Additional information
| Weight | 0.196 kg |
|---|---|
| Published Year |


$ 1.41 $ 2.35
মৃত্যু সংবাদ এমনই একটা বিষয় মুহূর্তে পৃথিবীর গতি স্তব্ধ করে দেয়। পরিচিত বা কাছের জনের মৃত্যু হলে তা আরও ভারী বোধহয়। মনে হয় যেন নিজেরই একটা অংশ মরে গেছে। এত সুন্দর মায়াময় প্রভাতটা নিমেষের মধ্যে অর্থহীন, শ্রীহীন হয়ে যায়।
| Weight | 0.196 kg |
|---|---|
| Published Year |
সোলায়মান সুমন। জন্ম ১মে ১৯৭৯, চাঁপাই নবাবগঞ্জ। তরুণ বয়সে লেখালেখি শুরু। বর্তমানে ঢাকায় বসবাস। পেশায় শিক্ষক। ত্রৈমাসিক অনুপ্রাণন এর সম্পাদনা পরিষদের সদস্য।
ভগ্ন সময়ের কোলাজ
জন্ম ১৯৮৭, পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে। পড়াশোনার পাশাপাশি ফটোগ্রাফির সাথে যুক্ত। প্রকৃতি আর মানুষ এই দুই নিয়েই তার পথচলা। নিজের উপর আত্মবিশ্বাস রয়েছে
প্রেম হলো প্রেমের মতো
ভাস্কর চৌধুরী মূলত গল্প ও উপন্যাস লেখক। কবি হিসেবেও তার সমান খ্যাতি। লেখার মূল বিষয়বস্তু বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটি ও মানুষ। জন্ম- চাঁপাইনবাবগঞ্জ। শিক্ষাজীবন কেটেছে রাজশাহী শহরে। কর্মজীবনে চলে আসেন ঢাকায়। আশির দশক থেকে তার লেখা প্রকাশিত হতে থাকে। মাঝে দশ বছর দীর্ঘবিরতির পর আবার লেখালেখিতে ফিসে আসেন। রক্তপাতের ব্যাকরণ তার প্রথম গল্পগ্রন্থ। এ পর্যন্ত বিশটিরও অধিক বই লিখেছেন। এর মধ্যে উপন্যাস ধনসা মাতি ও তার জীবনবৃক্ষ, গল্পÑ কৃষ্ণপুরাণ, গন্তব্যহীন যাত্রা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
গল্পের বনসাই
সোলায়মান সুমনÑ জন্ম ১মে ১৯৭৯, চাঁপাই নবাবগঞ্জ। তরুণ বয়সে লেখালেখি শুরু। বর্তমানে ঢাকায় বসবাস। পেশায় শিক্ষক। ত্রৈমাসিক অনুপ্রাণন প্রকাশনের সাথে যুক্ত।
ছায়াগুলো জেগে থাকে
অনিন্দ্য আসিফ। জন্ম- ২৩ মে, ১৯৮১। কতিয়াচর, কিশোরগঞ্জ। পিতা- মোঃ আব্দুল হাই, মা- হাওয়া আক্তার।
শাদা অথবা শূন্য
হাসান মাহবুব। জন্ম ১৯৮১ সালের ৭ নভেম্বর, ঢাকায়। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার সময় তিনি বুঝেছিলেন এ জায়গা তার জন্য নয়। চলে আসেন
আনন্দভ্রম
ফজিলা ইসলাম ফৌজি নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরে ১৯৭২ সালের ৮ই মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতৃনিবাস মেহেরপুর জেলার কোলা গ্রামের বাবু পাড়ায়। পিতার নাম মোঃ হাফিজ উদ্দিন মাতার নাম মোছাঃ রাকিবা বেগম।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হিসাববিজ্ঞান বিভাগ (অনার্স মাষ্টার্স) শেষ করে ১৯৯৯ সালে রাজশাহীর ইসলামিয়া কলেজে শিক্ষক হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে কলেজ পরিবর্তন করে বর্তমানে তিনি মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার গাংনী মহিলা ডিগ্রী কলেজে হিসাববিজ্ঞানের প্রভাষক হিসাবে নিয়োজিত আছেন।
মানচিত্রে রক্তক্ষরণ
মাহতাব হোসেনের জন্ম ১৯৮৮ সালের ৮ জানুয়ারি। দিনাজপুর জেলার রেলওয়ে শহর পার্বতীপুরে। বর্তমানে দৈনিক কালের কণ্ঠে সাব এডিটর হিসেবে কর্মরত। শৈশবে ছড়া লিখে সাহিত্যের পথে পা বাড়ান। তনিমার সুইসাইড নোট তার প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
তনিমার সুইসাইড নোট
শাশ্বত নিপ্পন। জন্ম: মেহেরপুর, মে ১৮, ১৯৭০। পেশা: শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতা। এবং সংস্কৃতিকর্মী ও নাট্যকর্মী। তার আরো দুটি প্রকাশিত গ্রন্থ রয়েছেÑ অনতিক্রম (২০১৩), পুনরুত্থান (২০১৪)।
অশনির ছন্দ
সোলায়মান সুমনÑ জন্ম ১মে ১৯৭৯, চাঁপাই নবাবগঞ্জ। তরুণ বয়সে লেখালেখি শুরু। বর্তমানে ঢাকায় বসবাস। পেশায় শিক্ষক। ত্রৈমাসিক অনুপ্রাণন প্রকাশনের সাথে যুক্ত। অন্যান্য প্রকাশিত গ্রন্থ: মুই তোরে কোচ পাং (২০০৯), সম্পাদনাÑ পঞ্চায়ুথ। সম্পাদিত পত্রিকাÑ রুদ্র, গল্প।
বাংলা সাহিত্যের সেরা গল্প
সরদার ফারুক। জন্ম ১৯৬২ সালের ৯ নভম্বের, কপোতাক্ষ নদের তীরে খালিশপুরে। পৈত্রিক নিবাস বরিশালের কাশীপুর। পেশায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। ছাত্রজীবন থেকেই প্রগতিশীল ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন। বরিশালে ঘাট শ্রমিকদের ?আন্দোলন, ডেমরায় শ্রমিক কর্মচারি ঐক্য পরিষদের সংগ্রাম ও বাজিতপুরের জেলেদের লড়াইয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
নব্বইয়ের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য তিনি সরকারী চাকরি ছেড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৮৯ সালে ডাকসু নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনও করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত লিখছেন। ১৯৮০ সালে বরিশালের অধুনালুপ্ত ‘সাপ্তাহিক লোকবাণী’ পত্রিকায় প্রথম লেখা প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে শামসুর রাহমান সম্পাদিত সাপ্তাহিক বিচিত্রা, দৈনিক দেশ, সংবাদসহ দেশ-বিদেশের নানা পত্র-পত্রিকা, সাহিত্য সাময়িকীতে তার লেখা কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
নোনা শহর
সাঈদা মিমি। জন্ম ২৯ ফেব্রুয়ারী, ১৯৬৮। বরিশালে। পেশাগত দৈনিক সংবাদ প্রতিদিনের সাহিত্য সম্পাদক। প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা পাঁচটি। শ্রাবন প্রকাশনী থেকে ২০০৮ এ প্রকাশিত হয় প্রথম কবিতার বই ‘সব নিয়ে গ্যাছে এক সময়ের লুটেরা বাতাস।’ দীর্ঘ বিরতির পর আগুনমুখা থেকে ‘ফারাও কুমারী’ Ñ২০১৪ সালে। বাংলার ই-বুক থেকে ই-বই ‘কীর্তনখোলা।’ -২০১৫ সালে। ২০১৬ তে অনুপ্রাণন থেকে কাব্যগ্রন্থ ‘একজন মৃতের ডায়েরী’ এবং কালজয়ী প্রকাশ থেকে ‘শুশুনিয়া পাহাড়’।
ঔরঙ্গজেবের নীল ঘোড়া
এই গ্রন্থের কবি ধারাবাহিকভাবে দীর্ঘকাল কবিতায় নিমগ্ন থেকেছেন- এখনো তিনি তাঁর সৃজনশীল স্পর্ধা নিয়ে অবিচল।
তিনি বহু ধরনের কবিতা লিখেছেন এবং সেগুলো বিভিন্ন নিরীক্ষাপ্রবণতায় সংশ্লিষ্ট। তাঁর কবিতায় জীবন আছে, সমাজ আছে, প্রকৃতি আছে, মানুষ আছে, দেশ-কাল আছে এবং আছে প্রতীকের ব্যঞ্জনাও, আছে রূপক, আছে ছন্দের বিভিন্নমুখী ব্যবহার, অনুপ্রাসের নতুনমাত্রা, মিলবিন্যাসের নীরিক্ষা ও অন্যান্য সূক্ষ্ম কারুকাজ। একেক কাব্যগ্রন্থ একেক বৈশিষ্ট্য নিয়ে উজ্জ্বল। ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে ১৯টি কাব্যগ্রন্থ। এইসব কবিতায় চৈতন্যের যে বহুতল ও স্তর কবি উন্মোচন করেছেন- পাঠককে নিয়ে যায়–সেই স্তরে ও তলের গভীরে।
একজন উৎপিপাসু কবিতার পাঠক, এই গ্রন্থের কবিতাগুলোতে বহু বর্ণিল ও বিভিন্ন ভূগোলের খোঁজ পেয়ে যাবেন, তা পাঠকের সংবেদন সৃষ্টি করে এক ধরনের ইন্দ্রিয়ানুভূতিও তৈরি করবে, যা ইন্দ্রিয়জ্ঞানে পরিণত হবে, সেইসাথে ভালো কবিতার শিল্প-সৌন্দর্য নিয়ে- স্বতঃস্ফূর্ত ও আনন্দময় অনুভূতিরও জন্ম দেবে।
এই গ্রন্থের কবি ধারাবাহিকভাবে দীর্ঘকাল কবিতায় নিমগ্ন থেকেছেন- এখনো তিনি তাঁর সৃজনশীল স্পর্ধা নিয়ে অবিচল।
তিনি বহু ধরনের কবিতা লিখেছেন এবং সেগুলো বিভিন্ন নিরীক্ষাপ্রবণতায় সংশ্লিষ্ট। তাঁর কবিতায় জীবন আছে, সমাজ আছে, প্রকৃতি আছে, মানুষ আছে, দেশ-কাল আছে এবং আছে প্রতীকের ব্যঞ্জনাও, আছে রূপক, আছে ছন্দের বিভিন্নমুখী ব্যবহার, অনুপ্রাসের নতুনমাত্রা, মিলবিন্যাসের নীরিক্ষা ও অন্যান্য সূক্ষ্ম কারুকাজ। একেক কাব্যগ্রন্থ একেক বৈশিষ্ট্য নিয়ে উজ্জ্বল। ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে ১৯টি কাব্যগ্রন্থ। এইসব কবিতায় চৈতন্যের যে বহুতল ও স্তর কবি উন্মোচন করেছেন- পাঠককে নিয়ে যায়- সেই স্তরে ও তলের গভীরে।
একজন উৎপিপাসু কবিতার পাঠক, এই গ্রন্থের কবিতাগুলোতে বহু বর্ণিল ও বিভিন্ন ভূগোলের খোঁজ পেয়ে যাবেন, তা পাঠকের সংবেদন সৃষ্টি করে এক ধরনের ইন্দ্রিয়ানুভূতিও তৈরি করবে, যা ইন্দ্রিয়জ্ঞানে পরিণত হবে, সেইসাথে ভালো কবিতার শিল্প-সৌন্দর্য নিয়ে- স্বতঃস্ফূর্ত ও আনন্দময় অনুভূতিরও জন্ম দেবে।
Jamata Paltao, Antorbaso by Golam Kibria Pinu
বিজ্ঞানের যে কোনও বিষয়ে আমি খুবই কৌতূহল বোধ করি ! আমি একজন মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ার! আমি কয়েক দশক ধরে মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে সামরিক বাহিনীতে কাজ করি। আমার ব্যাকগ্রাউন্ডের ইতিবৃত্ত বিশ্লেষণ করতে আমি যথেষ্ট পরিমানে সীমাবদ্ধতা বজায় রাখি ! এখানে আমার কাজ হলো এন্ড-টু-এন্ড বিশ্লেষণ এবং কিরকিসিয়া যুদ্ধে মূলত মিলিশিয়া এবং জয়েন্টফোর্সের মধ্যে লড়াইয়ের খুঁটিনাটি তোলে ধরা। তার আগে সাইবার হামলা নিয়ে চালু একটি জোকসটি বলে আমি যুদ্ধের বর্ণনায় যেতে চাই । মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সাথে পারমানবিক চুক্তি থেকে সরে গিয়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার বিরুদ্ধে “আক্রমণাত্মক” সাইবার হামলার অনুমোদন দিলেন ।অনুমোদন দেওয়ার কয়েক ঘন্টা পরে তিনি তার জেনারেলদের ফোন করলেন ।জেনারেলের দিকে চিৎকার করে বললেন ,”আক্রমনের খবর কি?”
জেনারেল বললেন,”আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি স্যার।”
ট্রাম্প ক্ষেপে গিয়ে বললেন, “আপনি কি বলতে চাচ্ছেন আমরা সৈন্য পাঠাচ্ছি না?”
জেনারেল বললেন, “কিন্তু..কিন্তু…স্যার, এটা সাইবার স্পেসের মাধ্যমে একটি আক্রমণ..”
ট্রাম্প বললেন, “আপনি কি মনে করেন আমি স্টুপিড প্রেসিডেন্ট??” ………
সাইবার যুদ্ধের পাগলা ঘোড়া
জসীম উদ্দীন মুহম্মদ বর্তমান বাংলা সাহিত্যের একটি বিশিষ্ট নাম। তিনি একজন সব্যসাচী লেখক। দীর্ঘদিন যাবৎ জাতীয় পত্রিকায় একাধারে লিখছেন গল্প, কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, কলাম এবং শিশুতোষ ছড়া ও গল্প। আলোচ্য ‘শেষ ট্রেনের সঙ্গী’ গল্পগ্রন্থের ১৩টি ছোটগল্প যেন জীবনের ১৩টি ভিন্ন ভিন্ন স্টেশন। আমি গভীর মনোযোগ দিয়ে প্রতিটি গল্প পড়েছি। আমার গভীর বিশ্বাস, সকল শ্রেণি এবং পেশার পাঠকগণ প্রতিটি গল্পে অনায়েসে ডুব সাঁতার কাটতে পারবেন।
মূলত ‘শেষ ট্রেনের সঙ্গী’র গল্পগুলো মানবিক সম্পর্কের জটিলতা, প্রেম-বিরহ, প্রতিদিনের জীবনের প্রত্যাশিত- অপ্রত্যাশিত বাঁক এবং গভীর অনুভূতির চিত্রায়ণ। এখানে আছে মধ্যবিত্তের না-বলা কথা, স্বপ্নভঙ্গের হাহাকার আর জীবনের কঠিন সময়ে টিকে থাকার অদম্য স্পৃহা। প্রতিটি গল্পই যেন এক-একটি ছোট জানালা, যার ভেতর দিয়ে দেখা যায় চেনা পৃথিবীর অচেনা মুখ।
অসহায়ত্বের রাতে শেষ ট্রেনের শেষ কামরায় বসা অচেনা সহযাত্রীর মতো এই গল্পগুলো আপনাকে শোনাবে আপনারই মনের ভেতরের কথা। কখনো মিষ্টি হাসিতে, কখনো-বা চাপা দীর্ঘশ্বাসে পাঠক খুঁজে পাবেন নিজেকে, নিজের সময়কে। যদি জীবন আপনাকে কোনো অপ্রত্যাশিত পথের মোড়ে দাঁড় করিয়ে দেয়, তবে এই ১৩টি গল্প হবে আপনার একান্ত সঙ্গী, যা আপনাকে মনে করিয়ে দেবে-যাত্রাপথে আপনি একা নন। আপনার জীবনের পরবর্তী স্টেশনে পৌঁছানোর আগেই তুলে নিন ‘শেষ ট্রেনের সঙ্গী’।
সবশেষে আমি অসাধারণ এই গল্পগ্রন্থটির বহুল পাঠকপ্রিয়তা প্রত্যাশা করছি।
আবু মোহাম্মদ ইউসুফ
প্রকাশক
অনুপ্রাণন প্রকাশন
Shesh Trainer Songi -Jasim Uddin Mohammad
বাংলা ছোটোগল্পে কল্লোল (১৯২৩) যুগ আমাদের পাঠাভ্যাসকে বদলে দেয়। নতুন কিছু তো অবশ্যই। যেমন পরিবর্তন হয়েছে গল্পের ন্যারেটিভ তেমনই বিষয়-ভাবনা। পাঠকের রুচির অনুকূল ছিল কি না সেসব গল্প- তা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এ-পর্যায়ে সে গল্পগুলোই এখন আমাদের প্রাণ-সংকেত; ওই গল্পগুলোর দিকে তাকিয়েই আধুনিক বাংলা গল্পের বৈচিত্র্যময় টেক্সট নির্মিত হচ্ছে। কী ছিল ওইসব গল্পে? গল্প তো মানুষেরই। রবীন্দ্রনাথের গল্পও তো মানুষেরই গল্প; তারপরও যখন কল্লোলীয় গল্প পাঠকের কাছে এলো, তখন পাঠক একটি স্বতন্ত্র রুচির চর্চা করতে সক্ষম হয়। এর অনেক পরে হাসান আজিজুল হক লিখলেন ‘আত্মজা ও একটি করবী গাছ (১৯৬৭)’। এখান থেকে বাংলা গল্প আরো সুদৃঢ় হয়ে ওঠে। যাকে বলা যায় সবল অস্তিত্ব নিয়ে বাংলা ছোটোগল্পের পরম্পরা নির্মিত হয়। কে বা কারা ছিলেন এগিয়ে সে প্রশ্নও অবান্তর। কিন্তু গল্পের অগ্রযাত্রায় প্রতিনিয়ত যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন ভাবনা; বৈশ্বিকবোধ তাড়িত বিজ্ঞানমনস্ক সামজচিন্তা। সত্তর, আশি, নব্বই অতিক্রম করে যখন শূন্য কিংবা এক, দুই-য়ে বাংলা গল্প দাঁড়ালো, তখন গল্পও উত্তরাধুনিক চেতনায়, অনেক বেশি সাংকেতিক; আবার কখনো অনেক বেশি বিষয়ানুগ। বিষয় হিসেবে সামাজিক কদর্য, রীরংসা, নারীর প্রতি নিগ্রহ গল্পের আধার হয়ে উঠতে থাকে।
নাহার আলম শেষোক্ত ধারার একজন। তার গল্পসমূহে সময়ের চিত্রায়ণ করতে গিয়ে বস্তুত সমাজবাস্তবতাকে টাচ করতে চেয়েছেন। সময়ের সঙ্গী হওয়া বস্তুত কঠিন; কিছুটা চ্যালেঞ্জেরও। প্রথমত- সামাজিক সীমাবদ্ধতা। দ্বিতীয়ত হলো- প্রকাশ ক্ষমতার শিল্পিত সংকোচ। সম্ভবত নাহার আলম-এর ক্ষেত্রে এ-দুয়ের কোনোটিই বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। শিরোনামের একটি মার্কেটট্রেন্ড থাকে। এ-ধারণা থেকে নাহার আলম মুক্ত। এর মৌল কারণ হয়তো বাজারাক্রান্ত হওয়ার স্থুল বাসনা তার নেই।
শ্বাপদ সুন্দর, ধনদাসের রজনিচর, প্রসথেটিক মাস্ক, প্রত্যাখান বা প্রত্যাবর্তন, যোগচিহ্ন ইত্যাদি শিরোনামের গল্পগুলোতে যাচিত সময়ের লড়াই আছে। বেঁচে থাকার লড়াই, আবার আত্মপ্রতীতির লড়াইও। স্বোপার্জিত অর্জনের খেরোখাতায় বস্তুত কোনো বিলাসের গল্প থাকে না; থাকে টিকে থাকার নন্দিত পরমতা। তার কোনো যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা থাকে না। কিন্তু অবশ্যই সমাজবাস্তবতার চলচ্চিত্রায়ণে এর মূল্য অধিক। একজন সিনথিয়ার সফল জননী হয়ে ওঠা, নিবিড়ের বিশ্বাস ও চেতনার সঙ্গে তথাকথিত রাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব, শবনমের সমুদ্রসম কষ্ট, অরিণ এবং নীলান্তির জীবনে ঘটে যাওয়া দুঃসহ স্মৃতি সবই তো আমাদের সমাজে বিস্তীর্ণমান দূষিত সম্পর্কায়নের কুফল। এসব কিছুকে যখন লেখক একটি মলাটে অন্তর্ভুক্ত করেন, তখন সেখানে অজস্র পাঠকের অন্তর্জিজ্ঞাসার বাতায়নটা খুলে যায়। পাঠক ওই বিন্দুতে থামতে চান; এবং বলেন এমনই হয়তো চেয়েছি। এ-ধারার গল্পকথায় নাহার আলম পাঠককে মুগ্ধ করার হয়তো প্রত্যয় নেননি- কিন্তু পাঠকের কাছে পৌঁছুতে চেয়েছেন। এখানে তার স্বাতন্ত্র্য অনেকেরই চোখে পড়বে।
আবার কিছু গল্পে উপভাষার প্রয়োগেও তার সিদ্ধহস্ততা কোনো কোনো পাঠককে আগ্রহী করে তুলবে। পাঠকমাত্রই নতুনের সন্ধান চান; তবে সে নতুন, পুরোনোর ভেতর থেকে উত্থিত হলে তার প্রতি মানুষের আকর্ষণ থাকে ভিন্নরকম। এবং বলা বাহুল্য ওই পুরোনোর ভেতর থেকে নতুনের উদ্ভাসন মূলত উত্তরাধুনিক চিন্তারই বহিঃপ্রকাশ। পোস্ট-মডার্ন পাঠক তার গল্প থেকে সে স্বাদও নিতে পারবে বলে মনে হয়েছে। গল্প পাঠান্তে অনেকের হয়তো মনে হতে পারে, গল্পটা আমারই; গল্পের সিনথিয়া, অরিণ, নিবিড় কিংবা শবনম মূলত আমিই।…
Subornopurane Ekhon Neguro Andhokar by Naher Alam
জাতীয় দৈনিক, সাপ্তাহিকী, পাক্ষিক, মাসিক, ত্রৈমাসিক ও নানা নামের ছোট কাগজগুলোতে বেশুমার গল্প ছাপা হচ্ছে। দু’চারটে গল্প ছাড়া অধিকাংশ গল্পই বায়বীয় পদার্থের মতো হাওয়া হয়ে যাচ্ছে; কিন্তু কেন? কেন গল্পগুলো অমরত্বের পথে হাঁটছে না? কারণ, সরল বয়ান এবং একই প্রেক্ষাপটের চর্বিত চয়ন। কিন্তু এই গল্পগ্রন্থে জিল্লুর রহমান শুভ্র প্রিজমের মতো নানাবিধ আলো ফেলে গল্পগুলোকে নানা ঢংয়ে বিন্যাস করেছেন। বাস্তবতার সঙ্গে পরাবাস্তবতা ও শ্বাশত আবেগের মিশেল ঘটানো গল্পগুলো পাঠকদের মনস্তত্বের ভূগোলে জেগে ওঠে কুয়াশাবৃত হিমশৈলের মতো; যা একদিকে চিত্তাকর্ষক অন্যদিকে প্রপঞ্চময়। তিনি সোডিয়াম ও ফ্লুরেসেন্সের আলোর নিচে বসবাস করলেও নিভৃতচারী পল্লিকথকের লেপ মুড়ি দিয়ে কুপির আলোয় পুঁথিপাঠ ও হেমন্তের ফসল কাটার গান শুনতে পান; ফলে তার গল্পে নাগরিক জীবনের সুখ-দুঃখ, হাসিকান্না, রিরংসা ও কদর্য অন্ধকার যেমন ধরা পড়ে, তেমনি গ্রামীন চরিত্রগুলোও সেলুলয়েডের মতো জীবন্ত। তাছাড়া, রাজনীতি সচেতন মানুষ হিসেবে ৪৭-এর দেশভাগ ও ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের বয়ান তার অনেক গল্পে উঠে এসেছে নির্মোহ ও নির্মম সংবেদনশীলতায়। পাঠক, বাড়িয়ে বলছি না। নতুন স্ট্যাইলে তার গল্পের বুনন ও ভাষার চমৎকারিত্ব সমানভাবে আপনাদের মুগ্ধ করবে।
Ghoramukhi By Zillur Rahman Shuvro


Chonde Badha Didha - Nusrat Jahan Champ
গ্রন্থিত গল্পগুলি বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা সহ মাসিক গল্প বিষয়ক সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। গত ছত্রিশ বছরে মোট ২২টি গল্প লেখা হয়েছিল। সেখান থেকে বিভিন্ন স্বাদের ১০টি নির্বাচিত গল্প এ বইটিতে গ্রন্থিত হয়েছে। আশা করা যায়, যারা গল্প পড়তে ভালবাসেন সেসব পাঠকদের কাছে গল্পগুলি সুখপাঠ্য হবে। জীবন থেকে নেয়া এবং দু’ একটি গল্পের পটভ‚মি কালপঞ্জিতে একটু দূর বোধ হলেও পাঠক সেই অতীতের নিঃস্তরঙ্গ সময়টাকে অনুধাবন করতে পারবেন। মানুষের অন্তলীন জয় পরাজয়ের বিবরণ পাঠ করে আনন্দ-বেদনায় আপ্লুত হবেন তা নিশ্চিত করে বলা যায়।
Mousumi Brishtir Golpo By Amal Saha
বাঙালির ইতিহাসে, বাঙালির জীবনে গর্ব করার মত যত অধ্যায় আছে, তার মধ্যে সবচে বড় অধ্যায় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির অহঙ্কার, মাথা উঁচু করে চলার দৃপ্ত অঙ্গীকার। সৌভাগ্যক্রমে আমার জন্ম হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের ছয় বছর পূর্বে, তাই ছয় বছর বয়সে আমিও হতে পেরেছিলাম মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন অংশীদার।
আমার অনেকদিনের ইচ্ছে, আমাদের শৈশব কৈশোরের দিনলিপি নিয়ে ‘চোখ যায় যদ্দুর’ নামে তিন পর্বে বই লিখবো। তিন পর্বে থাকবে মুক্তিযুদ্ধ পূর্বকাল, মুক্তিযুদ্ধকাল ও মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীকাল।
মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল ১৯৭১ সালে, ঊনপঞ্চাশ বছর পেরিয়ে গেছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, বাঙালির অহঙ্কারের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে বর্তমান প্রজন্ম খুব বেশি কিছু জানে না। আজও তারা বিভ্রান্ত হয় মুক্তিযোদ্ধা আর রাজাকার শব্দ দুটো নিয়ে। কারণ কে মুক্তিযোদ্ধা কে রাজাকার, সেই তালিকা আজও নির্ণিত হয়নি।
বর্তমান প্রজন্ম জানে, মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা ছিল, পাকবাহিনী ছিল, রাজাকার ছিল, মিত্রবাহিনী ছিল।
বর্তমান প্রজন্ম জানে না, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে মুক্তিযোদ্ধা আর রাজাকার ছাড়াও রিফিউজি নামে আরেকটি শ্রেণির সৃষ্টি হয়েছিল। রিফিউজিদের কথা কেউ আলাদা করে বলেনি, রিফিউজিদের কথা কেউ আলাদা করে লিখে না। তাই বর্তমান প্রজন্ম রিফিউজি শ্রেণির সাথে পরিচিত নয়।
রিফিউজি কারা ছিল, কেন তারা রিফিউজি হয়েছিল! কেমন ছিল রিফিউজিদের জীবন! রিফিউজি হওয়া কি স্বস্তির নাকি বেদনার! ভয়াবহ যুদ্ধ চলাকালে রাজাকারের চোখ এড়িয়ে, পাকসেনাদের গুলি বাঁচিয়ে বন বাদাড়, মাঠঘাট, নদী নালা পেরিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে পৌঁছে নিজেকে রিফিউজি ঘোষণা করা যে কী নিদারুণ কষ্টের আত্মসমর্পণ, অন্যের দয়ায় দিনাতিপাত করা কতখানি গ্লানিকর তা অতীত বর্তমান কোনো প্রজন্মই অনুধাবন করতে পারবে না।
অতীত এবং বর্তমান প্রজন্ম রিফিউজি সম্পর্কে জানে না, কিন্তু ভবিষ্যত প্রজন্ম জানুক রিফিউজিদের কথা।
মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বয়স ছিল সাড়ে ছয় বছর, বড়দা ছিল কিশোর, মেজদা বালক, ছোট ভাই চার বছর বয়সের শিশু।
না, আমরা কেউ বন্দুক হাতে মুক্তিযুদ্ধ করিনি। চারটে ছেলেমেয়ে যুবতী স্ত্রী বৃদ্ধা মাকে পাকবাহিনীর গোলার মুখে ফেলে বন্দুক হাতে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার মত দুঃসাহস আমাদের বাবার ছিল না। বাবা তাই সবাইকে নিয়ে প্রাণ বাঁচাতে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পৌঁছে রিফিউজি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কেউ সাধ করে আশ্রিতের জীবন বেছে নেয় না।
এক দিনে আমরা ভারতে পৌঁছাইনি, দীর্ঘ পনের দিন লেগেছে নারায়ণগঞ্জ থেকে আগরতলা হয়ে কলিকাতা পৌঁছাতে। সেই যাত্রাপথ কেমন ছিল, কি কি ঘটেছিল, অথবা কি কি ঘটতে পারতো, কলিকাতা পৌঁছে আমরা কেমন ছিলাম, কলিকাতাবাসী আমাদের প্রতি কতখানি আন্তরিক ছিল, এসব সত্য যদি লিপিবদ্ধ না থাকে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পূর্ণ হবে না।
ইতিহাস সৃষ্টি হয় সত্যের ওপর ভর দিয়ে, ইতিহাস দাঁড়ায় সত্যের ভিত্তির ওপর। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ মিছে নয়, মুক্তিযুদ্ধ বানানো কাহিনি নয়, মুক্তিযোদ্ধা আর রাজাকার নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ নয়, সেখানে রিফিউজি নামে মুক্তিযুদ্ধের যে নীরব সাক্ষী আছে, সেই রিফিউজিরাও মুক্তিযুদ্ধের অংশ, তারাও মুক্তিযোদ্ধা।
শিশুরা মিথ্যা বলে না, শিশুরা মিথ্যা দেখে না। শিশুরা ছল চাতুরী জানে না, আদালতে শিশুরা মিথ্যে সাক্ষ্য দেয় না। মাঝে মাঝে শিশুরাই হতে পারে ন্যায় বিচারক।
একাত্তরে আমরা ছিলাম শিশু বালক বালিকা, আমরাই হয়েছিলাম রিফিউজি, আমরাই ছিলাম মুক্তিযুদ্ধের সত্যদর্শী সাক্ষী। রিফিউজিদের কথা যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানতে পারে, সেই দায় মাথায় নিয়ে আমাদের বাল্যকালের সত্যনিষ্ঠ স্মৃতিভান্ডার থেকে কুড়িয়ে যতটুকু সত্য আহরণ করতে পেরেছি, সেটুকুই ‘চোখ যায় যদ্দুর’র মুক্তিযুদ্ধকাল পর্ব ‘একাত্তরের বালক বালিকা’ খণ্ডে লিপিবদ্ধ করে রাখতে চেয়েছি। একাত্তরের বালক বালিকা পর্বটি সত্যদর্শী বালক বালিকার সত্য বয়ানের লিপিবদ্ধ রূপ।
Chokh Zay Joddur - চোখ যায় যদ্দুর (একাত্তরের বালক বালিকা) - দ্বিতীয় মুদ্রণ
Get access to your Orders, Wishlist and Recommendations.

















There are no reviews yet.