Description
প্রজ্ঞা মৌসুমী। জন্ম এক শরতে কুমিল্লায়, বেড়ে উঠা সুনামগঞ্জে। তারপর ঊনিশ বছর বয়সে মায়ের সাথে প্রবাসে চলে আসা। এইসব টানাপোড়েনে লেখা ছিল সেতুর মতোন- বেঁধে চলি, অতিক্রম করি।




$ 2.12 $ 2.82
জীবনানন্দ জেনেছিলেন পশ্চিমের মেঘে সোনার সিংহ আবিষ্কারের ঘোর। কখনো কখনো সাদা কাগজকে মনে হয় পশ্চিমের মেঘ, যেখানে দেখেছি ঘোরমাখা এইসব গল্পের মুখ।
প্রজ্ঞা মৌসুমী। জন্ম এক শরতে কুমিল্লায়, বেড়ে উঠা সুনামগঞ্জে। তারপর ঊনিশ বছর বয়সে মায়ের সাথে প্রবাসে চলে আসা। এইসব টানাপোড়েনে লেখা ছিল সেতুর মতোন- বেঁধে চলি, অতিক্রম করি।
| Weight | 0.265 kg |
|---|---|
| Published Year |
আমি কী আর জন্মেছিলাম মানুষ হিশেবে?
জন্মেছিল আবু তাহের, এই লোকটা কে?
মুখ চিনি না তবু মুখের আদল ধরে হাঁটি
শরীর খুলে বাইরে এসে ছায়ায় পরিপাটি।
আমি হয়তো ছায়ার মানুষ, শরীর আরেকজন
তার শরীরেই আড়াল হয়ে বাঁচার আয়োজন।
কার সে জীবন আমার কাঁধে, আমি-ই যে হায় কার
একই সাথে খাচ্ছি-দাচ্ছি ঘুমোচ্ছি আবার।
আমার যে, সে কোথায় থাকে? কোথায় বাড়িঘর?
তার সাথে কী বদলেছে এই আমার টিনের ঘর?
গোধূলির জাদুকর
রুমা মোদক, মাতা: দীপ্তি রানী মোদক, পিতা: প্রিয়তোষ মোদক, জন্ম: হবিগঞ্জ। জেলা শহর থেকে প্রকাশিত সংকলনগুলোতে লেখালেখির মাধ্যমেই হাতেখড়ি। শুরুটা আরো অনেকের মতোই কবিতা দিয়ে। ২০০০ সালে প্রকাশিত হয় কাব্যগ্রন্থ ‘নির্বিশঙ্ক অভিলাষ’। এরপর ধীরে ধীরে জড়িয়ে পড়েন মঞ্চনাটকে। রচনা করেন কমলাবতীর পালা, বিভাজন, জ্যোতি সংহিতা ইত্যাদি মঞ্চসফল নাটক। অভিনয়ও করেন। মঞ্চে নাটক রচনার পাশাপাশি নিরব অন্তঃসলিলা স্রোতের মতো বহমান থেকেছে গল্প লেখার ধারাটি। জীবন ও জগতকে দেখা ও দেখানোর বহুস্তরা এবং বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতার উৎসারণ ঘটেছে ২০১৫ সালের বইমেলায় প্রকাশিত ছোটগল্প সংকলন ‘ব্যবচ্ছেদের গল্পগুলি’তে। ‘প্রসঙ্গটি বিব্রতকর’ গ্রন্থভুক্ত গল্পগুলোতে সে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি হয়ে উঠেছে আরও নির্মোহ, একবগগা, খরখরে কিন্তু অতলস্পর্শী ও মমতাস্নিগ্ধ।
গল্প লেখার স্বীকৃতিস্বরূপ ইতোমধ্যে পেয়েছেন বৈশাখী টেলিভিশনের পক্ষ থেকে সেরা গল্পকারের পুরস্কার, ফেয়ার এন্ড লাভলী সেরা ভালোবাসার গল্প পুরস্কার। ২০১৪ সালে মঞ্চনাটকে অবদানের জন্য পেয়েছেন ‘তনুশ্রী পদক’।
বর্তমানে সক্রিয় রয়েছেন বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের পত্র-পত্রিকা, লিটলম্যাগ এবং বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে প্রকাশিত অন্তর্জাল সাহিত্য পোর্টালে লেখালেখিতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এম.এ সম্পন্ন করে শিক্ষকতা পেশায় জড়িত রয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে স্বামী অনিরুদ্ধ কুমার ধর ও যমজ সন্তান অদ্বিতীয়া অভীপ্সা পদ্য ও অদ্বৈত অভিপ্রায় কাব্যকে নিয়ে হবিগঞ্জে বসবাস করছেন।
সিদ্দিকী হারুন
সাহিত্য ও সংবাদকর্মী
প্রসঙ্গটি বিব্রতকর
মোঃ জিয়াউল হক; জন্ম : ১৯৮১ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি, গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার গোবিন্দী গ্রামে। পিতা- মোঃ নাছির উদ্দীন, মাতা- মোছাঃ জাহানারা বেগম। পড়াশোনা : এম.এ (রাষ্ট্রবিজ্ঞান)। পেশা : দীর্ঘ এক যুগ ‘গ্রাফিক ডিজাইনার’ ও ‘পেইন্টার’ হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করার পর, বর্তমান পেশা শিক্ষকতা।লেখালেখির হাতে খড়ি হয় ১৯৯৫ সালে। লেখালেখির শুরুটা মফস্বল এলাকার নাট্যপ্রেমী ছেলেদের জন্য মঞ্চ নাটকের কাহিনি রচনার মধ্য দিয়ে স্থানীয় কয়েকটি পত্রিকায় কবিতা ও ছড়া লেখার চেষ্টা, বহুদিন। সেই চেষ্টা থেকেই ২০০০ সালে প্রকাশিত ‘দৈনিক ঘাঘট’ পত্রিকায় ‘আঁড় চোখে দেখা’ শিরোনামে বিদ্রুপাত্মক ছড়া নিয়মিত লেখালেখি। এই সময় সাহিত্যপ্রেমী বন্ধুদের সাথে নিয়ে ‘অগ্নিরথ’ নামক একটি অনিয়মিত মাসিক সাহিত্য ম্যাগাজিন সম্পাদনা ও প্রকাশনা কাজেও যুক্ত। কিন্তু ইতিমধ্যে রুটিরুজির জীবনযুদ্ধ শুরু হলে কবিতা-ছড়া বিলিন হয়ে যায় জীবন থেকে।
অন্তর্দাহ
সোলায়মান সুমন। জন্ম ১মে ১৯৭৯, চাঁপাই নবাবগঞ্জ। তরুণ বয়সে লেখালেখি শুরু। বর্তমানে ঢাকায় বসবাস। পেশায় শিক্ষক। ত্রৈমাসিক অনুপ্রাণন এর সম্পাদনা পরিষদের সদস্য।
ভগ্ন সময়ের কোলাজ
মির্জা মুজাহিদ। পেশাগতভাবে বিজ্ঞাপন শিল্পের সাথে জড়িত। জন্মেছেন নড়াইল শহরে। এখন ঢাকায় থাকেন। চেষ্টা করে যাচ্ছেন নিয়মিত ‘কথা’র শিল্পী হতে।
বিপ্রতীপ
মাহতাব হোসেনের জন্ম ১৯৮৮ সালের ৮ জানুয়ারি। দিনাজপুর জেলার রেলওয়ে শহর পার্বতীপুরে। বর্তমানে দৈনিক কালের কণ্ঠে সাব এডিটর হিসেবে কর্মরত। শৈশবে ছড়া লিখে সাহিত্যের পথে পা বাড়ান। তনিমার সুইসাইড নোট তার প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
তনিমার সুইসাইড নোট
কামরুজ্জামান কাজল বয়সে অনেক নবীন হওয়া সত্ত্বেও [জন্ম ২৫ মার্চ ১৯৯১] এবং অণুগল্প চর্চায় খুব বেশিদিন অতিবাহিত না করলেও ‘দলছুট শালিকগণ’ নামে যে বইটি প্রকাশিত হল;-এর বৈচিত্র্যপুর্ণ বিষয়বস্তু এবং অণুগল্প সম্পর্কিত ধারণার সাথে লেখকের যে নিবিড় ঐক্য স্থাপিত হয়েছে- বইটির পাঠশেষে এই কথাটাই মনে করবেন বিজ্ঞপাঠকগণ।
পাবনার ঈশ্বরদী থেকে আসা এই যুবকের ইতিপুর্বে ‘ শ্যাম পাহাড়ের আড়ালে’ নামে একটি কাব্যগ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৬’র একুশে বইমেলায়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এগ্রিকালচারে স্নাতক শেষ করে লেখক বর্তমানে শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্তিকা বিজ্ঞানে মাস্টার্স করছেন।
‘দলছুট শালিকগণ’ কামরুজ্জামান কাজলের প্রথম অণুগল্পগ্রন্থ। অণুগল্পের ভিত্তি, বিকাশ এবং প্রচারে এই বইটি একটি মাইলফলক হিসেবে ভবিষ্যতে উচ্চারিত হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।
দলছুট শালিকগন
ইয়াকুব খান শিশির যতটা না অণুগল্পকার তারচেয়েও বেশি একজন অণুগল্পসমঝদার; বিজ্ঞ আলোচক। অণুগল্পকে অণুগল্প হিসেবে বুঝতে পারার মধ্যেও এক ধরণের মেধার প্রয়োজন হয়। প্রয়োজন হয় অণুগল্পসংশ্লিষ্ট জ্ঞান বা বোধ। এই জ্ঞান বা অণুগল্পবোধটির অভাব থাকলে অণুগল্পের মূল মূরতি দেখা পাওয়া সম্ভব হয় না। ইয়াকুব খান শিশির এমনি একজন পাঠক যার ভেতরে অণুগল্পবোধটি সবসময় জাগ্রত থেকেছে। অণুগল্পের ভেতর-বাহিরের জ্ঞান অর্জন করেছেন। সেই জ্ঞান দিয়ে তিনি ইতোমধ্যে অণুগল্পের প্রচার প্রসার এবং বাংলা সাহিত্যের একটি নবতর শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট অবদান রেখেছেন।
রাজহাঁস ও অন্যান্য অণুগল্পের সফলতা কামনা করছি।
-বিলাল হোসেন
রাজহাঁস ও অন্যান্য অণুগল্প
বিলাল হোসেন। জন্ম ১লা জানুয়ারি ১৯৭৪। মাদারিপুর জেলার রাজারচর কাজীকান্দি গ্রামে। প্রথম প্রকাশিত বই বিরুপা’র শুঁড়িবাড়ি, সেরা ১০০ অণুগল্প। গল্প সংকলনÑ পঞ্চাশ। অণুগল্পের বিষয়-বৈচিত্র্যের অনুসন্ধান। ‘কালজয়ী পঙক্তিমালা’ নামক অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক।
মহাপ্রভু ও অন্যান্য অণুগল্প
শামীম সাঈদ, কবি ও গল্পকার। জন্মÑ ১০ জানুয়ারি ১৯৭৯। কলসনগর, লালপুর নাটোর। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থÑ এই কথা বৃষ্টিবাচক, এভাবে খুলবে না আঁচলের খুঁট, সদা ভাগতেছে ভববান।
কুঁড়িকাল ও যুগযাপনের গল্প
“ছোট প্রাণ ছোট ব্যথা, ছোট দুঃখ ছোট কথা… অন্তরে অতৃপ্তি রবে সাঙ্গ করি মনে হবে শেষ হয়ে হইল না শেষ।।” -কথাগুলো ছোট গল্পের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে রবিন্দ্রনাথ তাঁর ‘বর্ষাযাপন’ কবিতায় বলেছিলেন।
ইংরেজি সাহিত্য অধ্যায়নের শুরুর দিকে পড়া জেমস জয়েসের অনবদ্য ছোট গল্প ‘এরাবি’। রবিন্দ্রনাথের কথার মতই গল্পের ছোট ছোট ব্যথাগুলো ছোট করে গভীর দাগ কেটে গিয়েছিল মনে। তখনও ভাবিনি কোনদিন এমন গল্প অনুবাদ করার সাহস করতে পারব। বেশ কয়েক বছর পর ছোট গল্পের প্রতি তীব্র টান আর অদ্ভুত এক তাড়নায় গল্প অনুবাদ শুরু করলাম প্রিয় গল্প ‘এরাবি’ দিয়ে। অতঃপর একে একে আরও অনেক বিদেশী ছোট গল্প যোগ হতে লাগল প্রিয় গল্পের তালিকায়। এর মধ্যে বিশ্ব বিখ্যাত ছোট গল্পকার মান্টো, প্যাট্রিক ওয়াডিংটন, কেইট শোপেন, শার্লি জ্যাকশন আর গারশিনের মত লেখকের কিছু গল্প মাতৃভাষায় রূপান্তরের লোভ সামলানো গেল না। চমৎকার ১১ টি গল্পের অনুবাদ নিয়েই তৈরি এই নির্বাচিত ভিনদেশী গল্প গ্রন্থ।
নির্বাচিত ভিনদেশী গল্প
হাসান অরিন্দম। বাংলাদেশের একজন প্রাবন্ধিক ও গল্পকাররূপে পরিচিত। কথাসাহিত্যই তার সৃষ্টি ও আগ্রহের প্রধান ক্ষেত্র। জন্ম ২৭ এপ্রিল ১৯৭২। শিক্ষাজীবনÑ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। বাংলার লোকজীবন ও আবু ইসহাকের কথাসাহিত্য বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
পেশায় অধ্যাপক। ‘একজন মানুষের সম্ভাবনা’, ‘বিদ্যাছায়াবিদ্যা ও অন্যান্য গল্প’, ‘দুরবিনে দেখা কতিপয় দৃশ্য’সহ আরো অনেক বই প্রকাশিত হয়েছে।
আমাদের দৃষ্টিসীমায় কোন বাতিঘর ছিলো না
জীবনানন্দ জেনেছিলেন পশ্চিমের মেঘে সোনার সিংহ আবিষ্কারের ঘোর। কখনো কখনো সাদা কাগজকে মনে হয় পশ্চিমের মেঘ, যেখানে দেখেছি ঘোরমাখা এইসব গল্পের মুখ।
চড়ুই রোদ ও খরগোশ বিকেল - Charuirode O Khargosh Bikel
বিমূর্ত ভাবনার মূর্ত প্রকাশ কবিতা। কবি ঘোরলাগা নেশার ঘোরে মননে সৃষ্টি করেন কবিতার অন্তর্নিহিত ভাব। অন্তর্নিহিত ভাবে কবি ভাবনার শিল্প-দ্যোতনায় তৈরি হয় নান্দনিকতা। সংবেদনশীল কবিমনই কবিতার জন্মভূমি। কবির নিজের মনে শুরু হয় কবিতার ফল্গুধারা, বন্ধনহীন, অনির্দিষ্টভাবে। কবি কবিতাকে খোঁজে জীবনের ভেতর, অসীম প্রকৃতি, স্বপ্ন ও কল্পনার ভেতর। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, ‘ক্ষ্যাপা খুঁজে খুঁজে ফেরে পরশপাথর।’ কবিমন জীবন ও জগতের সংস্পর্শে এসে ভাবাবেগে স্পন্দিত হয়ে ছন্দিত বাণী বিকশিত করে। কবিতার ছন্দময় শরীরে চরম শৈল্পিক উৎকর্ষতায় কবি কবিতার আত্মা সৃষ্টি করেন। চিত্রকল্প, রূপকল্প, উপমা, উৎপ্রেক্ষা, অলংকার, চৈতন্যে মুগ্ধতার আবেশ ইত্যাদি দিয়ে সাজিয়ে তোলেন দেহসৌষ্ঠব। কবিতা হয়ে ওঠে আলো-আঁধারি। বোঝা না বোঝার রহস্য জাদু প্রতিভাত। যেন শীতের শেষ বিকেলের রোদ, ছুঁতে ছুঁতে না ছোঁয়া। বাঁশের ঝাঁড়ে হঠাৎ ওঠা ক্ষ্যাপা বাতাসের চেনা অথচ অচেনা সুর। সম্বরের পিছু ডাকে দুরন্ত মায়া হরিণীর ত্রস্ত-বিক্ষিপ্ত চকিত মদির চাহনি। ক্রৌঞ্চ-ক্রৌঞ্চি দম্পতির বিরহী আর্তস্বর, বিস্মিত, বিমোহিত আদি কবি বাল্মিকীর কবিতার প্রাণ প্রতিষ্ঠা।
ড. হুমায়ূন আজাদ বলেছেন, ‘কবিতা বোঝার জিনিস নয়, কবিতা অনুভবের, উপলব্ধির।’ কবিতা দুর্জ্ঞেয় কিন্তু স্বতঃস্ফ‚র্ত প্রণোদনা। বাস্তবের সঙ্গে কল্পনার, নিজের সঙ্গে অন্যের, বর্তমানের সঙ্গে অবর্তমানের, সমকালের সঙ্গে মহাকালের যোগ যত নিবিড় হয় কবিতা তত মহার্ঘ্য হয়ে ওঠে। কবির বিমূর্ত ভাবনায় কবিতা কখনো শোকাহত হৃদয়ের আর্তনাদ, বেদনাবিধুর কান্না, আবার কখনো অধিকারবঞ্চিত শোষিত, নিপীড়িত মানুষের ধ্বনি এবং স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত সৈনিক। কবিতা এভাবেই কালের প্রতিভ‚ হয়ে এসেছে। হয়ে উঠেছে শাশ্বত। কবির ভাব প্রকাশের সর্বোৎকৃষ্ট মাধ্যম কবিতা, কেননা এই শিল্পটি নান্দনিকতা ও জীবনমুখিতায় ভরপুর। কবি এর মাধ্যমে বুদ্ধিভিত্তিক স্ফ‚রণ ও মননশীলতার নিখুঁত চিত্রকর্মটি সম্পাদন করতে পারেন।
কবিতার ভেতরে থাকে উন্মাদনা, উত্তেজনা, ভাব-সাধনা। যেকোনো শিল্পের ভাবই প্রধান। কবির কবিতার ছন্দ, বুনন, অলংকরণ, রস ইত্যাদির ভিন্নতা প্রাপ্তি হয় বটে, কিন্তু সংবেদনশীলতা অপূর্ণ থাকে না। ক্ষুণ্ন হয় না শিল্পগুণ। কবিতা বিশুদ্ধ মননচর্চার ফসল। যে ফসলের পরিচর্যা কবি নিরন্তর করেন। তবে কবিতার আত্মা ও শরীরের শৈল্পিক আচ্ছাদনই কবিতার সার্থকতা। কবিতা বহুরৈখিক, সরল একরৈখিকভাবে সংজ্ঞায়িত করা যাবে না। কবিতা বোদ্ধারা অনেক কথা বলেছেন। কীটস মনে করেন, কবিতা যুদ্ধ করবে তার সূক্ষ্ম অপরিমেয়তায়, ঝংকারে নয়। এমিল ডিকিনসন বলেন, আমি যদি কোনো বই পড়ি এবং যা আমার শরীরকে এত শীতল করে তোলে যে, কোনো আগুনই আমাকে উষ্ণ করতে পারে না। আমি জানি সেটাই কবিতা। কবি ওয়ার্ডসওয়ার্থ কবিতাকে বলেছেন, তীব্র অনুভূতির স্বতঃস্ফ‚র্ত উৎসারণ। বোদলেয়ার কবিতাকেই কবিতার শেষ কথা বলেছেন। তাই কবিতা নিয়ে বলা যায়, ‘বলো বলো তোমার কুশল শুনি, তোমার কুশলে কুশল মানি।’
Sur Vule Jei Ghure Berai - Shankari Daser Kabita Somogro
সংস্কৃতির জগৎ অমূল্য। জাতি হিসেবে যাঁরাই সংস্কৃতির কদর করেছে তাদের খ্যাতি হয়েছে বিশ্বজোড়া। কেবল খ্যাতি নয়, এসেছে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিও। এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ ফ্রান্স। পৃথিবীর শিল্পচর্চার সুবর্ণভূমির কথা বললে এ দেশটির নাম-উচ্চারণ অনিবার্য হয়ে ওঠে।
বাংলার আদি-সংস্কৃতির ধারক লোকজ মানুষ। হৃদয়ে করে নৈমিত্তিক জীবনাচরণের অংশ হিসেবে তারা সংস্কৃতিকে ধারণ করেন। এখানে লোক-দেখানো কিংবা শহুরে কৃত্রিমতার প্রলেপ নেই। মা-মাটি, যাপন আর সৌন্দর্যবোধ আমাদের সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রেখেছে হাজার হাজার বছর।
আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল নিয়ে প্রতিবছর বাংলাদেশে হাতেগোনা কিছু কাজ হয়। সম্প্রতি ঐতিহ্য-সন্ধানী লেখক কাদের পলাশ লিখেছেন গবেষণাগ্রন্থ চাঁদপুরের সংস্কৃতি লোককথা ও অন্যান্য। তথ্য সংগ্রহের জন্যে চাঁদপুরের বহু গ্রাম তাকে পরিভ্রমণ করতে হয়েছে। বিশেষত প্রান্তিক মানুষ, প্রবীণ ব্যক্তি, গ্রামীণ নারীদের কাছ থেকে তিনি তথ্যভাণ্ডার সমৃদ্ধ করেছেন। চাঁদপুরের আঞ্চলিক ভাষা, লোককথা, গল্প, লোকাচার ও লোকবিশ্বাস নিয়ে যথার্থ মাঠসমীক্ষার কারণে বইটি বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্য-সমৃদ্ধ হয়েছে।
আপাত দৃষ্টিতে চাঁদপুরের সংস্কৃতি লোককথা ও অন্যান্য গ্রন্থকে চাঁদপুরের আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞান মনে হবে। ব্যাপৃত ভাবনার নিরিখে এ বইটিকে বাংলাদেশের বৃহত্তর সাংস্কৃতিক বৈচিত্রের উপস্থাপকও বলা যায়। তাই বাংলার সংস্কৃতি, লোকচিন্তা ও ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহীদের জন্যে বইটি অপরিহার্য একটি সংগ্রহ হতে পারে।
পরিশ্রমলব্ধ কাজটির জন্যে কাদের পলাশকে আন্তরিক ধন্যবাদ। পাঠকদের কাছে বইটির সঠিক মূল্যায়ন হবে- এ প্রত্যাশা করি।
~ মুহাম্মদ ফরিদ হাসান।
লেখক ও গবেষক
Chandpurer Sanskriti Lokokotha O Onnanno by Kader Palash
বইটার নাম হতে পারত শামুকের ডিম। কিন্তু হলো না। হতে পারতো বমির দোকান, কিংবা ভ্রম ও বিভ্রম অথবা হতে পারত জোসনাখেকো মানুষের রূপকথা। কিন্তু কোনোটাই হলো না। জগতে কত কিছুই তো হওয়ার কথা থাকে! হয় না।
অবশেষে বৃষ্টি ও নাকফুলের গল্পটাই টিকে গেল। কিন্তু এর ভেতরে ভেতরে রয়ে গেল শামুক ও শামুকের ডিম। রয়ে গেল ভ্রম ও বিভ্রম কিংবা জোসনাখেকো মানুষের রূপকথাও। সব মিলিয়ে হয়তোবা এটাই বমির দোকান।
এখন। আশেপাশে তাকালে এমন কিছু দেখা যাচ্ছে যা ধারণ করা যাচ্ছে না। বরণও করা যাচ্ছে না। নিস্তারও পাওয়া যাচ্ছে না। শুধু সয়ে যেতে হচ্ছে।
ফলে ভ্রম ও বিভ্রমের ভেতরে গুরুত্ব পাচ্ছে না শামুকের ডিম। জোসনাখেকো মানুষের রূপকথাগুলোকে বমির মতো মনে হচ্ছে।
তাই এইসব কিছুকে এড়িয়ে বা না-এড়িয়ে, তুলে ধরে বা না-ধরে রহস্যময় বৃষ্টির কাছে যাই। যেখানে হারিয়ে গেছে দেশমাতৃকার নাকফুল।
Brishti O Nakfuler Golpo by Emran Kabir
অনার্য বৃক্ষযুগল শিক্ষা অন্তপ্রাণ দুই প্রেমী যুগলের জীবন নৌকা যূথবদ্ধভাবে বেয়ে যাওয়ার গল্প। এই উপন্যাস একইসাথে ধারণ করে আছে এক চিতা আগুন, এক মহাসমুদ্র অশ্রুজল, এক আকাশ স্বপ্ন, ছোটো ছোটো ঢেউয়ের মতো ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র আনন্দ। সর্বোপরি উপন্যাসটি আনন্দ-সংগ্রামে পরিপূর্ণ জীবনের নিখুঁত এবং নিবিষ্ট চিত্রকল্পের সম্মিলন। এই উপন্যাস যেমন যেমন একটি গ্রামের গল্প তেমনি একইসাথে পুরো বাংলাদেশের পরিভ্রমণের নিবিড় পর্যবেক্ষণ। এই আখ্যানের সংবেদন এবং গাঢ় বেদনার সৌন্দর্যে পাঠককে অবগাহনের আমন্ত্রণ।
Anarjo Brikkhojugol by Nusrat Sultana
Get access to your Orders, Wishlist and Recommendations.














There are no reviews yet.