Description
সিরাজউদ্দিন আহমেদ জন্ম ৩১ ডিসেম্বর ১৯৪৭ সালে ঢাকায়। পৈত্রিক নিবাস ঢাকা জেলার কেরানিগঞ্জ থানা কলাতিয়া ইউনিয়ন শমসেরপুর গ্রামে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশনা বিভাগ থেকে প্রকাশিত মাসিক ‘কৃষিকথা’ ও নিউজলেটার ‘সম্প্রপ্রসারণ বার্তা’র সম্পাদক পদে চাকরি করেছেন। ২০০৫ সালে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। স্কুল জীবন থেকে লেখালেখির শুরু। প্রথম প্রকাশিত গল্প ‘দুখি’ ১৯৬৩ সালে কিশোর মাসিক ‘সবুজ পাতায়’ প্রকাশিত হয়।
প্রকাশিত কিশোর গ্রন্থ : তিতি ও প্যাক (উপন্যাস), রীতুর পুতুল অরুণ বরুণ (উপন্যাস), রাজা পেল সাজা (উপন্যাস), বিড়াল নিয়ে বাড়াবাড়ি (উপন্যাস), চোর (উপন্যাস), ইচ্ছে ঘুড়ি আকাশে উড়ি (উপন্যাস), ভূত আছে ভূত নেই (গল্প), অদম্য রহস্য (গল্প), কিশোর বয়েজ ক্লাব, (গল্প), কিশোর সমগ্র- ১ , কিশোর সমগ্র- ২।
গল্প/উপন্যাস : প্রভুভক্ত কুকুর (ছোটোগল্প), বন্ধুর জন্য শোক ( ছোটোগল্প), প্রেমকথা (ছোটোগল্প ), মুখোশ (ছোটোগল্প), প্রতিনায়ক (উপন্যাস), পুণ্যবতী (উপন্যাস), বসন্তের দিনগুলিতে প্রেম (উপন্যাস), তনিমা ও পাঁচটি কুকুর (উপন্যাস), জেগে আছি (উপন্যাস), তুমি আছো আমি আছি (উপন্যাস), যে আছো অন্তরে (উপন্যাস)





































সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তোলাই কবির কাজ। কিন্তু এটা নেহায়েৎ সহজ কোনো কাজ নয়। এজন্য কবিকে সারা জীবন সাধনা করে যেতে হয়, হতে হয় দুঃসময়ের মখোমুখি আর কবি হয়ে ওঠেন সুন্দরের স্বপ্নদ্রষ্টা এবং সৌন্দর্য ক্রমেই সংক্রামিত হয়ে মানুষের মনের মন্দিরে রূপ লাভ করে।


‘দুঃখিত এই মুহূর্তে মোবাইল সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’ কথাটা শুনে ভীষণ ভড়কে যায় আকলিমা। আরও কয়েকবার ফোন দিয়ে একই কথা শুনতে পায় সে। হাত-পা কাঁপতে থাকে। চোখের চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসে। বুকের খোড়লে শব্দ হয় দুমদুম। ভাবে, এ কোন পরীক্ষায় পড়লো সে। নানারকম চিন্তা মাথায় জট পাকায়। ছেলেটির কোনো বিপদ হলো না তো! না কি ইচ্ছে করেই তার সাথে এমনটি করছে সে। কিন্তু কেন করবে এমন? বিশ্বাস করতে পারে না আকলিমা। কিন্তু তার বিশ্বাস অবিশ্বাসে কিছু যায় আসে না। পৃথিবীতে বহু ঘটনা ঘটে যেটার মীমাংসা মানুষ করতে পারে না। তাই খেয়ালে-বেখেয়ালে মানুষ মানুষকে নিয়ে খেলে আশ্চর্য সব ভয়ংকর খেলা। তবু আশা ছাড়ে না আকলিমা। অপেক্ষায় থাকে অদেখা ছেলেটির ফোনের জন্য। কিন্তু কিছু অপেক্ষার হয়তো শেষ থাকতে নেই। জীবনকে অদৃষ্টের হাতে ছেড়ে দিয়ে মাঝে মাঝে মানুষ নিজেকে ভারমুক্ত করতে চায়। নিজেকে ভাগ্যের ঘরে ঠেলে দেওয়া ছাড়া অন্য কোনো পথ খুঁজে পায় না সে। বায়বীয় এক সম্পর্কের টানে এতো দূর চলে আসা নিজের নির্বুদ্ধিতার প্রকাশ মাত্র। দূরে পশ্চিমে লাল সূর্যটা ঝুলে আছে মায়া লাগিয়ে। একপা দু’পা করে সামনে এগোয় সে। হাঁটতে হাঁটতে একটি পুলিশ বক্সের নিচে গিয়ে দাঁড়ায়। দীর্ঘ নিশ্বাস বাতাসে মিশে হু হু করে ছুটে পালাচ্ছে পূব-পশ্চিম-উত্তর-দক্ষিণে। কড়া বিকালটা চুপ হয়ে নরম বিকেল হয়ে উঠেছে কেবল। দুজন কনস্টেবল তাকে ফলো করে কাছে এসে দাঁড়ায়। সাদারঙের পুলিশটা মাথা ঝুঁকিয়ে জিজ্ঞেস করে, ‘কোথায় যাবে?’

There are no reviews yet.