Description
নাসরীন জাহানের জন্ম ১৯৬৪ সালে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের। মা, মৃত উম্মে সালমা। বাবা- মৃত গোলাম আম্বিয়া ফকির। তার জীবন পার্টনার আশরাফ আহমদ। যিনি দুর্দান্ত কবিতা লেখেন। কন্যা- অর্চি অতন্দ্রিলা যে বিবিসির প্রোগ্রাম প্রোডিউসার। নাসরীন জাহানের জাদুকরি ভাষা, তাঁর সহজাত। তীব্র বিপন্ন বিষয় তিনি একেবারে নির্বিকারভাবে শিউরে ওঠা অনুভূতির মধ্যে দিয়ে আনায়াসে নিয়ে আসেন। তাঁর লেখা তখনই জাদুবাস্তবময় হয়,যখন দেশের মানুষের, মনো-দৈহিক ক্লিষ্ট অবস্থা তুলে আনেন। তিনি উড়ুক্কু উপন্যাসের জন্য তিরিশ বছর বয়সে তখনকার জাঁদরেল ফিলিপস পুরস্কার পান। এর ছয় বছর পরই সমগ্র সাহিত্যে এককভাবে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান। কিশোর উপন্যাসের জন্য আলাওল পুরস্কার, খালেদ দাদ পুরস্কার, অপরাজিতা সহ প্রচুর পুরস্কারে ভূষিত হন। তাঁর লেখা মঞ্চনাটক নাগরিক নাট্ট সম্প্রদায় আর সুবচন মঞ্চস্থ করে দারুণ প্রশংসা কুডায়। তাঁর উপন্যাস উড়ুক্কু কায়সার হক দ্বারা অনুদিত হয় দ্য ওমেন হু ফ্লিউ নামে। বইটি পেঙুইন থেকে বেরোয়। এখন তিনি কথাসাহিত্যের পাশাপাশি কবিতাও লিখছেন।




































মানুষ বাঁচে স্বপ্ন নিয়ে। সবার স্বপ্ন থাকে তার পরিবারকে ভালোকিছু উপহার দেওয়া। পরিবারকে ভালো কিছু উপহার দিতে অর্থের দরকার হয়। অর্থ ব্যতীত সবকিছু মূল্যহীন। অর্থের জন্য মানুষ কি না করে। নিজের জীবনকে বাজি রেখে ভূমধ্য সাগরের মতো সাগর রাবারের নৌকা দিয়ে পাড়ি দেয়। এর মধ্যে শতকরা আশি জনই জানে যে তারা মারা যাবে। তবুও তারা পাড়ি দেয়। পরিবারের মুখে হাসি ফুটাতে। আপনজনকে উজাড় করে দিতে। মানুষের কত-শত রকমের স্বপ্ন তা শরণার্থী উপন্যাসটি পড়লে বুঝতে পারবেন। বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপট, আমেরিকা-ইউরোপের চালবাজি এবং দরিদ্র দেশ থেকে পাড়ি দিয়ে ফার্স্ট ওয়াল্ডের নাগরিক হওয়া যে কতটা কষ্টকর এবং ঝুকিপূর্ণ তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। বাস্তব ঘটনাগুলো নিয়ে শরণার্থী উপন্যাসটি লিখিত। যারা ইউরোপ আমেরিকা গিয়েছেন তারা যেমন স্মৃতিচারণ করতে পারবেন। যারা এখনও যাননি তারাও অনেক অজানা বিষয় জানতে পারবেন।


দিনের বৃষ্টির চেয়ে রাতের বৃষ্টি অনেক বেশি আবেদন নিয়ে মানুষের কাছে ধরা দেয়। ঝড়ের রাতে মেঘের ডাক মানুষের মনে অজানা এক রহস্যের আভাস দেয়। শিক্ষা সফরে রাঙামাটি গিয়ে এমনই এক ঝড়ের রাতে অতিপ্রাকৃত সব গল্পের আসর জমে ওঠে। গল্পের মধ্যমণি বিশ্ববিদ্যালয়ের ষাটোর্ধ্ব বয়সের একজন অধ্যাপক। মেঝেতে থাকা অর্ধগলিত মোমের আলোর সাথে বৃদ্ধ এই শিক্ষকের তীক্ষ্ণ চোখ আর ভারী গলা পরিবেশকে আরো গম্ভীর করে তোলে। গ্রাম বাংলার প্রচলিত নানান ভৌতিক গল্পের বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যাখ্যা তিনি ছাত্রদের মাঝে উপস্থাপন করেন। এক সময় যখন মনে হতে থাকে অতিপ্রাকৃত বলে কিছু হয় না, সকল কিছুই বিজ্ঞান। ঠিক তখন এই অধ্যাপকের কণ্ঠ হতে ভেসে আসে ভিন্ন সুর। এবার তিনি বলতে আরম্ভ করেন তাঁর জীবনে ঘটে যাওয়া বিচিত্র আর অদ্ভূত সব গল্প । অবারিত এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের সকল ঘটনা ব্যাখার মাঝে সীমাবদ্ধ নয়। শেষ বেলায় এসেও কোথায় যেন একটা ‘কিন্তু’ থেকেই যায়…



There are no reviews yet.