Additional information
| Weight | 0.220 kg |
|---|---|
| Published Year |
$ 1.13 $ 1.88
দুনিয়ার সবচেয়ে সুন্দরী রমণীদের বসবাস এখানে। ওই সুন্দরীদের রূপের সাথে পাল্লা দেয় যৌবন আর যৌবনের সাথে পাল্লা দেয় রূপ কিন্তু সেটা এক রক্ত নহর বহা একনগরী… স্ত্রীর জন্য ৭ পুরের (গ্রামের) জল ও মাটি সংগ্রহ করে পুব্যা এক যুবক। তবে শর্ত ছিল পথিমধ্যে কারো সাথে কথা-টথা বলতে পারবে না সে। যুবকটি কেন বলছে, হায় নারী! হায় স্ত্রী আমার! তুমি আমার অর্ধেক নও, তুমি আমার পুরো পৃথিবী… এরকম অসংখ্য মজাদার কথামালায় রচিত এই দুই প্রহরের প্রেম ও বিপরীত যাত্রা উপন্যাসটি। শরীফ শামিলের লেখনী শক্তি ও কল্পনা শক্তি প্রশংসার দাবি রাখে। তাঁর প্রথম উপন্যাস দীর্ঘ রাত্রির বিরুদ্ধে জেগে থাকা এর ব্যাপারে লিখেছিলাম, ওটি বাংলা উপন্যাসে এক নতুন সংযোজন। আর এ ‘দুই প্রহরের প্রেম ও বিপরীত যাত্রা’ উপন্যাসটি বাংলা উপন্যাসে আরেক (সম্পূর্ণ) নতুন সংযোজন।
আবু এম ইউসুফ
প্রকাশক
| Weight | 0.220 kg |
|---|---|
| Published Year |
ভূমিকা
লেখালেখি আমার কোনো পেশা নয়, এমন কি নেশাও নয়। তাহলে লিখি কেন? আসলে এখনও পর্যন্ত আমি একজন জীবিত মানুষ। এই সমাজ-সংসারের আরও দশ জন মানুষের একজন। তাদের মতো আমারও ক্ষুধা-তৃষ্ণা আছে। সুখ-দুঃখ আছে। হাসি-কান্না আছে। তাদের মতো আমারও কিছু বলার আছে। তাই কিছু বলতে চাই আমি। যেহেতু আমার অদৃষ্ট আমাকে নির্ধারণ করে দিয়েছে যে, আমি একজন গল্প লিখিয়েই হবো, তাই আমার বলতে চাওয়া কথাগুলো হবে কিছুটা গল্পের মতো। কিন্তু এই গল্প কাকে বলবো? নিশ্চয়ই আমার চার পাশের আর দশ জনকেই বলতে হবে কথাগুলো। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমি কোনো নেতা নই, কোনো বক্তা নই। শব্দ যন্ত্রের সামনে দাঁড়িয়ে বলতে গেলে আমার কথা কেউ শুনবে না। কারণ, আমি নিতান্তই নিরীহদের একজন। তাই কাগজ-কলমই আমার সম্বল। সুতরাং কোনো শব্দযন্ত্র ছাড়াই বলতে হবে নীরবে। কিন্তু তবু আমাকে বলতে হবে, যা আমি বলতে চাই। বলতে না পরলে হয়তো দম বন্ধ হয়ে আমি মারা যাবো। হয়তো কান দিয়ে শুনতে পাবেন না কথাগুলো, তবে চোখের আলোয় পড়তে পারবেন কাগজে মুদ্রিত কালো অক্ষরে।
জিয়াউল হক
গাইবান্ধা।
ধু-ধু বালুচর
কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর (১৯৬৩-২০১৫)। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একাডেমিক পড়াশুনা করেন চট্টগ্রামে। লেখালেখি ছিল তার কাছে অফুরন্ত সর্ব আনন্দ ব্যাকুল এক জীবনপ্রবাহের নাম। কথাসাহিত্যের ছোটকাগজ ‘কথা’র সম্পাদক ছিলেন। তার অন্যান্য প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে স্বপ্নবাজি, পদ্মাপাড়ের দ্রৌপদী, গল্পের গল্প ইত্যাদি।
হৃদমাজার
প্রকাশকের কথা-
বাংলা উপন্যাসে এক নতুন সংযোজন : বাংলা উপন্যাস এমনকি বিদেশি কোনো উপন্যাস এরকম কোনো উপ-কাহিনি দিয়ে শুরু এবং পৌরাণিক কাহিনি দিয়ে শেষ হয় বলে জানা নেই আমার। শরীফ শামিল এর উপন্যাস ‘দীর্ঘ রাত্রির বিরুদ্ধে জেগে থাকা’ পড়ে সেরকমই মনে হলো আমার। গত তিন চার বছরে আমার সাহিত্য পত্রিকা ‘অনুপ্রাণন’-এ তাঁর বেশ কয়েকটি গল্প ছেপেছিলাম, ওই গল্পগুলো পড়েই শরীফ শামিলকে মনে হয়েছিল একজন স্বতন্ত্র ধারার লেখক।
তাঁর উপন্যাসে স্বপ্ন আশা-আকাঙ্খা, হতাশা প্রেম কাম, নীরব বিরহ গ্রাম্য আচার-সংস্কার-কুসংস্কার, শোষক শোষিতের দ্বন্দ্ব সংঘর্ষ, লোভ হিংসা, সর্বোপরি মানুষের মনুষ্যত্ব মনস্তত্ত্বকে তিনি অল্প কথায় যেভাবে প্রকাশ করেছেন, তা অসাধারণ বলা যায়। একটি দু’টি বাক্যের মাধ্যমে তিনি একেকটা পরিচ্ছদকে তুলে ধরেছেন এই উপন্যাসে; তাঁর এই উপস্থাপন কৌশলটি এবং কৌতুক ও ব্যঙ্গাত্মক শব্দ প্রয়োগগুলো আমাকে মুগ্ধ করেছে। তাঁর চরিত্রদের কিছু সযাং ভাষা ও আঞ্চলিক ভাষা, মেয়েলি গীত, কাহিনি ও জাউলি গীত উপন্যাসটিকে বিশ্বাসযোগ্য ও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। উক্ত উপন্যাসে ঐক্যের বিজয় দেখানো হয়েছে সেটা খ-কালিন বিজয়; চিরকালিন নয়- এটাই উপন্যাসের আরেক সার্থকতা বলে মনে হয়েছে আমার। তাছাড়া উপন্যাসের ভাষা-পরিভাষা অলংকার উৎপ্রেক্ষা উপমা অনুপাস-এর ব্যবহারও মুগ্ধ করার মতো। অতিবাস্তবতা ও যাদুবাস্তবতাকেও সার্থকভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি এই উপন্যাসে।
শরীফ শামিল-এর ‘দীর্ঘ রাত্রির বিরুদ্ধে জেগে থাকা’ উপন্যাসটি পাঠান্তে সকল শ্রেণির পাঠক মুগ্ধ হবেন বলেই আমার বিশ্বাস। তবে পাঠকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
দীর্ঘ রাত্রির বিরুদ্ধে জেগে থাকা
হুমায়ুন কবির।
জন্ম ১৯৫৯ সালে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার দেউটি গ্রামে। বাবা জালাল আহমেদ ও মা জফুরা বেগম। লেখালেখির শুরু ছাত্রাবস্থায়। মাঝে দীর্ঘ বিরতি। আবারও ফিরে এসেছেন লেখালেখিতে। কবিতা, উপন্যাস, গল্পগ্রন্হসহ তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা আটটি। ইতোপূর্বে প্রকাশিত তার উপন্যাস ‘ কানফুল, আনছার আলীর গৃহত্যাগ এবং কবিতা অন্তহীন দীর্ঘশ্বাস পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য জিগীষা সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ তাকে জিগীষা সাহিত্য সম্মাননা -২০১৯ প্রদান করেছে।
সাবেক সরকারি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বর্তমানে দৈনিক বাংলার সাহিত্য সম্পাদক। তিনি সালমা ফৌজিয়া সুমি, ডা. শারমিন ফৌজিয়া ও সাইফুল কবির সোয়েবের বাবা। স্ত্রী নাজমুন নাহার লক্ষ্মী গৃহিণী।
প্রকাশিত বই সমুহঃ-
কবিতা-
আমি তাকে ফিরছি খুঁজে
অন্তহীন দীর্ঘশ্বাস
উপন্যাস-
দায়
কানফুল
মেঘনাপারের শেফালী
আনছার আলীর গৃহত্যাগ
গল্পগ্রন্থ-
শাহজাদী উপাখ্যান
আমিও ডিকশনারি দেখেছি কিন্তু পাইনি।
জ্বিনকন্যা নার্গিসের প্রেম
জহিরুল হক বাপি। জন্ম ১৯৭৯ সালে নোয়াখালির এক মফস্বলী ঝড়ো সন্ধ্যায়।
চলচ্চিত্র শিক্ষায় স্নাতক। ব্লগার ও গণজাগরণ কর্মী।
লেখকের প্রকাশিত অন্যান্য বই:
ঈস্রাফীলের শিঙ্গা বাজছে (উপন্যাস)
শোকগাথা’৭১ (উপন্যাস)
আমি আমাকে খেয়ে বেঁচে আছি (কবিতা)
মাটির বাকসো লড়োচড়ো
জন্ম ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল থানার সুরাশ্রম গ্রামে। পিতামহের প্রতিষ্ঠিত নিজ গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শুরু। তারপর নান্দাইল রোড হাই স্কুল, আঠাবাড়ি ডিগ্রি কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়া শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজকল্যাণ ও রাষ্ট্র বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন। এরপর চাকরিজীবনে বি.এড ও এম.এড ডিগ্রি লাভ করেন।
লেখালেখির শুরুটা খুব পরিকল্পিত না হলেও চাকরিজীবনের বেঁচে যাওয়া সময়ে কঠিন অধ্যবসায় ও অবিরাম লেখালেখির অভ্যাসটি জোরালেভাবেই তৈরি হয়েছে। বহুমাত্রিক এই লেখকের সাহিত্যের প্রায় প্রতিটি শাখাসহ একাডেমিক গ্রন্থ নিয়ে মোট ৯৫ গ্রন্থ ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে।
ঘূর্ণিবায়ূ ও ধূসর কাবিন
আবু তাহের সরফরাজ। সবার মাঝে থেকেও সে আলাদা। দৃশ্যের ভেতরও অদৃশ্য। বেঁচে থাকতে চান লেখালেখির মাঝে।
যখন আঁধার যখন কুয়াশা
শহীদ ইকবাল। প্রাবন্ধিক ও উপন্যাসিক। জন্ম ১৩ আগস্ট, ১৯৭০ রংপুর জেলার পীরগঞ্জে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর এবং এখানেই শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। প্রকাশিত অসংখ্য গ্রন্থ রয়েছেÑ কথাশিল্পী আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, মুখশ্রীর পটে, কবিতা: মনন ও মনীষা প্রভৃতি। লিটলম্যাগ ‘চিহ্ন’ এর সম্পাদক।
হয়নাকো দেখা
শীতের সকালে হুট করেই সবচেয়ে নিকটের বন্ধু ও ছোট ভাই হাসানের নিকট কিম্ভূতকিমাকার পোষাকে উপস্থিত সুমন ভাই। তার ফোনালাপে সদ্য গড়ে উঠা প্রেমিকা মুমুর বিয়ে ভাঙতে যেতে হবে নোয়াখালী। যেই মেয়েকে কখনোও তিনি দেখেননি। কিন্তু নোয়াখালীতে পা রাখতে না রাখতেই শুরু হয় একের পর এক বিপত্তি ও হাস্য-রসাত্মক সব ঘটনা। কখনোও বিপত্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় তার প্রেমিকার বড় ভাই ও বড় ভাইর চ্যালা-প্যালারা, কখনোবা তিন বিটকেল কালাম, মাসুম ও জহির। এছাড়াও ঝামেলা পাঁকাতে সদা প্রস্তুত সুমন ভাইরই আপন মামাতো ভাই।
এই সকল নাটকীয়তার মাঝেই উপন্যাসের বাঁকে বাঁকে চলতে থাকে পাঁচ বন্ধুর বিচিত্র উদ্ভট সব কাণ্ডকারখানা। চলতে থাকে নির্মল ভালোবাসা-বাসি সুমন ভাই ও মুমুর মাঝে। শেষ পর্যন্ত কি ভালোবাসার বিজয় হয়? সুমন ভাই কি শেষ পর্যন্ত সফল হতে পেরেছিলেন? জানতে হলে পড়তে হবে “অপারেশন নোয়াখালী”।
অপারেশন নোয়াখালী
জন্ম ২৩ নভেম্বর, গোপালগঞ্জ জেলায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগে স্নাতকোত্তর শেষে বর্তমানে একটি বেসরকারি কলেজের অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত। শৈশব থেকেই লেখলেখিতে আগ্রহী। প্রথম প্রকাশিত বই ‘চাঁদ চোয়ানো জোৎস্নায় ফিরে এসো নদীবতী মেয়ে’।
তোমার জন্য মেয়ে
একটি মেয়ে, জন্ম থেকে বোধ করি আলাদা ব্যতিক্রমী ভাবনায় গড়ে উঠেছে। দেশভাগের পর, নানান টানা-পোড়েনে বেড়ে ওঠা তাদের পরিবার। এক একটা ঘটনা হয়তো তুচ্ছ, অতি তুচ্ছ। সেই সময় তার কাছে বিশাল বিস্ময় হয়ে উঠেছিল। এক একটা আঘাত প্রতিনিয়ত তাকে সৃষ্টি করতে সাহায্য করেছে। জীবনের মধ্যপ্রান্তে ক্লান্ত ‘বিকেলের আলোয়’ সে সবকিছুই দেখতে পায়। সেই সব হারানো না ফিরে পাওয়া দিনগুলো। সেই সব দিনগুলো আজো খুঁজে বেড়ায়। আজো বেলিফুলের তীব্র ঘ্রাণ নাকে আসে বাতাসের সাথে। শেষ প্রহরের সিনেমা ভাঙা গান আজো বাজে। ট্রেনের হুইসেলের শব্দে আজো যেনো ঘুম ভেঙ্গে যায়।
ভালো লাগবে আশা করি প্রিয় পাঠকের।
বিকেলের আলোয়
মৌসন্ধ্যা। বিস্তৃত পটভূমির এক উপন্যাস। এর কাহিনিতে নারী-পুরুষের চিরন্তন প্রেম যেমন এসেছে, তেমনি এসেছে কাছে আসার গল্প। প্রেম ছাড়া জীবন যেমন অসম্পূর্ণ, তেমনি প্রতিশ্রুতি ছাড়া প্রেম প্রতারণার নামান্তর। বিশ্বাস, ভালোবাসা, ত্যাগ ও মূল্যবোধের গল্প মৌসন্ধ্যা। প্রেম, কাম, যৌনতা, প্রতারণা, লালসা, সামাজিক অসংগতি আর রোমান্টিক থ্রিলারের গল্প মৌসন্ধ্যা। এই উপন্যাস সমকালকে ধারণ করে হয়ে উঠেছে চিরকালীন। নিতি, রাধা, রিমি, রাখি, মিলি, শোভা’র মতো মেয়েদের জীবনের গল্প, যৌবনের গল্প, মান ও অভিমানের গল্প চিত্রিত হয়েছে এখানে। মলাটবদ্ধ হয়েছে প্রেম ও অপ্রেমের সংঘাত!
প্রকৃতিতে যখন সন্ধ্যা নামে, তখন দিনের আলো নিভে গিয়ে গ্রাস করে রাতের আঁধার। সন্ধ্যা যেন সন্ধিক্ষণ। আলো-আঁধারের মিলন হয় সন্ধ্যায়। পরস্পর বিপরীত দুটি অস্তিত্বের সন্ধিক্ষণ সন্ধ্যা। জীবনের সন্ধিক্ষণে মৌ লোভী পতঙ্গের মতো পুরুষ এখানে আবদ্ধ হয়েছে কামের ফাঁদে, প্রেমের প্রতারণায়। আবার সেখান থেকেই পুরুষ দিয়েছে শাশ্বত প্রেম, নিটল নির্ভরতা। জ্ঞান ও অজ্ঞানের, সত্য ও মিথ্যার, বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের মিলন হয়েছে মৌসন্ধ্যার আলো-আঁধারে। মানুষের জীবনের পূর্ণাঙ্গ রূপ চিত্রিত হয়েছে এই উপন্যাসের সাগর সৈকতে।
Mousandha By Amit Kumar Kundu
নির্মোহ পৃথিবীর কথা, নামের মধ্যে একধরনের সত্যের অহংকার এবং সাহসের স্বচ্ছরূপ দেখতে পাওয়া যায়। নামকরণ কবির একটি গ্রন্থের তাৎপর্যপূর্ণ সংযুক্তি। হঠাৎ কখনো নামকরণের সঙ্গে বইয়ের বিষয়ের কোনো মিল থাকে না। তবে নামকরণ যে লেখকের সুচিন্তিত একটি অধ্যায়, তা লেখকমাত্র জানেন। আব্দুল্লাহ জামিল একজন স্থিরমগ্ন কবি। তিনি চিকিৎসা পেশার ব্যস্ততার কারণে, খুব বেশি লিখতে পারেন না। তবে, খুব যে কম লেখেন তাও নয়। বর্তমান ‘নির্মোহ পৃথিবীর কথা’ কাব্যগ্রন্থে তিনি কখনো নস্টালজিক, কখনো প্রকৃতিপ্রেমিক, কখনো প্রতিবাদী, কখনো কোমল। তবে তার প্রতিটি উচ্চারণই অকপট, সরল ও সাবলীল। এটি কবিতার একটি অনমনীয় গুণ। ছন্দসচেতনতা তার কবিতাকে আভিজাত্য এনে দিয়েছে। প্রাজ্ঞতা দিয়েছে। তিনি কথা বলার ঢঙে কবিতা লিখে চলেন, তবে তার লেখা বলার চেয়ে অলংকৃৃত। বইয়ের কবিতাগুলোতে কোথাও কোনো ঝুলে পড়া বা মেদস্বর্বস্ব অতিকথন নেই। টানটান সাবলীলতায় তিনি একবার প্রেম আর একবার বিষাদের সংগীত শোনান। তবে তার কবিতার সময় ও মৃত্যুচেতনার বিষয়টি গভীর তাৎপর্য বহন করে। প্রিয়জনের কাছ থেকে অবহেলা, প্রত্যাখানের মতো অনাকাক্সিক্ষত বিষাদও তার কবিতার অন্যতম সমাপ্তি। কবির নির্বাচিত শব্দ আর আর অলংকৃত বিন্যাস, তাকে পরিণতি দিয়েছে। শব্দ ও বাক্যের পরিমিতি বোধ ও আবেগের নিয়ন্ত্রণ তার কবিতার নিটোল চারিত্র।
-ওবায়েদ আকাশ
কবি ও সাংবাদিক
Nirmoho Prithibir Katha - Abdullah Jamil
আঁকাআঁকি
তুমি যখন আঁকবে শেয়াল
এই কথাটা রাখবে খেয়াল
শেয়াল থেকে মুরগিটাকে একটু দূরে এঁকো-
নইলে শেয়াল মুরগিটাকে করবে হজম দেখো।
আকাশ এঁকে পায়রা এঁকো
কী সুন্দর লাগবে দেখো!
সেই আকাশে শকুন বা চিল এঁকো না ভুল করে-
আঁকো যদি ছোঁ মারবেই পায়রা যাবে মরে।
রাখাল ছেলের বাঁশি এঁকো
কাস্তে হাতে চাষি এঁকো
ভুল করেও এঁকোনা ফের শড়কি লাঠিয়াল-
আঁকো যদি শূন্য হবে চাষির ভাতের থাল।
নৌকা বাউল কবি এঁকো
মুক্তিসেনার ছবি এঁকো
লাল-সবুজের পতাকাটা ধরিয়ে দিও হাতে-
দেখবে পুরো দেশটা কথা বলছে তোমার সাথে।
srl.ul.999@gmail.com
Choragache Ful Futeche by Sarwar-ul-islam
নাহার আলমের গদ্যভাস্কর্যের ভেতর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, শওকত আলী, আল মাহমুদ, হাসান আজিজুল হক, রিজিয়া রহমান, হুমায়ূন আহমেদ, হেলাল হাফিজ, আব্দুল মান্নান সৈয়দ এবং সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের জীবন ও কর্মের যৌক্তিক বিশ্লেষণসহ কবিতার সেকাল-একাল, মৈমনসিংহ গীতিকা-বিধৃত লোকায়ত জীবন, মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদান ও ছোটোকাগজের সম্ভাবনা সম্পর্কিত বীক্ষা দ্যুতিময় হয়ে উঠেছে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ‘পুতুল নাচের ইতিকথা-য় গাওদিয়া তথা পূর্বতন বিক্রমপুরের গ্রামীণ জীবনপ্রবাহ ও নিসর্গের অন্তর্লীন রূপকে বর্ণময় করে তুলেছেন। নাহার আলম এ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র শশীর প্রেম, মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন এবং বৃষ্টি-ডোবা মশক অধিকৃত পল্লি জীবনের জটিলতা ও গভীরতা উন্মোচনে প্রয়াসী হয়েছেন। শওকত আলীর রচনা বিশেষত তাঁর উপন্যাস ও গল্পে স্ফুরিত প্রাকৃতজনের দর্শন, ব্রাত্য জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব-সংকট, নরনারীর হিংস্রতা, মধ্যবিত্তশ্রেণির যাপনপ্রক্রিয়া, নৈঃসঙ্গ্যচেতনা ইত্যাদি বিষয়ে প্রাবন্ধিক আলোকপাত করেছেন। আল মাহমুদের বহুমুখী প্রতিভা সত্ত্বেও তাঁর কবিখ্যাতিকে প্রাবন্ধিক সমধিক গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেছেন। তাঁর বিশ্লেষণে প্রতিভাত হয়েছে, হাসান আজিজুল হক চেতোমান সত্তা দিয়ে প্রান্তিক মানুষের জীবনচিত্র নিপুণভাবে অঙ্কন করেছেন। রিজিয়া রহমানের ছোটোগল্পের সামগ্রিক পর্যালোচনায় প্রাবন্ধিকের তন্নিবিষ্টতা উল্লেখ্য। দ্রোহ-প্রেম-বিরহের কবি হেলাল হাফিজের প্রতি প্রাবন্ধিক জ্ঞাপন করেছেন সহমর্মিতা। তিনি কবি ও লেখক হিসেবে আব্দুল মান্নান সৈয়দের বহুমাত্রিক প্রতিভার সমুজ্জ্বল পরিচয় তুলে ধরেছেন। সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের ‘আজগুবি রাত’ উপন্যাসে নারীর অন্তরায়ণ, কাহিনি বিন্যাসের ক্ষেত্রে প্রতীক-রূপকল্পের ব্যবহার, বস্তুসত্যের সাথে পরাবাস্তবতার মিশ্রণ-কৌশলের ভেতর প্রাবন্ধিক আবিষ্কার করেছেন শিল্পকিরণ। পাঠকের চেতনায় নাহার আলমের অনুধ্যান প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্বাস করি।
গৌরাঙ্গ মোহান্ত
কবি ও গবেষক
Anodyane Nibir Path O Anyanyo
সমাজের উচ্চবিত্ত শ্রেণির বিত্তশালী নারী সাবরিনা যে কিনা নিজেও এক সময় পতিতাবৃত্তি করে বিপুল ধনসম্পদের মালিক হয়েছে এবং নিজের বিলাশবহুল ফ্ল্যাটে নানা কৌশলে-প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে দালালদের মাধ্যমে সুন্দরী তরণীদের নিজের ফ্ল্যাটে রেখে প্রভাবশালীদের মনোরঞ্জন করে। তারই ফাঁদে পড়ে হতদরিদ্র পরিবারের কিশোরী পুষ্প আপন ভগ্নিপতির প্রলোভনে ঢাকায় এসে সাবরিনার বাসাবন্দি হয়ে যৌনকর্মী হতে বাধ্য হয়। পুষ্প ও সাবরিনাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসে বর্ণচোরাদের চরিত্র উন্মোচিত করে উপন্যাসটি নির্মিত। এক সময় পুষ্প গ্যাং রেপড হলে প্রতিহিংসার আগুনে সে দগ্ধ হয়ে নওয়াব আলীর ওপর প্রতিশোধ নিতে চায়। পুষ্পর জীবন হয়ে ওঠে আরও দুর্বিষহ। এরপরও একটু ভরসা ও স্বপ্নের স্থান: পুষ্পর যৌনবৃত্তির কথা জেনেও সাবরিনার ফ্ল্যাটের দারোয়ান যে কিনা অত্যন্ত পড়ুয়া আবদুল কাদের তাকে ভালোবাসে। এতটুকুন মিষ্টি প্রেম কারারুদ্ধ জীবনে পুষ্পর জন্য যেন নিশ্বাস নেওয়ার সতেজ অম্লজান…
ফাঁদ
সাইফুল কামালের এই বইটি সামাজিক রাজনৈতিক এবং ব্যক্তিগত সংকটের একটি তীব্র বিশ্লেষণ। শুধু নিয়মকানুন জানলেই কবি হওয়া যায় না- নিজস্ব বোধের ব্যাপার-স্যাপার থাকতে হয়। নিভৃতচারী ও প্রচারবিমুখ এই কবি, তার বোধের বিষয়গুলো অন্তরের গভীরে লালন করেন। কবির অন্তর্দৃষ্টি ভাষার শক্তি, কবিতার গঠন একদিকে সামাজিক অবস্থার প্রতি সমালোচনা অন্যদিকে ব্যক্তিগত কষ্টের প্রকাশ। যা অনেকটাই গভীর এবং সূক্ষ্ণভাবে চিন্তার উদ্রেক করে। সেই সাথে প্রেম তথা যৌবনের দুরন্তপনাও দেখার মতো যা আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। দ্রোহের এই কবিকে কীভাবে বললে বা লিখলে তার উপর্যুক্ত মর্যাদা বা কবিত্বের পূর্ণতা তুলে ধরা যেতে পারে সেটা আমার জানা নেই। শুধু জানি তার কবিতার প্রকাশভঙ্গি পাঠককে প্রবলভাবে আকর্ষণ করবে। আমার বিশ্বাস তার এই কাব্যগ্রন্থ মানুষের মনকে স্পর্শ করবে এবং সমাজের বিভিন্ন আলোচনার সূচনা ঘটাবে। তার কাব্যিক অন্বেষণ আমাদের সকলের মাঝে সোনালি আলোর প্রসন্নতা ছড়াক।
মোখলেস মুকুল
কথাসাহিত্যিক
Bishonno Diper Manush by Saiful Kamal
প্রকাশিত গল্পগ্রন্থে সর্বমোট নয়টি গল্প রয়েছে। প্রতিটি গল্পে রয়েছে ভিন্নস্বাদ ও ভিন্নমাত্রা। এসব জীবনের গল্প। আমাদের জীবনে রয়েছে দুঃখ-যন্ত্রণা, ব্যথা-বেদনা, কষ্ট-বঞ্চনা-লাঞ্ছনা আর চাওয়া-পাওয়ার তীব্র গড়মিল। এরই মধ্যে রয়েছে আবার টুকরো-টুকরো হাসি-কান্না, সুখ-শান্তি, প্রশান্তি আর সর্বোপরি প্রেম-ভালোবাসা। সবকিছু মিলিয়েই আমাদের এই অমূল্য জীবন। আর এসবকিছু নিয়েই রচিত হয় আমাদের জীবনের অফুরন্ত গল্প।
এই গল্পগুলোতে রয়েছে সমাজের একেবারে বাস্তবচিত্র আর সমকালীন জীবনের নিখুঁত প্রতিচ্ছবি। গল্পগুলো একবার পড়লেই ভালো লেগে যাবে। ভালোলাগার মতো গল্পগুলো পাঠকের সামনে হাজির হয়েছে সুবিন্যস্তভাবে। ‘আফসারের চোখে জল’, ‘অন্ধজনে আলো দাও’, ‘আত্মহত্যার আগে’, ‘জীবনের প্রশ্নোত্তর মেলে না’, ‘সৌরভের হাতে ফুল ছিল’, ‘কবি সাহেবের প্রেম’ ইত্যাদি চিত্তাকর্ষক নামের গল্পগুলোতে পাঠক সাহিত্যরসে ডুবে পরিতৃপ্ত হতে পারবেন।
এগুলো শুধু গল্প নয়। মানবজীবনের নিখাদ ঘটনাপ্রবাহ। আর এগুলো আশাহত ও বেদনাবিধুর জীবনের জীবন্ত কথামালা ও উজ্জ্বলতম ছবি।
Afsarer Chokhe Jol by Sayeed Rafiqul Haque
এই বইয়ে চৌদ্দটি গল্প আছে। চৌদ্দটি গল্পে চৌদ্দ রকমের কাহিনি আছে- একটির সঙ্গে অন্যটির কোনও মিল নেই। প্লট, চরিত্র ও বর্ণনায় আছে আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য। সব গল্পই উত্তম পুরুষে লেখা হয়েছে, একটি বাদে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে মনোলগ। এটিই বাসার তাসাউফের লেখালিখির স্বতন্ত্র ধাঁচ। জীবনের গভীরে তার অনুসন্ধিৎসু অভিগমন আছে। তাই গল্প সাজাতে গিয়ে কাল্পনিক পথে খুব বেশি হাঁটতে হয় না। তাঁর গল্পের কাহিনিতে অভিনবত্ব, সুচারু ভাষাশৈলী, কাব্যিক বর্ণনা- ক্লান্তিকর পাঠের অস্বস্তিতে পড়তে হয় না পাঠককে। ঘটনা বর্ণনায় মেদ কিংবা অসংযত আবেগের প্রকাশ নেই। একই সঙ্গে কালাকাল, উত্তরণ-সন্তরণ অতিক্রম করে বাস্তবের গাছতলায় আশ্রয় নেয়। এখানেই বাসার তাসাউফের গদ্যভাষা ব্যতিক্রমী।
গল্পের বইয়ে একসঙ্গে কয়েকটা গল্প পড়া যায়। এতে সুবিধা যেমন আছে অসুবিধাও আছে। সুবিধা হলো- একটি দীর্ঘ স্কেপের মধ্যে বা দৃশ্যের পর দৃশ্য চিহ্নিত করতে করতে পাঠ চালিয়ে যাওয়া যায়। আর অসুবিধা, মনোটনি। তবে এই বইয়ের গল্পগুলোর বিষয়-বৈচিত্রের কারণে সেটা অতিক্রম হয়ে গেছে। এছাড়াও প্রতিটি গল্পের ভাষা সহজ ও প্রাঞ্জল। ছোট-ছোট শব্দ, বাক্য গঠন, উপমা, কাঠামো, কাহিনিতে বৈচিত্র ও অনুপম কাব্যিক গদ্য পাঠককে বুঁদ করে রাখে মন্ত্রমুগ্ধের মতো। প্রথম গল্প ‘এলেন পোর বিড়াল হয়ে এসেছিল’ থেকে ‘ইউ টার্ন’, ‘কখনও মাস্টার হতে চাইনি’, ‘একই আকাশের নিচে’, ‘তৃতীয় প্রজন্ম’, ‘দিব্যনারী’, ‘চোখের মধ্য দিয়ে মনের ভেতরে’, কিংবা ‘বিষণ্ন স্মৃতির প্রসন্নতায়’ গল্পগুলোতে গদ্যের সরু সাঁকোতে স্বচ্ছন্দ হেঁটে বেরিয়েছেন লেখক, সঙ্গে পাঠকও হেঁটে যেতে পারে তরতর করে। এটাই বোধহয় সার্থক শিল্পের আয়না। যেখানে নিজের প্রতিবিম্ব দেখার পাশাপাশি পাঠককেও দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
আদিমকালের গুহাচিত্রের সাংকেতিক রেখা নয়, আধুনিককাল বা উত্তরাধুনিককালের রিয়েলিজম বিমূর্ত ক্যানভাসে শিল্পের মৌলিকতা ও অভিনবত্ব প্রকাশিত হয়েছে এই বইয়ের গল্পগুলোতে।
Ghughur Mukhe Jolpai Pata - Basar Tasauf
সম্পাদকীয়, অনুপ্রাণন– নবম বর্ষ, চতুর্থ সংখ্যা
মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টিতে শিল্প, সাহিত্য ও সঙ্গীতের ভূমিকা
শিল্প ও সাহিত্য কীভাবে মানুষের চেতনায় মানবিক মূল্যবোধের প্রেরণা সৃষ্টি করতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তর বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকেই আসতে পারে। তাহলে, এটা কি একটি সমস্যা? একই স্থানে, একই সময়ে, একই বিষয় বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে মতামত আসলে আমাদের বোধের জগতে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করবে কি-না? এর উত্তর অবশ্যই না। কেননা শিল্প, সাহিত্য ও সঙ্গীত বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ নিয়েই ভিন্ন ভিন্ন মানবিক মূল্যবোধের বিষয় নিয়ে নিরীক্ষা করতে পারে। কোনো একক দৃষ্টিকোণ সম্পর্কে অটল বিশ্বাস উল্টো চেতনার জগতে গোঁড়ামির বীজ বপন করার প্রবণতার জন্ম দিতে পারে।
অর্থাৎ, মানবিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের উৎস এবং অভিব্যক্তি সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো সুত্র বা সংজ্ঞা নির্বাচন করা হয়তো সংকীর্ণতার দিকেই ঠেলে দিতে পারে। আমরা যেমন মানবিক সমাজ চাই, সাথে সাথে আমরা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুত্ববাদী সমাজ চাই। সমাজে যদি মুক্তমত ও ভিন্নমতের চর্চা বা অনুসরণ করার সুযোগ রহিত থাকে তবে মুক্তমনা ও মানবিক শিল্প-সাহিত্য ও সঙ্গীতের চর্চা বাধাগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী হতে দেখা যেতে পারে। তবে মুক্তমত অর্থে অতিশয়োক্তি আমরা দেখতে চাই না। আমরা চাইবো না সমাজের অভ্যন্তরে সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ এবং অশান্তি সৃষ্টি করে–এরকম মানবতাবিরোধী শিল্প-সাহিত্য অথবা সঙ্গীতের চর্চা অবারিত হোক। শিল্প-সাহিত্য ও সঙ্গীত সৃষ্টির সৃজনশীল প্রেরণা ভিন্নতর কোণ থেকে উৎসারিত হলেও লক্ষ্য একটাই হওয়া বাঞ্ছনীয় যেন সেসব সৃষ্টিশীল কাজের অভিব্যক্তি, ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের মধ্যে উপস্থিত থাকে নান্দনিকতা; জাতি-উপজাতি-বর্ণ-সম্প্রদায় ও লিঙ্গ নির্বিশেষে বিস্তৃত হয় মানবিক সহমর্মিতা, প্রেম, সাম্য ও সমতা। মনে রাখতে হবে যে, ইহজগতে মানুষ বিভিন্ন সামাজিক প্রথা-প্রচলন, বিশ্বাস ও কুসংস্কারের কারণে বহুমাত্রিক শোষণ ও নিপীড়নের দুর্ভোগ নিয়ে জীবন যাপন করছে। যদি সৃজনশীল ও নান্দনিক শিল্প-সাহিত্য ও সঙ্গীত এর লক্ষ্য হয় পশ্চাৎপদ প্রথা-প্রচলন, জাতি-উপজাতি-ধর্ম-সম্প্রদায়-বর্ণ ও লিঙ্গ বৈষম্য এবং নানাবিধ কুসংস্কার এর হাত থেকে মুক্তির জন্য মানুষের চেতনা জাগ্রত করা, তবেই বলা যেতে পারে যে, সেসব সৃজনশীল ও নান্দনিক শিল্প-সাহিত্য ও সঙ্গীত এর মানবিক মূল্য রয়েছে।
সৃজনশীল ও মননশীল সাহিত্য, নাট্যকলা, চলচ্চিত্র, নৃত্যকলা, সঙ্গীত, কারুশিল্প, ভাস্কর্য-শিল্প, স্থাপত্যকলা, এবং শিল্পের সকল মাধ্যমের মধ্য দিয়েই মানুষের রুচি ও সংস্কৃতির আত্মপরিচয়, উন্মেষ ও উপলব্ধি ঘটে–মানুষের চেতনায় তার স্বপ্নের জগতটি দানা বাঁধে ও বিকশিত হয়। সংস্কৃতির বিকাশ সাধনের জন্য শিল্পের এই মাধ্যমগুলো একেবারে যেন মনের এক-একটি জানালা। এই জানালাগুলো ব্যবহার করে যেমন একটি সংস্কৃতির ইতিবাচক রূপান্তর সম্ভব, ঠিক সেরকম মনের এসব জানালা দিয়েই কলুষিত বাতাস প্রবেশ করে একটি সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দিতে পারে। তাই কোনো শিল্পকর্মটি সমাজের ইতিবাচক মানবতাবাদী রূপান্তর এর পক্ষে, আর কোন শিল্প ও সাহিত্যকর্মে মানবিক সংস্কৃতির উন্মেষ ও বিকাশের জন্য ক্ষতিকর উপাদান বিদ্যমান–এটা শনাক্ত করা অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়ে। সাহিত্য, নাট্যকলা, চলচ্চিত্র, নৃত্যকলা, সঙ্গীত, কারুশিল্প, ভাস্কর্য-শিল্প, স্থাপত্যকলা, এবং শিল্পের অন্যান্য মাধ্যম দিয়ে যেসব কর্ম আমাদের জগতে প্রবেশ করছে–সেসব কর্মসমুহের প্রত্যেকটি কাজের নিবিড় ও যথার্থ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যুক্তিসঙ্গত এবং বিশ্লেষণমূলক আলোচনা-সমালোচনা প্রকাশ করা তাই অত্যন্ত জরুরী একটা কাজ। পশ্চাৎপদ সমাজে এসব আলোচনা-সমালোচনা রচনা ও প্রকাশ করার কাজে বাধা আসতে পারে। কিন্তু, এই বাধা কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলার প্রেরণা সৃজন করা অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়ে। সেজন্য কবি, সাহিত্যিক, নাট্য-কলাবিদ, নাট্যশিল্পী, চলচ্চিত্রনির্মাতা, চলচ্চিত্রের সাথে জড়িত কলাকুশলী ও শিল্পী, নৃত্য-কলাবিদ ও নৃত্যশিল্পী, সঙ্গীত পরিচালক ও সঙ্গীতশিল্পী, কারুশিল্পী, ভাস্কর এবং স্থপতিবৃন্দকে সমাজে ইতিবাচক রূপান্তর আনয়নের প্রয়োজনে প্রতিবাদী ও সংগ্রামী হয়ে ওঠার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।
কিন্তু, সমাজে এ বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে যে, সমাজ পরিবর্তনের কাজে প্রয়োজনে ঐক্যবদ্ধভাবে তো নয়ই এমনকি স্ব স্ব অবস্থান থেকেও প্রতিবাদী সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়া কবি-সাহিত্যিক-শিল্পীদের কাজ না। শিল্পী ও সাহিত্যিকদের এই অংশের মত হচ্ছে, সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্যে পরিচালিত সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়া রাজনৈতিক কর্মী অথবা সামাজিক আন্দোলনের সাথে জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাজ। যেন শিল্পীর কাজ সুন্দরের অন্বেষণ করা, অন্তর্নিহিত সত্যের নয়।
আবার, কোনো কোনো কবি, সাহিত্যিক, নাট্য-কলাবিদ, নাট্যশিল্পী, চলচ্চিত্রনির্মাতা, চলচ্চিত্রের সাথে জড়িত কলাকুশলী ও শিল্পী, নৃত্য-কলাবিদ ও নৃত্যশিল্পী, সঙ্গীত পরিচালক ও সঙ্গীতশিল্পী, কারুশিল্পী, ভাস্কর এবং স্থপতিবৃন্দকে সমাজের ক্ষমতাধর অধিকর্তাদের তোষণেই ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায়েই এসব শিল্পী ও সাহিত্যিকরা তাদের কাজে এসব চিহ্ন রেখে গেছেন। প্রতিক্রিয়াশীল শিল্প ও সাহিত্য বর্জন না করে শিল্পী ও সাহিত্যিক সমাজের একটি অংশকে নান্দনিকতার দোহাই দিয়ে ঐসব শিল্পকর্মকে রক্ষা করার চেষ্টা করতে দেখা যায়। কিন্তু, সত্যি কি সমাজের পরিবর্তন কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারে এবং সেসব শিল্প, সাহিত্য ও সঙ্গীতকে কালজয়ী আসনে সমাসীন করার কাজে তারা কি সফলতা লাভ করতে পারে?
একটি সেনাবাহিনী উদ্দীপনামূলক সঙ্গীত ঠোঁটে করেই ধ্বংস ও হত্যাযজ্ঞ পরিচালনা করে। আবেগপূর্ণ নাট্যকলা, বাগ্মী বক্তৃতা অথবা অসাধারণ গান, ভাস্কর্য ও অভাবনীয় সৌধ নির্মাণ করে ধর্ম তাদের বাণী মানুষের মনে সঞ্চার ঘটায়। জাতিগত গোষ্ঠী–সঙ্গীত ও নৃত্যের মাঝে তাদের সাংস্কৃতিক শেকড় খুঁজে পায়। অসাধারণ স্থাপত্যশিল্প, যেমন: রোডস্ (জযড়ফবং) এ অবস্থিত সূর্য দেবতা হেলিওস এর অতিকায় মূর্তি, জাপানের একটি পীঠস্থানে ১০৩ টন ওজনের সর্ববৃহৎ বুদ্ধ-মূর্তি, স্ট্যাচু অফ লিবার্টি, ইত্যাদি কোনো সম্প্রদায় বা জাতি’র আদর্শের প্রতীক হিসেবে মানুষের গভীরে প্রোথিত হতে থাকে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী যে, যখন একটি নতুন সম্প্রদায় অথবা জাতি-গোষ্ঠী পুরানো কোনো সম্প্রদায় অথবা জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করে তখন পুরানো শাসনব্যবস্থায় প্রচলিত নৃত্য ও সঙ্গীত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। তাদের আদর্শিক গ্রন্থসমুহ পুড়িয়ে ফেলা হয়, মন্দির ও পীঠস্থানগুলো বিনষ্ট করা হয়, ভাস্কর্য ও স্থাপত্যকর্ম সমূহ মাটিতে গুঁড়িয়ে ফেলা হয়। আবার অন্যদিকে উদাহরণ হিসেবে দেখা যায় যে, শাসকের আমূল পরিবর্তনের কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করে দোর্দণ্ড প্রতাপশালী সম্রাট শাহজাহানের তাজমহল রক্ষা পায় প্রেমের অভিব্যক্তি, স্থাপত্য ও মর্মর পাথরে নান্দনিক অলংকরণ শিল্পের এক অসাধারণ নিদর্শন হিসেবে। যদিও শাহজাহান নিজ সন্তানের হাতে বন্দী হয়ে অনেক দুঃখ-কষ্টে নিজের শেষ জীবনটি অতিবাহিত করেন কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী যে, অনেক নিষ্ঠুরতা ও বর্বরতার মধ্যে দিয়েই তিনি শাসক হিসেবে আবির্ভূত হন। একটা সময় পর্যন্ত সম্রাট শাহজাহান নিকৃষ্টতম কূটচাল আশ্রয় করে দোর্দণ্ড প্রতাপ নিয়েই প্রজাদের শোষণ করে ও প্রতিপক্ষদের নৃশংসভাবে হত্যা অথবা দমন করে রাজ্যের বিস্তার ঘটান এবং রাজ্যের শাসনকার্য পরিচালনা করেছিলেন। কথিত আছে যে বিশ হাজার শ্রমিক ও শিল্পী যারা তাজমহল নির্মাণ করেছিল তাদেরকে শুধু দাসের মতোই শোষণ করা হয়নি, একটি বড় অংশকে শিল্পের কলাকৌশলের গোপনীয়তা রক্ষা করার অজুহাতে সম্রাট শাহজাহান হত্যা করেছিলেন। অথচ শাহজাহান ও নুরজাহানের প্রেম বিবৃত করে অন্য ভাষায় তো বটেই এমনকি বাংলা ভাষায় গান ও কবিতা রচিত হয়েছে।
ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায়ে শাসকশ্রেণি কর্তৃক শিল্প-সাহিত্য ও সঙ্গীতের উপর নানারূপ আদর্শিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে দেখা গেছে। ব্যতিক্রমী শিল্পী-সাহিত্যিকদের উপর নেমে এসেছে দমন ও নির্যাতনের স্টিম রোলার। আধুনিক কালে, হয়তো শিল্পকলার উপর সবচেয়ে নাটকীয় আদর্শিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে দেখা যায় নাৎসি, কট্টর কমিউনিস্ট এবং মৌলবাদী ও কট্টর এক শ্রেণির ইসলামপন্থীর শাসনে। হিটলারের জার্মানী, মাও সে তুং এর চীন, স্ট্যালিনের সোভিয়েত ইউনিয়ন অথবা আফগানিস্তানে মোল্লা ওমরের শাসনের অধীনে যেসব শিল্প, সাহিত্য অথবা সঙ্গীত গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল, সাধারণ শৈল্পিক সূত্রসমুহ অনুসরণ করে সেসব শিল্প, সাহিত্য অথবা সঙ্গীতকে নিষ্ফলা এবং বৈচিত্র্যহীন হিসেবেই বিবেচনা করা যেতে পারে। একটি সুনির্দিষ্ট মতবাদের প্রচার, প্রজ্ঞাপন সৃষ্টি করার প্রচেষ্টার প্রভাবে শিল্পকর্মটি হয়ে ওঠে নিস্তেজ ও অনুজ্জ্বল। এইরূপ শিল্প-সাহিত্য ও সঙ্গীত মানুষের জন্য কথা না বলে, তাদের নির্দেশ করেই কথা বলে। যেখানে মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার পরিবর্তে রাষ্ট্রের আশা-আকাক্সক্ষার কথাই প্রকাশ ঘটেছে। মানুষের চেতনার বিশোধনের পরিবর্তে এসব শিল্প রচনার উদ্দেশ্য মানুষের আবেগ-অনুভূতি-ভাবনার উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
যে কোনো কালে যখন কোনো কবি, সাহিত্যিক, নাট্য-কলাবিদ, নাট্যশিল্পী, চলচ্চিত্রনির্মাতা, চলচ্চিত্রের সাথে জড়িত কলাকুশলী ও শিল্পী, নৃত্য-কলাবিদ ও নৃত্যশিল্পী, সঙ্গীত পরিচালক ও সঙ্গীতশিল্পী, কারুশিল্পী, ভাস্কর এবং স্থপতি তার কাজটি মুক্ত পরিবেশে সৃজন করে থাকেন অথবা যে কোনো সময় যখন বহির্জগতে প্রতিকূল পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও শিল্পীরা তারা নিজের অভ্যন্তরে বন্ধনহীন মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিতে সক্ষম হতে পারেন, তাহলে সেই অবস্থায় প্রকাশিত শিল্পকর্মটি হয়তো মানবতাবাদী এবং উদারনৈতিক মানুষের ভালোবাসা ও প্রশংসা কুড়াতে সক্ষম হতে পারে অথবা যে কোনো মানুষকে চেতনাগতভাবে মানবতাবাদী হয়ে ওঠার গভীর উদ্দীপনা এবং অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করতে পারে।
প্রকৃতপক্ষে, তাহলে নান্দনিকতার কোনো সুনির্দিষ্ট মানবিক তত্ত্ব সাজিয়ে দেয়ার চেষ্টার কোনো প্রয়োজন নেই। যথাযথ কোনো বিশদ বিবরণ-বিবৃতি, অভিব্যক্তি অথবা বার্তা প্রদানের চেষ্টা করারও কোনো প্রয়োজন নাই। আমাদের যেটা করা প্রয়োজন সেটা হচ্ছে জাতি-উপজাতি-ধর্মীয় সম্প্রদায় ও লিঙ্গ নির্বিশেষে একটি স্বাধীন, সহমর্মী, মানবতাবাদী ও বিচার-বুদ্ধি সম্পন্ন সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলার প্রচেষ্টা গ্রহণ করার জন্য সৎ ও আন্তরিকভাবে সকল মানুষের মনে সুগভীর অনুপ্রেরণা বিস্তার করা। এই কাজটি একটি সৃজনশীল কাজ এবং কোনো বাধাহীন সহজ-সরল পথে অগ্রসর হওয়ার সুযোগও সীমিত। কিন্তু এর কোনো বিকল্প আছে বলে আমার ধারণায় আসে না। তবে এটা বুঝি যে, এই অনুপ্রেরণা হৃদয়ে প্রোথিত হলে–কবি, সাহিত্যিক, নাট্য-কলাবিদ, নাট্যশিল্পী, চলচ্চিত্রনির্মাতা, চলচ্চিত্রের সাথে জড়িত কলাকুশলী ও শিল্পী, নৃত্য-কলাবিদ ও নৃত্যশিল্পী, সঙ্গীত পরিচালক ও সঙ্গীতশিল্পী, কারুশিল্পী, ভাস্কর এবং স্থপতিরা নিজেদের স্বাভাবিক কাজের মধ্যেই যে শিল্প সৃজন করবেন কি-না, সেটাই মানবিক বোধ ধারণ করবে এবং একজন মানবতাবাদীর কাছে অতি প্রিয় হয়ে উঠবে।
পরিশেষে এটা বুঝে নিতে হবে যে, ইতিহাসের অধ্যায়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে সত্যেরও পরিবর্তন ঘটতে দেখা গেছে। কিন্তু সুন্দর তার রূপ পরিবর্তন করলেও বোধ এবং অনুভূতিতে সুন্দরের কোনো পরিবর্তন হয় না। তাই, সত্যের মধ্যে সুন্দর এর অনুসন্ধান অনেক সময় বিভ্রান্তির দিকে ঠেলে দিতে পারে। প্রকৃতপক্ষে, সুন্দর সৃষ্টির মধ্যে সত্যের অনুসন্ধান ও প্রতিষ্ঠা করেই আমাদের অগ্রসর হতে হবে। কেননা কবি, সাহিত্যিক, নাট্য-কলাবিদ, নাট্যশিল্পী, চলচ্চিত্রনির্মাতা, চলচ্চিত্রের সাথে জড়িত কলাকুশলী ও শিল্পী, নৃত্য-কলাবিদ ও নৃত্যশিল্পী, সঙ্গীত পরিচালক ও সঙ্গীতশিল্পী, কারুশিল্পী, ভাস্কর এবং স্থপতিরা মিলিতভাবে শিল্পের সকল কর্মীরা চিন্তা-চেতনা, আবেগ ও অনুভূতিতে আমাদের সমাজের অগ্রসর অংশেরই প্রতিনিধি।
উদার পুঁজিবাদ ও মুক্ত বাজার, মানুষের মূল্যবোধের জমিনটিতে পচন ঘটিয়ে চলেছে। মাটিতে যখন পচন ঘটে তখন আর কোনো কিছুই নির্মল থাকতে পারে না। মানুষ কষ্টে আছে। তাই, অবশ্যই সমাজের অগ্রসর অংশটির সামনে পরিবর্তন সাধনের লক্ষ্যে নান্দনিক অথচ সত্য শিল্প, সাহিত্য ও সঙ্গীত সৃজনের একটি মহান দায়িত্ব এসে পড়েছে। অনুপ্রাণন এই দায়িত্বের স্থানটিকে মজবুত করে গড়ে তোলার কাজে অবিরাম প্রচেষ্টায় নিয়োজিত থাকতে চাই।
নবম বর্ষ, চতুর্থ সংখ্যা
সন্তোষ কুমার শীল ১৯৭৩ সালের ১৫ অক্টোবর (সার্টিফিকেট অনুসারে) পিরোজপুর জেলার বাটনাতলা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। ইংরেজী সাহিত্যে স্নাতকোত্তর পড়াশুনা শেষে শিক্ষকতা পেশায় প্রবেশ করেন এবং একই পেশায় বর্তমান আছেন। রবীন্দ্রনাথের একনিষ্ঠ ভক্ত এই গল্পকার মূলতঃ একজন সর্বগ্রাসী পাঠক। বই পড়া, গান শোনা এবং সাহিত্য সাধনায় সময় যাপন তার একান্ত প্রিয়। শিক্ষকতার পাশাপাশি ছোটগল্প, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ এবং রম্য রচনার চর্চা করেন। এ পর্যন্ত তার ছয়টি গল্পগ্রন্থ এবং দু’টি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে। “বিখ্যাত হবার টোট্কা” তার প্রথম রম্যগল্প সঙ্কলন।
বিখ্যাত হবার টোট্কা
স্বপ্নহীন চোখ বসন্ত খোজে না
দুঃশাসনে পিষ্ঠ জনজীবন ও সাম্প্রতিক অস্থির সময়ের চেহারা জীবন্ত হয়ে উঠেছে এ গ্রন্থের ছোটো ও বড়ো আটটি গল্পে। ক্ষুদে কৃষকের ‘গৃহপালিত গরুটার গতিপথ’ ও শিক্ষার্থী সন্তানের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, ‘কুড়ানি বুড়ি ভাদুর মা’য়ের প্রকৃতি-নির্ভর জীবন-সংগ্রাম, প্রেমিক-প্রেমিকার মিলনতৃষ্ণার মাঝেও ‘দাঁত ভাঙা হাসি’র মতো দুর্ঘটনার শঙ্কা কিংবা ‘কবর’ শাসিত উন্নয়নের পটভূমিতে রচিত গল্পে যে স্বাদ-বৈচিত্র্য, তা যেন সাম্প্রতিক দেশকালের আয়নার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয় পাঠককে। ‘জনৈক পেশাদার প্রতিবাদী’র মধ্যেও রাষ্ট্র-ক্ষমতা নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং স্বৈরাচারী রাষ্ট্রক্ষমতা উৎখাতে গণ-আন্দোলনের প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচনে ‘লুণ্ঠিত সিংহাসন’, ‘শখের বাগানে সাপ’ ও একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী নিনাদ’-এর মতো গল্প রচনা করে সত্যসন্ধ দায়বদ্ধ শিল্পীর ভূমিকা পালন করেছেন লেখক। প্রথম সাড়াজাগানো গল্পগ্রন্থ ‘অবিনাশী আয়োজন’-এর ধারাবাহিকতায় শক্তিমান এ কথাশিল্পীর চতুর্দশতম গল্পগ্রন্থটিও সাধারণ মানুষের মুক্তিসংগ্রাম ও ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের শৈল্পিক দলিল হয়ে টিকে থাকবে।
Shokher Bagane Shap - Manju Sarkar
এই পদাবলি একই সাথে বিক্ষত এবং শুশ্রুষা। বেদনা এবং উপশম। নাড়িছেঁড়া আর্তনাদ এবং সান্ত্বনা।
কবিতাগুলি বিদ্রোহ, বিক্ষোভ, রাষ্ট্রবিপ্লবের ডাক দিচ্ছে না, বরং বসতে চাইছে ক্লান্ত, বিধ্বস্ত, বিপর্যস্ত মানুষের পাশে। একলা হয়ে পড়া মানুষকে বলতে চাইছে আমি আছি তোমার পাশে। কবিতাগুলো থেকে চুঁইয়ে পড়া অশ্রু-রক্ত একাত্ম হচ্ছে যন্ত্রণামথিত পাঠকহৃদয়ের রক্তক্ষরণের সাথে।
এমন সংবেদনশীল পদাবলি সাম্প্রতিক কবিতার জগতে বিরল হয়ে উঠছে। এই কবিতাগুলি তাই সত্যিকারের কবিতা।
‘ধ্রুপদ সন্ন্য্যাসে’ নিয়ে বাংলা কবিতার জগতে পদার্পণ করা শাহানা আকতার মহুয়া অনুচ্চকিত কিন্তু অবশ্যপাঠ্য কবি হয়ে উঠেছেন আজ।
পাঠককে তার কবিতার ভুবনে স্বাগতম।
– জাকির তালুকদার
Nishiddho Symphony by Shahana Aktar Mahuya
মুহাম্মদ ফরিদ হাসানের চিত্রকলার জগৎ পড়তে গিয়ে প্রথমেই এ কথা মনে হলো যে, লেখক কঠিন বিষয়কে পাঠকের হৃদয়গ্রাহী করার দুরূহ কাজটি সাবলীলভাবে করেছেন। তত্ত্ব, তথ্য, তারিখের জটিল সমীকরণগুলি জীবনের গল্পের সঙ্গে মিলিয়ে মনোগ্রাহী করে তুলেছেন। লেখক তার গ্রন্থে আমাদের প্রবেশ করাচ্ছেন শিল্প মতবাদ দিয়ে। এই প্রবন্ধের মাধ্যমে চিত্রকলা বিষয়ে শিক্ষিত তথা আনাড়ি, সবার মনে চিত্রকলার বিবর্তনের সম্যক ধারণা তৈরি হবে। এছাড়া শিল্পীদের জীবন ও মনের সংকুল যাত্রাপথ লেখক চমৎকার তুলে ধরেছেন তার বিভিন্ন প্রবন্ধে। লেখাগুলো গল্পের মতন তরতরিয়ে পড়া যায়।
মুহাম্মদ ফরিদ হাসান বহু বিষয়ে আগ্রহী। সাহিত্যের ছাত্র হয়েও চিত্রকলা বিষয়ে এমন মনোগ্রাহী গ্রন্থ রচনার জন্য তার সাধুবাদ প্রাপ্য। বিশ্বাস করি তার এই বইটি বহু পাঠকের মনে চিত্রকলার বিপুল সমারোহ বিষয়ে উৎসাহী করে তুলবে।
স্বাতী ঘোষ
লেখক ও গবেষক
শান্তিনিকেতন
Citrokolar Jogot by Muhammad Farid Hasan
Get access to your Orders, Wishlist and Recommendations.



























There are no reviews yet.