Description
মোজাম্মেল হক নিয়োগী
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার সুরাশ্রম গ্রামে জন্ম ও বেড়ে ওঠা। জন্ম ১৯৬২ সালের ২৭ অক্টোবর। বাবা ফজলুল হক নিয়োগী বিমান বাহিনীর সার্জেন্ট হিসেবে অবসর নেন। মা সুফিয়া বেগম ছিলেন গৃহিনী। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে তৃতীয়।
শতাধিক বইয়ের রচয়িতা কঠোর পরিশ্রমী নিয়োগীর ছাত্রজীবন থেকে লেখালেখির হাতেখড়ি ছড়া ও কবিতায়। স্বভাবে কোণঘেঁষা। নিভৃতচারী। সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় বিচরণ। প্রান্তিকী, জলের লিখন, কালবাতাস, কুহেলীকুহক, ঘূর্ণিবায়ু ও ধূসর কাবিন, ছায়াপথ, শেষ কথাটি যাও বলে, মায়াবী দৌলত, উপন্যাস ত্রয়ী (ফাঁদ, পুষ্পকথা ও তৃতীয় অধ্যায়) উপন্যাসগুলো সমাজবাস্তবতার জীবন্ত ছবি।
লেখার বড়ো স্থান জুড়ে আছে শিশুসাহিত্য। সেঞ্চুরি ছুঁই ছুঁই। উল্লেখযোগ্য কিশোর-কিশোরী উপন্যাস ‘রাজুদের বাড়ি আসার পর,’ ‘ছোটো মামা’ ‘তিন্নির পথ খোঁজা’, ‘বত্রিশের সবুজ পাতা’, ‘শরণার্থী শিবির থেকে’ ও ‘আগুনঝরা দিনগুলো’। ষোলোটি গানে সুরমঞ্জরিত। ‘কৃষ্ণপক্ষের জোছনা’ ও ‘গন্তব্য’ নামে দুটি শর্ট ফিল্মের নির্মাতা। প্রশিক্ষণ ও গবেষণা বিষয়ক আটটি গ্রন্থের মধ্যে দুটি বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইংরেজি ভাষায় লিখিত ও অনূদিত কয়েকটি বইও রয়েছে।
সমাজকল্যাণ, রাষ্ট্র বিজ্ঞান ও শিক্ষায় স্নাতকোত্তর। সিসিডিবি, আইসিডিডিআর,বি, কেয়ার বাংলাদেশ, সেভ দ্য চিলড্রেন, ইউনেস্কো ও ব্রিটিশ কাউন্সিলসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে কর্মজীবন।





































‘দুঃখিত এই মুহূর্তে মোবাইল সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’ কথাটা শুনে ভীষণ ভড়কে যায় আকলিমা। আরও কয়েকবার ফোন দিয়ে একই কথা শুনতে পায় সে। হাত-পা কাঁপতে থাকে। চোখের চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসে। বুকের খোড়লে শব্দ হয় দুমদুম। ভাবে, এ কোন পরীক্ষায় পড়লো সে। নানারকম চিন্তা মাথায় জট পাকায়। ছেলেটির কোনো বিপদ হলো না তো! না কি ইচ্ছে করেই তার সাথে এমনটি করছে সে। কিন্তু কেন করবে এমন? বিশ্বাস করতে পারে না আকলিমা। কিন্তু তার বিশ্বাস অবিশ্বাসে কিছু যায় আসে না। পৃথিবীতে বহু ঘটনা ঘটে যেটার মীমাংসা মানুষ করতে পারে না। তাই খেয়ালে-বেখেয়ালে মানুষ মানুষকে নিয়ে খেলে আশ্চর্য সব ভয়ংকর খেলা। তবু আশা ছাড়ে না আকলিমা। অপেক্ষায় থাকে অদেখা ছেলেটির ফোনের জন্য। কিন্তু কিছু অপেক্ষার হয়তো শেষ থাকতে নেই। জীবনকে অদৃষ্টের হাতে ছেড়ে দিয়ে মাঝে মাঝে মানুষ নিজেকে ভারমুক্ত করতে চায়। নিজেকে ভাগ্যের ঘরে ঠেলে দেওয়া ছাড়া অন্য কোনো পথ খুঁজে পায় না সে। বায়বীয় এক সম্পর্কের টানে এতো দূর চলে আসা নিজের নির্বুদ্ধিতার প্রকাশ মাত্র। দূরে পশ্চিমে লাল সূর্যটা ঝুলে আছে মায়া লাগিয়ে। একপা দু’পা করে সামনে এগোয় সে। হাঁটতে হাঁটতে একটি পুলিশ বক্সের নিচে গিয়ে দাঁড়ায়। দীর্ঘ নিশ্বাস বাতাসে মিশে হু হু করে ছুটে পালাচ্ছে পূব-পশ্চিম-উত্তর-দক্ষিণে। কড়া বিকালটা চুপ হয়ে নরম বিকেল হয়ে উঠেছে কেবল। দুজন কনস্টেবল তাকে ফলো করে কাছে এসে দাঁড়ায়। সাদারঙের পুলিশটা মাথা ঝুঁকিয়ে জিজ্ঞেস করে, ‘কোথায় যাবে?’
There are no reviews yet.