Description








$ 1.85 $ 2.47



| Weight | 0.211 kg |
|---|---|
| Published Year | |
| অনুপ্রাণন তরুণ পাণ্ডুলিপি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী | ২০২৪ |
অয়ন্ত ইমরুল। জন্ম: ১২ই এপ্রিল ১৯৮৭ইং, মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর থানার আজিমনগর গ্রামে। পদ্মা নদীর ভয়াল গ্রাসে শৈশবেই ঠিকানার পরিবর্তন ঘটে বর্তমানে সাভার আশুলিয়ায় বসবাসরত। এটি লেখকের প্রথম প্রকাশিত বই।
ছায়াসমুদ্র
ডালিয়া চৌধুরী। তোলারাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্স মাস্টার্স শেষ করেছেন। কবিতার প্রতি ভালোবাসা থেকে কবিতা লেখার সূত্রপাত। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ, ‘অনুভবে সুখ’ ‘মেঘময় নিকুঞ্জে রধুন‘ ও ‘জলজ কামনা’।
নীল গোধূলি
ফারহানা খানম। জন্ম: ১৯শে এপ্রিল ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী এলাকায়। গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দীপে। ‘ভুগোল ও পরিবেশ’ বিষয়ে স্নাততোত্তর ডিগ্রী অর্জন করে ব্যাংকে চাকুরি শুরু করলেও বর্তমানে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত। নয় ভাই-বোনের মাঝে সবার ছোট বলেই আদরও পেয়েছেন বেশি। প্রথম প্রকাশিত বই, ‘ইছামতি’ (কলকাতা থেকে প্রকাশিত)।
তৃষ্ণার্ত বালুতট
রাজন্য রুহানি। পরিবারের দেওয়া সনদসাক্ষ্য নাম মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। জন্ম: ২রা নভেম্ভর ১৯৮০, জামালপুর জেলা শহরের হাটচন্দ্রায়। কলেজে পা দেবার সাথে সাথেই সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত হয়ে পড়েন। স্থানীয় কয়েকটি দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকার বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। মফস্বল সাংবাদিকতার পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে না পেরে বারবার কবিতার কছেই ফেরা। বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং। ১৯৯৮ থেকে কবিতার ভাঁজপত্র শব্দদূত সম্পাদনার সাথে যুক্ত। ঐ বছরই অন্যান্য লেখক সহযোগে আলোচনাগ্রন্থ- ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ; আতিয়ার রহমানের ৭টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। এটি লেখকের প্রকাশিত এককবই।
গল্প সমাপ্তির গান
তুহিন দাস, কবি ও লিটলম্যাগ কর্মী। জন্ম: ১১ জানুয়ারি ১৯৮৫, জল ও কবিতার শহর বরিশালে। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখি শুরু করেন। প্রথম কবিতার শিরোনাম ‘সমাধিপৃষ্ঠা’। ২০০০ সালে ‘আরণ্যক’ সাহিত্যপত্র সম্পাদনা শুরু করেন। সম্পাদনার জন্যে ২০১১ সালে ‘চিহ্ন সন্মাননা’ পেয়েছেন। বর্তমানে ‘আরক’ পত্রিকা ও প্রকাশনায় কর্মরত আছেন। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ছয়, ‘বনসাই প্রকল্পের মানুষ’ ‘অসুখময় দিনরাত্রি’ ‘বিষাদনীলঘোড়া’ ‘কাজল বিক্রেতার স্বপ্ন’ ‘বাগান সিরিজ’ ও ‘দূরের পাড়া কাছের বাড়ি’।
কাঠের মুখ
সৈয়দ সাইফুর রহমান সাকিব। জন্ম: ১৯৭৮ সালে বরিশাল জেলা সদরে করিমকুটির নামক স্থানে। তার লেখার বিষয় মূলতঃ কবিতা। সময় নাট্যদলের সাথে একযুগ পার করেছেন। গানও লিখতেন কিন্তু বন্ধুবরের প্রয়ানে, অভিমানে আর সেপথ মারাননি। বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ে কর্মরত থাকলেও নিজেকে একজন কবিতার শতরঞ্জি মোড়ানো শ্রমিক বলেই মনে করেন। এটি কবির প্রথম বই।
রূপোর দ্যুতি
লেখক পরিচিতি :
নিখিল নওশাদ। জন্মসন: ১৯৮৯ইং। বড়িয়া, ধুনট, বগুড়া, বাংলাদেশ। ‘বিরোধ, ‘নিওর’ ও ‘নীড়’ পত্রিকার সম্পাদনা পরিষদের সাথে যুক্ত। এটি লেখকের প্রথম প্রকাশিত বই। এছাড়া ছোটগল্প বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত সথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছেন।
এটি একটি চিৎকার
লেখক পরিচিতি :
তানভীর আহমেদ হৃদয়। জন্ম: ৩ডিসেম্বর, ১৯৮৫ইং। মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। প্রকাশিত গ্রন্থের তালিকায় আছে কবিতা, গল্প, উপন্যাস, ছড়া। এছাড়া সম্পাদিত গ্রন্থের তালিকায় আছে কবিতা ও গল্প। লেখকের লেখা প্রতিনিয়ত দেশে ও বিদেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে।
অচেনা রৌদ্রের রঙ
কাজী রহমান। পরবাসী লেখক নিজের পছন্দ মতো বাঁচতে দু-যুগ আগে মার্কিন মুলুকে চলে আসেন স্ত্রী ও প্রথম শিশুকন্যা সাথে নিয়ে। বড় হয়েছেন পুরনো ঢাকার গেন্ডারিয়া’য়। জ্ঞান হবার পরপরই নিজেকে আবিষ্কার করেছেন ঘরের পাশের গ্রন্থাগারে, বিভিন্ন শিশু সংগঠন আর সমাজসেবামূলক সংগঠনের আলোছায়ায়। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার দুরন্ত কিশোর স্বাধীনতার যুদ্ধ দেখেছেন কাছ থেকে আর আতঙ্কের দিন গুনেছেন সারাক্ষণ মুক্তিযোদ্ধা দু’ভাইয়ের ঘরে ফেরার অপেক্ষায়। গ্রাজুয়েশন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। কর্মজীবন কেটেছে বিদেশী এয়ার লাইন্সের কর্মকর্তা হিসেবে।
তারাধুলো জল ও নস্টালজিয়া
লেখক পরিচিতি :
মোহাম্মদ হোসাইন। জন্ম: ৩১শে অক্টোবর। বিএসসি ও এমএসসি’র শিক্ষা সমাপন শেষে এখন শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত আছেন। লেখকের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ মোট ১১টি। ‘ভালোবাসা নির্বাসনে গেছে’ ‘মেঘগুলো পাখিগুলো’ ‘অরণ্যে যাবে অস্তিত্বে পাপ’ উল্লেখযোগ্য বইয়ের শিরোনাম।
অনুদিত রোদের রেহেল
সাঈদা মিমি। জন্ম: ২৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৮। বরিশালে। শৈশবের পুরোটাই এবং অর্ধেক কৈশোর কেটেছে পদ্মাপাড়ে, মানিকগঞ্জের ঘোনাপাড়া গ্রামে। লেখালেখির শুরু ছাত্রজীবনে। প্রথম প্রকাশিত হয় ইত্তেফাকে। ফ্রীল্যান্স সাংবাদিকতা, স্কুল মাস্টারিং, বায়িং হাউজের এডমিন, হাউজিং কোম্পানির এক্সিকিউটিভ ইত্যাদি বিচিত্র কর্মজীবন মেষে অতঃপর গৃহিণী। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘সব নিয়ে গেছে এক সময়ের লুটেরা বাতাস’ ‘ফারাও কুমারী’ ও ই-বুক ‘কীর্তনখোলা’।
একজন মৃতের ডাইরি
মুর্শিদা জামান। জন্ম: ১৯৮৩ সনে বর্তমান বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠি জেলায়। শৈশব ও বেড়ে ওঠা দক্ষিণের খুলনা শহরে। বাংলায় অনার্স সহ এমএ করেন ইডেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ছাত্রজীবন থেকেই লেখালেখির সূত্রপাত। কবিতা লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ছোট কাগজ ও সাহিত্য বিষয়ক মাসিক পত্রিকাতে ছোটগল্প প্রকাশিত হয়েছে। প্রকৃতি ও পশু-পাখির প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও সখ্যতা রয়েছে। বর্তমানে তিনি লেখালেখি নিয়েই ব্যস্ত।
অদৃশ্য ছায়ার প্রজাপতি
মনের গোপন ব্যাথা-বেদনা, শোক ও দ্রোহের বাসনা-সবকিছুকে পিছনে ফিরে দেখলে মনে হতে পারে, কতো মৃত্যুকেই বরণ করে এসেছি! এই প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তিকে তর্কে আলিঙ্গন করে নয় বরং আত্ম-অভিজ্ঞতার নিরিখে ছন্দবদ্ধ করার যে প্রয়াস- এখানে তার নাম “‘মৃত্যু এক দারুণ রোমান্স।” কবিতা উপভোগের সৌন্দর্য সৃষ্টি করে মাত্র। আসমা সুলতানা শাপলার লেখা সংকলনে প্রেমের এপিঠ ওপিঠ সমান্তরাল। সঙ্গ চাওয়ার মাঝে কন্ঠজুড়ে প্রেমীর নামকে সম্বল করে রাখা আছে, বলা আছে, ভালবাসার দরজা খোলা রেখে দেই। তুমি তুমি তুমি নামে তবু যে প্রেম থেকে গেছে। নিখোঁজ সংবাদ কবিতাটায় আছে, তোমার কোনও খবর নেই, উড়ে গেছো হাওয়ায়? আবার প্রেমই একমাত্র বস্তুজাগতিক না। প্রায়োগিক জীবনরেখায় কঠিন বাস্তবের সামনে কবি আসমা সুলতানা শাপলা পুরাপুরি রাজনৈতিক। সকল অসভ্যতারে মানব আর দানবে চিহ্নায়িত করতে গিয়ে কবি কাঁটাতারে ঝুলে থাকা ফেলানির মরদেহকে স্মরণ করেন। বিপ্লবী হয়ে ওঠেন পুঁজিবাদী দালালির বিরুদ্ধে। কবিতাও শেষপর্যন্ত ভাষা, তবু তাতে সুর আর স্বরের প্রক্ষেপণ মিশিয়ে এ-যাত্রায় পাঠককে কম্পিত করবে প্রেমের সান্নিধ্য, বিচ্ছেদ, অবশিষ্ট পূর্ণতা ও দ্রোহের ভিতর জাগতিক চেতনা। কবিতায় অতিক্রম করে আসা এইসব ঘটনাগুলোকে মৃত্যুর রুমাঞ্চকর অভিজ্ঞতায় সুখপাঠ্য করা যেতে পারে।
Mrittu Ek Darun Romance - Asma Sultana Shapla
সম্পর্কে জড়ানোর জন্য অভিকর্ষ বলের কোনোই দোষ নেই।
— আলবার্ট আইনস্টাইনক
কথাটি হয়তো এই মহান বিজ্ঞানী মজার ছলে বলেছিলেন। আসলে একজন মানুষ জন্মের পর ধীরে ধীরে তার কাছের মানুষগুলোকে চিনতে শুরু করে। তারপর সে দূরের সম্পর্কগুলোকে জানার চেষ্টা করে। কাছে দূরের এই যোজন বিয়োজনের পারস্পরিক ক্রিয়ার রসায়নে একটা সময় হয়তো কোনো সম্পর্ক মধুময় হয়ে ওঠে, কখনো বা তিক্ত। আবার এই তিক্ত সম্পর্ক সৃষ্টির নিয়ামক হয় মানুষের লোভ, শঠতা ও অহংকার। মাঝেমাঝে কিছু সম্পর্ক সামাজিক বিধিনিষেধের গোলকধাঁধায় পড়ে আবার নিষিদ্ধও ঘোষিত হয়। সেই সম্পর্কেগুলোর হয়তো কোনো নামও হয় না। অথচ নামহীন এমন সম্পর্কের ভার সারা জীবন মনে ভেতরেই থেকে যায়।
মানুষের বৈচিত্র্যময় আন্তঃসম্পর্কের পাপপুণ্যের পরিধি বিশ্লেষণ করে লেখক ‘নিমপাতার পাকোড়া নিষিদ্ধ আলিঙ্গন’ গল্পগ্রন্থে সেইসব নিষিদ্ধ সম্পর্কগুলোকেই আলিঙ্গনের চেষ্টা করেছেন। শুধু মানবিক সম্পর্কের পূর্বাপর অন্বেষণ নয়, সামাজিক অবক্ষয় আর বিচ্ছিন্নতাও এই গল্পগুলো নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
Nimpatar Pakorar Nishiddho Alingon


Chonde Badha Didha - Nusrat Jahan Champ
বাংলা ছোটোগল্পে কল্লোল (১৯২৩) যুগ আমাদের পাঠাভ্যাসকে বদলে দেয়। নতুন কিছু তো অবশ্যই। যেমন পরিবর্তন হয়েছে গল্পের ন্যারেটিভ তেমনই বিষয়-ভাবনা। পাঠকের রুচির অনুকূল ছিল কি না সেসব গল্প- তা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এ-পর্যায়ে সে গল্পগুলোই এখন আমাদের প্রাণ-সংকেত; ওই গল্পগুলোর দিকে তাকিয়েই আধুনিক বাংলা গল্পের বৈচিত্র্যময় টেক্সট নির্মিত হচ্ছে। কী ছিল ওইসব গল্পে? গল্প তো মানুষেরই। রবীন্দ্রনাথের গল্পও তো মানুষেরই গল্প; তারপরও যখন কল্লোলীয় গল্প পাঠকের কাছে এলো, তখন পাঠক একটি স্বতন্ত্র রুচির চর্চা করতে সক্ষম হয়। এর অনেক পরে হাসান আজিজুল হক লিখলেন ‘আত্মজা ও একটি করবী গাছ (১৯৬৭)’। এখান থেকে বাংলা গল্প আরো সুদৃঢ় হয়ে ওঠে। যাকে বলা যায় সবল অস্তিত্ব নিয়ে বাংলা ছোটোগল্পের পরম্পরা নির্মিত হয়। কে বা কারা ছিলেন এগিয়ে সে প্রশ্নও অবান্তর। কিন্তু গল্পের অগ্রযাত্রায় প্রতিনিয়ত যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন ভাবনা; বৈশ্বিকবোধ তাড়িত বিজ্ঞানমনস্ক সামজচিন্তা। সত্তর, আশি, নব্বই অতিক্রম করে যখন শূন্য কিংবা এক, দুই-য়ে বাংলা গল্প দাঁড়ালো, তখন গল্পও উত্তরাধুনিক চেতনায়, অনেক বেশি সাংকেতিক; আবার কখনো অনেক বেশি বিষয়ানুগ। বিষয় হিসেবে সামাজিক কদর্য, রীরংসা, নারীর প্রতি নিগ্রহ গল্পের আধার হয়ে উঠতে থাকে।
নাহার আলম শেষোক্ত ধারার একজন। তার গল্পসমূহে সময়ের চিত্রায়ণ করতে গিয়ে বস্তুত সমাজবাস্তবতাকে টাচ করতে চেয়েছেন। সময়ের সঙ্গী হওয়া বস্তুত কঠিন; কিছুটা চ্যালেঞ্জেরও। প্রথমত- সামাজিক সীমাবদ্ধতা। দ্বিতীয়ত হলো- প্রকাশ ক্ষমতার শিল্পিত সংকোচ। সম্ভবত নাহার আলম-এর ক্ষেত্রে এ-দুয়ের কোনোটিই বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। শিরোনামের একটি মার্কেটট্রেন্ড থাকে। এ-ধারণা থেকে নাহার আলম মুক্ত। এর মৌল কারণ হয়তো বাজারাক্রান্ত হওয়ার স্থুল বাসনা তার নেই।
শ্বাপদ সুন্দর, ধনদাসের রজনিচর, প্রসথেটিক মাস্ক, প্রত্যাখান বা প্রত্যাবর্তন, যোগচিহ্ন ইত্যাদি শিরোনামের গল্পগুলোতে যাচিত সময়ের লড়াই আছে। বেঁচে থাকার লড়াই, আবার আত্মপ্রতীতির লড়াইও। স্বোপার্জিত অর্জনের খেরোখাতায় বস্তুত কোনো বিলাসের গল্প থাকে না; থাকে টিকে থাকার নন্দিত পরমতা। তার কোনো যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা থাকে না। কিন্তু অবশ্যই সমাজবাস্তবতার চলচ্চিত্রায়ণে এর মূল্য অধিক। একজন সিনথিয়ার সফল জননী হয়ে ওঠা, নিবিড়ের বিশ্বাস ও চেতনার সঙ্গে তথাকথিত রাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব, শবনমের সমুদ্রসম কষ্ট, অরিণ এবং নীলান্তির জীবনে ঘটে যাওয়া দুঃসহ স্মৃতি সবই তো আমাদের সমাজে বিস্তীর্ণমান দূষিত সম্পর্কায়নের কুফল। এসব কিছুকে যখন লেখক একটি মলাটে অন্তর্ভুক্ত করেন, তখন সেখানে অজস্র পাঠকের অন্তর্জিজ্ঞাসার বাতায়নটা খুলে যায়। পাঠক ওই বিন্দুতে থামতে চান; এবং বলেন এমনই হয়তো চেয়েছি। এ-ধারার গল্পকথায় নাহার আলম পাঠককে মুগ্ধ করার হয়তো প্রত্যয় নেননি- কিন্তু পাঠকের কাছে পৌঁছুতে চেয়েছেন। এখানে তার স্বাতন্ত্র্য অনেকেরই চোখে পড়বে।
আবার কিছু গল্পে উপভাষার প্রয়োগেও তার সিদ্ধহস্ততা কোনো কোনো পাঠককে আগ্রহী করে তুলবে। পাঠকমাত্রই নতুনের সন্ধান চান; তবে সে নতুন, পুরোনোর ভেতর থেকে উত্থিত হলে তার প্রতি মানুষের আকর্ষণ থাকে ভিন্নরকম। এবং বলা বাহুল্য ওই পুরোনোর ভেতর থেকে নতুনের উদ্ভাসন মূলত উত্তরাধুনিক চিন্তারই বহিঃপ্রকাশ। পোস্ট-মডার্ন পাঠক তার গল্প থেকে সে স্বাদও নিতে পারবে বলে মনে হয়েছে। গল্প পাঠান্তে অনেকের হয়তো মনে হতে পারে, গল্পটা আমারই; গল্পের সিনথিয়া, অরিণ, নিবিড় কিংবা শবনম মূলত আমিই।…
Subornopurane Ekhon Neguro Andhokar by Naher Alam
প্যারালাল ইউনিভার্স বা সমান্তরাল বিশ্ব মানে এই অসীম মহাশূন্যে অসংখ্য মহাবিশ্ব রয়েছে যার মধ্যে একাধিক পৃথিবীও রয়েছে যা একটির অন্যটির প্রতিরূপ। ইংরেজিতে যাকে বলে ‘‘প্যারালাল ওয়ার্ল্ড’’ বা ‘‘মিরর ওয়ার্ল্ড’’। এই মিরর ওয়ার্ল্ড দেখতে আমাদের পৃথিবীরই মতো; এবোরে যেন টুইন ওয়ার্ল্ড বা যমজ বিশ্ব। প্যারালাল ইউনিভার্স সম্পর্কে সর্ব প্রথম ধারণা দেন বিজ্ঞানী ডাবলিনে এরভিন শ্রোডিঙার। এরপর অন্য বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে এই তত্ত্বকে যাচাই-বাছাই ও তাত্ত্বিক গবেষণা করে বলেন, এই বহু মহাবিশ্বে আমাদের পৃথিবীর মতো অনেক পৃথিবী রয়েছে যা আমাদের পৃথিবীরই মিরর ইমেজ বা মিরর ওয়ার্ল্ড। আমরা যেমন পৃথিবীতে বিভিন্ন কাজ-কর্ম করছি তারাও আমাদের সমন্তরালে বিভিন্ন কাজ-কর্ম করছে- যারা দেখতে আমাদেরই মতো হুবহু একই চেহারার।
এই বইয়ে প্যারালাল ওয়ার্ল্ডের গল্প ছাড়া রয়েছে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, রূপকথা থেকে সায়েন্সফিকশন ইত্যাদি ভিন্নস্বাদের কয়েকটি সায়েন্সফিকশন। আশাকরি গল্পগুলো ছোট-বড় সব বয়সী পাঠকের কাছে ভালো লাগবে।
Journey to the Parallel World by Ashraf Pintu
তুরস্ক আধ্যাত্মিক সাধকদের দেশ, মওলানা জালাল উদ্দিন রুমির দেশ। লেখক তুরস্কের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে গিয়েছেন সেই আধ্যাত্মিক জগতের ডাকে সাড়া দিতে।
ইস্তাম্বুলে বসফরাস প্রণালী বা সাধারণ কবরস্থান যেন প্রশ্ন এবং উত্তর একইসাথে খুঁজে পাওয়া।
কাপাদোকিয়ার ভূগর্ভস্থ জগৎ আর মেলেন্দিস নদী একটাই সুর ফুটিয়ে তোলে ভাবের জগতের আদান-প্রদানে।
আনতালইয়ার প্রাচীন স্থাপনা বা ভূ-মধ্যসাগরের অভিজ্ঞতা যেন মওলানার পংক্তি ধরে ধরে সেই ধুলোকণা আর নোনা সাগরে উড়াল দেয়া।
যার জন্য পথচলা, উদাস থাকা, যাযাবর জীবন বেছে নেয়া সেই মওলানার পায়ের কাছে লেখক উৎসর্গ করেন নিজের জগৎ।
অনন্য সাধারণ অভিজ্ঞতায় মোড়া ফেথিয়ে শহরে হৃদয়ের অজানা কুঠুরি খুলে যায় তখন, যখন দেখা হয় নিজেরই প্রতিবিম্বের।
দেবী আর্টেমিসের এফেসাস নগরী ফিসফিস করে ফিরে ফিরে এসে গল্প শোনার জন্য। আর সকল ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দু ট্রয় নগর থেকে অজানা ভালোবাসা কুড়িয়ে বেড়ানোর আশায় লেখক উড়ে বেড়ান রাজধানী অবধি, দেখা হয় গানের নাইটিঙ্গেলের সাথে।
তবুও শেষ হয় না পথচলা। শেষ গন্তব্যে তাই বুঝি প্রশ্ন করেন এক আচেনা আত্মা–
‘মানুষ যা খুঁজে ফেরে জীবনভর তা কি পায়?’
উত্তর মওলানা জালাল উদ্দিন রুমি দিয়ে গিয়েছেন।
Mawlana Jalaluddin Rumi'r Khoje Turoske by Fatima Jahan
Get access to your Orders, Wishlist and Recommendations.


















There are no reviews yet.