Additional information
| Weight | 0.200 kg |
|---|---|
| Published Year |



$ 1.41 $ 1.88
কবিতা ধারণ করে পৃথিবীর গুঢ়তম রহস্য। সে রহস্য এমনই যে আজ পর্যন্ত কোন কবি কবিতার কোন সার্বজনীন সংজ্ঞা নির্ধারণ করে উঠতে পারেননি। মাসুদ আলম বাবুল একাধারে একজন কবি ও কথাশিল্পী। কবিতার রহস্যময়তাকে তিনি ধারণ করেছেন আপাদমস্তক।
“অতৃপ্তির অন্ধকারে একা” মাসুদ আলম বাবুল এর নবম কাব্যগ্রন্থ। বইটি কবিতাকেই যেমন রহস্যময় করে তুলেছে, তেমনি রহস্যকে তুলে এনে স্থাপন করেছে কবিতার শরীরে।
“কেউ কেউ শূন্যতাকে আকাশ আর সামিয়ানা ভাবে/ অন্ধ গলির লাইটপোষ্টে দেখে নেয় আলেয়ার মুখ।” —বস্ত্রহীন সভ্যতায় উদগ্র ভালোবাসাগুলো অশ্লীল।
মাসুদ আলম বাবুল এর কবিতায় ভিন্নতর একটি ব্যঞ্জনা আছে, আছে গভীর উপলব্ধির সরল প্রকাশ। তার কবিতার মধ্যে ডুব দেয়া যায়, তুলে আনা যায় মুক্তো ভরা ঝিনুক সমগ্র। গভীর উপলব্ধিগুলো উঠে আসে নতুন কথার একেকটা বাক্য হয়ে।
“যা মনে হয় তা কখনোই মনে হয়নি/ কখনো যা মনে হয়নি তাই মনে হয় বারবার।” –অদৃশ্য জ্বলন।
কবির এই একাকী অন্ধকার তার একান্তই নিজস্ব অতৃপ্তির অন্ধকার। আর তাই বেরিয়ে আসার ব্যাকুলতাও অদ্ভুত আবেদনময়।
“রাত ফুরোলেই চকচকে রোদে ভরা লনে/ চলো, দু’হাতে আলো আর ভালোবাসা ধরি।” –তুমি জেগে ওঠো।
জেগে ওঠার তৃপ্তি পেতেই বোধ হয় মাসুদ আলম বাবুলের একাকী অতৃপ্তির অন্ধকারে তাঁর সঙ্গি হবার চেষ্টা করাই যায়।
লুতফুল বারি পান্না
কবি ও প্রাবন্ধিক।
| Weight | 0.200 kg |
|---|---|
| Published Year |
লেখক পরিচিতি :
নিখিল নওশাদ। জন্মসন: ১৯৮৯ইং। বড়িয়া, ধুনট, বগুড়া, বাংলাদেশ। ‘বিরোধ, ‘নিওর’ ও ‘নীড়’ পত্রিকার সম্পাদনা পরিষদের সাথে যুক্ত। এটি লেখকের প্রথম প্রকাশিত বই। এছাড়া ছোটগল্প বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত সথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছেন।
এটি একটি চিৎকার
অরণ্যক তপু। জন্ম: ১৯৯৪ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর, ঢাকার ঝিগাতলা। পৈত্রিক নিবাস বরিশালের পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি উপজেলায়। বর্তমানে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত। এটি লেখকের প্রথম প্রকাশিত বই।
ব্যথিত ভায়োলিন
মুর্শিদা জামান। জন্ম: ১৯৮৩ সনে বর্তমান বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠি জেলায়। শৈশব ও বেড়ে ওঠা দক্ষিণের খুলনা শহরে। বাংলায় অনার্স সহ এমএ করেন ইডেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ছাত্রজীবন থেকেই লেখালেখির সূত্রপাত। কবিতা লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ছোট কাগজ ও সাহিত্য বিষয়ক মাসিক পত্রিকাতে ছোটগল্প প্রকাশিত হয়েছে। প্রকৃতি ও পশু-পাখির প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও সখ্যতা রয়েছে। বর্তমানে তিনি লেখালেখি নিয়েই ব্যস্ত।
অদৃশ্য ছায়ার প্রজাপতি
রঞ্জনা বিশ্বাস। জন্ম: ১০ডিসেম্বর, ১৯৮১। গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া থানার রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের বাগবাড়ি গ্রামে খ্রিস্টিয়ান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ‘ভুলস্বপ্নে ডুবে থাক আদিবাসী মন’ ও ‘আমি তিনবেলা বৃষ্টিতে ভিজি’ কাব্যগ্রন্থ দু’টি কবির প্রকাশিত কাব্যফসল। এছাড়া কবি কবিতাচর্চার পাশাপাশি ফোকলোরচর্চাকেও ব্রত হিসাবে নিয়েছেন। নৃ-তাত্ত্বিক ও গবেষণাধর্মী কবির আরও বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে। কবি বাংলা একাডেমির ‘তরুণ লেখক প্রকল্প’ ও ‘লোকজ সংস্কৃতির বিকাশ’ প্রকল্পে কাজ করছেন। এছাড়া এখন ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বিভাগে কর্মরত আছেন।
বেদনার পাথর ও প্রান্তিক দীর্ঘশ্বাস
হাসানআল আব্দুল্লাহ। জন্ম: ১৪ই এপ্রিল, ১৯৬৭। গোপালগঞ্জ জেলার গোপিনাথপুর গ্রামে। তিনি প্রবর্তন করেছেন নুতনধারার সনেট। তার মৌলিক কাব্যগ্রন্থর সংখ্যা দশ। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষার কবিতার অনুবাদে প্রকাশ করেছেন বিশ্ব কবিতার কয়েকছত্র। অন্যান্য প্রকাশিত গ্রন্থ- সনেটগুচ্ছ ও অন্যান্য কবিতা, আঁধারের সমান বয়স, এক পশলা সময় প্রভৃতি। ২০০৭ ও ২০১৫ সালে নিউইয়র্কের কুইন্স শহরের পোয়েট লরিয়েট ফাইনালিস্টের সন্মান পেয়েছেন।
বৃত্তের কেন্দ্রেও কবিতার মুখ
আলতাফ হোসেন-এর জন্ম ২৭ অক্টোবর ১৯৪৯। পৈতৃক নিবাস কিশোরগঞ্জ। বাবার চাকরিসূত্রে শৈশব কৈশোর কেটেছে পাটনা, কলকাতা, চাটগাঁ, করাচি ও ঢাকায়। ১৯৬৪ থেকে পুরোপুরিভাবে ঢাকায় বসবাস। অনার্স ও এমএ করেছেন বাংলায়। আলিয়ঁস ফ্রঁসেস, ঢাকা থেকে দু-বছর ফরাসি ভাষা শিখে সনদ পেয়েছেন।
কফি জেগে থাকে
কাজী রহমান। পরবাসী লেখক নিজের পছন্দ মতো বাঁচতে দু-যুগ আগে মার্কিন মুলুকে চলে আসেন স্ত্রী ও প্রথম শিশুকন্যা সাথে নিয়ে। বড় হয়েছেন পুরনো ঢাকার গেন্ডারিয়া’য়। জ্ঞান হবার পরপরই নিজেকে আবিষ্কার করেছেন ঘরের পাশের গ্রন্থাগারে, বিভিন্ন শিশু সংগঠন আর সমাজসেবামূলক সংগঠনের আলোছায়ায়। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার দুরন্ত কিশোর স্বাধীনতার যুদ্ধ দেখেছেন কাছ থেকে আর আতঙ্কের দিন গুনেছেন সারাক্ষণ মুক্তিযোদ্ধা দু’ভাইয়ের ঘরে ফেরার অপেক্ষায়। গ্রাজুয়েশন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। কর্মজীবন কেটেছে বিদেশী এয়ার লাইন্সের কর্মকর্তা হিসেবে।
তারাধুলো জল ও নস্টালজিয়া
তুহিন দাস, কবি ও লিটলম্যাগ কর্মী। জন্ম: ১১ জানুয়ারি ১৯৮৫, জল ও কবিতার শহর বরিশালে। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখি শুরু করেন। প্রথম কবিতার শিরোনাম ‘সমাধিপৃষ্ঠা’। ২০০০ সালে ‘আরণ্যক’ সাহিত্যপত্র সম্পাদনা শুরু করেন। সম্পাদনার জন্যে ২০১১ সালে ‘চিহ্ন সন্মাননা’ পেয়েছেন। বর্তমানে ‘আরক’ পত্রিকা ও প্রকাশনায় কর্মরত আছেন। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ছয়, ‘বনসাই প্রকল্পের মানুষ’ ‘অসুখময় দিনরাত্রি’ ‘বিষাদনীলঘোড়া’ ‘কাজল বিক্রেতার স্বপ্ন’ ‘বাগান সিরিজ’ ও ‘দূরের পাড়া কাছের বাড়ি’।
কাঠের মুখ
লেখক পরিচিতি :
মোহাম্মদ হোসাইন। জন্ম: ৩১শে অক্টোবর। বিএসসি ও এমএসসি’র শিক্ষা সমাপন শেষে এখন শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত আছেন। লেখকের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ মোট ১১টি। ‘ভালোবাসা নির্বাসনে গেছে’ ‘মেঘগুলো পাখিগুলো’ ‘অরণ্যে যাবে অস্তিত্বে পাপ’ উল্লেখযোগ্য বইয়ের শিরোনাম।
অনুদিত রোদের রেহেল
লেখক পরিচিতি :
হামীম ফারুক। পুরো নাম: গোলাম ফারুক হামীম। জন্ম: ২৪শে অক্টোবর, ১৯৬৩, ঢাকা। প্রথম তারুণ্যে কাজ করেছেন ইংরেজি পত্রিকা নিউ নেশন-এ। সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করে এখন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন। মূলস্রোতের সাহিত্য পত্রিকাগুলোতে একটানা লিখেছেন ১৯৮৭ পর্যন্ত। মাঝখানে বিরতি দিয়ে পুনরায় আগমন প্রথম কবিতার বই ‘রোদ ও ক্রোধ, মাঝখানে সাঁকো’ দিয়ে। একটি ই-বুক আছে, ‘নক্ষত্রের চিরকূট’। এটি লেখকের তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ।
প্রকৃতি পুরাণ
লেখক পরিচিতি :
প্রজ্ঞা মৌসুমী। জন্ম: এক শরতে দাদুবাড়ি কুমিল্লায়, বেড়ে ওঠা সুনামগঞ্জে। ঊনিশ বছর থেকে পড়াশুনার জন্যে প্রবাস জীবন। এক এসাইনমেন্টের জন্যে প্রথম ইংরেজি কবিতা লিখার শুরু। প্রথম জীবনের কবিতাগুলো ইংরেজিতেই লেখা, কিন্তু মন আঁকুপাঁকু করে বাংলায় লিখতে; তারই ফলশ্রুতিতে আজকের প্রথম কবিতা ফসল ‘পৌরাণিক রোদ এবং অতিক্রান্ত কাঠগোলাপ’। লেখক কবিতা ও গল্প লিখে পেয়েছেন অনেক পুরস্কার তাই বাংলা সাহিত্যের অত্যুজ্জল আলোয় নিজেকে উদ্ভাসিত করার স্বপ্ন দেখেন অহর্নিশ।
পৌরাণিক রোদ এবং অতিক্রান্ত কাঠগোলাপ
লেখক পরিচিতি :
হান্নান হামিদ, লেখক নাম কালের লিখন। জন্ম: আগস্ট, ১৯৮৪। জামালপুর। ‘বিশ্বাস শুধুই নিঃশ্বাস’ লেখকের প্রথম বই।
বিশ্বাস শুধুই নিঃশ্বাস
রূদ্ধদ্বার কক্ষে আমরা দুজন! বাস্তবে কেউ কারও নই। তবুও কেন জানি দুজনই যেন দুজনার। মৃদুল একই প্লেটে আমাদের খাবারটা নিয়েছে। আমার হাতটুকু ধরে ও আমাকে নিজ হাতে খাইয়ে দিলো। আমিও যেন ওর হাতের খাবারটুকু সসম্মানে খেলাম। মনে মনে আজ যেন ওকে গোটা হৃদয়টাই দিয়ে দিলাম।
কতটা ভালোবাসার প্রস্রবণ ভেতরে থাকলে এমনটি করতে পারছি। এই যে এতটা বছর ওকে নিয়ে দিবারাত্রির স্বপ্ন- অনুভূতির ভেতরে ঘুরুপাক খেতাম, রাতের ঘুম কখনও নির্বিঘ্ন ছিল না, এতটা হৃদয়যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছি। অথচ আজ? ওকে কাছে পেয়ে মনে হচ্ছে প্রেম জীবনের উজ্জ্বলতম মুহূর্ত! মানব অস্তিত্বের সর্বোচ্চ সুখের আস্বাদ দেয় প্রেম। এর পরে কী হবে সে ভাবনাটুকু ভাবার এতটুকু অবকাশ থাকে না। হয়তো একটু পরেই উভয়ই বিমর্ষ মলিন অশ্রুবিধুর মুখখানা নিয়ে বিদায় নেব। চিরদিনের জন্য কেউ আর কারোরই থাকব না। কি কঠিন আর নির্মম বাস্তবতা! তবুও মন কি বোঝে? এই যে এতটা কাছে আছি, এই কাছে থাকা মানে কিন্তু পাওয়া নয়। এই কাছে থাকার মধ্যেও আছে যোজন যোজন ব্যবধান। প্রেম কাছে পাওয়া কিংবা না পাওয়ার পার্থক্য বুঝে না। ও বর্তমানে বিশ্বাসী।
Shesh Adhyay - Piara Begum
‘কাব্রা বিটা শুয়োর চরায়,
হাইগে-মুইতে খায়,
কাব্রা মাগীর ভাতার ছাড়া
খোঁয়াড় ভইরে যায়।’
কাওড়া বা শুকর পালক সম্প্রদায়ের আধা গৃহী, আধা যাযাবর জীবনের আশ্চর্য গল্পচক্র ‘কাওড়ামঙ্গল’; ছোটো ছোটো অধ্যায়ে আদিম সেইসব মানুষদের বুনোগন্ধি সংলাপের মধ্যে দিয়ে জ্যান্ত হয়ে উঠেছে তাদের আনন্দ-বেদনা কলহ আর তীব্রভাবে ঘিরে থাকা এক বৈরাগ্য না কি পথের টান যেখানে-একেকটা জীবন মানুষে-শুয়োরে একাকার হয়ে বিলিন হয়ে যায় মৃত নক্ষত্রের ছাইভস্মে; এই উপন্যাস সেই অচ্ছুৎ মানুষদের মহৎ আর্দ্র গঞ্জনা।
Kawramangal by Romel Rahman
লেখক পরিচিতি :
মনির ইউসুফ। জন্ম: অসম্ভ্রান্ত কৃষি ও জেলে পরিবারে। ঈদগাহ, ইসলামাবাদ, কক্সবাজার। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির প্রতি তীব্র আকর্ষণ। সময় যাপন কবিতার ঘোরে।
প্রতিকবিতা ও অবাধ্য গোলাপ
তন্ময় ও সুস্ময় নামের দুই জমজ ভাইয়ের কার্যকলাপ নিয়েই “আলোকিত মানুষ ” গল্পটি সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। এই দুভাই পড়ালেখায় বেশ মনোযোগী কিন্তু তাদের শিক্ষক পড়ালেখার পাশাপাশি তাদেরকে সামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেন। এক ঈদে তিনি তার শিক্ষার্থী দের প্রত্যেককে এমন এক একটা ভালো কাজ করতে বলেন, যে কাজের উজ্জ্বলতার রেশে তাদের চারপাশ আলোকিত হবে এবং তারা আলোকিত মানুষ হিসাবে পরিগণিত হবে।
সেই স্যারের আদেশমতো তারা আলোকিত মানুষ হওয়ার প্রচেষ্টা হিসাবে সমাজের অবহেলিত সমবয়সি রোজকার ময়লা নিতে আসা ছেলে রাজা আর টোকাই বাদশাকে ঈদের দিন তাদের বাসায় দাওয়াত দেয়। দুই ভাই তাদের প্রিয় লোভনীয় স্পেশাল খাবারের একটা মেন্যু তৈরি করে যেগুলো এই সুবিধাবঞ্চিত শিশুগুলো কখনো টাটকা খায়নি। দোকানের শোকেসের কাচের বাইরে থেকে শুধুই চেয়ে চেয়ে দেখেছে। এই দুই জমজ ভাই তাদেরকে সেই খাবার চেখে দেখাবার প্রয়াস নেয়। এই মেন্যু ও খাবার স্বাস্থ্যসম্মতভাবে ঘরে তৈরী করতে খুশিমনে এগিয়ে আসেন তাদের মা। সুস্ময় আগত সমবয়সি প্রত্যেক শিশুকে নতুন জামা, বই, খাতা, স্কুলব্যাগ আর তন্ময় তাদের অতি প্রয়োজনীয় জুতা ও স্যান্ডেল উপহার দেওয়ার পরিকল্পনা করে।
তাদের এসব পরিকল্পনা শুনে ও দেখে তাদের প্রিয় দাদু নাতিদের কাছে এই শুভকাজে নিজে অংশ গ্রহণ করার সুযোগ চান। তিনি রাজার মাকে তন্ময় ও সুস্ময়ের মায়ের সেলাই শেখার স্কুলে কাজ শেখানোর সুযোগ দেওয়র প্রস্তাব রাখেন। তিনি মনে করেন, রাজার মা ভালোভাবে কাজ শেখার পরে তাকে নতুন সেলাই মেশিন কিনে দিলে সে স্বনির্ভরতার পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। আর তরকারির ফেরিওয়ালা বাদশার বাবাকে তরকারির ফেরি করার সুবিধার্থে ভ্যানগাড়ি কিনে দিতে চান। এতে কষ্ট করে তাকে ঝুড়ি মাথায় নিয়ে ঘুরে বেড়াতে হবে না।
তন্ময় ও সুস্ময়ের পরিবারের মতো বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবার যদি এগিয়ে আসে বাংলাদেশের ঘরে ঘরে সুবিধাবঞ্চিতদের মুখে হাসি ফুটবে। পরিশেষে লেখিকার এই গল্পে বর্ণিত মানুষ গড়ার কারিগর সেই শিক্ষাককে স্যেলুট যিনি তার শিক্ষার্থীদের মাঝে আলোকিত মানুষ হবার অনুপ্রেরণা বেশ সফলভাবে জাগিয়ে তুলেছেন এবং সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের উদ্বুদ্ধ করতে সফল হয়েছেন। আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত। সেই শিশুদেরকে আলোকিত মানুষ হওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়ে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন পরিবারের পাশাপাশি তাদের শিক্ষকরা। এই গল্পে সেটাই লেখিকা অত্যন্ত সুন্দর ও প্রাঞ্জলভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
আলোকিত মানুষ - Alokito Manush
ইয়াকুব খান শিশির যতটা না অণুগল্পকার তারচেয়েও বেশি একজন অণুগল্পসমঝদার; বিজ্ঞ আলোচক। অণুগল্পকে অণুগল্প হিসেবে বুঝতে পারার মধ্যেও এক ধরণের মেধার প্রয়োজন হয়। প্রয়োজন হয় অণুগল্পসংশ্লিষ্ট জ্ঞান বা বোধ। এই জ্ঞান বা অণুগল্পবোধটির অভাব থাকলে অণুগল্পের মূল মূরতি দেখা পাওয়া সম্ভব হয় না। ইয়াকুব খান শিশির এমনি একজন পাঠক যার ভেতরে অণুগল্পবোধটি সবসময় জাগ্রত থেকেছে। অণুগল্পের ভেতর-বাহিরের জ্ঞান অর্জন করেছেন। সেই জ্ঞান দিয়ে তিনি ইতোমধ্যে অণুগল্পের প্রচার প্রসার এবং বাংলা সাহিত্যের একটি নবতর শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট অবদান রেখেছেন।
রাজহাঁস ও অন্যান্য অণুগল্পের সফলতা কামনা করছি।
-বিলাল হোসেন
রাজহাঁস ও অন্যান্য অণুগল্প
পশ্চিমের মেঘ ও রৌদ্র-
দীঘদিন জীবনযাপন পশ্চিমে। কত সব লেখা, বই, পড়া, কতসব সিনেমা, থিয়েটার নাটক দেখা, কতসব টেলিভিশনের রাতজাগা প্রোগ্রামে নিদ্রাহীন। এইসব দেখতে দেখতে পড়তে পড়তে কতসব লেখালিখির মানুষের কথা জানা। জেনে চুপ করে বসে থাকবেন তাই কি হয়। সেসব নিয়ে লেখালেখি। সিলভিয়া প্লাথ, ডিলোন টমাস, ডিকেন্স, মার্ক ডি সাদ, জেফানাইয়া, ভ্যান গফ, গঁগা আরো কত কে। মনে কত প্রশ্ন। – কেন কান কাটলেন ভ্যান গফ, কেন তাহিতিতে পালানের গাঁগা, কেন ডিকেন্সকে দেখা দিলেন না প্রথম প্রেম বৃদ্ধা মারিয়া বিডনেল, কেন জন ফাাওলস নোবেল পেলেন না, কেন বিয়ট্রিক্স পটার সারাজীবন নরম্যান ওয়েনের আংটি পরে রইলেন, স্বামী তাঁকে সে আংটি খুলতে দিলেন না? কেন কেটলিন ম্যাকনামারা সুখ খুঁজে পেলেন একজন সাধারণ মানুষে ডিলোন টমাসে নয়। ভিভিয়েন হে উড কেন কাটালেন জীবনের অনেকগুলে বছর পাগলা গারদে একা? এমনি সব অসংখ্য প্রশ্ন আর উত্তর খোঁজা। যে দেশে জলভরা মেঘ আর হঠাৎ নামা ঝুপ ঝুপ বৃষ্টি। সেগুলো ছাপা হলো নানা জায়গায়। দেশের ও বিদেশের পত্রপত্রিকায়। সেগুলো কুড়িয়ে দেখলেন পরিমান একমুঠো। সেগুলো মালার মত গেঁথে রচনা করলেন একটি বই। সুহ্রদ উদয় শংকর দূর্জয় সেগুলো পাঠিয়ে দিল ঢাকার অনুপ্রাণন প্রকাশনীতে। যেখান থেকে ওর দুটো বই প্রকাশিত হয়েছে। আমার সেইসব লেখা এবার দুই মলাটে বন্দী হবে। একটি বই হবে। ভাবতেও আনন্দ।
চলুন পাঠক লন্ডনের বৃষ্টিভেজা ঘাসোর মাঠে একবার। দেখা যাক কি আছে সেখানে। এলিয়টের ভাষায় বলি- লেটস গো দেয়ার দেন ইউ এ্যান্ড আই।
পশ্চিমের মেঘ ও রৌদ্র
মৌসন্ধ্যা। বিস্তৃত পটভূমির এক উপন্যাস। এর কাহিনিতে নারী-পুরুষের চিরন্তন প্রেম যেমন এসেছে, তেমনি এসেছে কাছে আসার গল্প। প্রেম ছাড়া জীবন যেমন অসম্পূর্ণ, তেমনি প্রতিশ্রুতি ছাড়া প্রেম প্রতারণার নামান্তর। বিশ্বাস, ভালোবাসা, ত্যাগ ও মূল্যবোধের গল্প মৌসন্ধ্যা। প্রেম, কাম, যৌনতা, প্রতারণা, লালসা, সামাজিক অসংগতি আর রোমান্টিক থ্রিলারের গল্প মৌসন্ধ্যা। এই উপন্যাস সমকালকে ধারণ করে হয়ে উঠেছে চিরকালীন। নিতি, রাধা, রিমি, রাখি, মিলি, শোভা’র মতো মেয়েদের জীবনের গল্প, যৌবনের গল্প, মান ও অভিমানের গল্প চিত্রিত হয়েছে এখানে। মলাটবদ্ধ হয়েছে প্রেম ও অপ্রেমের সংঘাত!
প্রকৃতিতে যখন সন্ধ্যা নামে, তখন দিনের আলো নিভে গিয়ে গ্রাস করে রাতের আঁধার। সন্ধ্যা যেন সন্ধিক্ষণ। আলো-আঁধারের মিলন হয় সন্ধ্যায়। পরস্পর বিপরীত দুটি অস্তিত্বের সন্ধিক্ষণ সন্ধ্যা। জীবনের সন্ধিক্ষণে মৌ লোভী পতঙ্গের মতো পুরুষ এখানে আবদ্ধ হয়েছে কামের ফাঁদে, প্রেমের প্রতারণায়। আবার সেখান থেকেই পুরুষ দিয়েছে শাশ্বত প্রেম, নিটল নির্ভরতা। জ্ঞান ও অজ্ঞানের, সত্য ও মিথ্যার, বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের মিলন হয়েছে মৌসন্ধ্যার আলো-আঁধারে। মানুষের জীবনের পূর্ণাঙ্গ রূপ চিত্রিত হয়েছে এই উপন্যাসের সাগর সৈকতে।
Mousandha By Amit Kumar Kundu
গত তিনচার দশকে ছড়ার অনেক বাঁকবদল হয়েছে। ছড়া এখন বাঁধহীন বাহুল্য, অকারণ অলঙ্কার, অদরকারি আবেগ ছেড়ে ঝরঝরে, নির্মেদ হয়েছে। নির্মাণের সঙ্গে সঙ্গে বক্তব্যেও এসেছে পরিবর্তন। এখনকার স্মার্ট ছড়ালেখকের হাত দিয়ে নির্মিত হচ্ছে স্মার্ট সব ছড়া। হালকা চালে, রম্যের ভাষায় ছড়ায় বলা হচ্ছে সেইসব কথা যা সাহিত্যের অন্যকোনো শাখায় এত প্রাঞ্জলভাবে বলা হয় না। বলা যায় না।
সুমন শামসের ‘থলের বেড়াল’ এমনই একটি ছড়ার বই যেখানে এই সমাজের নানান অসঙ্গতি, অপূর্ণতা, অসততার কথা বলা হয়েছে হাস্যরসিকতার আবরণে, ছন্দের ভাষায়। ভ্রষ্ট্য রাজনীতিবিদ, নৈতিকতাবিবর্জিত মানুষ, সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী, অসৎ ব্যবসায়ীসহ সকল ভণ্ডের বিরুদ্ধে ছড়াকার শব্দের তোপ দেগেছেন।
‘থলের বেড়াল’ পাঠককে হাসাবে, রাগাবে, ভাবাবে।
-ব্রত রায়
Tholer Biral - Sumon Shams
Get access to your Orders, Wishlist and Recommendations.















There are no reviews yet.