Additional information
| Weight | 0.225 kg |
|---|---|
| Published Year |
$ 1.76 $ 2.35
নিজেকে বিক্রি করতে পারা কিংবা বিক্রি করার চেষ্টা করা অথবা নিজের বিরুদ্ধে নিজেকে দাঁড় করিয়ে বিশ্লেষণ করা এই সময়ের মুখচ্ছবি। সেখানে বাস্তব কিংবা কাল্পনিক চরিত্ররা একেকটি বিস্ময়! অন্ধকার ফুটপাত থেকে উঁচু মুখের থাবায় চলে যায় অন্ধ রেলগাড়ি। আর অতিরিক্ত ঘ্রাণে জড়িয়ে যায় মুদি থেকে গোরস্তান। মৃত্যুস্রোত ও গহীনের আলো আনন্দকে ডুবিয়ে দেয় চেহারার ঘনত্ব। তারপরও রক্তভ্রম, আহত কি-বোর্ড, শীতবইয়ের শর্তসমূহ ঘেউমারা পড়শি চোখের যাদুতে জেগে থাকে দীর্ঘপথ। পাশাপাশি হাঁটতে থাকা ছায়াগুলো কানে-মুখে ঢুকে যায়। আবার বেরিয়েও যায় উচ্চতায়, নিজস্বতায় অথবা নানা পরিচ্ছেদে। গল্পের বয়ানে উহ্য আছে এমন অনেক গোপন সাঁকো। পথ জুড়ে শর্তের ভেতরের চোখকে আবিষ্কার করার চেষ্টায় চারপাশে তৈরি হয়েছে খণ্ড খণ্ড দৌড়। ‘লাবণ্য দাশের সাথে দেখা হওয়ার পর’ গল্পগ্রন্থটি এমনই দশটি গল্প কিংবা দশটি পরিচ্ছেদে দাঁড়িয়ে আছে।
| Weight | 0.225 kg |
|---|---|
| Published Year |
ভাস্কর চৌধুরী মূলত গল্প ও উপন্যাস লেখক। কবি হিসেবেও তার সমান খ্যাতি। লেখার মূল বিষয়বস্তু বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটি ও মানুষ। জন্ম- চাঁপাইনবাবগঞ্জ। শিক্ষাজীবন কেটেছে রাজশাহী শহরে। কর্মজীবনে চলে আসেন ঢাকায়। আশির দশক থেকে তার লেখা প্রকাশিত হতে থাকে। মাঝে দশ বছর দীর্ঘবিরতির পর আবার লেখালেখিতে ফিসে আসেন। রক্তপাতের ব্যাকরণ তার প্রথম গল্পগ্রন্থ। এ পর্যন্ত বিশটিরও অধিক বই লিখেছেন। এর মধ্যে উপন্যাস ধনসা মাতি ও তার জীবনবৃক্ষ, গল্পÑ কৃষ্ণপুরাণ, গন্তব্যহীন যাত্রা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
গল্পের বনসাই
সাঈদা মিমি। জন্ম ২৯ ফেব্রুয়ারী, ১৯৬৮। বরিশালে। পেশাগত দৈনিক সংবাদ প্রতিদিনের সাহিত্য সম্পাদক। প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা পাঁচটি। শ্রাবন প্রকাশনী থেকে ২০০৮ এ প্রকাশিত হয় প্রথম কবিতার বই ‘সব নিয়ে গ্যাছে এক সময়ের লুটেরা বাতাস।’ দীর্ঘ বিরতির পর আগুনমুখা থেকে ‘ফারাও কুমারী’ Ñ২০১৪ সালে। বাংলার ই-বুক থেকে ই-বই ‘কীর্তনখোলা।’ -২০১৫ সালে। ২০১৬ তে অনুপ্রাণন থেকে কাব্যগ্রন্থ ‘একজন মৃতের ডায়েরী’ এবং কালজয়ী প্রকাশ থেকে ‘শুশুনিয়া পাহাড়’।
ঔরঙ্গজেবের নীল ঘোড়া
জন্ম ১৯৪৭ সালের ১৪ই এপ্রিল। টাঙ্গাইলের মীরের বেতুকা গ্রামে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাশ করেন। করটিয়ার সা’দত কলেজ ও স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেছেন। সহকারী সম্পাদক ছিলেন সাপ্তাহিক বিচিত্রা ও দৈনিক সংবাদ Ñএ। ১৯৭৮-৮০ সালে ছিলেন গণচীনের রেডিও পেইচিং এর ভাষা বিশেষজ্ঞ। ১৯৯৪-২০০৪ সালে ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের পরিচালক। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, গবেষণা, শিশুতোষসহ গ্রন্থের সংখ্যা ৭০ এর বেশি।
গল্প সংগ্রহ
রুমা মোদক, মাতা: দীপ্তি রানী মোদক, পিতা: প্রিয়তোষ মোদক, জন্ম: হবিগঞ্জ। জেলা শহর থেকে প্রকাশিত সংকলনগুলোতে লেখালেখির মাধ্যমেই হাতেখড়ি। শুরুটা আরো অনেকের মতোই কবিতা দিয়ে। ২০০০ সালে প্রকাশিত হয় কাব্যগ্রন্থ ‘নির্বিশঙ্ক অভিলাষ’। এরপর ধীরে ধীরে জড়িয়ে পড়েন মঞ্চনাটকে। রচনা করেন কমলাবতীর পালা, বিভাজন, জ্যোতি সংহিতা ইত্যাদি মঞ্চসফল নাটক। অভিনয়ও করেন। মঞ্চে নাটক রচনার পাশাপাশি নিরব অন্তঃসলিলা স্রোতের মতো বহমান থেকেছে গল্প লেখার ধারাটি। জীবন ও জগতকে দেখা ও দেখানোর বহুস্তরা এবং বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতার উৎসারণ ঘটেছে ২০১৫ সালের বইমেলায় প্রকাশিত ছোটগল্প সংকলন ‘ব্যবচ্ছেদের গল্পগুলি’তে। ‘প্রসঙ্গটি বিব্রতকর’ গ্রন্থভুক্ত গল্পগুলোতে সে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি হয়ে উঠেছে আরও নির্মোহ, একবগগা, খরখরে কিন্তু অতলস্পর্শী ও মমতাস্নিগ্ধ।
গল্প লেখার স্বীকৃতিস্বরূপ ইতোমধ্যে পেয়েছেন বৈশাখী টেলিভিশনের পক্ষ থেকে সেরা গল্পকারের পুরস্কার, ফেয়ার এন্ড লাভলী সেরা ভালোবাসার গল্প পুরস্কার। ২০১৪ সালে মঞ্চনাটকে অবদানের জন্য পেয়েছেন ‘তনুশ্রী পদক’।
বর্তমানে সক্রিয় রয়েছেন বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের পত্র-পত্রিকা, লিটলম্যাগ এবং বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে প্রকাশিত অন্তর্জাল সাহিত্য পোর্টালে লেখালেখিতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এম.এ সম্পন্ন করে শিক্ষকতা পেশায় জড়িত রয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে স্বামী অনিরুদ্ধ কুমার ধর ও যমজ সন্তান অদ্বিতীয়া অভীপ্সা পদ্য ও অদ্বৈত অভিপ্রায় কাব্যকে নিয়ে হবিগঞ্জে বসবাস করছেন।
সিদ্দিকী হারুন
সাহিত্য ও সংবাদকর্মী
প্রসঙ্গটি বিব্রতকর
বিলাল হোসেন। জন্ম ১লা জানুয়ারি ১৯৭৪। মাদারিপুর জেলার রাজারচর কাজীকান্দি গ্রামে। প্রথম প্রকাশিত বই বিরুপা’র শুঁড়িবাড়ি, সেরা ১০০ অণুগল্প। গল্প সংকলনÑ পঞ্চাশ। অণুগল্পের বিষয়-বৈচিত্র্যের অনুসন্ধান। ‘কালজয়ী পঙক্তিমালা’ নামক অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক।
মহাপ্রভু ও অন্যান্য অণুগল্প
রাজীব নূর খান। জন্ম ১৯৮৫ সালে ঢাকায়। বর্তমানে ফটোসাংবাদিক। আড্ডা দেয়া ভীষণ পছন্দ। কাজের ফাঁকে মাঝে মধ্যে লেখার চেষ্ঠা করেন। মানুষের গভীর গোপন অনুভূতিগুলো ছবি ও লেখালেখির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলোর চেষ্টা করেন। এলামেলো জীবনে অভ্যস্ত হলেও আগোছালো কাজ সহ্য করতে পারেনা একেবারেই।ওর ভীতর রয়েছে আশ্চর্য এক সুন্দর শৈল্পিক সত্ত্বা; যাপিত জীবনের খুব তুচ্ছ বিষয়কেও নিজের রুচিবোধ আর সৃজণী ক্ষমতা দিয়ে পরম উপভোগ্য আর সুখপাঠ্য করে তোলেন।
টুকরো টুকরো সাদা মিথ্যা
ফজিলা ইসলাম ফৌজি নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরে ১৯৭২ সালের ৮ই মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতৃনিবাস মেহেরপুর জেলার কোলা গ্রামের বাবু পাড়ায়। পিতার নাম মোঃ হাফিজ উদ্দিন মাতার নাম মোছাঃ রাকিবা বেগম।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হিসাববিজ্ঞান বিভাগ (অনার্স মাষ্টার্স) শেষ করে ১৯৯৯ সালে রাজশাহীর ইসলামিয়া কলেজে শিক্ষক হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে কলেজ পরিবর্তন করে বর্তমানে তিনি মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার গাংনী মহিলা ডিগ্রী কলেজে হিসাববিজ্ঞানের প্রভাষক হিসাবে নিয়োজিত আছেন।
মানচিত্রে রক্তক্ষরণ
সুলতানা শাহরিয়া পিউ, জন্ম ২ অক্টোবর। লেখালেখি, আবৃত্তি ও সংগীত চর্চা করেন। অনুপ্রাণন সম্পাদনা পরিষদের সাথে যুক্ত। শিক্ষকতা করেন। তার প্রকাশিত অন্যান্য গ্রন্থ- মেঘের সাথে কথা (কাব্যগ্রন্থ), ইংরেজী কাব্যগ্রন্থ ‘ট্রান্সকুইল সেরেনেইড এর অনুবাদ ‘নিমগ্র জলধারা’। বাংলা গীতিকবিতার অনুবাদ ‘অচিন’ দঁহশহড়হি’.
এ্যালবাম- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেলপ্রাপ্ত ংড়হম ড়ভভবৎরহমং থেকে আবৃত্তি ‘ভয়েজ টু দ্যা ইটারনাল হোম’ পঞ্চকবির গানের সমবেত কণ্ঠে ‘পঞ্চপ্রভা’।
মেঘের দেশে ফিরে যাবার গল্প
বিলাল হোসেন
জন্ম: ১ জানুয়ারি, ১৯৭৪।
জন্মস্থান- মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার রাজারচর কাজিকান্দি গ্রামে।
প্রকাশিত বই-
১. কাব্যগ্রন্থ- বিরুপা’র শূঁড়িবাড়ি(২০১৪)
২. অণুগল্প সংকলন- পঞ্চাশ(২০১৫)
৩. মহাপ্রভু ও অন্যান্য অণুগল্প(২০১৬)
৪. কাব্যগ্রন্থ- একজ্বলাপঙক্তি(২০১৬)
স¤পাদিত বইসমূহ-
সেরা ১০০ অণুগল্প(২০১৫) (প্রিন্ট ভার্সন)
ই-বুক স¤পাদনা-
অণুগল্প সংগ্রহ-১,২,৩,৪; গোয়েন্দা অণুগল্প সমগ্র, ভূত অণুগল্প সমগ্র, রূপকথা অণুগল্প সমগ্র, নীতি অণুগল্প সমগ্র, চিয়ার্স চিয়ার্স চিয়ার্স, দুনিয়ার মাতাল এক হও, মাতালে মাতালে চেনে, মধুগন্ধেভরা, যুগলবন্দী (সুবর্না রায়), অণুগল্পের বিষয় বৈচিত্র্যের সন্ধানে, তাহাদের গল্প, অণুগল্পের অস্তিত্ব আছে, অণুগল্পের শিরদাঁড়া, অণুগল্পের রোজনামচা।
বাংলা ভাষার সেরা অণুগল্প
শাশ্বত নিপ্পন। জন্ম: মেহেরপুর, মে ১৮, ১৯৭০। পেশা: শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতা। এবং সংস্কৃতিকর্মী ও নাট্যকর্মী। তার আরো দুটি প্রকাশিত গ্রন্থ রয়েছেÑ অনতিক্রম (২০১৩), পুনরুত্থান (২০১৪)।
অশনির ছন্দ
মাহতাব হোসেনের জন্ম ১৯৮৮ সালের ৮ জানুয়ারি। দিনাজপুর জেলার রেলওয়ে শহর পার্বতীপুরে। বর্তমানে দৈনিক কালের কণ্ঠে সাব এডিটর হিসেবে কর্মরত। শৈশবে ছড়া লিখে সাহিত্যের পথে পা বাড়ান। তনিমার সুইসাইড নোট তার প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
তনিমার সুইসাইড নোট
হাসান মাহবুব। জন্ম ১৯৮১ সালের ৭ নভেম্বর, ঢাকায়। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার সময় তিনি বুঝেছিলেন এ জায়গা তার জন্য নয়। চলে আসেন
আনন্দভ্রম
সুরতালির মা চমকে উঠল টর্চের আলোয়। এই টর্চ মারা তার পরিচিত। বহুদিন এটা নিয়ে পবনার সাথে কথা হয়েছে। এভাবে টর্চ মারা ঠিক নয়। তখন পবনার বয়স ছিল ত্রিশ-বত্রিশ। এখন পঞ্চাশোর্ধ। এই লোকটি আজ তার কাছে নয়, তার মেয়ের কাছে এসেছে। অদ্ভুত দুনিয়া! সুরতালির মা কুঁকড়ে ওঠে। কিন্তু কিছু বলার নেই। কেননা আজ তার গায়ে কোনো শক্তি নেই। শয্যাশায়ী। কতক্ষণ দেহে প্রাণ আছে, জানা নেই। চোখ দুটোকে শক্ত করে ঢেকে ফেলে সুরতালির মা।
Pocha Kostorir Mrigonavi Ghran by S.M. Shamsul Alam
কবি আব্দুল্লাহ্ জামিল সমকালীন বাংলা কবিতার একজন সনিষ্ঠ সাধক। একাধারে তিনি কবি, সঙ্গীতশিল্পী, গীতিকার ও পেশায় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ। তাঁর কবিতা পাঠ এক ধরনের নিমগ্নতার ঘোরে পরিভ্রমণ করায়। বন্ধুত্ব বা আন্তরিকতার সুবাদে হোক, তাঁর প্রায় প্রতিটি গ্রন্থ ও কবিতা পাঠের সুযোগ হয়েছে। তাঁর কবিতার প্রধান প্রবণতা হলো, যেন তিনি কবিতায় স¤পূর্ণ নির্লিপ্ত থেকে অত্যন্ত বলিষ্ঠ উচ্চারণ করেন। অত্যন্ত কমনীয় সুরে গভীর ও উচ্চকিত বোধের চূড়ান্তে পৌঁছে দেন পাঠককে। তাঁর কবিতাগুলি আকারে ছোট কিন্তু বিষয় ও উচ্চারণে ব্যাপক প্রেক্ষাপট। গৌরী সিরিজ তাঁর কবিতার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। তাঁর পাঠকগণ হয়তো অনেকটা নিশ্চিন্ত হয়েছেন যে, এই গৌরী কবিকে আচ্ছন্ন করেছে। গৌরী সিরিজের প্রতিটি কবিতার মধ্য দিয়ে তিনি স্বদেশ, সমাজ, বিশ্ব রাজনীতি থেকে মানবমন, একাকিত্ব, বিচ্ছিন্নতা, প্রেম, বিরহ, বিষাদ কিংবা অসিÍত্ব-অনস্তিত্বের টানাপোড়েনও ধারণ
করেছেন। গৌরী সম্মুখে বসে নেপথ্যে রেখেছেন এক বিশাল কালখণ্ড, যা কবির ভাবনায়-মননে।
‘নির্বিকার কফির ঘ্রাণ’ গৌরী সিরিজের তৃতীয় পর্ব। এ গ্রন্থের কবিতাগুলো ঋজু, নির্মেদ ও সাবলীল।
ছন্দোবদ্ধ কবিতাগুলো কখনো কখনো প্রবল শক্তিশালী হয়ে কবির শক্তিকে ইঙ্গিত করেছে।
আব্দুল্লাহ্ জামিলের কাব্যভাষা সমসাময়িক ও শব্দ নির্বাচনে তিনি সতর্ক পরিব্রাজক। কবিতার মেটাফোর ও চিত্রকল্পগুলো নতুন ভাবনাতাড়িত কবির গভীর অনুধ্যান।
— কবি ওবায়েদ আকাশ
Nirbikar Kofir Ghran - Gouri series- 3
ভূমিকা
সেই দূর শৈশবেই বজ্রকণ্ঠ’র প্রেমে পড়ে যাই। ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান কিংবা ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’ তোমার আমার ঠিকানা’ ; ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধর ‘বাংলাদেশ স্বাধীন করো’, ‘তোমার নেতা, আমার নেতা- শেখ মুজিব, শেখ মুজিব’ এসব শুনতে শুনতেই যুদ্ধের ডাক এেেলা। সেই মহানায়কের নির্দেশেই ‘যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে’ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লো এদেশের সর্বস্তরের মানুষ। অনেক রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ নামক জাতিরাষ্ট্রের জন্ম হলো। আমরা সগৌরবে গেয়ে উঠলাম ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে রবীন্দ্রনাথ, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ নামে বইটি এই দুই শ্রেষ্ঠ বাঙালির প্রতি আমার ভালোবাসারই অভিজ্ঞান । হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর প্রস্তুতিপর্বে সারা পৃথিবীর মানুষ এক মহাবিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে যায়। কোভিড-১৯ অতি দ্রুত ছড়াতে থাকে এক দেশ থেকে আরেক দেশে। যখন ক্রমশ আক্রান্তের ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং গোটা পৃথিবী এই অণুজীবের কাছে অসহায় হয়ে পড়ে, ঠিক সেসময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জন্মশতবার্ষিকীর বছরব্যাপী কর্মসূচিকে উৎসবমূখর পরিবেশে না করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খুবই সীমিত পরিসরে পালনের নির্দেশ দেন, যাতে কর্মসূচির কারণে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বৃদ্ধি না পায়।
বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে আলাদা করে ভাবা যায় না। ’৪৭-এর পরপরই তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের কথা ভাবতে শুরু করেন। আরেকজন বাঙালি, যিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিশ^দরবারে পরিচিত করিয়েছেন, যার কবিতা গান গল্প উপন্যাস নাটক প্রবন্ধ-নিরন্ধ এমনকি চিঠিপত্র আমাদের চেতনাকে সবসময় উজ্জীবিত রাখে, ভরসা যোগায়, জীবনকে আলাদাভাবে চিনতে শেখায়, তিনি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, যার লেখা গান আমাদের জাতীয় সংগীত। উল্লেখ্য, স্বাধীনতার অনেক আগে থেকেই বঙ্গবন্ধু ভেবে রেখেছিলেন ১৯০৫ সালের ৭ আগস্ট বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় রচিত রবীন্দ্রনাথের ‘ আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানটিকে তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের মর্যাদা দেবেন। ১৯৭২ সালের ১৩ জানুযারি মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠকেই এই গানটির প্রথম ১০ লাইন জাতীয় সংগীত হিসেবে নির্বাচিত হয়।
পূর্ববঙ্গে এসে রবীন্দ্রনাথ যে পূর্ণাঙ্গ রবীন্দ্রনাথ হয়ে উঠেছিলেন, তা বলাই বাহুল্য। রবীন্দ্রনাথ পূর্ববঙ্গের নদী-মাঠ-ঘাট-মানুষ-মাটি এতটাই ভালোবেসে ফেলেছিলেন যে, ১৩২৯ সালের ২ বৈশাখ ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে লিখলেন ‘শিলাইদহ ঘুরে এলুম- পদ্মা তাকে পরিত্যাগ করেচে’ তাই মনে হলো বীণা আছে, তা’র তার নেই। তার না থাকুক, তবু অনেক কালের অনেক গানের স্মৃতি আছে । ভালো লাগল সেই সঙ্গে মনটা কেমন উদাস হলো।’ সাজাদপুর থেকে চলে যাবার পর বহুদিন বাদে কবি আর এক বার অনেকটা প্রাণের টানেই এখানে এসেছিলেন। ১৩০৪ সালের ৮ আশ্বিন সাজাদপুর ঘাটে বোটের ওপরে বসে লিখেছিলেন ‘যাচনা’ (কল্পনা) । ‘ ভালোবেসে সখী, নিভৃতে যতনে / আমার নামটি লিখিও তোমার / মনের মন্দিরে।’ পূর্ববঙ্গের প্রতি রবীন্দ্রনাথের অকুণ্ঠ ভালোবাসার বিষয়টি তাঁর নানামুখী কর্মকাণ্ডের মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যায়, এমনকি তার রবীন্দ্রবাউল হয়ে ওঠা এই পূর্ববঙ্গে এসেই। বঙ্গবন্ধু পূর্ব পাকিস্তানকে পূর্ববঙ্গ বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন।
রবীন্দ্রনাথ, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ
ইতালির বিখ্যাত লেখক আলবের্তো মোরাভিয়ার মোট আটটি গল্প এ বইটিতে অনূদিত হয়েছে। গল্পগুলি ইতালির গত শতকের প্রথম দিককার নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনকে তুলে এনেছে। যেখানে দরিদ্রতা, প্রতারণা, ব্যক্তি মানুষের অবমাননা ও অসহায়ত্ব হাত ধরাধরি করে চলেছে। জীবন যেখানে এক কঠিন ধূসর সময়ক্ষেপনের প্রেক্ষাপট মাত্র। মোরাভিয়া নির্মোহ ভাষায় সেসব ব্রাত্য মানুষের জীবনকেই তুলে এনেছেন গল্পগুলিতে। গল্পগুলির পাত্রপাত্রী যেন আমাদের খুব চেনা। এখনও চারদিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই মোরভিয়ার গল্পগুলির চরিত্ররা আমাদের চারপাশে দীনহীন বিবর্ণ জীবনযাপন করে যাচ্ছে। এখানেই মোরাভিয়ার প্রাসঙ্গিকতা মূর্ত হয়ে রয়েছে।
The Clown by Alberto Moravia, translated by Amal Saha
নিজেকে বিক্রি করতে পারা কিংবা বিক্রি করার চেষ্টা করা অথবা নিজের বিরুদ্ধে নিজেকে দাঁড় করিয়ে বিশ্লেষণ করা এই সময়ের মুখচ্ছবি। সেখানে বাস্তব কিংবা কাল্পনিক চরিত্ররা একেকটি বিস্ময়! অন্ধকার ফুটপাত থেকে উঁচু মুখের থাবায় চলে যায় অন্ধ রেলগাড়ি। আর অতিরিক্ত ঘ্রাণে জড়িয়ে যায় মুদি থেকে গোরস্তান। মৃত্যুস্রোত ও গহীনের আলো আনন্দকে ডুবিয়ে দেয় চেহারার ঘনত্ব। তারপরও রক্তভ্রম, আহত কি-বোর্ড, শীতবইয়ের শর্তসমূহ ঘেউমারা পড়শি চোখের যাদুতে জেগে থাকে দীর্ঘপথ। পাশাপাশি হাঁটতে থাকা ছায়াগুলো কানে-মুখে ঢুকে যায়। আবার বেরিয়েও যায় উচ্চতায়, নিজস্বতায় অথবা নানা পরিচ্ছেদে। গল্পের বয়ানে উহ্য আছে এমন অনেক গোপন সাঁকো। পথ জুড়ে শর্তের ভেতরের চোখকে আবিষ্কার করার চেষ্টায় চারপাশে তৈরি হয়েছে খণ্ড খণ্ড দৌড়। ‘লাবণ্য দাশের সাথে দেখা হওয়ার পর’ গল্পগ্রন্থটি এমনই দশটি গল্প কিংবা দশটি পরিচ্ছেদে দাঁড়িয়ে আছে।
লাবণ্য দাশের সাথে দেখা হওয়ার পর
হাসানআল আব্দুল্লাহ। জন্ম: ১৪ই এপ্রিল, ১৯৬৭। গোপালগঞ্জ জেলার গোপিনাথপুর গ্রামে। তিনি প্রবর্তন করেছেন নুতনধারার সনেট। তার মৌলিক কাব্যগ্রন্থর সংখ্যা দশ। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষার কবিতার অনুবাদে প্রকাশ করেছেন বিশ্ব কবিতার কয়েকছত্র। অন্যান্য প্রকাশিত গ্রন্থ- সনেটগুচ্ছ ও অন্যান্য কবিতা, আঁধারের সমান বয়স, এক পশলা সময় প্রভৃতি। ২০০৭ ও ২০১৫ সালে নিউইয়র্কের কুইন্স শহরের পোয়েট লরিয়েট ফাইনালিস্টের সন্মান পেয়েছেন।
বৃত্তের কেন্দ্রেও কবিতার মুখ
‘সব মেঘে বৃষ্টি হয় না’ একটি আত্মজৈবনিক উপন্যাস। এটি কথাসাহিত্যিক বাসার তাসাউফের একাধারে জীবনচরিত ও নব্বইয়ের দশকের সোনালি সময়ের স্মৃতিচারণ। পরিমার্জিত ও প্রাঞ্জল ভাষায় তিনি পুরনো সেই সব দিনের কথা ও সেই সব সময়ের মানুষের জীবন-যাপন এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থার বর্ণনা করেছেন।
বাসার তাসাউফের জন্ম ও বেড়ে ওঠা অনন্তপুর নামের সবুজ বৃক্ষের ছায়া ছায়া মায়াময় নিভৃত এক গ্রামে। জন্মস্থান ও শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত সেই গ্রামের মানুষ, গাছপালা, পশু-পাখি, নদ-নদী তাকে লেখালেখিতে অনুপ্রাণিত করেছে। বিশেষ করে তার কিষান পিতা তার জীবনজুড়ে এতটাই মিশে আছেন যে, এই উপন্যাসের সব পাতা ভরেও তিনি উপস্থিত আছেন। পিতা ছিলেন তার বেঁচে থাকার, স্বপ্ন দেখার একমাত্র উপাদান। কিন্তু আকস্মিকভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় পিতার মৃত্যুতে তিনি ভীষণ মুষড়ে পড়েন। তাই নিজের জবানে বলা নিজের জীবনকাহিনি লেখা শুরু করেছেন পিতার মৃত্যুর বর্ণনা দিয়ে। এরপর মানবজীবনের নানা চড়াই-উৎরাইয়ের কথা, বিশেষ করেÑ দরিদ্র কিষান পিতার পাতায় ছাওয়া লতায় ঘেরা ছোট কুটিরে জন্ম নিয়ে তিনি যে অপূর্ণতার হাহাকারে জীবন ভর দীর্ঘ দীর্ঘশ্বাস ফেলেছেন তা এমন ভাবে বর্ণনা করেছেন মনে হয়, যেন সেই দীর্ঘশ^াসের উষ্ণ আঁচ এসে আমাদের হৃদয়ও উত্তপ্ত করে তোলে। তার মায়ের দিনের পর দিন না খেয়ে থাকার বর্ণনা হৃদয়ের গহিনে এমনভাবে আঘাত করে যে, রূপকথার গল্পকেও হার মানায়। বৃষ্টির জল আর পোকামাকড় খসে পড়া ছনের ছাউনির তলে একডজন মানুষের বসবাস আর খেয়ে না খেয়ে বেঁচে থাকার কথাগুলো এমনভাবে বর্ণনা করেছেন যা পাঠকের চোখে জল এনে দেয়।
বাসার তাসাউফ বইয়ের ভূমিকা অংশে উল্লেখ করেছেন, ‘আমি একজন অসফল মানুষ। আমার আব্বা একজন দরিদ্র কিষান ছিলেন। ফলে অনেক নিগূঢ়তা ও নিষ্ঠুরতা অতিক্রম করে জীবন চলার পথে আমাকে চলতে হয়েছে, পার হতে হয়েছে অসর্পিল ও কণ্টকাকীর্ণ অনেক পথ। কিন্তু গন্তব্য আজো রয়ে গেছে অচিনপুরে। সব পথেরই নির্র্দিষ্ট একটা সীমানা থাকে। কিন্তু আমার জীবন চলার পথের যেন কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। আমি চলেছি তো চলেছি, না পেরিয়েছি সীমানা, না পেয়েছি গন্তব্য। জীবন চলার পথ অতিক্রম করে গন্তব্য পৌঁছাতে পারলে মানুষ অমরত্ব লাভ করে। অমরত্বে আমার লোভ ছিল না কোনোদিন। তাই হয়তো জীবনপথের দুর্গম সীমানা আমি আজো পার হতে পারিনি…।’
বলাবাহুল্য, একজন লেখক নিজের জীবনের গল্প নিজের জবানে বলার পর এর যে নিগূঢ় তাৎপর্য পাওয়া যায়, কাল্পনিক গল্পে তা পাওয়া যায় না। বাসার তাসাউফের এই বইয়ের গল্পে রূপকথার বয়ান নেই, আছে দরিদ্র এক কিষান পিতার ঘাম-জল সিঞ্চনের গল্প। নিতান্তই একজন ব্যর্থ মানুষের অপূর্ণতার গল্প। ব্যর্থতায় নিমজ্জিত হয়েও বাঁক বদল করে নতুন আলোয় উদ্ভাসিত হওয়ার গল্প।
যে মেঘে বৃষ্টি য় না
তোর সাথে কথার তসবিহ আর জপবো না
তাই কুফুরি-কালাম দিয়ে তাবিজ করে
বড় হুজুরের পানিপড়া এনে,
উতার পানি ছিটিয়ে দিয়ে
তোর দেহমনের বাইরাগ, চৌকাঠ, উষারা
সব বেঁধে দেব।
তুই কোথাও যেতে পারবি না আমাকে ছেড়ে
অন্য কাউকে প্রেমিকের মতো আসতেও
দেব না তোর চৌহদ্দিতে।
তুই হবি আমার সর্বনাশের ফুলতোলা রুমাল
আমিও হব তোর দু:খনাশী কৃষ্ণচূড়ার ডাল!
Ami Tar Upekkhar Vasha
তো গল্পটা কী? দাদু শাকিলকে বলেছিলেন- একটা মস্ত বড়ো ভূত প্রতি মঙ্গলবার রাত ঠিক বারোটায় এসে এই দুটো খেজুর গাছের মাথার ওপর দুদিকে দুই পা রেখে দাঁড়ায় আর লম্বা হাত বাড়িয়ে সবাইকে ডাকে বন্ধু হওয়ার জন্য। কার বুকে এত সাহস যে, ভূতের বন্ধু হবে? কেউ ওর ধারে কাছেও যায় না। তখন ভূতটার খুব রাগ হয়। সে তখন হাত দুটোকে লম্বা বানিয়ে ফেলে আর যাকে সামনে পায় তাকেই ধরার চেষ্টা করে। দাদু আবার এসব ভূতে-টুতে ভয় পান না। তিনি লম্বা একটা তলোয়ার নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন ওই হাত দুটোকে কেটে ফেলার জন্যে। যেই না দাদু হাত দুটোকে কাটতে যান, অমনি ভূতটা ভয়ে অদৃশ্য হয়ে যায়। এভাবেই চলছিল। কিন্তু দাদুটা বছর খানেক আগে হঠাৎ করে মারা গেলেন। তারপর থেকে আবারো সেই ভূত সেই মঙ্গলবার রাত বারোটায় একইভাবে দুই গাছের ওপর দুই পা রেখে দাঁড়ায় আর ডাকে। কেউ দেখতে পায়, কেউ পায় না। কিন্তু ওই রাতে সবারই গা ছমছম করে ভয়ে। মাঠের দিকে কারো ঘরের জানালাই তখন খোলা থাকে না। এই হলো গল্পটা। অনু যতই শুনছিল ততই ভয়ে ঘামছিল। পরীক্ষায় এত যে ভালো রেজাল্ট করেছে সে- ভুলেই গেল সেটা। বাড়ি ফিরেও কিছুতেই ভয়টাকে তাড়াতে পারে না। ভয়ের কথাটা কাউকে বলতেও পারছে না সে। সবাই ওকে ভীতু বলবে- সেই লজ্জায়।
Khejur Gache Vuter Pa - Raahman Wahid, খেজুর গাছে ভূতের পা - রাহাম ওয়াহিদ
একবিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশকে টেকনোলজির মামদোবাজির এই সময়ে মানুষের সহজাত অনুভূতির ফল্গুধারা স্তিমিত না রহিত? এই প্রশ্নটির চাবুকের নিচে পড়বার সময় ও সুযোগই কারো যখন নেই, সেই তখনও কবিতা নাজিল হয় পৃথিবীর বুকে। আসলে বাক্যের প্রচল, চেনাজানা বুনটের মধ্যে দিয়ে তির্যক আলো ফেলে ফেলে ভিন্নতর, অকেজো অথচ জরুরী অভিনিবিশের আস্কারাই কবিতা । কবিতা ঠিক ততদিন জীয়মান বলে মনে হয় যতদিন ভাষা জীয়মান।
কবিতা আসলে শিশুর কান্নার মত। কবিতার যে স্পিকার বা পোয়েটিক পার্সোনা সে-ই যেন শিশুর মত আর্তি জানাচ্ছে পৃথিবীর আলোয় নিজেকে মেলে ধরতে। যেন বা শিশু তার মায়ের জন্য কাঁদছে।
খুব ছোট শিশু যেমন স্পষ্ট করে কিছু বলে না, কিন্ত মা ঠিকই বুঝতে পারে,ঠিক তেমন শিশুর মত অস্পষ্ট-স্পষ্ট কিছু বলতে চান কবি। এখানে পাঠককে আমি মা বলতে চাইছি না, মা হতে পারে অর্থবোধকতার বা অনুভবের সম্ভাবনা।
এই কবিতা আবার চৌদ্দ রকম হয়। সহস্র রকম হলেও কবিতাকে এক ভাবে না এক ভাবে হয়ে উঠতে হয়, ফুটে উঠতে হয়, ঢুকে যেতে হয় আলগোছে, অনবধানে– পাঠকের মনে!
রায়হান শরীফ - Raihan Sharif
মানুষ প্রত্যাশা করে একটা ঘুর্ণায়মান সুখের স্রোত তাদের সারাক্ষণ ঘিরে থাকবে কিন্তু এমনটা কখনো হয় না। সৃষ্টীকর্তার নিয়ম বা রহস্য অনুযায়ী মানুষ খানিকটা সুখের জন্য অনেকটা দুঃখ যাপন করে। আমাদের ঘিরে থাকা সম্পর্কগুলো থেকে সবসময় ঠান্ডা জলের স্রোত বইতে থাকে, মাঝে মধ্যে অল্পকিছুক্ষণের জন্য উষ্ণ স্রোত। দীপার জীবনে ফয়সাল বা ফাহাদের জীবনে বাবা –মা , এমেরিকান কৃষ্ণাঙ্গ প্রেমিকা নায়ারা তেমনি এক স্রোত। এই নিরন্তন স্রোতের মধ্য দিয়েই মানুষ যেমন অল্প সময়ের সুখ খুঁজে পায়, যেমনটা ফাহাদ খুঁজে পায় জীবনযুদ্ধে প্রতারিত একাকি রিপা আর তার ছোট্ট মেয়ে রুপার মধ্যে। ফাহাদের, দীপার, রুপার কাছে মনে হয় তাদের সুখের রঙ চোখের জলের মতন!
SHUKHER RONG CHOKHER JOLER MATON - সুখের রঙ চোখের জলের মতন
কোভিড নাইনটিন। সময়ের সাথে জুড়ে দিয়েছে শত্রুর তকমা। এভাবেই একটা ভয়ানক শত্রুসময় পাড়ি দিচ্ছি আমরা। যাপনের ইতিহাসে এ সময় এক দুর্বিষহ শূন্যতা উপহার দিয়েছে আমাদের। শত্রুসময়ের এই শূন্যতায় মুছে গেছে আমাদের সামাজিক সম্পর্কের ইতিহাস। বিবেক, মনুষ্যত্ব ও মানবিক মূল্যবোধ হারিয়েছে গড়পড়তা সব মানুষ। সেইসাথে মৃত্যুর মিছিলে প্রিয়জন হারানোর শোক মানুষকে করে দিয়েছে আদিম পাথর। সুমন শাম্স’র শত্রুসময় ও শূন্যতা তারই প্রামাণ্যদলিল।
সুমন শামস
বাংলা ভাষার ইতিহাসের প্রাচীনতম যুগ। তখন একমাত্র লেখ্যভাষা সংস্কৃত- পঠন অন্ত্যজশ্রেণির ঘোর নিষিদ্ধ। নিম্নবর্ণের একদল লোক অত্যাচার সহ্য করে প্রাকৃত ভাষার প্রথম লেখ্যরূপ দান করেন- ধর্মের বাতাবরণে চর্যাপদ। তাদের প্রতিপক্ষ আর্যব্রাহ্মণ। দহনকালের সেই ঊষালগ্নে যাপিতজীবনের কিছু নরনারীকে আবর্ত করে এই কাহিনি।
ক্ষেত্রকরপুত্র হালিক ধীবরপুত্র জালিককে বলে- আমার আর বিদ্দাজ্জন হলো না রে। চুরি করে পড়া শিখতে গিয়ে সামন্তপ্রভুর হাতে হালিক নিহত- জালিক নিরুদ্দেশ- একদা হয়ে ওঠেন রাজপুত্র সামন্তশুভ। উরুবিল্বে বোধিসত্ত্ব লাভ করতে গিয়ে দেখা হয় ধেনুর সঙ্গে- সুন্দরী ব্রাহ্মণকন্যা- বৌদ্ধতান্ত্রিক দলের সাথে ঘুরে বেড়ান এদেশ-সেদেশ- কালক্রমে হয়ে ওঠেন চাটিলা কুক্কুরীপা, সাথে এক কুক্কুরী- পূর্বজন্মে মানবী ছিলো। সামন্তশুভ আসেন সিদ্ধাচার্য শবরপার চর্যাগৃহে। দীক্ষা গ্রহণ শেষে বারো বছর গঙ্গাধারের নির্জনে কাটিয়ে দেন, নাম হয় লুই বা মৎস্যান্ত্রাদ। তাঁর মাথার ওপর রক্ষাকবজের মতো উড্ডীন এক অচিনপাখি। তান্ত্রিকশক্তি দেখে লুইয়ের শিষ্য শালীপুত্রের রাজা ইন্দ্রপাল দীক্ষা নিয়ে সিদ্ধাচার্য দারিকপা হলেন আর কুক্কুরীপার শিষ্য ওড্ডিনের রাজা ইন্দ্রভূতি হলেন তান্ত্রিক সাধক। শতবর্ষী সবজান্তা গঙ্গাধর জম্বুদ্বীপময় ঘুরে বেড়ান আর বলে বেড়ান অজানা কাহিনি। প্রাকৃত ভাষার অইসব সৈনিকদের পদ্ধতি কমলশীল বলেছেন বঙ্গালী এবং ভাষাপিতা। কিন্তু কেন?
যেকোনও উপন্যাসই উপন্যাসের নতুন সংজ্ঞা হতে পারে। মোখলেস মুকুলের ইতিহাসআশ্রিত উপন্যাস ‘বঙ্গালী ভইলী’ গদ্য ও পদ্যের মিশ্রিত কথন-ভঙ্গিকে বিশেষ কোনও সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করা কঠিন। সংলাপ, বর্ণনা সবকিছুতেই নতুনত্ব ও নান্দনিকতা লক্ষণীয়। চর্যাপদে খুঁজে পাওয়া সেকালের জনজীবন, বিচিত্র নারী-পুরুষের প্রবল প্রতাপ, বহু মানুষের নানা কর্মযজ্ঞ, পশু পাখি ও মানুষের কথোপকথন উদ্ধৃত হয়েছে অনবদ্যভাবে। এমনকি তাদের আন্তরিক চাওয়া-পাওয়া, কামনাসহ লৌকিক জীবনের ঘাতপ্রতিঘাত সবকিছুতেই নতুন আবহ, একইসঙ্গে জাদুবিদ্যার প্রভাব, পাঠক উপলব্দি করতে পারবেন অনায়াসেই।
~মাকিদ হায়দার
Banggalee Vailee by Mokhles Mukul
Get access to your Orders, Wishlist and Recommendations.





















There are no reviews yet.