Description
প্রজ্ঞা মৌসুমী। জন্ম এক শরতে কুমিল্লায়, বেড়ে উঠা সুনামগঞ্জে। তারপর ঊনিশ বছর বয়সে মায়ের সাথে প্রবাসে চলে আসা। এইসব টানাপোড়েনে লেখা ছিল সেতুর মতোন- বেঁধে চলি, অতিক্রম করি।




$ 2.12 $ 2.82
জীবনানন্দ জেনেছিলেন পশ্চিমের মেঘে সোনার সিংহ আবিষ্কারের ঘোর। কখনো কখনো সাদা কাগজকে মনে হয় পশ্চিমের মেঘ, যেখানে দেখেছি ঘোরমাখা এইসব গল্পের মুখ।
প্রজ্ঞা মৌসুমী। জন্ম এক শরতে কুমিল্লায়, বেড়ে উঠা সুনামগঞ্জে। তারপর ঊনিশ বছর বয়সে মায়ের সাথে প্রবাসে চলে আসা। এইসব টানাপোড়েনে লেখা ছিল সেতুর মতোন- বেঁধে চলি, অতিক্রম করি।
| Weight | 0.265 kg |
|---|---|
| Published Year |
মোঃ জিয়াউল হক; জন্ম : ১৯৮১ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি, গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার গোবিন্দী গ্রামে। পিতা- মোঃ নাছির উদ্দীন, মাতা- মোছাঃ জাহানারা বেগম। পড়াশোনা : এম.এ (রাষ্ট্রবিজ্ঞান)। পেশা : দীর্ঘ এক যুগ ‘গ্রাফিক ডিজাইনার’ ও ‘পেইন্টার’ হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করার পর, বর্তমান পেশা শিক্ষকতা।লেখালেখির হাতে খড়ি হয় ১৯৯৫ সালে। লেখালেখির শুরুটা মফস্বল এলাকার নাট্যপ্রেমী ছেলেদের জন্য মঞ্চ নাটকের কাহিনি রচনার মধ্য দিয়ে স্থানীয় কয়েকটি পত্রিকায় কবিতা ও ছড়া লেখার চেষ্টা, বহুদিন। সেই চেষ্টা থেকেই ২০০০ সালে প্রকাশিত ‘দৈনিক ঘাঘট’ পত্রিকায় ‘আঁড় চোখে দেখা’ শিরোনামে বিদ্রুপাত্মক ছড়া নিয়মিত লেখালেখি। এই সময় সাহিত্যপ্রেমী বন্ধুদের সাথে নিয়ে ‘অগ্নিরথ’ নামক একটি অনিয়মিত মাসিক সাহিত্য ম্যাগাজিন সম্পাদনা ও প্রকাশনা কাজেও যুক্ত। কিন্তু ইতিমধ্যে রুটিরুজির জীবনযুদ্ধ শুরু হলে কবিতা-ছড়া বিলিন হয়ে যায় জীবন থেকে।
অন্তর্দাহ
মির্জা মুজাহিদ। পেশাগতভাবে বিজ্ঞাপন শিল্পের সাথে জড়িত। জন্মেছেন নড়াইল শহরে। এখন ঢাকায় থাকেন। চেষ্টা করে যাচ্ছেন নিয়মিত ‘কথা’র শিল্পী হতে।
বিপ্রতীপ
১৯৬২ সালের ৫ ডিসেম্বর, ময়মনসিংহে কবি আশুতোষ পাল ও শিউলি পালের সংসারে জন্ম।
লেখাপড়া- বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষিবিজ্ঞানে স্নাতক এবং সুইডেন থেকে পরিবেশ বিজ্ঞানে ডিপ্লোমা।
পেশা- এনজিও কর্মী দিয়ে শুরু এবং বর্তমানে সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত।
প্রকাশিত অন্যান্য বই- রাতপঞ্জি (২০০৩),পুননির্বাচিত আমি- ২০১১।
Asochorachor
মাহতাব হোসেনের জন্ম ১৯৮৮ সালের ৮ জানুয়ারি। দিনাজপুর জেলার রেলওয়ে শহর পার্বতীপুরে। বর্তমানে দৈনিক কালের কণ্ঠে সাব এডিটর হিসেবে কর্মরত। শৈশবে ছড়া লিখে সাহিত্যের পথে পা বাড়ান। তনিমার সুইসাইড নোট তার প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
তনিমার সুইসাইড নোট
হাসান মাহবুব। জন্ম ১৯৮১ সালের ৭ নভেম্বর, ঢাকায়। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার সময় তিনি বুঝেছিলেন এ জায়গা তার জন্য নয়। চলে আসেন
আনন্দভ্রম
লেখকের কথা
প্রতিটি মানুষের জীবনেই রয়েছে অজস্র গল্প। গল্প ছাড়া মানুষের জীবন হতেই পারে না! আর সেইসব গল্প বাস্তবতার- আদৌ কল্পনার নয়। মানুষের সঙ্গে মানুষের নানা রকম সম্পর্ক গড়ে ওঠে শৈশব থেকে মৃত্যু পর্যন্ত। গল্পগুলো সেই সম্পর্কজাত। যা জীবদ্দশায় ভুলে যাওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। যারা লিখতে পারেন তারা চেষ্টা করেন সেইসব জীবনস্মৃতির গল্পগুলোকে জনসম্মুখে তুলে ধরতে লেখনীর মাধ্যমে। আর যারা লেখায় অভ্যস্ত নন, তারা নিভৃতে মনের ভেতরে সেসব লালন করেন এবং সময়-সুযোগ পেলে অন্যকে বলেন। অনেক লেখক আছেন যারা বিভিন্ন সময় নানা চরিত্রের মানুষের কাছ থেকে তাদের জীবনে অর্জিত অম্ল-মধুর অভিজ্ঞতার গল্প, দুঃখ-বেদনার গল্প, হাসি-খুশির ঘটনা, বিয়োগান্তক কাহিনী ইত্যাদি শুনে উপন্যাস বা গল্পে রূপ দেন।
সাধারণ মানুষ বলি আর বিশিষ্টজন বলি; লেখক বলি আর শিল্পী বলি- তাদের জীবনের গল্পগুলো সাধারণ গল্প নয় বলেই গণমাধ্যমে বা পাঠ্যপুস্তকে সেগুলো প্রকাশিত হয়ে থাকে। শিক্ষামূলক গল্পের যেমন শেষ নেই তেমনি প্রেম-ভালোবাসা, ব্যর্থতা, আশা-নিরাশা, বিচ্ছেদ, লড়াইমুখর গল্পেরও সীমা-পরিসীমা নেই। সেসব জীবনস্মৃতির গল্প পড়ে আমরা বিচিত্র চরিত্র, চিন্তা ও মন মানসিকতার মানুষকে চিনতে, জানতে পারি। এর মধ্যে অনেক গল্পই আছে সাহিত্যরসে টইটুম্বুর- রোমান্টিক, ভাবনার উদ্রেককারী এবং শিক্ষামূলক।
গল্প সাধারণত দুধরনের বলা যায়, এক হচ্ছে, বানানো গল্প বা কল্পলোকের গল্প। দুই হচ্ছে, জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনার বাস্তব গল্প। বানানো গল্পগুলোর চেয়ে জীবনস্মৃতির গল্পগুলো বেশি নাড়া দেয় মানুষ তথা পাঠককে। কারণ সেইসব গল্প অনেক মানুষের জীবনের গল্প। বানানো গল্প যেভাবে সুন্দর ভাষা ও অলঙ্কারে আদর্শ চিত্রকলার মতো করে প্রকাশ করা হয়, জীবনস্মৃতির বাস্তব গল্পগুলো সেই রঙে আঁকা সম্ভব হয় না। এতে করে গল্পের প্রাণ হারিয়ে যায়, সংবেদনশীলতা শীতল হয়ে পড়ে। হারিয়ে যায় আকর্ষণও। বানানো গল্প মনে থাকে না, যদি না তাতে বাস্তবতার নোনাজলের ধারা প্রবাহবান থাকে।
মানুষ হিসেবে আমিও ব্যতিক্রম নই। জ্ঞান হওয়ার পর থেকে আমার এই ষাট ছুঁইছুঁই বয়সে বহু ঘটনার সঙ্গে বেড়ে উঠেছি, অর্জিত হয়েছে বিস্তর অভিজ্ঞতা। কত চরিত্রের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ঘটেছে তার হিসেব নেই। সেইসব ঘটনা অমূল্য স্মৃতি এবং অকাট্য সম্পর্ক। এই সম্পর্ক এতই অম্ল-মধুর যে, পড়ন্ত বেলায় এসে যতই ভাবি ততই নিজেকে ফিরে ফিরে দেখার সাধ জাগে, নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করে যুগপৎ আনন্দিত এবং বিষণ হই। জীবনস্মৃতির সেইসব অজানা গল্পগুলোই পড়ে অনেকে নিজের সঙ্গে মিলিয়ে নেন। যুগ যুগ ধরে এটাই সাহিত্যে চলে আসছে। এভাবে কালজয়ী, রসোত্তীর্ণ গল্পও আমরা অনেক পেয়েছি। ভবিষ্যতেও পাব।
জীবনস্মৃতির এই গল্পগুলো ‘সম্পর্ক’ শিরোনামে একটি গল্পসংকলনে পত্রস্থ করে স্বনামধন্য প্রকাশনা সংস্থা ‘অনুপ্রাণন প্রকাশন’ ঢাকা প্রকাশ করে আমাকে চিরঋণী করেছেন। আশা করি গল্পগুলো পাঠককে গভীরভাবে নাড়া দেবে।
‘অনুপ্রাণন’কে জানাই অন্তঃস্থল থেকে অজস্র ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
প্রবীর বিকাশ সরকার, টোকিও.জাপান, ৭, অক্টোবর, ২০১৭
জীবনস্মৃতির গল্প সম্পর্ক
হাসান অরিন্দম। বাংলাদেশের একজন প্রাবন্ধিক ও গল্পকাররূপে পরিচিত। কথাসাহিত্যই তার সৃষ্টি ও আগ্রহের প্রধান ক্ষেত্র। জন্ম ২৭ এপ্রিল ১৯৭২। শিক্ষাজীবনÑ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। বাংলার লোকজীবন ও আবু ইসহাকের কথাসাহিত্য বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
পেশায় অধ্যাপক। ‘একজন মানুষের সম্ভাবনা’, ‘বিদ্যাছায়াবিদ্যা ও অন্যান্য গল্প’, ‘দুরবিনে দেখা কতিপয় দৃশ্য’সহ আরো অনেক বই প্রকাশিত হয়েছে।
আমাদের দৃষ্টিসীমায় কোন বাতিঘর ছিলো না
আবু সাঈদ আহমেদের জন্ম ১০ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৫। অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যায়নের সময়েই জনপ্রিয় সাপ্তাহিক সন্দ্বীপে প্রতিবেদন লেখার মাধ্যমে লেখক জীবনে প্রবেশ। কলেজ জীবন হতে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে কবিতা ও প্রবন্ধ লিখেছেন। কিন্তু লেখাকে কখনোই গুরুত্বের সাথে নেন নাই। তিনিই বাংলা ব্লগের অন্যতম জনপ্রিয় ব্লগার ‘হরবোলা’। অনলাইনে নির্মোহ রাজনৈতিক প্রবন্ধ, তীক্ষ্ম স্যাটায়ার, কবিতা আর অণুগল্প তাকে এনে দিয়েছে ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা। আমমানুষের পক্ষের একজন লেখক ও এক্টিভিস্ট হিসেবে একাধিকবার শারীরিক হামলার স্বীকার হয়েছেন, কিন্তু নীরব হন নাই।
লংকা কিন্তু জ্বলছে না
ফজিলা ইসলাম ফৌজি নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরে ১৯৭২ সালের ৮ই মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতৃনিবাস মেহেরপুর জেলার কোলা গ্রামের বাবু পাড়ায়। পিতার নাম মোঃ হাফিজ উদ্দিন মাতার নাম মোছাঃ রাকিবা বেগম।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হিসাববিজ্ঞান বিভাগ (অনার্স মাষ্টার্স) শেষ করে ১৯৯৯ সালে রাজশাহীর ইসলামিয়া কলেজে শিক্ষক হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে কলেজ পরিবর্তন করে বর্তমানে তিনি মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার গাংনী মহিলা ডিগ্রী কলেজে হিসাববিজ্ঞানের প্রভাষক হিসাবে নিয়োজিত আছেন।
মানচিত্রে রক্তক্ষরণ
মৃত্যু সংবাদ এমনই একটা বিষয় মুহূর্তে পৃথিবীর গতি স্তব্ধ করে দেয়। পরিচিত বা কাছের জনের মৃত্যু হলে তা আরও ভারী বোধহয়। মনে হয় যেন নিজেরই একটা অংশ মরে গেছে। এত সুন্দর মায়াময় প্রভাতটা নিমেষের মধ্যে অর্থহীন, শ্রীহীন হয়ে যায়।
একটি স্বেচ্ছামৃত্যু ও কিছু রসিকতা
জন্ম ১৯৪৭ সালের ১৪ই এপ্রিল। টাঙ্গাইলের মীরের বেতুকা গ্রামে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাশ করেন। করটিয়ার সা’দত কলেজ ও স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেছেন। সহকারী সম্পাদক ছিলেন সাপ্তাহিক বিচিত্রা ও দৈনিক সংবাদ Ñএ। ১৯৭৮-৮০ সালে ছিলেন গণচীনের রেডিও পেইচিং এর ভাষা বিশেষজ্ঞ। ১৯৯৪-২০০৪ সালে ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের পরিচালক। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, গবেষণা, শিশুতোষসহ গ্রন্থের সংখ্যা ৭০ এর বেশি।
গল্প সংগ্রহ
কামরুজ্জামান কাজল বয়সে অনেক নবীন হওয়া সত্ত্বেও [জন্ম ২৫ মার্চ ১৯৯১] এবং অণুগল্প চর্চায় খুব বেশিদিন অতিবাহিত না করলেও ‘দলছুট শালিকগণ’ নামে যে বইটি প্রকাশিত হল;-এর বৈচিত্র্যপুর্ণ বিষয়বস্তু এবং অণুগল্প সম্পর্কিত ধারণার সাথে লেখকের যে নিবিড় ঐক্য স্থাপিত হয়েছে- বইটির পাঠশেষে এই কথাটাই মনে করবেন বিজ্ঞপাঠকগণ।
পাবনার ঈশ্বরদী থেকে আসা এই যুবকের ইতিপুর্বে ‘ শ্যাম পাহাড়ের আড়ালে’ নামে একটি কাব্যগ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৬’র একুশে বইমেলায়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এগ্রিকালচারে স্নাতক শেষ করে লেখক বর্তমানে শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্তিকা বিজ্ঞানে মাস্টার্স করছেন।
‘দলছুট শালিকগণ’ কামরুজ্জামান কাজলের প্রথম অণুগল্পগ্রন্থ। অণুগল্পের ভিত্তি, বিকাশ এবং প্রচারে এই বইটি একটি মাইলফলক হিসেবে ভবিষ্যতে উচ্চারিত হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।
দলছুট শালিকগন
বিমূর্ত ভাবনার মূর্ত প্রকাশ কবিতা। কবি ঘোরলাগা নেশার ঘোরে মননে সৃষ্টি করেন কবিতার অন্তর্নিহিত ভাব। অন্তর্নিহিত ভাবে কবি ভাবনার শিল্প-দ্যোতনায় তৈরি হয় নান্দনিকতা। সংবেদনশীল কবিমনই কবিতার জন্মভূমি। কবির নিজের মনে শুরু হয় কবিতার ফল্গুধারা, বন্ধনহীন, অনির্দিষ্টভাবে। কবি কবিতাকে খোঁজে জীবনের ভেতর, অসীম প্রকৃতি, স্বপ্ন ও কল্পনার ভেতর। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, ‘ক্ষ্যাপা খুঁজে খুঁজে ফেরে পরশপাথর।’ কবিমন জীবন ও জগতের সংস্পর্শে এসে ভাবাবেগে স্পন্দিত হয়ে ছন্দিত বাণী বিকশিত করে। কবিতার ছন্দময় শরীরে চরম শৈল্পিক উৎকর্ষতায় কবি কবিতার আত্মা সৃষ্টি করেন। চিত্রকল্প, রূপকল্প, উপমা, উৎপ্রেক্ষা, অলংকার, চৈতন্যে মুগ্ধতার আবেশ ইত্যাদি দিয়ে সাজিয়ে তোলেন দেহসৌষ্ঠব। কবিতা হয়ে ওঠে আলো-আঁধারি। বোঝা না বোঝার রহস্য জাদু প্রতিভাত। যেন শীতের শেষ বিকেলের রোদ, ছুঁতে ছুঁতে না ছোঁয়া। বাঁশের ঝাঁড়ে হঠাৎ ওঠা ক্ষ্যাপা বাতাসের চেনা অথচ অচেনা সুর। সম্বরের পিছু ডাকে দুরন্ত মায়া হরিণীর ত্রস্ত-বিক্ষিপ্ত চকিত মদির চাহনি। ক্রৌঞ্চ-ক্রৌঞ্চি দম্পতির বিরহী আর্তস্বর, বিস্মিত, বিমোহিত আদি কবি বাল্মিকীর কবিতার প্রাণ প্রতিষ্ঠা।
ড. হুমায়ূন আজাদ বলেছেন, ‘কবিতা বোঝার জিনিস নয়, কবিতা অনুভবের, উপলব্ধির।’ কবিতা দুর্জ্ঞেয় কিন্তু স্বতঃস্ফ‚র্ত প্রণোদনা। বাস্তবের সঙ্গে কল্পনার, নিজের সঙ্গে অন্যের, বর্তমানের সঙ্গে অবর্তমানের, সমকালের সঙ্গে মহাকালের যোগ যত নিবিড় হয় কবিতা তত মহার্ঘ্য হয়ে ওঠে। কবির বিমূর্ত ভাবনায় কবিতা কখনো শোকাহত হৃদয়ের আর্তনাদ, বেদনাবিধুর কান্না, আবার কখনো অধিকারবঞ্চিত শোষিত, নিপীড়িত মানুষের ধ্বনি এবং স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত সৈনিক। কবিতা এভাবেই কালের প্রতিভ‚ হয়ে এসেছে। হয়ে উঠেছে শাশ্বত। কবির ভাব প্রকাশের সর্বোৎকৃষ্ট মাধ্যম কবিতা, কেননা এই শিল্পটি নান্দনিকতা ও জীবনমুখিতায় ভরপুর। কবি এর মাধ্যমে বুদ্ধিভিত্তিক স্ফ‚রণ ও মননশীলতার নিখুঁত চিত্রকর্মটি সম্পাদন করতে পারেন।
কবিতার ভেতরে থাকে উন্মাদনা, উত্তেজনা, ভাব-সাধনা। যেকোনো শিল্পের ভাবই প্রধান। কবির কবিতার ছন্দ, বুনন, অলংকরণ, রস ইত্যাদির ভিন্নতা প্রাপ্তি হয় বটে, কিন্তু সংবেদনশীলতা অপূর্ণ থাকে না। ক্ষুণ্ন হয় না শিল্পগুণ। কবিতা বিশুদ্ধ মননচর্চার ফসল। যে ফসলের পরিচর্যা কবি নিরন্তর করেন। তবে কবিতার আত্মা ও শরীরের শৈল্পিক আচ্ছাদনই কবিতার সার্থকতা। কবিতা বহুরৈখিক, সরল একরৈখিকভাবে সংজ্ঞায়িত করা যাবে না। কবিতা বোদ্ধারা অনেক কথা বলেছেন। কীটস মনে করেন, কবিতা যুদ্ধ করবে তার সূক্ষ্ম অপরিমেয়তায়, ঝংকারে নয়। এমিল ডিকিনসন বলেন, আমি যদি কোনো বই পড়ি এবং যা আমার শরীরকে এত শীতল করে তোলে যে, কোনো আগুনই আমাকে উষ্ণ করতে পারে না। আমি জানি সেটাই কবিতা। কবি ওয়ার্ডসওয়ার্থ কবিতাকে বলেছেন, তীব্র অনুভূতির স্বতঃস্ফ‚র্ত উৎসারণ। বোদলেয়ার কবিতাকেই কবিতার শেষ কথা বলেছেন। তাই কবিতা নিয়ে বলা যায়, ‘বলো বলো তোমার কুশল শুনি, তোমার কুশলে কুশল মানি।’
Sur Vule Jei Ghure Berai - Shankari Daser Kabita Somogro
অনার্য বৃক্ষযুগল শিক্ষা অন্তপ্রাণ দুই প্রেমী যুগলের জীবন নৌকা যূথবদ্ধভাবে বেয়ে যাওয়ার গল্প। এই উপন্যাস একইসাথে ধারণ করে আছে এক চিতা আগুন, এক মহাসমুদ্র অশ্রুজল, এক আকাশ স্বপ্ন, ছোটো ছোটো ঢেউয়ের মতো ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র আনন্দ। সর্বোপরি উপন্যাসটি আনন্দ-সংগ্রামে পরিপূর্ণ জীবনের নিখুঁত এবং নিবিষ্ট চিত্রকল্পের সম্মিলন। এই উপন্যাস যেমন যেমন একটি গ্রামের গল্প তেমনি একইসাথে পুরো বাংলাদেশের পরিভ্রমণের নিবিড় পর্যবেক্ষণ। এই আখ্যানের সংবেদন এবং গাঢ় বেদনার সৌন্দর্যে পাঠককে অবগাহনের আমন্ত্রণ।
Anarjo Brikkhojugol by Nusrat Sultana
বইটার নাম হতে পারত শামুকের ডিম। কিন্তু হলো না। হতে পারতো বমির দোকান, কিংবা ভ্রম ও বিভ্রম অথবা হতে পারত জোসনাখেকো মানুষের রূপকথা। কিন্তু কোনোটাই হলো না। জগতে কত কিছুই তো হওয়ার কথা থাকে! হয় না।
অবশেষে বৃষ্টি ও নাকফুলের গল্পটাই টিকে গেল। কিন্তু এর ভেতরে ভেতরে রয়ে গেল শামুক ও শামুকের ডিম। রয়ে গেল ভ্রম ও বিভ্রম কিংবা জোসনাখেকো মানুষের রূপকথাও। সব মিলিয়ে হয়তোবা এটাই বমির দোকান।
এখন। আশেপাশে তাকালে এমন কিছু দেখা যাচ্ছে যা ধারণ করা যাচ্ছে না। বরণও করা যাচ্ছে না। নিস্তারও পাওয়া যাচ্ছে না। শুধু সয়ে যেতে হচ্ছে।
ফলে ভ্রম ও বিভ্রমের ভেতরে গুরুত্ব পাচ্ছে না শামুকের ডিম। জোসনাখেকো মানুষের রূপকথাগুলোকে বমির মতো মনে হচ্ছে।
তাই এইসব কিছুকে এড়িয়ে বা না-এড়িয়ে, তুলে ধরে বা না-ধরে রহস্যময় বৃষ্টির কাছে যাই। যেখানে হারিয়ে গেছে দেশমাতৃকার নাকফুল।
Brishti O Nakfuler Golpo by Emran Kabir
বঙ্গ রাখালকে সাধুবাদ ও স্বাগত জানাই। উত্তর প্রজন্মের ‘দায় ও দরদ’ পুরণে তিনি প্রবন্ধ সাহিত্যের মতো কঠিন ও অপ্রশংস একটি ধারাকে বেছে নিয়েছেন বলে। কেননা, প্রবন্ধ সাহিত্য চর্চা কেবল কঠিন কাজ নয়, সৃজনশীল ও মননশীল লেখালেখির মধ্যে সবচেয়ে কঠিন কাজ। কারণ, এখানে অনেক বেশি প্রস্তুতি লাগে, অনুশীলন লাগে, অধ্যাবসায় ও অবলোকন লাগে। ফলে, তার জন্য নিজেকে প্রতিনিয়ত নিঃসঙ্গতার কাছে সঁপে দিতে হয়। দেশ, জাতি, রাষ্ট্র, সমাজ, জনগণকে বুঝতে হয় তার আদ্যপান্ত সহযোগে। অনুভবে নিতে হয় তার অতীত-বর্তমান ও ভবিষ্যতের নিরিখে। বঙ্গ সেই কঠিন পথ বেছে নিয়েছেন স্বেচ্ছায়। আমাদের প্রত্যাশা তিনি প্রবন্ধ সাহিত্যকে ঋদ্ধ করবেন, নতুন চিন্তা, নতন বয়ান হাজির সাপেক্ষে- আমাদের জন্য যোগাবেন নতুন দিশা। যে দিশার স্বপ্ন দেখেছিলেন আবুল মনসুর আহমদ, লীলা নাগ, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, ডা.জাফরুল্লাহ’র মতো মনীষিজন।
ড. কাজল রশীদ শাহীন
চিন্তক, সাংবাদিক ও গবেষক।
Biplobi Leela Nag O Onyanyo Prosongo by Bangl Rakhal
জুলিয়ান সিদ্দিকী। জন্মÑ ১৯৬৮, পাকশী, পাবনা। বর্তমান আবাসস্থলÑ সৌদি আরব, পেশাÑ চাকুরী। গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ লেখেন। প্রকাশিত অন্যান্য গ্রন্থÑ উত্তাপ কিংবা উষ্ণতা, কম্পেন্ডার, ছায়াম্লান দিন, ভালবাসার যাতনা যত প্রভৃতি। বাংলা লাইভ ডট কম সেরা গল্প পুরস্কার পেয়েছেন।
বিশ্বাসের দহন ও অন্যান্য গল্প
গতকাল রাতে মাতাল জোছনা পড়েছিলো জলে
হৃদয়পুরে বসেছিলো নিতম্বের বেসাতি
আর কিছু জোনাকি ঢেলে দিলো আলো-
আমি শুধু পৃথিবী দেখেছিলাম ভাঙা আয়নায়।
অথচ তুমি আজ শুয়ে আছো-
পুকুরের পাড়ে, জোছনা তোমাকে ছোঁয় না
বসন্তসখা উড়ে যায় নীল দিগন্ত ছুঁয়ে
কতো কীটপতঙ্গ বাসা বাঁধে তোমার হিয়ায়।
মাতাল জোছনা ও ঝিঁঝিঁপোকা
জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ গল্পময়। পথ চলতে কখন কোন্ কথাটি গল্প হয়ে ওঠে কে বলতে পারে! তাই গল্প মানেই জীবনের আখ্যান। শুধু জীবনের নয়- সমাজ-সভ্যতার চলমান সময়ের প্রতিচ্ছবিও। বইয়ের শিরোনামের গল্পটিতে যেমন আমাদের ক্ষয়িষ্ণু সমাজের ছবি ফুটে উঠেছে তেমনি বাকি গল্পগুলোয় আছে স্বদেশপ্রেম, ভালবাসা, মমত্ববোধ, মঙ্গল কামনা অন্যদিকে রিরংসা, ষড়যন্ত্র, প্রতারণার কাহিনি। সবকিছু মিলিয়ে প্রত্যেকটি গল্পই আলাদা বৈশিষ্ট্যে বিশিষ্ট। পাঠককে অনন্য রস ও আনন্দের সন্ধান দেবে নিঃসন্দেহে।
Lokti Aine Bhango Korechilo - Santosh Kumar Sheel
জীবনানন্দ জেনেছিলেন পশ্চিমের মেঘে সোনার সিংহ আবিষ্কারের ঘোর। কখনো কখনো সাদা কাগজকে মনে হয় পশ্চিমের মেঘ, যেখানে দেখেছি ঘোরমাখা এইসব গল্পের মুখ।
চড়ুই রোদ ও খরগোশ বিকেল - Charuirode O Khargosh Bikel
PRACHIN BANGLAR PORAMATI-FALAKSHILPA O ANNANNO - প্রাচীন বাংলার পোড়ামাটি-ফলকশিল্প ও অন্যান্য
সংস্কৃতির জগৎ অমূল্য। জাতি হিসেবে যাঁরাই সংস্কৃতির কদর করেছে তাদের খ্যাতি হয়েছে বিশ্বজোড়া। কেবল খ্যাতি নয়, এসেছে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিও। এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ ফ্রান্স। পৃথিবীর শিল্পচর্চার সুবর্ণভূমির কথা বললে এ দেশটির নাম-উচ্চারণ অনিবার্য হয়ে ওঠে।
বাংলার আদি-সংস্কৃতির ধারক লোকজ মানুষ। হৃদয়ে করে নৈমিত্তিক জীবনাচরণের অংশ হিসেবে তারা সংস্কৃতিকে ধারণ করেন। এখানে লোক-দেখানো কিংবা শহুরে কৃত্রিমতার প্রলেপ নেই। মা-মাটি, যাপন আর সৌন্দর্যবোধ আমাদের সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রেখেছে হাজার হাজার বছর।
আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল নিয়ে প্রতিবছর বাংলাদেশে হাতেগোনা কিছু কাজ হয়। সম্প্রতি ঐতিহ্য-সন্ধানী লেখক কাদের পলাশ লিখেছেন গবেষণাগ্রন্থ চাঁদপুরের সংস্কৃতি লোককথা ও অন্যান্য। তথ্য সংগ্রহের জন্যে চাঁদপুরের বহু গ্রাম তাকে পরিভ্রমণ করতে হয়েছে। বিশেষত প্রান্তিক মানুষ, প্রবীণ ব্যক্তি, গ্রামীণ নারীদের কাছ থেকে তিনি তথ্যভাণ্ডার সমৃদ্ধ করেছেন। চাঁদপুরের আঞ্চলিক ভাষা, লোককথা, গল্প, লোকাচার ও লোকবিশ্বাস নিয়ে যথার্থ মাঠসমীক্ষার কারণে বইটি বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্য-সমৃদ্ধ হয়েছে।
আপাত দৃষ্টিতে চাঁদপুরের সংস্কৃতি লোককথা ও অন্যান্য গ্রন্থকে চাঁদপুরের আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞান মনে হবে। ব্যাপৃত ভাবনার নিরিখে এ বইটিকে বাংলাদেশের বৃহত্তর সাংস্কৃতিক বৈচিত্রের উপস্থাপকও বলা যায়। তাই বাংলার সংস্কৃতি, লোকচিন্তা ও ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহীদের জন্যে বইটি অপরিহার্য একটি সংগ্রহ হতে পারে।
পরিশ্রমলব্ধ কাজটির জন্যে কাদের পলাশকে আন্তরিক ধন্যবাদ। পাঠকদের কাছে বইটির সঠিক মূল্যায়ন হবে- এ প্রত্যাশা করি।
~ মুহাম্মদ ফরিদ হাসান।
লেখক ও গবেষক
Chandpurer Sanskriti Lokokotha O Onnanno by Kader Palash
Get access to your Orders, Wishlist and Recommendations.






















There are no reviews yet.