Description








$ 2.12 $ 2.82
গাঢ় প্রগাঢ়–
তোমার গলার স্বর বেজে ওঠে কালিক ভাষায়
আমি ঊর্ধ্বাকাশে তাকালে ঝরে পড়ে
নিষ্ঠ পেন্ডুলামের নির্মোহ দোল।

| Weight | 0.216 kg |
|---|---|
| Published Year | |
| দ্বিতীয় মুদ্রণ | 2025 |
নাহিয়ান ফাহিম। জন্ম: ২৩শে মার্চ, ১৯৮৪। ময়মনসিংহ জেলা। ঢাকাতে বেড়ে ওঠা। মূলতঃ পাঠক, ফলতঃ লেখক। সাহিত্য পত্রিকা ‘জলমাঝি’র সম্পাদক। মার্কেংটিং বিভাগে স্নাতকোত্তর। পেশাগত জীবনে একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত। প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ভিনদুপুরের নোটবই’।
মধ্যবিত্ত কবিতা
লেখক পরিচিতি :
তানভীর আহমেদ হৃদয়। জন্ম: ৩ডিসেম্বর, ১৯৮৫ইং। মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। প্রকাশিত গ্রন্থের তালিকায় আছে কবিতা, গল্প, উপন্যাস, ছড়া। এছাড়া সম্পাদিত গ্রন্থের তালিকায় আছে কবিতা ও গল্প। লেখকের লেখা প্রতিনিয়ত দেশে ও বিদেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে।
অচেনা রৌদ্রের রঙ
লেখক পরিচিতি :
প্রজ্ঞা মৌসুমী। জন্ম: এক শরতে দাদুবাড়ি কুমিল্লায়, বেড়ে ওঠা সুনামগঞ্জে। ঊনিশ বছর থেকে পড়াশুনার জন্যে প্রবাস জীবন। এক এসাইনমেন্টের জন্যে প্রথম ইংরেজি কবিতা লিখার শুরু। প্রথম জীবনের কবিতাগুলো ইংরেজিতেই লেখা, কিন্তু মন আঁকুপাঁকু করে বাংলায় লিখতে; তারই ফলশ্রুতিতে আজকের প্রথম কবিতা ফসল ‘পৌরাণিক রোদ এবং অতিক্রান্ত কাঠগোলাপ’। লেখক কবিতা ও গল্প লিখে পেয়েছেন অনেক পুরস্কার তাই বাংলা সাহিত্যের অত্যুজ্জল আলোয় নিজেকে উদ্ভাসিত করার স্বপ্ন দেখেন অহর্নিশ।
পৌরাণিক রোদ এবং অতিক্রান্ত কাঠগোলাপ
ডালিয়া চৌধুরী। তোলারাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্স মাস্টার্স শেষ করেছেন। কবিতার প্রতি ভালোবাসা থেকে কবিতা লেখার সূত্রপাত। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ, ‘অনুভবে সুখ’ ‘মেঘময় নিকুঞ্জে রধুন‘ ও ‘জলজ কামনা’।
নীল গোধূলি
হাসানআল আব্দুল্লাহ। জন্ম: ১৪ই এপ্রিল, ১৯৬৭। গোপালগঞ্জ জেলার গোপিনাথপুর গ্রামে। তিনি প্রবর্তন করেছেন নুতনধারার সনেট। তার মৌলিক কাব্যগ্রন্থর সংখ্যা দশ। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষার কবিতার অনুবাদে প্রকাশ করেছেন বিশ্ব কবিতার কয়েকছত্র। অন্যান্য প্রকাশিত গ্রন্থ- সনেটগুচ্ছ ও অন্যান্য কবিতা, আঁধারের সমান বয়স, এক পশলা সময় প্রভৃতি। ২০০৭ ও ২০১৫ সালে নিউইয়র্কের কুইন্স শহরের পোয়েট লরিয়েট ফাইনালিস্টের সন্মান পেয়েছেন।
বৃত্তের কেন্দ্রেও কবিতার মুখ
লেখক পরিচিতি :
সুলতানা শাহরিয়া পিউ। জন্ম: ২রা অক্টোবর। লেখালেখি, আবৃত্তি ও সঙ্গীতচর্চা তার শখ। অনুপ্রাণন সম্পাদনা পর্ষদ এর সদস্য, বর্তমানে দীপ্ত টেলিভিশনের স্ক্রিপ্ট রাইটার হিসেবে কর্মরত আছেন। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ: ‘মেঘের সাথে কথা’। অনুবাদ কাব্যগ্রন্থ: ‘নিমগ্ন জলধারা’। স্ক্রিপ্ট সঙ্কলন: ‘আমরা করব জয়’। গীতিকবিতার অনুবাদ: ‘অচিন’। গল্প সংকলন: ‘মেঘের দেশে ফিরে যাবার গল্প’।
আমার দিনগুলো রইলো অসম্পূর্ণ
আবু জাঈদ। জন্ম: ২২শে জুলাই ১৯৮৩, ঢাকা। পড়াশুনা অসমাপ্ত রেখে একসময় কবি বাউণ্ডুলে জীবনের এলোমেলো আলপথে নেমে যান বেঁচে থাকার প্রয়োজনে, তাই বলে কাব্যচর্চা থেমে থাকেনি। এক সন্তানের জনক। এটি লেখকের প্রথম প্রকাশিত বই।
মানচিত্রের ফাঁসি চাই
মেঘ অদিতি। কবি ও গল্পকার হিসেবে ‘দু’বাংলাতে পরিচিত। জন্ম: ৪মে, জামালপুর। বর্তমানে গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে কর্মরত। প্রকাশিত গ্রন্থ: ‘জলডুমুরের ঘুম (কাব্য)’ ‘অস্পষ্ট আলোর ঘোড়া (গল্প)’ ‘অদৃশ্যতা হে অনিশ্চিতি (কাব্য)’ এবং ‘সময় শূন্যতার বায়োস্কোপ (মুক্তগদ্য)।
প্রবেশিধকার সংরক্ষিত
লেখক পরিচিতি :
হান্নান হামিদ, লেখক নাম কালের লিখন। জন্ম: আগস্ট, ১৯৮৪। জামালপুর। ‘বিশ্বাস শুধুই নিঃশ্বাস’ লেখকের প্রথম বই।
বিশ্বাস শুধুই নিঃশ্বাস
লেখক পরিচিতি :
মোহাম্মদ হোসাইন। জন্ম: ৩১শে অক্টোবর। বিএসসি ও এমএসসি’র শিক্ষা সমাপন শেষে এখন শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত আছেন। লেখকের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ মোট ১১টি। ‘ভালোবাসা নির্বাসনে গেছে’ ‘মেঘগুলো পাখিগুলো’ ‘অরণ্যে যাবে অস্তিত্বে পাপ’ উল্লেখযোগ্য বইয়ের শিরোনাম।
অনুদিত রোদের রেহেল
আলী রেজা। জন্ম: ১৯৫৭। মুক্তিযুদ্ধে আলোড়িত কবি, সত্তর দশকে মূলত ছোটকাগজে লেখালেখি শুরু করেন। সদ্য অবসরে যাওয়া একটি রাষ্ট্রায়াত্ত প্রতিষ্ঠানের বিপণন ব্যবস্থাপক। এটি কবির প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
আলী রেজা
সিদ্দিক প্রামানিক। জন্ম: ২১শে আগস্ট ১৯৭৯, কুস্টিয়ার কুমারখালী থানার চরভবানীপুরগ্রামে। বাংলা সাহিত্যে মাস্টার্স শেষ করে বর্তমানে একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন এবং বাম প্রগতিশীল সংগঠনের সক্রিয় সংগঠক ও সংস্কৃতকর্মী। প্রথম বই ‘হাঙরের সমুদ্রে মননশীল মাছ’।
উন্মাদের কনসার্ট
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ২০২৩ এর জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৩১ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। বিবিসি’র খবর, ২০০৯ থেকে গত ১৩ বছরে খেলাপি বেড়েছে ৬ গুণ।
খেলাপি কমানোর দায়িত্ব ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের নিতে হবে- এ বক্তব্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নরের। অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স-বাংলাদেশ (এবিবি) বলেছে- খেলাপি নিয়ন্ত্রণ একাকী সম্ভব নয়। তবে এবিবি’র সুপারিশ মত ব্যবস্থা নিলে নাকি ২ বছরে খেলাপি শূন্যে নামিয়ে আনা যাবে।
খেলাপিদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা বিল পাস। খেলাপিদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, পিপলস ব্যাংক চেয়ারম্যান আটক। বেসিক ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারি: ৫৮ মামলার আসামি চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে দুদকের চিঠি।
২০২৩ এর ২৪ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, দেশে ঋণখেলাপির সংখ্যা ৭,৮৬,০৬৫ জন। অর্থমন্ত্রী ২০২০ সালে সংসদে ৮,২৩৮ প্রতিষ্ঠানের খেলাপির তালিকা দেন। এই সংখ্যাগুলো বাড়ে বেশি, কমে খুবই সামান্য।
২০১৯ এর জুন পর্যন্ত খেলাপির অর্থে কী কী হতো? সিপিডি’র সমীক্ষায় এর জবাব পাওয়া গেছে। ১ লাখ ১২ হাজার ৪৩০ কোটি টাকায় পদ্মা সেতু সড়কে ব্যয়ের অঙ্কের সমান ৩টি সড়ক সেতু অথবা পদ্মা সেতু রেল লিংকের সমান আরও ৩টি রেল সেতু বা মাতারবাড়ীর মতো ৩টি বিদ্যুৎ প্রকল্প অথবা ঢাকা মেট্রোরেলের মতো ৫টি প্রকল্প বা দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার এবং ঘুমধুমের মতো ৬টি রেলপথ কিংবা রামপালের মতো ৭টি বিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি করা যেতো।
তাই প্রশ্ন উঠছে, জনগণ ও রাষ্ট্রের এই বিপুল পরিমাণ খেলাপির টাকা বছরের পর বছর কেন অনাদায়ী পড়ে থাকবে?
বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল কান্ডারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগ। এর দ্বিতীয় প্রজন্মের নেতা ও আলোর দিশারী বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর নেতৃত্বে ইতোমধ্যে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, বঙ্গবন্ধু টানেলসহ অনেক দৃশ্যমান সাফল্যলাভ হয়েছে। মানুষের বিশ্বাস, দেশপ্রেমিক এই জাতীয় নেতার নির্মোহ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তেই লাখ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণও পুনরুদ্ধার হবে। এবং দেশে শুরু হবে আরও মৌলিক সমস্যা নিরসন, উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের উৎসব।
Khelapi Rin : Khomotaboly Ebong Unnoyon Prekkhit
PRACHIN BANGLAR PORAMATI-FALAKSHILPA O ANNANNO - প্রাচীন বাংলার পোড়ামাটি-ফলকশিল্প ও অন্যান্য
১৯৫৮ সালে জিম ম্যাকিনলি নামের এক আমেরিকান মিশনারি কার্যক্রম চালানোর উদ্দেশ্যে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে এসেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে সপরিবারে ফেনী অবস্থানকালে পাক বাহিনীর অতর্কিত বিমান হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছিল তাঁর পরিবার। সুযোগ পেয়েও তিনি পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশ ত্যাগ করতে রাজি হননি। নিজের জীবন বাজি রেখে বাংলাদেশের মানুষের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের ফসল ৮ মাসের দুঃসহ অভিজ্ঞতা নিয়ে রচিত ‘ডেথ টু লাইফ’। নাহার তৃণার বাংলা রূপান্তর ‘মৃত্যু পেরিয়ে জীবন’। যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকার মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিলেও সেদেশের অসংখ্য হৃদয়বান মানুষ নিজ সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বাঙালিদের জন্য খুলে দিয়েছিলেন উদারতা ও মমত্বের দুয়ার। ম্যাকিনলি রচিত এই স্মৃতিকথা তারই এক অনন্য উদাহরণ।
Mrittu Periye Jibon By JIm Mckinley, Translated By Nahar Trina - এক আমেরিকান মিশনারির একাত্তরের স্মৃতি
জীবনের অন্য নাম প্রকৃতি, প্রকৃতি জন্ম দেয় অন্তর্গত ভাবাবেগকে,এই ভাবাবেগই লেখায় কবিতা। যে কবিতা জীবন পাতার শিরায় শিরায় ঘটায় আলোক সংশ্লেষণ! জীবনকে নতুন পাতার মত সতেজ করে, সবুজ করে। কবিতা মুখে নিয়ে জন্ম আমার। ঘুম ভাঙলেই দেখতাম মা পায়চারি করছেন আর কবিতা আওড়াচ্ছেন, হে মোর চিত্ত পূণ্য তীর্থ জাগোরে ধীরে অথবা আমি হব সকাল বেলার পাখী…
নির্ঘুম দুুপুরে ছিল আমার মেঘের সাথে কথা চলাচলি! এমনি করে কবিতা আর প্রকৃতি মিলেমিশে এক হয়ে যেত। ক্রমশ তা হৃদগভীরে আরও প্রস্থিত হতে থাকল মৌন প্রকৃতির মৌনতাতে মুগ্ধ হতে হতে কি এক অসীম রহস্যের হাতছানিতে ছুটে চলল মন! টের পেলাম জীবনের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রকৃতি কেমনে নীরবে তার কাজ করে যায়। তাইতো ছায়া বললে বৃক্ষের কথা মনে আসে। আর বৃক্ষ মনে করিয়ে দেয় পিতা বা মাতাকে।
কিন্তু হঠাৎ একদিন জানলাম এই মৌনই নীরবতা ভেঙে ফুঁসে উঠতে পারে মানুষের অপকর্মের প্রতিবাদে- বজ্রপাত, সাইক্লোন, জলোচ্ছাস, আগ্নেয়গিরির অগ্নুপাত, বন্যা, তুষারঝড়ের রুপে। এই প্রকৃতি আমাদের প্রতিবাদী হতে যুদ্ধবাজ হতে শেখায়। আবার নম্রতার থেকে শেখায় ধ্যানমগ্ন হতে, অসীম সহ্যক্ষমতার অধিকারী হতে। ছোটবেলায় সেদিন প্রথম গেলাম শহীদ মিনারে প্রভাত ফেরীতে সেদিন শুনলাম একুশের প্রথম কবিতা- জানলাম রমনার ঊর্ধ্বমুখী কৃষ্ণচূড়ার কথা- জানলাম বাংলার সবুজ জমিনে লাল সূর্যের কথা! আস্তে আস্তে বুঝতে পারলাম প্রকৃতি আমাকে কবিতা লেখাচ্ছে। অনুভব করলাম ভালোবাসি প্রকৃতিকে, প্রেমে পড়েছি! আমার লেখার মূল উপজীব হয়ে উঠেছে প্রকৃতি প্রেম। প্রকৃতি নাই আসলে ঈশ্বর বন্দনটি অথচ সবকিছু ছাপিয়ে মনের ভেতর যে ক্ষরণ টের পাই- তার একটাই জিজ্ঞাসা- যীশুখৃষ্টের জন্মস্থানে পঞ্চাশ হাজার গর্ভবতী মায়েরা কি নির্বিঘ্নে প্রসব বেদনা ভুলবে? বিশ্ব শান্তির পক্ষে কি নবজাতকেরা গেয়ে উঠবে গান? কেমন পৃথিবী চিনবে ওরা? ওদের প্রাণে কি জাগবে নতুন পাতা, সবুজ গাথা? নতুন বছওে ওদের কানে কি পৌঁছুবে আমার কবিতা?
Tar Nam Chayar Moton
‘দুঃখিত এই মুহূর্তে মোবাইল সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’ কথাটা শুনে ভীষণ ভড়কে যায় আকলিমা। আরও কয়েকবার ফোন দিয়ে একই কথা শুনতে পায় সে। হাত-পা কাঁপতে থাকে। চোখের চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসে। বুকের খোড়লে শব্দ হয় দুমদুম। ভাবে, এ কোন পরীক্ষায় পড়লো সে। নানারকম চিন্তা মাথায় জট পাকায়। ছেলেটির কোনো বিপদ হলো না তো! না কি ইচ্ছে করেই তার সাথে এমনটি করছে সে। কিন্তু কেন করবে এমন? বিশ্বাস করতে পারে না আকলিমা। কিন্তু তার বিশ্বাস অবিশ্বাসে কিছু যায় আসে না। পৃথিবীতে বহু ঘটনা ঘটে যেটার মীমাংসা মানুষ করতে পারে না। তাই খেয়ালে-বেখেয়ালে মানুষ মানুষকে নিয়ে খেলে আশ্চর্য সব ভয়ংকর খেলা। তবু আশা ছাড়ে না আকলিমা। অপেক্ষায় থাকে অদেখা ছেলেটির ফোনের জন্য। কিন্তু কিছু অপেক্ষার হয়তো শেষ থাকতে নেই। জীবনকে অদৃষ্টের হাতে ছেড়ে দিয়ে মাঝে মাঝে মানুষ নিজেকে ভারমুক্ত করতে চায়। নিজেকে ভাগ্যের ঘরে ঠেলে দেওয়া ছাড়া অন্য কোনো পথ খুঁজে পায় না সে। বায়বীয় এক সম্পর্কের টানে এতো দূর চলে আসা নিজের নির্বুদ্ধিতার প্রকাশ মাত্র। দূরে পশ্চিমে লাল সূর্যটা ঝুলে আছে মায়া লাগিয়ে। একপা দু’পা করে সামনে এগোয় সে। হাঁটতে হাঁটতে একটি পুলিশ বক্সের নিচে গিয়ে দাঁড়ায়। দীর্ঘ নিশ্বাস বাতাসে মিশে হু হু করে ছুটে পালাচ্ছে পূব-পশ্চিম-উত্তর-দক্ষিণে। কড়া বিকালটা চুপ হয়ে নরম বিকেল হয়ে উঠেছে কেবল। দুজন কনস্টেবল তাকে ফলো করে কাছে এসে দাঁড়ায়। সাদারঙের পুলিশটা মাথা ঝুঁকিয়ে জিজ্ঞেস করে, ‘কোথায় যাবে?’
Bhagyo Ek Koutuker Nam by Milon Ashraf
বইটার নাম হতে পারত শামুকের ডিম। কিন্তু হলো না। হতে পারতো বমির দোকান, কিংবা ভ্রম ও বিভ্রম অথবা হতে পারত জোসনাখেকো মানুষের রূপকথা। কিন্তু কোনোটাই হলো না। জগতে কত কিছুই তো হওয়ার কথা থাকে! হয় না।
অবশেষে বৃষ্টি ও নাকফুলের গল্পটাই টিকে গেল। কিন্তু এর ভেতরে ভেতরে রয়ে গেল শামুক ও শামুকের ডিম। রয়ে গেল ভ্রম ও বিভ্রম কিংবা জোসনাখেকো মানুষের রূপকথাও। সব মিলিয়ে হয়তোবা এটাই বমির দোকান।
এখন। আশেপাশে তাকালে এমন কিছু দেখা যাচ্ছে যা ধারণ করা যাচ্ছে না। বরণও করা যাচ্ছে না। নিস্তারও পাওয়া যাচ্ছে না। শুধু সয়ে যেতে হচ্ছে।
ফলে ভ্রম ও বিভ্রমের ভেতরে গুরুত্ব পাচ্ছে না শামুকের ডিম। জোসনাখেকো মানুষের রূপকথাগুলোকে বমির মতো মনে হচ্ছে।
তাই এইসব কিছুকে এড়িয়ে বা না-এড়িয়ে, তুলে ধরে বা না-ধরে রহস্যময় বৃষ্টির কাছে যাই। যেখানে হারিয়ে গেছে দেশমাতৃকার নাকফুল।
Brishti O Nakfuler Golpo by Emran Kabir
জানা অজানা জাপান প্রবন্ধ সংকলনের প্রথম খণ্ডটি ২০০৮ সালে প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে দেশ-বিদেশে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে দেখে দ্বিতীয় খণ্ডটি ২০০৯ সালে প্রকাশের জন্য সহযোগী হয়েছিলেন জাপান প্রবাসী আমার ১৯ জন বিশিষ্ট বন্ধু ও শুভাকাক্সক্ষী মোঃ জসীম উদ্দিনের উদ্যোগে। প্রচুর অনুরোধ এসেছিল জাপান নিয়ে আরও লেখার জন্য। কিন্তু একটি দেশ ও জাতিকে নিয়ে লেখা নানা দিক দিয়েই কঠিন কাজ। বিশেষ করে, যে-দেশের মানুষের ভাষা, সংস্কৃতি, চিন্তা ও দর্শন সম্পূর্ণ আলাদা বাংলাভাষাভাষী দেশের চেয়ে। তবুও আড়াই যুগ ধরে এ দেশে বসবাসের ফলে যতখানি পড়া-জানা-শোনা-দেখার সৌভাগ্য হয়েছে, এবং এ দেশের কলকারখানার শ্রমিক থেকে শুরু করে আদালতের বিচারপতি পর্যন্ত আলাপচারিতা, মতবিনিময়ের সুযোগ ঘটেছে তারই ফলাফল এই প্রবন্ধগুলো। যা অ্যাকাডেমিক গবেষণার দাবি রাখে। বলা বাহুল্য, নিজস্ব গবেষণার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে জাপানের বৈচিত্র্যময় ইতিহাস, সংস্কৃতি, সমাজ, রাজনীতি, ধর্ম, অর্থনীতি এবং জীবনযাপন তুলে ধরার চেষ্টা করেছি যতখানি অনুধাবনের ক্ষমতায় কুলিয়েছে।
প্রবন্ধগুলো আরেকবার সংশোধন, সংযোজন, গ্রহণবর্জন করা হয়েছে সাধ্যমতো। আশা করি বৃহত্তর বাঙালির অজানা বিষয় নিয়ে রচিত রচনাগুলো জাপান অনুরাগীদের ভালো লাগবে। পাঠকের ভালো লাগলেই আমার পরিশ্রম সার্থক হবে বলে বিশ্বাস করি। তবে প্রবন্ধগুলো বিভিন্ন সময় সময় বিভিন্ন পত্রিকা ও সাময়িকীতে লিখেছি ফলে তথ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে, যা এড়ানো এককথায় অসম্ভব। পাঠকের বিরক্তির কারণ হলে তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।
গ্রন্থটির দ্বিতীয় সংস্করণ উদীয়মান প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অনুপ্রাণন প্রকাশন ঢাকা থেকে প্রকাশিত হচ্ছে তার জন্য প্রকাশককে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
Jana Ojana Japan (2nd Volume) by Probir Bikash Sarker
গাঢ় প্রগাঢ়–
তোমার গলার স্বর বেজে ওঠে কালিক ভাষায়
আমি ঊর্ধ্বাকাশে তাকালে ঝরে পড়ে
নিষ্ঠ পেন্ডুলামের নির্মোহ দোল।
নস্টালজিক বিভাস
গতকাল রাতে মাতাল জোছনা পড়েছিলো জলে
হৃদয়পুরে বসেছিলো নিতম্বের বেসাতি
আর কিছু জোনাকি ঢেলে দিলো আলো-
আমি শুধু পৃথিবী দেখেছিলাম ভাঙা আয়নায়।
অথচ তুমি আজ শুয়ে আছো-
পুকুরের পাড়ে, জোছনা তোমাকে ছোঁয় না
বসন্তসখা উড়ে যায় নীল দিগন্ত ছুঁয়ে
কতো কীটপতঙ্গ বাসা বাঁধে তোমার হিয়ায়।
মাতাল জোছনা ও ঝিঁঝিঁপোকা
সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তোলাই কবির কাজ। কিন্তু এটা নেহায়েৎ সহজ কোনো কাজ নয়। এজন্য কবিকে সারা জীবন সাধনা করে যেতে হয়, হতে হয় দুঃসময়ের মখোমুখি আর কবি হয়ে ওঠেন সুন্দরের স্বপ্নদ্রষ্টা এবং সৌন্দর্য ক্রমেই সংক্রামিত হয়ে মানুষের মনের মন্দিরে রূপ লাভ করে।
Sundorer Shwapnodroshta - Rasel Muhammad Khairul
দশম শ্রেণিতে পড়া ১৫ বছরের নিশি ও কলেজে পড়া ১৭ বছরের অর্ক এই দুই টিনএজ বিপরীত স্বভাবের বালক বালিকার পরস্পরকে ভালো লাগার গল্প ‘নিশির চোখে জল’। এ বয়সে দেহ-মনের যে পরিবর্তন ঘটে, চিন্তা-চেতনায় অনুভবে জেগে ওঠে স্বপ্নের ভুবন, কামনাবাসনার গোপন জগৎ তৈরি হয়। আমি চেষ্টা করেছি টিনএজ বয়সের এই আনন্দ-বেদনা নির্ভর ভুবনের ছবি আঁকতে।
নিশির মা তনিমা ও অর্কের মা মাধবী স্কুল জীবনের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। অর্কের বাবা একজন চিত্রশিল্পী। কী এক অজানা কারণে একদিন নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। এই বিপদে মাধবী কারো সাহায্য প্রার্থী হয়নি। এত দিন একাই অর্ককে নিয়ে সংসার টেনেছেন। অর্ক খুব অসুস্থ। চিকিৎসার জন্য অর্ককে নিয়ে ঢাকায় তনিমার বাসায় এসেছে মাধবী। ১৭ বছরের অর্ক আর ১৫ বছরের নিশির দেখা হয়। তারপর…
Nishir Chokhe Jol by Serajuddin Ahmed
প্রতীকাশ্রিত রূপকল্পের ভেতর দিয়ে করোটিমঞ্চে খেমটাওয়ালি অস্তিত্ব ও অনস্তিত্বের কিছু অন্তর্জ্ঞানীয় দৃশ্যকে সাকার করে তুলেছে। এখানে মহেঞ্জোদারো-নর্তকীর নির্মিত ত্রিভুজের ভেতর আঘ্রাত হয় পদ্মসৌরভ, আকাশে বিস্তৃত হয় পদ্মতন্তুর অসীম অংশুজাল, রক্তপদ্মের ছায়ার ভেতর মাছের সংকেতভাষা দীপ্যমান হয়ে ওঠে, জলপুষ্পের ত্রিভুজভ‚মির ভেতর তরঙ্গধ্বনি সংশ্রুত হয়, নির্জন জলদৃশ্যের ভেতর জেগে ওঠে কার্পাস-আচ্ছাদিত পদ্মদল যা কখনো স্বপ্নের ভেতর করতলে আঁকে সাইজমিক ঊর্মিকা; নারকেল বনের এসরাজ আর নিভৃত মাঠ সুষুম্নার ভেতর পার্থিব গান্ধার রচনা করে, অঞ্জন ফুলের অন্তরালে মাঠের রূপান্তরণ সমস্ত সত্তায় শিহরন জাগায়, কখনো নীল পপির গানে কেঁপে ওঠে মাঠ; প্রতিটি চন্দ্রকম্পের পর স্নিগ্ধ-কিরণ অপ্সরা আবির্ভূত হয়; সৈকতচারিণীর সেরিব্রামে কাক্সক্ষা ও শ্রান্তির দ্বৈরথ দৃশ্যমান হয়, গুলাচিনিলীন সৈকতে জলশব্দে খুলে যেতে থাকে সীমান্তের সকল দরজা; আর নীল বরফের নিচে নিস্পন্দ শরীরে শ্রুত হয় মাইক্রোবের গুঞ্জন।
Karotimanche Khemtawali by Gauranga Mohanto
বিমূর্ত ভাবনার মূর্ত প্রকাশ কবিতা। কবি ঘোরলাগা নেশার ঘোরে মননে সৃষ্টি করেন কবিতার অন্তর্নিহিত ভাব। অন্তর্নিহিত ভাবে কবি ভাবনার শিল্প-দ্যোতনায় তৈরি হয় নান্দনিকতা। সংবেদনশীল কবিমনই কবিতার জন্মভূমি। কবির নিজের মনে শুরু হয় কবিতার ফল্গুধারা, বন্ধনহীন, অনির্দিষ্টভাবে। কবি কবিতাকে খোঁজে জীবনের ভেতর, অসীম প্রকৃতি, স্বপ্ন ও কল্পনার ভেতর। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, ‘ক্ষ্যাপা খুঁজে খুঁজে ফেরে পরশপাথর।’ কবিমন জীবন ও জগতের সংস্পর্শে এসে ভাবাবেগে স্পন্দিত হয়ে ছন্দিত বাণী বিকশিত করে। কবিতার ছন্দময় শরীরে চরম শৈল্পিক উৎকর্ষতায় কবি কবিতার আত্মা সৃষ্টি করেন। চিত্রকল্প, রূপকল্প, উপমা, উৎপ্রেক্ষা, অলংকার, চৈতন্যে মুগ্ধতার আবেশ ইত্যাদি দিয়ে সাজিয়ে তোলেন দেহসৌষ্ঠব। কবিতা হয়ে ওঠে আলো-আঁধারি। বোঝা না বোঝার রহস্য জাদু প্রতিভাত। যেন শীতের শেষ বিকেলের রোদ, ছুঁতে ছুঁতে না ছোঁয়া। বাঁশের ঝাঁড়ে হঠাৎ ওঠা ক্ষ্যাপা বাতাসের চেনা অথচ অচেনা সুর। সম্বরের পিছু ডাকে দুরন্ত মায়া হরিণীর ত্রস্ত-বিক্ষিপ্ত চকিত মদির চাহনি। ক্রৌঞ্চ-ক্রৌঞ্চি দম্পতির বিরহী আর্তস্বর, বিস্মিত, বিমোহিত আদি কবি বাল্মিকীর কবিতার প্রাণ প্রতিষ্ঠা।
ড. হুমায়ূন আজাদ বলেছেন, ‘কবিতা বোঝার জিনিস নয়, কবিতা অনুভবের, উপলব্ধির।’ কবিতা দুর্জ্ঞেয় কিন্তু স্বতঃস্ফ‚র্ত প্রণোদনা। বাস্তবের সঙ্গে কল্পনার, নিজের সঙ্গে অন্যের, বর্তমানের সঙ্গে অবর্তমানের, সমকালের সঙ্গে মহাকালের যোগ যত নিবিড় হয় কবিতা তত মহার্ঘ্য হয়ে ওঠে। কবির বিমূর্ত ভাবনায় কবিতা কখনো শোকাহত হৃদয়ের আর্তনাদ, বেদনাবিধুর কান্না, আবার কখনো অধিকারবঞ্চিত শোষিত, নিপীড়িত মানুষের ধ্বনি এবং স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত সৈনিক। কবিতা এভাবেই কালের প্রতিভ‚ হয়ে এসেছে। হয়ে উঠেছে শাশ্বত। কবির ভাব প্রকাশের সর্বোৎকৃষ্ট মাধ্যম কবিতা, কেননা এই শিল্পটি নান্দনিকতা ও জীবনমুখিতায় ভরপুর। কবি এর মাধ্যমে বুদ্ধিভিত্তিক স্ফ‚রণ ও মননশীলতার নিখুঁত চিত্রকর্মটি সম্পাদন করতে পারেন।
কবিতার ভেতরে থাকে উন্মাদনা, উত্তেজনা, ভাব-সাধনা। যেকোনো শিল্পের ভাবই প্রধান। কবির কবিতার ছন্দ, বুনন, অলংকরণ, রস ইত্যাদির ভিন্নতা প্রাপ্তি হয় বটে, কিন্তু সংবেদনশীলতা অপূর্ণ থাকে না। ক্ষুণ্ন হয় না শিল্পগুণ। কবিতা বিশুদ্ধ মননচর্চার ফসল। যে ফসলের পরিচর্যা কবি নিরন্তর করেন। তবে কবিতার আত্মা ও শরীরের শৈল্পিক আচ্ছাদনই কবিতার সার্থকতা। কবিতা বহুরৈখিক, সরল একরৈখিকভাবে সংজ্ঞায়িত করা যাবে না। কবিতা বোদ্ধারা অনেক কথা বলেছেন। কীটস মনে করেন, কবিতা যুদ্ধ করবে তার সূক্ষ্ম অপরিমেয়তায়, ঝংকারে নয়। এমিল ডিকিনসন বলেন, আমি যদি কোনো বই পড়ি এবং যা আমার শরীরকে এত শীতল করে তোলে যে, কোনো আগুনই আমাকে উষ্ণ করতে পারে না। আমি জানি সেটাই কবিতা। কবি ওয়ার্ডসওয়ার্থ কবিতাকে বলেছেন, তীব্র অনুভূতির স্বতঃস্ফ‚র্ত উৎসারণ। বোদলেয়ার কবিতাকেই কবিতার শেষ কথা বলেছেন। তাই কবিতা নিয়ে বলা যায়, ‘বলো বলো তোমার কুশল শুনি, তোমার কুশলে কুশল মানি।’
Sur Vule Jei Ghure Berai - Shankari Daser Kabita Somogro
এই গ্রন্থে রয়েছে আটটি গল্প। গল্পগুলোতে আমরা পাই বিচিত্র অভিজ্ঞতার ক্যানভাস। যেখানে ব্যক্তিগত জীবনের ক্ষুদ্র স্রোতে প্রতিফলিত হয় বৃহৎ ইতিহাসের তরঙ্গ, রাজনৈতিক শঠতা, রাষ্ট্রযন্ত্রের মূঢ়তা, সামাজিক রন্ধ্র, বৈশ্বিক সহিংসতা, আত্মসংঘাতের প্রতিধ্বনি…
প্রতিটি গল্প যেন আতশি কাচের নিচে রাখা মানুষের মনের মানচিত্র। গল্পগুলো কেবল কাহিনি বলে না, প্রশ্ন তোলে, খোঁচা দেয়, নিরুত্তর করে। ব্যক্তিগত যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে উঠে আসে এক বিপন্ন সময়ের প্রতিচ্ছবি, ঘ্রাণে-গন্ধে ভরা অস্থির বাস্তবতা।
গল্পগুলো অন্তর্দৃষ্টির সাহসী ভাষ্য।
Jhulbaranday Israel-Filistine by Habibullah Rasel
Get access to your Orders, Wishlist and Recommendations.

































There are no reviews yet.