Description
তোমার রঙ্গ মেলায় সঙ্গ খোঁজ, সঙ্গও আছে বন্ধু, শত্রু স্বজনে
তোমার সঙ্গ কি নিজ সঙ্গে আছে? ভিতরে খোঁজ নির্জনে।
$ 1.84 $ 3.06
জহিরুল হক বাপি। জন্ম ১৯৭৯ সালে নোয়াখালির এক মফস্বলী ঝড়ো সন্ধ্যায়।
চলচ্চিত্র শিক্ষায় স্নাতক। ব্লগার ও গণজাগরণ কর্মী।
লেখকের প্রকাশিত অন্যান্য বই:
ঈস্রাফীলের শিঙ্গা বাজছে (উপন্যাস)
শোকগাথা’৭১ (উপন্যাস)
আমি আমাকে খেয়ে বেঁচে আছি (কবিতা)
তোমার রঙ্গ মেলায় সঙ্গ খোঁজ, সঙ্গও আছে বন্ধু, শত্রু স্বজনে
তোমার সঙ্গ কি নিজ সঙ্গে আছে? ভিতরে খোঁজ নির্জনে।
| Weight | 0.280 kg |
|---|---|
| Published Year |
শহীদ ইকবাল। প্রাবন্ধিক ও উপন্যাসিক। জন্ম ১৩ আগস্ট, ১৯৭০ রংপুর জেলার পীরগঞ্জে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর এবং এখানেই শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। প্রকাশিত অসংখ্য গ্রন্থ রয়েছেÑ কথাশিল্পী আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, মুখশ্রীর পটে, কবিতা: মনন ও মনীষা প্রভৃতি। লিটলম্যাগ ‘চিহ্ন’ এর সম্পাদক।
হয়নাকো দেখা
কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর (১৯৬৩-২০১৫)। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একাডেমিক পড়াশুনা করেন চট্টগ্রামে। লেখালেখি ছিল তার কাছে অফুরন্ত সর্ব আনন্দ ব্যাকুল এক জীবনপ্রবাহের নাম। কথাসাহিত্যের ছোটকাগজ ‘কথা’র সম্পাদক ছিলেন। তার অন্যান্য প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে স্বপ্নবাজি, পদ্মাপাড়ের দ্রৌপদী, গল্পের গল্প ইত্যাদি।
হৃদমাজার
লেখক পরিচিতিঃ
নিজেকে ঘটা করে পরিচয় করিয়ে কি লাভ । আমার এই উপন্যাস পছন্দ হলে এতেই আমার স্বার্থকতা। সবাই ভালবাসুক এই গল্পটা।সবাই ধারণ করুক এই বইটা।
এই পর্যন্ত বইয়ের সংখ্যা ৯টি
১) আমার মা(ভোরের শিশির প্রকাশন
২) বার্লিনে বন্ধুত্ব(ভোরের শিশির প্রকাশন)
৩) ভুতের স্বর্নতাবিজ( বেহুলা বাংলা প্রকাশন)
৪) অল্প কথার গল্প (দ্যুপ্রকাশন)
৫) লাভার্স পয়েন্ট (বেহুলা বাংলা)
৬)তিন প্রজন্মের কাব্য (ছায়ানীড়)
৭) দার্জিলিং কনফেশন (ছোট গল্প) অনুপ্রাণন
৮) উইনিং সেলস এন্ড মার্কেটিং (বেহুলা বাংলা)
৯) পূর্বজদের গুহায় বুদ্ধের দর্শন।(অনুপ্রাণন)
পূর্বজদের গুহায় বুদ্ধের দর্শন
ভূমিকা
‘ভাঙনের ডাক’ উপন্যাসটি ভাঙন কবলিত গ্রাম বাংলার প্রতিচ্ছবি। উপন্যাসটিতে গ্রামের কৃষক জীবন, সবুজে ঢাকা গ্রাম নদী ভাঙনের ফলে কিভাবে তার সক্রিয়তা হারায়, সেই সাথে উঠে এসেছে ঐতিহাসিক একটি বাজারের বর্ণনা ও ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আর্তনাদ।
‘ভাঙনের ডাক’ উপন্যাস নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রম বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। এখানে গ্রাম্য বধূর সবিস্তার কাহিনী সরলার চরিত্রের মাধ্যমে রূপায়িত হয়েছে। তাছাড়া করিম শেখ ও অন্তুর কাহিনীও এখানে প্রযুক্ত হতে দেখা যায়। বেজগাঁও গ্রামে রাজা রাজবল্লভের বাড়ি, দিঘলী বাজার, কদম পাগলের মাজার ঘিরে মেলা এখানে বর্ণিত হয়েছে।
‘ভাঙনের ডাক’ উপন্যাসে সত্যিকার অর্থেই ভাঙনের একটা সচিত্র ছড়িয়ে রয়েছে। এর মধ্যে আবেগ, কৌতূহল, স্বপ্ন আকস্মিকতা উৎকণ্ঠা বজায় রয়েছে। যা পাঠক সাধারণের মনকে একটা সন্মোহ সীমানায় ধরে রাখতে সক্ষম। তাছাড়া এই উপন্যাসে সমাজ মানসের কিছু বিশ্বস্ত চিত্রগাথা পরিস্ফুট উঠার সুযোগ পায়। যা শুধু এদেশীয় সংস্কৃতির আদলে গড়ে ওঠেছে। যেমন ভেলা ভাসানি, বৈশাখী মেলা, কদম পাগলের বার্ষিক মেলা, বৃষ্টি প্রার্থনার জন্য মেঘরানী উৎসব। সেই সাথে ফুটে উঠেছে একটি কৃষক পরিবারের অভাব-অনটন ও প্রকৃতির বৈরিতা। পদ্মার ভাঙন আর ঝড়ে নিঃস্ব হওয়া মানুষের আর্তনাদ, যা পাঠ করে অনাস্বাদিত জগতের উপমিত আস্বাদন করা সম্ভব।
ভাঙনের ডাক
উপন্যাস ত্রয়ীর চরিত্র, এলাকা, প্রেক্ষাপট, নিসর্গ—সবই কাল্পনিক। লেখকের তীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টির শস্ত্রে ব্যবচ্ছেদ করা সমাজের নিগূঢ় সত্য বাস্তবতার ক্যানভাসে পরিস্ফুটিত হয়েছে। তিনটি উপন্যাস দখল করেছে তিন ধরনের উপচার। ফাঁদ উপন্যাসটির ব্যাপক সংস্করণ হয়েছে। পরিবর্তন, পরিমার্জন ছাড়াও কলেবরও বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। প্রথম মুদ্রণের পর এই মলাটের উপন্যাসটি একই পাঠক পাঠ করলে হোঁচট খাবেন। ত্রয়ীর মলাটের বাকি দুটি উপন্যাসের সামান্য সংশোধন হয়েছে।
ফাঁদ
পুরুষের মনোরঞ্জনের জন্য নারীর শরীরই প্রধান মাধ্যম। যুগ যুগ ধরে পুরুষের মর্ষকামিতা, ভোগ-বিলাস ও নিষ্পেষণের শিকার নারীদেরকে খাঁচায় বন্দি করতে শুধু পুরুষই নয়, বরং স্খলিত ও হীন চরিত্রের নারীরাও সেই ক্ষেত্র তৈরি করায় ভূমিকা রাখে। এমনই এক নারী সাবরিনা তার বাসায় কিশোর বয়সী মেয়েদের ফাঁদে ফেলে পতিতাবৃত্তিতে লাগিয়ে বিত্তবৈভবের মালিক হয় সে। সাবরিনার মতো অনেক মাধুকরীর প্ররোচনায় ও পৃষ্ঠপোষকতায় শহরের অনেক বাসায় পতিতাবৃত্তির বিস্তার লাভ করে। শিকার হয় পুষ্পর মতো নিষ্পাপ কিশোরীরা। সাবরিনার যোগসাজশে আপন ভগ্নিপতি নওয়াব আলী পুষ্পকে দেহ-ব্যবসায় বাধ্য করায়। এক রাতের ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙেপড়া পুষ্প প্রতিশোধ স্পৃহায় নওয়াব আলীর ছোট বোন টুনিকে এই ফাঁদে ফেলে ঢাকায় নিয়ে আসে। টুনিকে কেন্দ্র করেই উপন্যাসটি চূড়ান্ত পরিণতির দিকে গড়ায়। এই উপন্যাসের মূল কাহিনি থেকে একটি পূর্ণদৈর্ঘ চলচিত্র (প্রিয়াংকা) নির্মাণের শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
শেষ কথাটি যাও বলে
একটি অভিজাত, নিপাট ও নিষ্কাম প্রেমের আখ্যান। শুরুর দিকে ত্রিভুজ প্রেমের ইঙ্গিত থাকলেও ঘটনাক্রমে প্রথম প্রেমিকার নিরাসক্তির কারণে দুজনের প্রেমই পরিণতির দিকে গড়ায়। বাংলাদেশের ছয়জন পেশাজীবীর কিছুদিনের প্রণোদনা প্রশিক্ষণের সময় দক্ষিণ ভারতে ভ্রমণের মধ্য দিয়ে উপন্যাসটি নির্মিত হয়। প্রেমের গভীর স্পন্দন অনুভূত হয় বাংলাদেশের নির্ঝর এবং দক্ষিণ ভারতের ট্যুরিস্ট গাইড অধরার বুকের গহিনে।
জলের লিখন
যুদ্ধকন্যা মারিয়াকে ঘিরে নির্মিত হয় জলের লিখন। কোনো এক অশুভ মুহূর্তে কলহপ্রিয় মাকে আতিকের বাবা তালাক দেওয়ার পর যখন হিল্লা বিয়ের ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা হচ্ছিল তখন, এরূপ হিল্লা বিয়ের মতো ন্যক্কারজনক ও অপমানজনক ঘটনা প্রত্যক্ষ করার কষ্ট থেকে নিষ্কৃতি পেতে মেধাবী কিশোর গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে ঢাকায় এসে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে সংগ্রাম করে সার্টিফিকেটবিহীন ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করে একটি এনজিওতে চাকরি পায় এবং যুদ্ধকন্যা মারিয়ার দোভাষীর কাজ করার সময় উভয়ের মধ্যে সরল প্রেম-রসায়নের সৃষ্টি হয়। অবৈধ সন্তানের মা পারভিনের সঙ্গে প্রেমের কলি ফুটলেও পাপড়ি মেলেনি। উপন্যাসটির বিস্তর ক্যানভাস জুড়ে খোদিত হয়েছে এনজিওর কুহনিকা।
জনপ্রিয় লেখক না হলে তিনটি উপন্যাসকে একটি মলাটে মুদ্রণ নিঃসন্দেহে ঝুঁকিপূর্ণ। ব্যবসায়িক দিক থেকে অসাফল্যের দরজায় কড়া নাড়ার আওয়াজ শুনেও এত বড় ঝুঁকিপূর্ণ বোঝার কঠিন দায় নিয়ে অনুপ্রাণন প্রকাশনের পক্ষ থেকে আবু ইউসুফ ভাই বড় ঋণী করলেন। সীমাহীন আন্তরিকতা, অত্যন্ত যত্ন ও দায়িত্ব নিয়ে তিনি ‘উপন্যাস ত্রয়ী’ প্রকাশ করেছেন। তাঁর প্রতি রইল অশেষ কৃতজ্ঞতা।
উপন্যাস ত্রয়ী
হুমায়ুন কবির।
জন্ম ১৯৫৯ সালে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার দেউটি গ্রামে। বাবা জালাল আহমেদ ও মা জফুরা বেগম। লেখালেখির শুরু ছাত্রাবস্থায়। মাঝে দীর্ঘ বিরতি। আবারও ফিরে এসেছেন লেখালেখিতে। কবিতা, উপন্যাস, গল্পগ্রন্হসহ তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা আটটি। ইতোপূর্বে প্রকাশিত তার উপন্যাস ‘ কানফুল, আনছার আলীর গৃহত্যাগ এবং কবিতা অন্তহীন দীর্ঘশ্বাস পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য জিগীষা সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ তাকে জিগীষা সাহিত্য সম্মাননা -২০১৯ প্রদান করেছে।
সাবেক সরকারি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বর্তমানে দৈনিক বাংলার সাহিত্য সম্পাদক। তিনি সালমা ফৌজিয়া সুমি, ডা. শারমিন ফৌজিয়া ও সাইফুল কবির সোয়েবের বাবা। স্ত্রী নাজমুন নাহার লক্ষ্মী গৃহিণী।
প্রকাশিত বই সমুহঃ-
কবিতা-
আমি তাকে ফিরছি খুঁজে
অন্তহীন দীর্ঘশ্বাস
উপন্যাস-
দায়
কানফুল
মেঘনাপারের শেফালী
আনছার আলীর গৃহত্যাগ
গল্পগ্রন্থ-
শাহজাদী উপাখ্যান
আমিও ডিকশনারি দেখেছি কিন্তু পাইনি।
জ্বিনকন্যা নার্গিসের প্রেম
হামিম কামাল। জন্ম ১৯৮৭ সালের ৯ অগাস্ট, ঢাকায়। আহসানুল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তড়িৎ প্রকৌশলে স্নাতক।প্রকাশিত গ্রন্থ- জঠর (২০১৬), কারখানার বাঁশি (২০১৮)।
জঠর
রামিশা বিয়ের পরই মাহীকে কেবল ভালোবাসেনি মাহীও রামিশাকে ভালোবেসে ছিলো। ডাক্তার মাহী বছর দুয়েক পর হঠাৎ স্কলারশিপ পেয়ে রাশিয়ায় পি.এইচ.ডি. করার জন্য চলে যায়। তখন রামিশা দু’মাসের অন্তঃসত্ত্বা। প্রতিদিনই কথা হতো ইন্টারনেটে, কথা না হলে যেনো দু’জনার কারো ঘুম হতো না। হঠাৎ করেই দু’বছর যেতে না যেতেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলো। মানুষের জীবনের বিশ্বাসী ভালোবাসার গল্পগুলো কখনো কখনো বড় অদ্ভুত। গতবাঁধা জীবনে কষ্টের ভিন্নতার গল্প কখনো মনে হয় একই রকম। কখন যে হারিয়ে যায় জীবনে সুখের গানগুলো তা কেই-বা বলতে পারে। প্রেম ভালোবাসা যেনো নিত্য নিকানো উঠানে ঘিরে থাকা স্মৃতি। বদলে যায় প্রণয়ের রীতিনীতি। অথচ রামিশার মনজগত ছিলো এতোটাই প্রখর আর স্বচ্ছ সে পারেনি সর্ম্পক ছিন্ন করে সুহাসকে নিয়ে বাবার বাড়িতে ফিরে যেতে। সন্তানের পিতৃ পরিচয় আর এক দিকে বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ীকে একা ফেলে স্বার্থপরের মতো চলে যেতে পারেনি। তাছাড়া মাহীতো ডিভোর্স দেইনি। তাই জীবনে নতুন কোনো ভোরের প্রত্যাশা করেনি। এই চিঠি লেখার ভিতর বাস্তবতার ছোঁয়া অজান্তে থেকে গেলেও যেতে পারে। তবুও একতরফা ভালোবাসার ত্যাগ, সন্তানের পরিচয় তাকে পৃথিবীর আলো দেখানোর জন্য, সন্তান যেনো জানে তার বাবা আছেন। তাই সব কিছুই গোপন করে রামিশা। লড়াই ছিলো তার একার তাই সব সময় একতরফা ভালোবাসায় মাহীকে চিঠি লিখে যেতো। এতো ভালোবাসার সম্পর্কের ভিতর একটি নারীর একাকীত্বের সাথী ছিলো এই চিঠি, আর কল্পনায় ঘেরা তার আর্তনাদের ভিতর স্বপ্ন সে বুনে যেতো অবিরাম…
ভালো থেকো ভালোবাসা
ভূমিকা
লেখালেখি আমার কোনো পেশা নয়, এমন কি নেশাও নয়। তাহলে লিখি কেন? আসলে এখনও পর্যন্ত আমি একজন জীবিত মানুষ। এই সমাজ-সংসারের আরও দশ জন মানুষের একজন। তাদের মতো আমারও ক্ষুধা-তৃষ্ণা আছে। সুখ-দুঃখ আছে। হাসি-কান্না আছে। তাদের মতো আমারও কিছু বলার আছে। তাই কিছু বলতে চাই আমি। যেহেতু আমার অদৃষ্ট আমাকে নির্ধারণ করে দিয়েছে যে, আমি একজন গল্প লিখিয়েই হবো, তাই আমার বলতে চাওয়া কথাগুলো হবে কিছুটা গল্পের মতো। কিন্তু এই গল্প কাকে বলবো? নিশ্চয়ই আমার চার পাশের আর দশ জনকেই বলতে হবে কথাগুলো। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমি কোনো নেতা নই, কোনো বক্তা নই। শব্দ যন্ত্রের সামনে দাঁড়িয়ে বলতে গেলে আমার কথা কেউ শুনবে না। কারণ, আমি নিতান্তই নিরীহদের একজন। তাই কাগজ-কলমই আমার সম্বল। সুতরাং কোনো শব্দযন্ত্র ছাড়াই বলতে হবে নীরবে। কিন্তু তবু আমাকে বলতে হবে, যা আমি বলতে চাই। বলতে না পরলে হয়তো দম বন্ধ হয়ে আমি মারা যাবো। হয়তো কান দিয়ে শুনতে পাবেন না কথাগুলো, তবে চোখের আলোয় পড়তে পারবেন কাগজে মুদ্রিত কালো অক্ষরে।
জিয়াউল হক
গাইবান্ধা।
ধু-ধু বালুচর
শাহিনুর, যাত্রাদলের এক সুন্দরী নর্তকী। বিধবা এ মেয়েটি ভিন্ন জাতের এক গানওয়ালার প্রেমে পড়লে ধর্ম ও সমাজ থেকে ছিটকে পড়ে। তার নাচ দেখতে এসে প্রেমে পড়ে যায় কিশোর বদি। শাহিনুরও এই কিশোরের প্রেমে হারিয়ে ফেলে জীবনের খেই। একসময় ভেঙে যায় ‘দি মাঝি অপেরা’। হারিয়ে যায় শাহিনুর। পর্দার আড়ালে থেকে এই নর্তকী তার প্রেমিকার প্রতিষ্ঠা পেতে অবদান রাখে। দীর্ঘ তেরো বছর পর জীবনের মঞ্চে আবার শাহিনুরের আবির্ভাব।
‘কৃষ্ণপক্ষের আলো’ নদী তীরবর্তী প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর এক অসাধারণ আলেখ্য। ঔপন্যাসিক আশ্চর্য কুশলতায় উঠিয়ে এনেছেন আবহমান বাঙলার অন্ত্যজ শ্রেণির শিল্প, সাহিত্য, ধর্ম, রাজনীতি ও সমাজ বাস্তবতা। সুনিপুণভাবে চিত্রিত হয়েছে বাঙালি জাতির মহান অর্জন মুক্তিযুদ্ধের প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির সূক্ষ্ম দিকসমূহ। ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িকতা, পুরুষতান্ত্রিকতার নগ্ন থাবা লেখকের ক্ষুরধার তীর্যক আঁচড়ে অতি চমৎকাররূপে বাঙময় হয়ে উঠেছে।
বিয়োগাত্মক এ গল্পে কেন্দ্রীয় চরিত্র শাহিনুর পতিত শ্রেণির এক বঞ্চিতা নারী। গল্পকার তার মুনসিয়ানা দিয়ে বাস্তবসম্মতভাবে পতিত এ নারীকে পাঠকের কাছে উপস্থাপন করেন মহীয়সী রূপে।
শিল্পের সব ধারায় কাজ করলেও আনোয়ার হোসেন বাদল মূলত এক শক্তিমান কবি ও কথাশিল্পী। তার প্রকাশিত প্রত্যেকটি উপন্যাস নিঃসন্দেহে শিল্পগুণসমৃদ্ধ এবং সুখপাঠ্য। কৃষ্ণপক্ষের আলো বাংলাসাহিত্যে এক অমূল্য সম্পদ হয়ে থাকবে প্রত্যাশা রইলো।
সৈয়দ মাজহারুল পারভেজ
বহুমাত্রিক লেখক ও সাহিত্যজন
কৃষ্ণপক্ষের আলো
জন্ম ২৩ নভেম্বর, গোপালগঞ্জ জেলায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগে স্নাতকোত্তর শেষে বর্তমানে একটি বেসরকারি কলেজের অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত। শৈশব থেকেই লেখলেখিতে আগ্রহী। প্রথম প্রকাশিত বই ‘চাঁদ চোয়ানো জোৎস্নায় ফিরে এসো নদীবতী মেয়ে’।
তোমার জন্য মেয়ে
শৌখিন ফটোগ্রাফার শুভ্র। তার পৃথিবী মমতাহীন শূন্যতায় ভরা। একে একে কাছের মানুষদের প্রস্থান তার জীবনকে ক্যামেরার ক্লিকের সাথে বন্দি করে ফেলে। এক সময় তার নিঃসঙ্গ জীবনে আসে দুঃখ ভাগ করে নেওয়ায় আগ্রহী মানুষেরা। হয়তো তারা একই মানুষ। ভিন্ন তাদের নাম। তারা সেতু-ঋতু-রূপা অথবা স্বাতী। যারা শুভ্রর মনস্তাত্ত্বিক ভাবনা-যৌন বিশ্বাস-উড়ন্ত নেশা ও বিপন্ন ক্ষতের সাথে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় জড়িয়ে যায়। অথবা তারা কেউ না। শুধু শুভ্র। শুধু নিঃসঙ্গ একজন মানুষ। নিজস্বতায় নিমগ্ন। যে ক্রমশ ঢুকে যায় অচেনা এক জগতে! নিষিদ্ধ ভাষা ও চিঠির ভাঁজে…
গুহা
মানুষ আনন্দ চায়। মানুষ হাসতে চায়। সব সময় গভীর চিন্তায় ডুবে থাকা, কাজে ডুবে থাকা মানুষের জন্য অসম্ভব, তেমনি অসম্ভব সব সময় গুরু-গম্ভিব কিছু পাঠ করা। আনন্দের জন্য মানুষ নাটক, সিনেমা উপভোগ করে, গান শোনে। পাঠের ভেতর আনন্দ পাবার জন্য পাঠকরা রম্যসাহিত্য পড়তে চায়।
বাংলা সাহিত্যে খ্যাতিমান রম্যলেখদের স্মরণ করতে গেলেই প্রথমে মনে আসে সৈয়দ মুজতবা আলীর নাম। শৈশব থেকেই আমরা তাঁকে পড়ছি। তাঁর লেখা পড়তে গেলে মনে হয় পৃথিবীতে দুঃখ, হতাশা বলে কিছু নেই। সর্বত্রই ছড়িয়ে আছে শুধু আনন্দ, হাসি। দুঃখে-বিষাদের মধ্য থেকেও তিনি রস টেনে বের করেছেন। আমরা মনে করতে পারি ‘পন্ডিত মশাই’ গল্পটার কথা। গল্পটায় কিন্তু তৎকালীন সমাজের খুবই মর্মান্তিক, অমানবিক দিক ফুটিয়ে তুলেছেন। কিন্তু রসে টইটম্বর। আনন্দের কোনো কমতি নেই। তাঁর চাচা কাহিনী, টুনিমেম,ময়ূরকন্ঠী এবং ভ্রমণ কাহিনীগুলোতে আমরা অপার রস আস্বাদন করেছি।
এ ছাড়াও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়, সাগরময় ঘোষ, আবুল মনসুর আহমেদ, নুরুল মোমেন, কাজী দীন মোহাম্মদ, মোহাম্মদ আব্দুল হাই, কালীপ্রসন্ন সিংহ, আতাউর রহমান এঁরা বাংলা ভাষার রম্য সাহিত্যের ভান্ডারকে অনেক সমৃদ্ধ করেছেন। বর্তমানেও বাংলাসাহিত্যে বিশেষ করে বাংলাদেশে অনেকেই ভাল রম্যগল্প লিখছেন। বিশ্বসাহিত্যে জেরোম কে জোরোম এবং সমারসেট মম আমাদেরকে অনেক আনন্দ দিয়েছেন।
যাহোক, তারপরও বলবো বাংলা সাহিত্যে বতর্মানে রম্যসাহিত্য যতটা হবার ততটা হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে রম্যসাহিত্য কিছুটা অবহেলা পাচ্ছে প্রকাশকদের কাছ থেকে। রম্য লেখকগণ যথাযথ মূল্যায়ন পাচ্ছেন না। এরূপ প্রতিকূলতার মাঝেও আমরা কেউ কেউ রম্যসাহিত্য করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। লেখার মাধ্যমে মানুষকে হাসানো, মানুষকে আনন্দ দেয়া যে কতটা কঠিন কাজ যা যিনি করেন তিনিই শুধু বোঝেন। তবে রম্যসাহিত্য বলতে আমরা যদি শুধু হাসি-আনন্দ-কৌতুক বুঝে থাকি তাহলে আমাদের বোঝার মধ্যে বড় ভুল থেকে যাবে। কৌতুকের ভেতর দিয়ে, সমাজের, রাষ্ট্রের নানাবিধ অসঙ্গতি, মানুষের চরিত্রের, আচরণের নানা ভুলক্রুটি তুলে ধরা হয়। হাস্যরসের ভেতর দিয়ে ধর্মান্ধ, প্রতিক্রিয়াশীল, নেতা, রাষ্ট্রপরিচালক অনেকের বুকের ভেতরই হুল ফুটিয়ে দেয়া হয়।
বিভিন্ন পত্রপত্রিকার রম্যবিভাগ গুলোতে আমি দীর্ঘদিন ধরে রম্যগল্প লিখছি। ২০২৩ সাথে আমার প্রথম রম্যগল্পের বই ‘ঘুমই সফলতার চাবিকাঠি’ প্রকাশ হয় প্রিয় বাংলা প্রকাশনা থেকে। বইটি উৎসর্গ করেছিলাম বর্তমান সময়ের খুবই পরিচিত রম্য লেখক শফিক হাসানকে। মূলত তাঁরই অনুপ্রেরণায় আমার রম্যগল্প লেখা শুরু। আমার প্রথম রম্যগল্পের বইটি যথেষ্ট পাঠক প্রিয়তা পেয়েছে। পাঠকদের কাছ থেকে ভাল সাড়া পেয়েছি। সেই সূত্র ধরেই আমি আরেকটি রম্যগল্পের পাণ্ডুলিপি প্রস্তত করতে সাহস করি। আমার বর্তমান পাণ্ডুলিপিতে ১৮টি রম্যগল্প আছে। গল্পগুলোর সবই দেশের প্রথম শ্রেণির পত্রিকার রম্য বিভাগে প্রকাশ হয়েছে। আমি আশা রাখি, আমার বর্তমান বইটিও পাঠকদের হাসাতে পারবে, আনন্দ দিতে পারবে, সেই সাথে যথাস্থানে হুল ফোটাতে পারবে। এই দুঃখভরা কর্মময় পৃথিবীতে কেউ যদি আমার লেখার কোনো একটা লাইন পড়ে ফিক করে হেসে ফেলে এর চেয়ে সার্থকতা আর কিছু নেই একজন লেখকের জন্য।
Piyar Alir Ghum Asena by Abul Kalam Azad
কবিতার পথ কণ্টকময়। চিরকাল কবির আরাধ্য, তবু কবিতা অধরা থেকে যায়। এটা সত্য, কবির ঔরসে কবিতার জন্ম। কিন্তু যখন কবি থাকেন না, তখন কবিতাই বহন করে কবির অলৌকিক স্বর।
এক যুগ ধরে কবিতা-পথের যাত্রী মুহাম্মদ ফরিদ হাসান। তার লেখাগুলো প্রধানত প্রেম, সৌন্দর্য চেতনা, দর্শন যাপনের অভিঘাতকে কেন্দ্র করে। সরল বাক্যবন্ধে কবিতায় তার উচ্চারণ চিরকালীন।
মিথ্যুক আবশ্যক তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ। প্রিয় পাঠককে কবির শিল্পজগতে আমন্ত্রণ।
মিথ্যুক আবশ্যক - Mitthuk Abosshok
সদালাপী, সুদর্শন, হাসিখুশি ডাক্তার আমাকে খুবই স্বাভাবিক ভঙ্গিতে, গল্পচ্ছলে জানিয়ে গেলেন, ‘আই অ্যাম অ্যা পেশেন্ট অব একিউট প্রো-মাইলোসাইটিক লিউকেমিয়া!’ সহজ-সরল ভাষায় যাকে বলে ব্লাড ক্যানসার!
আমার কী ভীত হওয়া উচিত? নাকি আতঙ্কিত হওয়া উচিত? আমি কি বিষন্ন হব? নাকি বেদনার্ত হব? আমার এই মুহুর্তে ঠিক কেমন লাগা উচিত? কী আশ্চর্য! আমার কিছুই মনে হচ্ছে না। বরং একরাশ নির্লিপ্ততা যেন আমাকে ঘিরে ফেলল। সেই সময় আমি চলৎশক্তিহীন হয়ে সম্পূর্ণ পরনির্ভরশীল মানুষ। মনে মনে ভাবার শক্তিও যে মানুষ কখনো কখনো হারায় কে জানত!
আমি যদি মারা যাই, তাতে এই পৃথিবীর তেমন কিছুই এসে যাবে না। আমি পুরো ব্যাপারটা হিসাব করতে চাইলাম। যেমন : আমার বরের বয়স কম, আমার মৃত্যুর পর সে কিছু দিন মন খারাপ করে ঘুরবে, তারপর আরেকটা বিয়ে করবে, সোজা-সাপটা হিসাব। আমার মায়ের আরেকজন কন্যা আছে। দুজন ছিল, একজন থাকবে। বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন কয়েকদিন কাঁদবে। তারপর ভুলেও যাবে, যে যার মতো কাজে মন দেবে। কখনো আমার কথা মনে হলে হয়তো ভাববে, আহা মেয়েটা এত অল্প আয়ু নিয়ে পৃথিবীতে এসেছিল, মরে গেল! আমার মৃত্যুতে সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত হবে যে,সে হলো আমার ছেলে জারিফ। ওর বয়স যে মাত্র বিশ মাস। মানে এক বছর আট মাস। ও তো এখনও এই পৃথিবীর কিছুই বোঝে না। ও তো জানবেই না ওর জন্য মা কতো কষ্ট করেছে এক সময়। কত ভালোবাসার ধন ছিল সে তার মায়ের। এমনকি ও যখন বড় হবে, ওর মায়ের কোন স্মৃতি ওর মনে থাকবে না।
আমার ঘুম আসে না একদমই। দিনের পর দিন না ঘুম আসা কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে, তা অন্যরা ভাবতেও পারবে না। মনে হতো আমার সাথে মৃত্যুর দূরত্ব কেবল একটা পাতলা নাইলন সুতোর। সুতোটার উপর আমি দাঁড়িয়ে আছি। হাঁটতে গেলেই সোজা মৃত্যু কূপ। একটু নড়ব তো সোজা নিচে মৃত্যুদূত অপেক্ষায়।
কামরুন নাহার
piyakm19@gmail
Banchar Ki Je Ananda by Kamrun Nahar
শিমুল মাহমুদ তথাকথিত প-িতগণের একাডেমিক ট্র্যাশ থেকে ঘোষণা দিয়েই দূরে সরিয়ে রেখেছেন নিজেকে; সেইসাথে অস্বীকার করেছেন যাবতীয় লিয়াজোবাদি পুরস্কার ও গোষ্ঠীকেন্দ্রিক পিঠ-চাপড়ানো অসভ্যতা। কবিতার সাথে তাঁর সখ্য স্বৈরশাসনের দুঃসহকাল গত শতাব্দীর আশির দশক থেকে। সমান্তরালে কথাসাহিত্যে রেখেছেন নির্মোহ ছাপ; সেইসাথে সক্ষম হয়েছেন নিজেকে একজন সিদ্ধহস্ত সমালোচক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে। সহজাত বৈশিষ্ট্যে শিমুল মাহমুদের গদ্যমাত্রই হয়ে ওঠে মুক্তকণ্ঠ ও মুক্তচিন্তার বাহন; যা অবশ্যই সিরিয়াস পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত।
শিমুল মাহমুদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে পাঠ গ্রহণ শেষে ইউজিসি-র স্কলার হিসেবে পৌরাণিক বিষয়াদির ওপর গবেষণা করে অর্জন করেছেন ডক্টরেট ডিগ্রি। বর্তমানে তিনি রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক, চেয়ারপারসন ও কলা অনুষদের ডিন-এর দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে সম্পাদনা করেছেন সাহিত্যের কাগজ ‘কারুজ’। লেখকের জন্ম : ১৯৬৭ সালের ৩ মে
প্রকাশিত গ্রন্থ: ২৫টি
কাব্যকথা কাকবিদ্যা
দুরবিন উল্টো হয়ে পড়ে আছে
গ্যালিলিও অন্ধ; সেই কবেই নিভে গেছে আলেকজান্দ্রিয়া; নালন্দার দীর্ঘশ্বাস গোপনে হজম করে বেড়ে উঠেছে ইতিহাসের অন্ধকার; বহু শতাব্দী নিভৃতে কেঁদেছে মহেঞ্জোদারো।
আমার বুকের ভেতরে নিয়ত পুড়ছেন জিওর্দানো ব্রুনো; লাঞ্ছিত হচ্ছেন হাইপেশিয়া; বেঘোরে গর্দানের ভয়ে অপমানিত আলোক-বর্তিকার মতো মাথা নত করে ঘরে ফিরছেন ইমানুয়েল কান্ট;
দ্রাবিঢ়-রমণীর অসহায়ত্বের উঠোনে সগর্বে গজিয়ে ওঠা যে ধর্ষকামী সভ্যতা, তার সাথে আঁতাত করে এই যে বৈঠা বাওয়ার তোড়; একে কি জীবন বলে !
দুরবিন উল্টো হয়ে পড়ে আছে;- এই
স্বপ্নের বাগানে কোনো কুসুমের দ্যাখা নেই
ব্যক্তিজীবনে, এবং সমাজ, রাষ্ট্র ও বৈশ্বিক ঘুর্ণায়নে একের পর এক বিবিধ অন্ধকারের আগমন ঘটে চলেছে। সকল অন্ধকার সবার চোখে পড়ে না। সবাই একই ঘটনা বা দৃশ্যকে অন্ধকার বলে মনেও করেন না। কিন্তু যে-চোখ, তা দেখে, তার কাছে এগুলো অসহ্য বেদনার। অমেয় অন্ধকারের পরিত্রাণহীন বেদনা তাকে কুরে কুরে খায়। সেইসব পরিত্রাণহীন অন্ধকার রাজ্যের কিছু কিছু দৃশ্যকে কবিতায়ন করবার চেষ্টা এই পুস্তকটির প্রধান বৈশিষ্ট্য। এর এক-একটি কবিতা যেন আলোক-প্রত্যাশী প্রাণের পারিজাতে প্রষ্ফূটিত অন্ধকার রাজ্যের নিশানা…।
এই বইয়ের পাণ্ডুলিপি পড়ে নব্বইয়ের কবি শামীম নওরোজ লিখেছেন- ‘কবি বলছেন ‘অন্ধকার সিরিজ’, আমি এই কাব্যগ্রন্থের সকল কবিতা পড়ে বলতে চাচ্ছি ‘আলো সিরিজ’। আমার মনে হচ্ছে এই কাব্যের সকল শব্দে, পংক্তিতে ছড়িয়ে আছে আলো’–
ANDHAKAR SIRIJ by Kumar Deep
‘অশেষ আলোর উপলক্ষ’ বইয়ের সব কবিতাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে লেখা। কবিতাগুলোতে আমাদের ত্যাগ, আবেগ ও আক্ষেপ; দেশপ্রেম বলিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। সেই সাথে রাজনৈতিক সুবিধাবাদীদের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার, স্বাধীন দ্যোতনায় উদ্দীপ্ত ও উত্থিত। প্রতিটি কবিতায় রয়েছে স্বতন্ত্র সৌরভ। কবিতাগুলো সব বয়সি পাঠকের উপযোগী এবং সহজ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে লেখা আমার জন্য সহজ ছিল না। তাকে কোনোদিন দেখিনি। তার মুখের কথা শুনিনি। মুক্তিযুদ্ধ করিনি। টুঙ্গিপাড়া দেখা হয়নি। তার সমাধিসৌধ দেখিনি। সেই মধুমতির জল স্পর্শ করিনি। শুধু উপলব্ধির আলোয় লেখা এই কবিতায় অনুরক্ত হয়ে প্রকাশের আগ্রহ ও সাহস দেখিয়েছেন অনুপ্রাণন প্রকাশনের প্রকাশক আবু মোহাম্মদ ইউসুফ। তার প্রতি রইল অশেষ ভালোবাসা।
আমার সমস্ত কবিতার বনফুল আমার ঘরের ডাক্তার রিতি আক্তার। সে সবকিছু সামলে না রাখলে আমি এতটা অসামাজিক হতে পারতাম না। এই উদ্ভট জীবন উপভোগে আমি তার কাছে ঋণী।
আলী ইব্রাহিম
অশেষ আলোর উপলক্ষ - Asesh Alor Upolokkho
অনুভূতির পরাগ মাখানো প্রজ্ঞা নিয়ে মানব স্বঅবয়ব, দেশ, পৃথিবী ও জগতের
ঘটমানতাকে প্রত্যক্ষ করে। সেও ধর্মবিশ্বাসের আদলে আদম-হাওয়ার মিথের মত
খুঁজে পেতে চায় কার্য-কারনের একটি আদিম যুগোল। ভূমি ধ্বস, উষ্ণতা, মহামারি
বা একজন শাসক মানবের অস্তিত্বে যে সম্পন্নতা-বিপন্নতা সৃষ্টি করে তার বিশ্লেষণে
কার্য-কারনের ক্রোমোজোমের শিকল ধরে ধরে পৌঁছাই প্রাগৈতিহাসে, সংলগ্ন থাকি
ইতিহাসে, পৌছুতে চাই ভবিষ্যতে। এই কালিক-ধাবনে প্রজ্ঞার উচিয়ে থাকা রৌদ্রাকাঙ্খি
শাখা-প্রশাখা থেকে উড়তে থাকে জন্মান্তরের ক্ষমতা সম্পন্ন অনুভূতির বিস্ফোরক পরাগ,
ঝরে পরে মানবের পথ-পরিক্রমার মানচিত্রে। কবিতার ডালায় কুড়িয়ে নিলেই তা কবিতা
বা নিহিতার্থে রাজনৈতিক কবিতা।
একটি কাব্যিক নীরবতা
মুঠোর মধ্যে আটকে রাখা যায় জল বা বালু?
মুঠোর ফাঁক গলে বের হয়ে যাবেই বালু বা জল। কেনো? নিজস্ব ব্যাকরণ বা ক্ষমতার প্রকাশ। ছোটগল্প এমনই শক্তির অপরূপ রহস্য। লুকিয়ে রাখা যায় না গল্পের রসবতী ফল, পেকে টসটসে বুকের আস্তিনে তীক্ষè ছুরির গতিতে বের হয়েই আসে কলমের ডগায়, রুদ্ধ মনের দুয়ার খুলে।
রোখসানা ইয়াসমিন মণি’র দ্বিতীয় গল্পের বই ‘অলৌকিক গৃহকোণ’। প্রথম গল্পের বই ‘ঘুঙুরবাড়ি’ বের হয়েছিল ২০২২ সালে। আঁকিয়ে শিল্পী হাতুড়ি বাটালী হাতে পাথরের বুকে খোদাই করেন বিম্বিত মনের অন্বয়, গল্পকার মণিও শব্দের কারুবাসনায়, কল্পমনের ইজেলে গল্পের ক্যানভাসে আঁকেন পীড়িত মনের আগুন সংরাগ, চলমান সময়ের বিদ্যুৎ কামনা ভৈরবী, সংসার যাতাকলের যন্ত্রনার শতকাহন, বৈরী সময়ের বিপরীতে সোনার বাটায় পান শুপারীর নি:স্ব সর্ম্পকের নির্যাস।
‘অলৌকিক গৃহকোণ’ গল্পগন্থের গল্পগুলো রক্তজবার তিল হয়ে জ্বলছে গল্পকারের অস্তিত্বের যাতাকলে যেমন, উল্টোপথে দগ্ধ পাঠকের মনের কার্নিসেও দিচ্ছে অনুগত শৌর্যবার্তা। বইয়ের নয়টি গল্প সহ¯্র দিগন্তের আলো ও অন্ধকারের এক প্রবাল দ্বীপ, যেখানে ওঠে ঝড়, ভাঙ্গে তীর, নাচে দানব, কাঁদে আয়াত দৃষ্টির অচলায়তন।
আসুন, রোখসানা ইয়াসমিন মণি’র গল্প পড়ি আর চেতনসমুদ্রের অলৌকিক জলে সাঁতার কাটতে থাকি…
Oloukik Grihokon - Rokshana Yesmin Mony
Get access to your Orders, Wishlist and Recommendations.














There are no reviews yet.