Description
ভূমিকা :
সৈয়দ ওয়ালী প্রচলিত ধারার বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকা একজন কবি। দেশ ও মানুষের প্রতি তাঁর অঙ্গীকার মোটেও প্রচ্ছন্ন নয়। অলীক উন্মার্গগামী উচ্চারণের বাইরেই তাঁর কবিতার স্পর্ধিত বিস্তার। কবিতায় চিরায়ত স্বরের পাশাপাশি সমকালীন সংকটের চিহ্নগুলো তিনি তুমুল নৈপুণ্যে তুলে আনেন। তিনি জানেন, অশিক্ষিতপটুত্বের দিন শেষ, এ কারণেই কবিতার শরীর নির্মাণে তিনি যতœবান। রূপদক্ষ কবির কবিতাযানের ভ্রমণ আমরা সবিস্ময়ে চেয়ে দেখি। বাংলা কবিতার বিশ্বে থেকে যাওয়ার সংকল্প নিয়েই তিনি লিখে যাচ্ছেন একের পর এক অবিস্মরণীয় পঙক্তি।

















কবিতা যেন পর্যবেক্ষকের হারিয়ে যাওয়া সময়ের লুপ―স্থানকালের আপেক্ষিকতায় অনুভূতির যাদুবলে মোহিত একাকিত্বের তীব্র আনন্দ ভোগ অথবা সাদাকালো বেদনা বৃক্ষ। কবিতা আমার কাছে আমার জীবনবোধের মর্মরধ্বনি। জীবনকে বুঝতে চাওয়া, জীবনের উত্থান-পতন, সভ্যতা, ধার্মিক-অধার্মিক, নাস্তিক-আস্তিকের কাণ্ডখানা, পুঁজিবাদ, ধর্ম, সমাজতন্ত্র, দেশপ্রেম, নারী… সবকিছুই। কবিতায় কবির চিন্তার জগৎ উঠে আসে, ছক কষে কল্পনা ও গণিতে। জীবনের জ্ঞানকে সংক্ষিপ্তভাবে প্রকাশিত চিন্তায় স্থানান্তর করে যা পার্থিব-অপার্থিব জগৎ ভাবিয়ে তোলে। জলের শব্দে কবিতা রপ্ত হয় মিশে যায় রঙহীন, শব্দে শব্দে নীল হয়ে ওঠে আকাশ। কবিতা মানবধর্মের অথবা মানুষের রঙহীন রঙিন―ভায়োলিন শব্দ। মানব জাতির অধিকাংশ লিখতে পারে না এটা যেমন সত্য, অধিকাংশ আবার শিল্পকে ধারণ করতে পারে না। নিজের অনুভূতি বা মতের বিরুদ্ধে গেলেই উগ্র ও ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে ওঠে। মূর্খদেরকে জ্ঞানী করে তোলা অথবা জ্ঞান প্রচারে আমার কোনো ইচ্ছা নেই। আমার কবিতা শুধু সহনশীল মানুষ ও মানবতার জন্য―যা আপনার জ্ঞানকে ক্রিয়াশীল করতে পারে আবার নাও পারে। হ্যাপি রিডিং―চিয়ার্স।
There are no reviews yet.