Description
কবিতার আঙ্গিক রচনায় শব্দাড়ম্বর ও চটুলতা না রেখে অলংকার প্রয়োগে নৈপুণ্যের ছোঁয়া থাকলে শিল্পতরু জায়মান হয়। আর তা যদি হয় বস্তুগত স্বরূপের উপর গুরুত্ব না দিয়ে অভ্যন্তরীণ উপলব্দির রেখাপাত তাহলে তাকে বলা যেতেই পারে মুন্সয়ানার ঘটক! এমনি কবি সিদ্দিক প্রামানিক মানবমনের চরমতম অনুভূতিকে রঙে পর্যবাসিত করেছেন দক্ষতায়। যা পড়লেই অন্তরসত্যের প্রকাশ কতটা জরুরি এবং তা যে শিল্প বিমূর্ততার প্রতীক বোঝা যায়। এছাড়া পরিচ্ছন্ন বিশ্বাসভূমি নেই বলে সুন্দরের প্রত্যাখানে পাপ ও দুঃখে বর্তমান সময় ধর্মের অপব্যাখ্যায় ‘সৃষ্টিকর্তা মানুষের সারথ্যে চলেছেন বিরাটের মধ্যে’ মানতে রাজি নন। অবশ্যই সময় এখন বাতাবরণ ছিন্ন করবার, চোখ মেলে দেখবার ও প্রতিবাদ করবার, রাষ্ট্রযন্ত্রের উদাসীনতায়। এমনি বইটির পাঠ শেষে মনে হয় রণ’কে বলছেন, সৃস্টির সমাপ্তিতে রেখেছি কল্লোল!




















কবিতা যেন পর্যবেক্ষকের হারিয়ে যাওয়া সময়ের লুপ―স্থানকালের আপেক্ষিকতায় অনুভূতির যাদুবলে মোহিত একাকিত্বের তীব্র আনন্দ ভোগ অথবা সাদাকালো বেদনা বৃক্ষ। কবিতা আমার কাছে আমার জীবনবোধের মর্মরধ্বনি। জীবনকে বুঝতে চাওয়া, জীবনের উত্থান-পতন, সভ্যতা, ধার্মিক-অধার্মিক, নাস্তিক-আস্তিকের কাণ্ডখানা, পুঁজিবাদ, ধর্ম, সমাজতন্ত্র, দেশপ্রেম, নারী… সবকিছুই। কবিতায় কবির চিন্তার জগৎ উঠে আসে, ছক কষে কল্পনা ও গণিতে। জীবনের জ্ঞানকে সংক্ষিপ্তভাবে প্রকাশিত চিন্তায় স্থানান্তর করে যা পার্থিব-অপার্থিব জগৎ ভাবিয়ে তোলে। জলের শব্দে কবিতা রপ্ত হয় মিশে যায় রঙহীন, শব্দে শব্দে নীল হয়ে ওঠে আকাশ। কবিতা মানবধর্মের অথবা মানুষের রঙহীন রঙিন―ভায়োলিন শব্দ। মানব জাতির অধিকাংশ লিখতে পারে না এটা যেমন সত্য, অধিকাংশ আবার শিল্পকে ধারণ করতে পারে না। নিজের অনুভূতি বা মতের বিরুদ্ধে গেলেই উগ্র ও ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে ওঠে। মূর্খদেরকে জ্ঞানী করে তোলা অথবা জ্ঞান প্রচারে আমার কোনো ইচ্ছা নেই। আমার কবিতা শুধু সহনশীল মানুষ ও মানবতার জন্য―যা আপনার জ্ঞানকে ক্রিয়াশীল করতে পারে আবার নাও পারে। হ্যাপি রিডিং―চিয়ার্স।



There are no reviews yet.