেও দিচ্ছে অনুগত শৌর্যবার্তা। বইয়ের নয়টি গল্প সহ¯্র দিগন্তের আলো ও অন্ধকারের এক প্রবাল দ্বীপ, যেখানে ওঠে ঝড়, ভাঙ্গে তীর, নাচে দানব, কাঁদে আয়াত দৃষ্টির অচলায়তন।
আসুন, রোখসানা ইয়াসমিন মণি’র গল্প পড়ি আর চেতনসমুদ্রের অলৌকিক জলে সাঁতার কাটতে থাকি…
Oloukik Grihokon - Rokshana Yesmin Mony
যতবার নিজেকে প্রশ্ন করি। মানুষের কোন ভবিষ্যৎ আছে?
উত্তর একটাই, মানুষ স্মৃতি ছেনে বাঁচে। ভবিষ্যৎ এক মিছে সম্ভাবনা।
আমার এই কাব্যও তাই, স্মৃতির ভেতর থেকে তুলে আনা দানা
যা খেয়ে খেয়ে একটা জীবন–পাড়ি দিচ্ছে মৃত্যুর রহস্যময় মৃত্যুর ধাঁ ধাঁ।
মৃত্যুই যেখানে শেষ নয় - Mrityui Zekhane Shesh Noy
Get access to your Orders, Wishlist and Recommendations.


































There are no reviews yet.