Description
প্রসঙ্গকথা
Human being has unlimited potentialities- অর্থাৎ মানুষের মধ্যে রয়েছে অফুরন্ত সম্ভাবনা। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে যে, সম্ভাবনার পাশাপাশি সীমাহীন বাধাও রয়েছে। প্রতিটি মানুষ যদি নিজের সম্ভাবনাকে আবিষ্কার করতে পারে বা নিজের সামর্থ্যকে উপলব্ধি করতে পারে এবং সেসব সম্ভাবনার বাধা কাটিয়ে কাজ করতে পারে, তাহলে সাফল্য অনিবার্য।
অনস্বীকার্য যে, প্রতিবন্ধী বা অটিস্টিক শিশুদের মধ্যেও রয়েছে অফুরন্ত সম্ভাবনা। তাদেরকে খাটো করে দেখার কোনো অবকাশ নেই। এসব শিশুকে অবহেলা না করে তাদের সম্ভাবনার জগতকে আবিষ্কার করে তা কাজে লাগাতে পারলে যে কোনো স্বাভাবিক শিশুর মতো তারাও প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারবে, তা দৃঢ়তার সঙ্গে বলা যায়। অটিস্টিক শিশুরাও বিরল প্রতিভার অধিকারী হয়, তারাও বিভিন্ন কাজে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রাখতে পারে এমন প্রমাণও প্রচুর দেখা যায়।
আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে যে, গতানুগতিক লেখাপড়া ও কাজের বাইরেও ব্যতিক্রম অনেক কাজ আছে যেগুলোর মাধ্যমে সাফল্য অর্জন করে ভালোভাবে জীবনযাপন করা সম্ভব। তাই অটিস্টিক শিশুকে নিয়ে গতানুগতিক চিন্তা না করে, বরং তার অন্তর্নিহিত সম্ভাবনা বা সামর্থ্যকে খুঁজে বের করে, সে অনুযায়ী তাকে সহযোগিতা দিয়ে কাজ করার সুযোগ তৈরি করা উচিত।
‘নিশাত’ উপন্যাসটির মূল চরিত্র একজন অটিস্টিক শিশু, যার নামও ‘নিশাত’। নিশাতের মতো আমাদের সমাজে হাজারো শিশু রয়েছে যাদের ভেতরের কী সম্ভাবনা রয়েছে সে সম্পর্কে অনেক মা-বাবা বা অভিভাবকের ধারণা নেই। অটিস্টিক শিশুর অন্তর্নিহিত প্রতিভাকে বুঝে, সে অনুযায়ী শিশুকে কাজ করার সুযোগ তৈরি করে দিলে তারাও ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। এমন শিশু কি আমাদের চোখে পড়ে? একটু আশপাশে তাকিয়ে দেখুন, পাবেন অনেক অটিস্টিক শিশুর ঈর্ষণীয় সাফল্য। নিশাতের চরিত্রটি সেভাবেই নির্মাণ করা হয়েছে যে অবহেলার শিকার হয়, দুটি স্কুল থেকে তাকে বের করে দেওয়া হয় এবং হঠাৎ করেই নিশাত তার অন্তর্নিহিত ক্ষমতাকে প্রদর্শন করে কিশোর বয়সেই সংগীতচর্চার মধ্য দিয়ে জীবনে সাফল্যের দ্বার উন্মুক্ত করে। ‘নিশাত’ চরিত্রটি অটিস্টিক চরিত্রের একটি উদাহরণ মাত্র, যে উদাহরণ থেকে আমরা এমন শিশুর সত্তা ও প্রতিভাকে লালন করে তাকে সাফল্যের পথ তৈরি করে দিতে পারি। নিশাত অটিস্টিক হলেও সে অবহেলার নয়, সে আমাদের গর্বের।
নিশাতের মতো সমাজের প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিশুদের প্রতি সদাশীল হই এবং তাদের সুন্দর ও সফল ভবিষ্যৎ নির্মাণে অবহেলা না করে আন্তরিক সহযোগিতা করি- এই হোক আমাদের সবার অঙ্গীকার।
লেখক















মানুষ বাঁচে স্বপ্ন নিয়ে। সবার স্বপ্ন থাকে তার পরিবারকে ভালোকিছু উপহার দেওয়া। পরিবারকে ভালো কিছু উপহার দিতে অর্থের দরকার হয়। অর্থ ব্যতীত সবকিছু মূল্যহীন। অর্থের জন্য মানুষ কি না করে। নিজের জীবনকে বাজি রেখে ভূমধ্য সাগরের মতো সাগর রাবারের নৌকা দিয়ে পাড়ি দেয়। এর মধ্যে শতকরা আশি জনই জানে যে তারা মারা যাবে। তবুও তারা পাড়ি দেয়। পরিবারের মুখে হাসি ফুটাতে। আপনজনকে উজাড় করে দিতে। মানুষের কত-শত রকমের স্বপ্ন তা শরণার্থী উপন্যাসটি পড়লে বুঝতে পারবেন। বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপট, আমেরিকা-ইউরোপের চালবাজি এবং দরিদ্র দেশ থেকে পাড়ি দিয়ে ফার্স্ট ওয়াল্ডের নাগরিক হওয়া যে কতটা কষ্টকর এবং ঝুকিপূর্ণ তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। বাস্তব ঘটনাগুলো নিয়ে শরণার্থী উপন্যাসটি লিখিত। যারা ইউরোপ আমেরিকা গিয়েছেন তারা যেমন স্মৃতিচারণ করতে পারবেন। যারা এখনও যাননি তারাও অনেক অজানা বিষয় জানতে পারবেন।
There are no reviews yet.